আজঃ মঙ্গলবার ৫ মে, ২০২৬

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১৪টি প্রস্তাবনা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যারা ব্যবসা বাণিজ্য করছেন, দেশের জন্য কর্মসংস্থান করছেন তারা রিয়েল হিরো বলে মন্তব্য করেছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজম্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।বৃহস্পতিবার দুপুরে আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলন কক্ষে প্রাক বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটকে ব্যবসা ও শিল্পবান্ধব করতে আয়কর বিষয়ক ১৯টি, ভ্যাট বিষয়ক ৪০ ও শুল্ক বিষয়ক ৫৫টি প্রস্তাবনা দেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। প্রস্তাবনা বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে রাজস্ব বোর্ডের সকল কার্যক্রম সহজ ও অনলাইনভিত্তিক করার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

চিটাগং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রশাসক মুহাম্মদ আনোয়ার পাশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উইমেন চেম্বার, মেট্রোপলিটন চেম্বার, রাঙামাটি ও কক্সবাজার চেম্বারসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি। এসময় তিনি এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত প্রস্তাবনা তুলে দেন।

সভায় চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বারের সভাপতি আবিদা সুলতানা বলেন,বর্তমানে দেশের নারীরা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ব্যবসাক্ষেত্রে এগিয়ে আসছেন। বাজেটে তাদের দিকে বিশেষ নজর রাখা দরকার। ভ্যাট-ট্যাক্সের ক্ষেত্রেও তাদের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, মেশিনারিজের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। রপ্তানি-আমদানি আরও সহজ করার লক্ষে এটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, বাংলাদেশের এখনও ৫৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। ভ্যাটকে সহনীয় পর্যায়ে এনে জনসাধারণের যাতে সুবিধা হয় সে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সরাসরি যেসব ট্যাক্স আছে সেগুলো কমিয়ে আনা হোক।

বিজিএমইএ’র সাবেক প্রথম সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, অডিটকে কত সহজভাবে করা যায়; সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এছাড়া চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ আলোচনা যাতে আমলে নেওয়া হয়। বিগত বছরগুলোতে আলোচনা হলেও তার প্রতিফলন বাজেটে দেখা যায়নি।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি একরামুল করিম, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সহ-সভাপতি এরশাদ উল্লাহ, বেলাল আহমেদ, সাবেক পরিচালক আমজাদ চৌধুরী, রাঙামাটি চেম্বারের সভাপতি মামুনুর রশীদ, কক্সবাজার চেম্বারের সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন শিল্পগ্রুপের প্রতিনিধিবৃন্দ।
সবার বক্তব্য শেষে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, অনেকগুলো বিষয়ের সঙ্গে আমরা সরাসরি জড়িত না।

আমরা বুঝতে পেরেছি বন্ডে সমস্যা আছে। তাই আমরা বন্ড পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করতে চাচ্ছি। কিন্তু অনেকে অসুবিধার কথা বলে এতে সমর্থন করছে না। সার্টিফিকেট, লাইসেন্স, পারমিট এসব অনলাইনে করার প্রক্রিয়া চলছে। ভ্যাটের অডিট ও ভ্যাটের রিটার্ন সহজ করার জন্য কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ট্যাক্স বাড়াতে না পারলে দেশের উন্নয়নে অংশীদার হওয়া যাবে না। আপনারা যৌক্তিক দাবি দিয়েছেন। বিষয়গুলো অবশ্যই বিবেচনা করা হবে। বাজেট প্রণয়নে এ সুপারিশ দেওয়া হবে। তবে আমরা এখন রাজস্ব আহরণের বিষয়ে জোর দিচ্ছি। এরমধ্যে কর ফাঁকির বিষয়টি আমাদের প্রধান প্রায়োরিটি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কলমাকান্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাতজনিত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান।৫ মে (মঙ্গলবার) দুপুরে তিনি উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের চিকন মাটিয়া, তেলেঙ্গা ও মেদি বিলসহ দমদমা খাল এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, খারনৈ ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, সমাজসেবক মজিবুর রহমান এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে আছি। ভারী বৃষ্টিপাত শুরুর দিন থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জিআর ক্যাশ ও চাল বিতরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকেই এসব সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খালের পুনর্বাসন এবং কৃষকদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

পূর্বধলায় বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের দেওটুকোন বাজারে বকেয়া বিল আদায়ের লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১ টায় এ অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহান।

পূর্বধলা জোনাল অফিসের ডিজিয়েম মোঃ শাহিনুর আলম জানান, মোট ১২ জনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর মধ্যে চারজন তাৎক্ষণিকভাবে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার ২০ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি আটজনের কাছে প্রায় এক লক্ষ ৪৩ হাজার ৮০২ টাকা বকেয়া ছিল।

তিনি আরও জানান, জারিয়া, ধলামুলগাঁ ও ঘাগড়া ইউনিয়নের আওতায় মোট ১৩৭টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকার বেশি বকেয়া বিল আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ