চট্টগ্রাম মহানগরীর নিরাপত্তায় মাঠে থাকবে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দেড়গুণ পুলিশ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা বন্ধে চট্টগ্রাম নগরীতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দেড়গুণ বেশি পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। সাদা পোশাকের সদস্যরাসহ সকল ইউনিটকে মাঠে নামানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
সিএমপির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রমজানের শুরু থেকেই পুরো চট্টগ্রাম নগরীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মূল সড়কের পাশাপাশি অলি-গলিতে টহল জোরদার করা হয়েছে। মধ্য রমজান থেকে মার্কেট-শপিংমলের সামনে পুলিশি কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। এর পরের কার্যক্রম শুরু হবে ঈদের ছুটির শুরুর দিন থেকে, যাতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা মাঠে নামবেন।

ঈদের ছুটিসহ বন্ধের পুরোসময় ফাঁকা নগরী, ঈদ জামাত এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলোকে ঘিরে এবার ঈদের নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি-মিডিয়া) মাহমুদা বেগম বলেন, আমরা যখন রমজান নিয়ে প্ল্যান করছিলাম, তখন ঈদেরটাও মোটামুটি করে রেখেছিলাম। কারণ রমজানের শেষ ১০ দিনে মার্কেটগুলোতে মানুষের ভিড় বাড়ে। মার্কেটকেন্দ্রিক আমাদের পেট্টল টিম কাজ করছে। আবার ঈদের ছুটিতে বাড়ি-ঘরে যাওয়ার তাড়া থাকে। এবার সরকারি ছুটি বেশি। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে পারে, সেজন্য বাস টার্মিনালগুলোতে আমরা নিরাপত্তা বাড়িয়েছি।
তিনি বলেন, ঈদের সময় নগরী ফাঁকা হয়ে যাবে।

মানুষজন থাকবে না। আমাদের নাগরিকদের আমরা আহ্বান জানাবো, নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। নিজেদের বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগালে তাহলে সেটা মোবাইলের মাধ্যমে দেশের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন দেখতে পারবে। এ ছাড়া ঈদে পুলিশের টহল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বাড়ানো হবে।
এডিসি মাহমুদা আরও জানিয়েছেন, ঈদের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে নগরীতে দেড়গুণ বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলো থেকে আবাসিক এলাকার তালিকার পাশাপাশি তাদের চূড়ান্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

আবাসিক এলাকা এবং বাণিজ্যিক ভবনগুলোর দিকে পুলিশের নজর বেশি থাকবে বলে তিনি জানান।
নগর পুলিশের বিশেষ শাখার উপ-কমিশনার মোখলেছুর রহমান জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা এবং ফাঁকা নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাদা পোশাকে ২০০ পুলিশ সদস্য এবার মাঠে নামানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি পুলিশের অন্যান্য টিমও থাকবে।

তিনি আরও বলেন, সিটিএসবির ২০০ সদস্যকে আমরা মাঠে রাখব। ঈদের নামাজ, বিনোদন কেন্দ্র, ফাঁকা নগরীর নিরাপত্তা- মোটামুটি সবকিছু নিয়েই প্ল্যান করা হয়েছে। মানুষ যাতে ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময় হয়রানির শিকার না হয়, সেটাও আমরা নজরদারিতে রাখব।
সিএমপি কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নগরীতে যেভাবে ছিনতাই-চুরি বেড়ে গিয়েছিল, রমজান আসার আগেই সেটার

লাগাম টানতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। ১৬ থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রচুর চোর-ছিনতাইকারীসহ পেশাদার অপরাধী গ্রেফতার করা হয়েছে। ছিনতাই কমে যাওয়ায় এবার নগরবাসী স্বস্তিতে ঈদের বাজার করতে পারছেন। একইভাবে ঈদুল ফিতরও স্বস্তিতে কাটবে বলে সিএমপি কর্মকর্তাদের।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ফরিদা ইয়াসমিন চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন মিরসরাই থানার ফরিদা ইয়াসমিন। এর আগেও তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছিলেন। অপরাধ দমন ও মাদক উদ্ধারে বিশেষ অবদানের জন্য মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত মাসিক কল্যাণ সভায় পুলিশ সুপার মাসুদ আলম তার হাতে শ্রেষ্ঠ ওসির পুরস্কার তুলে দেন।

পুলিশ জানায়, ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত মিরসরাই থানার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রথম নারী ওসি ফরিদা ইয়াসমিন অপরাধ দমন এবং মাদক উদ্ধার অভিযানে সাফল্য দেখিয়েছেন।এছাড়াও ডাকাতির মালামাল উদ্ধার ও আসামী গ্রেফতার, হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতারসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য তাকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ছাড়াও জেলার অন্যান্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওসি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, এই সম্মাননা মিরসরাই থানার প্রতিটি পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমরা সর্বদা কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক, ফের উৎপাদনে ফিরল সিইউএফএল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অবশেষে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদনে ফিরেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)।দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে কারখানাটিতে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। এর আগে গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

দীর্ঘদিন পর কারখানাটি পুনরায় চালু হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ও উৎসাহ ফিরে এসেছে।কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান জানান, দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পর আমরা উৎপাদনে ফিরেছি। এই দীর্ঘ সময়ে যে ক্ষতি হয়েছে, নিয়মিত উৎপাদনের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

সিইউএফএলের বিগত কয়েক বছরের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কারখানাটি মাত্র পাঁচ দিন চালু রাখতে পেরেছিল। ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বন্ধ হওয়ার দীর্ঘ সময় পর তা অক্টোবরে চালু হয়। এরপর ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস সংকটের কারণে বারবার কারখানাটি বন্ধ ও চালুর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। সর্বশেষ গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যা দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় পর ১৫ সেপ্টেম্বর পুনরায় চালু হলো।

সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) উত্তম চৌধুরী মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আজ সকালে আমাদের উৎপাদন প্রাথমিকভাবে শুরু হয়েছে। গত মাসের শেষের দিকে আমরা গ্যাস পেলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদনে ফিরতে পারিনি। এরপর একে একে সব যন্ত্রপাতি সচল করার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি, আগামীকালের মধ্যে কারখানাটি পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত ও স্বাভাবিক অবস্থায় আসবে।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। এর আগে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর প্রথমে অ্যামোনিয়া উৎপাদন শুরু করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে ইউরিয়া প্ল্যান্ট চালুর কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু যান্ত্রিক জটিলতা দেখা দিলেও তা দ্রুত সমাধান করা হয়।

কাফকোর পাশেই অবস্থিত সিইউএফএলে দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আসছে। কারখানাটির পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের জন্য দৈনিক প্রায় ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। একসময় দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বিভিন্ন কারণে বর্তমানে এর কার্যকর সক্ষমতা অনেকটাই কমেছে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ