আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

দুই লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান হবে চট্টগ্রাম কেইপিজেডে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের আনোয়ারার কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) দীর্ঘদিনের ভূমি জটিলতা কাটিয়ে বিদেশি বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং দুই লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। প্রায় ২৬ বছর পর জমির মালিকানা স্বত্ব (দলিল) পেয়েছে কেইপিজেড। গত সোমবার দুই হাজার ৪৮৩ একর জমির এই দলিল হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক। এদিকে বিদেশি বিনিয়োগ টানতে কেইপিজেড শুরু থেকেই পরিবেশবান্ধব অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হয়। ৮২২ একর জমিতে ৩০ লক্ষাধিক গাছ লাগানো হয়। এছাড়াও রয়েছে ৩৩টি লেক ও জলাশয়। এসব জলাশয়ে ৬০০ মিলিয়ন গ্যালন বৃষ্টির পানি ধরে রাখা যায়।

জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায় অবস্থিত কোরিয়ান ইপিজেড। এ শিল্পাঞ্চলের জন্য ১৯৯৭ সালে দুই হাজার ৪৯২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ১৯৯৯ সালে অধিগ্রহণকৃত জমি কেইপিজেড কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করে সরকার। কারখানা স্থাপন ও উৎপাদনে যায় ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে। বর্তমানে ইয়াংওয়ানের ৪৮টি কারখানা উৎপাদনে রয়েছে। এসব কারখানায় ৩৩ হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু জমি আয়ত্বে থাকলেও মালিকানা স্বত্ব বা দলিল ছিল না। এখন দলিল হস্তান্তরের মাধ্যমে মালিকানা স্বত্ব ফিরে পায় কোরিয়ান ইপিজেড।
এদিকে, গত সোমবার কেইপিজেড এলাকা পরিদর্শন করেছে চীন, ভারত, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ৬০ জন বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি। কেইপিজেড পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত কোম্পানি ইয়াংওয়ান করপোরেশন। এ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কিহাক সাং বাংলাদেশে বিদেশিদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে কোরিয়ান ইপিজেড কর্তৃপক্ষের নিকট দুই হাজার ৪৮৩ একর জমির দলিল হস্তান্তর করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জমি অধিগ্রহণ বুঝে পাওয়ার পর শিল্প-কারখানা নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন মালিকানা স্বত্ব (দলিল) না থাকায় অনেকটা বেকায়দায় ছিল কর্তৃপক্ষ। বিনিয়োগ করতে আসা অনেক কোম্পানি ভূমি জটিলতার কারণে বিনিয়োগ না করে ফিরে গেছে।
এ বিষয়ে কেইপিজেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, বিনিয়োগের জন্য কেইপিজেড একটি আদর্শিক এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ জায়গা। ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিনিয়োগকারীদের বিল্ডিং ভাড়ায় দিতাম। তারা সেখানে কারখানা তৈরি করে উৎপাদন করছে। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার কেইপিজেডের দীর্ঘদিনের ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান করেছে। এখন বিনিয়োগ ভূমিসংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী ফিরে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বর্তমান সরকার বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের টানতে কাজ করে যাচ্ছে, এজন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মহোদয়ের নির্দেশনায় কোরিয়ান ইপিজেড কর্তৃপক্ষকে দুই হাজার ৪৮৩ একর জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। এরমধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অধিগ্রহণকৃত জমি সংক্রান্ত জটিলতা মাত্র ২ মাসের মধ্যে নিরসন করা হয়েছে। এরফলে কোরিয়ান ইপিজেডে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। চট্টগ্রাম জেলায় দুই লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) এ কে এম গোলাম মোর্শেদ খান বলেন, ১৯৯৭ সালে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষকে অধিগ্রহণ করা জমি আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি। কিন্তু জমির দখল বুঝে পেলেও জমির মালিকানা বা দলিল পায়নি। প্রধান উপদেষ্টা স্যারের নির্দেশনা ও বেজার চেয়ারম্যান স্যারের প্রচেষ্টায় দ্রুত সময়ের মধ্যে দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, জমির মালিকানা না থাকলে বিনিয়োগকারীরা বড় বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে না। এখন দলিল হস্তান্তরের মাধ্যমে বৈদেশিক বিনিয়োগকারী আগ্রহী হয়ে ওঠেছে। ইতিমধ্যে বিদেশি একটি বিনিয়োগকারী দল পরিদর্শন করে গেছেন।
কেইপিজেড কর্মকর্তারা জানান, একটি বিশ্বমানের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ চলছে। টেক্সটাইল জোনে ৫টি পোশাক তৈরির কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে দুটি চালু করা হয়েছে। বাকি তিনটির ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। এছাড়া কেইপিজেডে ১০০ একর জমিতে আইটি পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুটি আইটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আরও কয়েকটি ভবন নির্মীয়মাণ রয়েছে। এছাড়া আরও ৫০ একর জমির ওপর আইটি ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্সের জন্য ১৬টি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। দুটি আইটি পার্ক নির্মাণ কাজ শেষ হলে ২০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। আইটি পার্ক ছাড়াও স্কুল এন্ড কলেজ এবং ৬শ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মীয়মাণ রয়েছে। অন্যদিকে কেইপিজেডে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বিশাল সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ