আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

ট্রেনে-বাসে চট্টগ্রাম নগরী ছাড়ছে মানুষ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দু’দিন ধরে দলে দলে ট্রেনে-বাসে চট্টগ্রাম নগরী ছাড়ছে মানুষ। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন- সবখানেই মানুষের ভিড়। প্রতিদিনের কর্মস্থলে পৌঁছানোর তাড়া, সংসারের নিত্য চাহিদা মেটানোর তাগিদ, যানজট, সড়কে দুর্ভোগসহ আরও নানা নাগরিক বিড়ম্বনা- সবকিছুকে আপাতত ছুটি দিয়ে মানুষ ছুটছে তার ঘরের পানে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর হতে পারে আগামী সোমবার অথবা মঙ্গলবার অর্থাৎ ৩১ মার্চ অথবা ১ এপ্রিল। তবে ঈদ যেদিনই হোক, বন্ধ থাকছে পুরো সপ্তাহ। কিছু বেসরকারি কলকারখানা-প্রতিষ্ঠান শনিবারও (২৯ মার্চ) খোলা থাকবে। তবে সার্বিকভাবে বন্ধ শুরু হয়ে গেছে শুক্রবার থেকেই।

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের সরকারি বন্ধ ছিল। এরপর বৃহস্পতিবার একদিন খোলার দিন গেছে। শুক্র-শনিবার আবারও সাপ্তাহিক বন্ধ। শনিবার বেসরকারিভাবে খোলার দিন হলেও কর্মজীবীদের অনেকেই বৃহস্পতিবার ও শনিবার ছুটি নিয়েছেন। এর ফলে চট্টগ্রামে এবার ঈদযাত্রা বলতে গেলে শুরু হয়েছে ২৬ মার্চের সকাল থেকেই। তবে মূল যাত্রা অর্থাৎ দলে দলে বাড়ি ফিরে যাওয়া শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) রাত থেকে।
যাত্রীরা বলছেন, এবার ট্রেনের টিকিট পেতে বিড়ম্বনা ছিল না। ভাড়া কিছুটা বাড়তি নেওয়া হলেও বাসের টিকিটও মিলেছে। আর লম্বা ছুটি হওয়ায় ধাপে ধাপে মানুষ চট্টগ্রাম নগরী ছেড়ে যাচ্ছেন। এর ফলে মোটামুটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশেই হচ্ছে এবারের ঈদযাত্রা। প্রায় সবার চোখেমুখে আনন্দের ছটা।
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর যাত্রীর সমাগম। তবে আগের মতো হুড়োহুড়ি কিংবা অস্বস্তির পরিবেশ দেখা যায়নি। বাস টার্মিনালগুলোতে, নগরীর প্রবেশপথগুলোতেও মানুষের ভিড় দেখা গেছে।
পল্লী বিদ্যুত সমিতির কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাঈম যাচ্ছেন কিশোরগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে। চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে চেপে বসেছেন ট্রেনে। নাঈম বলেন, পল্লী বিদ্যুতে আমরা কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহের ১৯ জন আছি। সবাই বাড়ি চলে যাচ্ছি। ৯ দিনের ছুটি পেয়েছি। মা-বাবা, ভাই-বোনদের সঙ্গে একসাথে ঈদ করবো, এটা সবচেয়ে বেশি আনন্দের।
একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহআলম বলেন, আমার বাড়ি নেত্রকোণা। আমার ছেলে বাড়িতে বসে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কেটে দিয়েছে। এবার ট্রেনের টিকিট পেতে কোনো সমস্যা হয়নি। এবারের যাত্রাটা ভালো হচ্ছে। বাড়িতে যেতে সমস্যা হচ্ছে না, এটাই বড় কথা।
বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আঁখি সুলতানা বাসে যাচ্ছেন কুমিল্লা। তিনি বলেন, আমার হাজবেন্ড ও আমি চট্টগ্রামে ব্যাংকে চাকরি করি। দুই ছেলেকে নিয়ে আমরা আজ যাচ্ছি। আমার শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লায়, বাবার বাড়ি গাজীপুরে। ঈদটা শ্বশুরবাড়িতে করে ছুটির বাকি সময় বাবার বাড়িতে কাটাবো। লম্বা ছুটি হওয়ায় এবার সুবিধা হয়েছে।
চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে গত ২৪ মার্চ। ট্রেনের অগ্রিম টিকিটের যাত্রী পরিবহনের মধ্য দিয়ে এ ঈদযাত্রা শুরু হয়। তবে শুরুর দিন থেকে তিনদিন ধরে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের তেমন জটলা ছিল না।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, শুরুর দিকে ভিড় কম থাকলেও টানা বন্ধ শুরু হওয়ার পর চাপ বেড়েছে। ঈদ উপলক্ষে সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ বাতিল করা হয়েছে। বিশেষ ট্রেন চলছে। যাত্রীর চাপ আছে, তবে এবার অস্বস্তিকর পরিবেশ নেই। ঈদে চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন ট্রেনে করে ১৫ হাজার যাত্রী তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছেন বলে এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ১৪ মার্চ থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ৩১ মার্চ বিক্রি করা হবে ফিরতি যাত্রার ১ ও ২ এপ্রিলের টিকিট।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাহমুদা বেগম বলেন, মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে বাড়িতে যেতে পারেন, কোনো অনাকাঙ্খিত অপরাধমূলক ঘটনা বা বিড়ম্বনার শিকার না হন, সেজন্য আমরা রমজানের শুরুতেই প্ল্যান করেছি। রেলস্টেশন এবং বাস টার্মিনালগুলোতে আমাদের সার্বক্ষণিক টহল রয়েছে। সাদা পোশাকের পুলিশও নজরদারিতে রেখেছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মতিউর রহমান চৌধুরী নোয়াব সভাপতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী  মালিকদের সংগঠন- নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ