আজঃ বুধবার ১৭ জুন, ২০২৬

নেপালের ভয়ংকর তুষারপ্রবণ অন্নপূর্ণা-১ জয় করে নিজভূমে বাবর আলী।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সন্তান বাবর আলী নেপালের ভয়ংকর তুষারপ্রবণ ও খাড়া অন্নপূর্ণা-১ জয় করে ইতিহাসে নিজের নাম লেখালেন। দীর্ঘ ও দুরূহ অভিযান শেষে ১৫ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশে ফেরেন। বুধবার এ উপলক্ষে বাবরের ক্লাব ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স’এর আয়োজনে নগরের আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চট্টগ্রাম মিলনায়তনে আয়োজিত হয় এক সাংবাদ সম্মেলন ও জাতীয় পতাকা প্রত্যর্পণ অনুষ্ঠান।

গতবছর এভারেস্ট ও লোৎসে জয় করেছিলেন তিনি। আর এবার সেই পর্বত, যা উচ্চতায় দশম হলেও কৌশলগত দিক থেকে দুনিয়ার অন্যতম ভয়ঙ্কর। খাড়া ঢাল, ক্ষণিকেই বদলে যাওয়া আবহাওয়া, আর আচমকা তুষারধস—এই সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে পৌঁছেছেন চূড়ায়।
সাংবাদ সম্মেলন বাবর জানান, পৃথিবীতে আট হাজার মিটার বা তার বেশি উচ্চতার মোট ১৪টি পর্বত রয়েছে। আমি চাই একে একে সবগুলো জয় করতে। এই লক্ষ্যেই গত বছর এভারেস্ট ও লোৎসে এবং এবার অন্নপূর্ণা-১ জয় করেছি। যদিও অন্নপূর্ণা দশম সর্বোচ্চ, তবে

টেকনিক্যালি এটি বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন পর্বতগুলোর একটি। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জ ছিল ক্যাম্প-২ থেকে ক্যাম্প-৩ পর্যন্ত অংশে। পাথর খসে পড়া ও তুষারধসের আশঙ্কা সবসময় ছিল। সামিট পুশের দিন একটানা প্রায় সাড়ে ১৭ ঘণ্টা উপরের দিকে ওঠার পর চূড়ায় পৌঁছাই, এরপর ফিরে আসতে সময় লাগে আরও ৯ ঘণ্টা, মোট সাড়ে ২৬ ঘণ্টার এই যাত্রা ছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম পরীক্ষা।

অভিযানের ব্যবস্থাপক ও ক্লাবের সভাপতি ফরহান জামান বলেন, বাবরের ধারাবাহিক সফলতা প্রমাণ করে, উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তিনি বিশ্বের মাত্র ৭১ জন পর্বতারোহীর তালিকায় নাম লেখাতে পারেন, যারা সব ১৪টি আট-হাজারি পর্বত জয় করেছেন।
ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স’র উপদেষ্টা শিহাব উদ্দীন বলেন, আধুনিক বিশ্বে দেশকে ব্র্যান্ডিং করার শক্তিশালী মাধ্যম হলো অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস। পর্বতারোহণের মতো চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ জয় করে বাবর দেখাচ্ছেন, আমরা আর শুধু ভেতো বাঙালি নই—আমরাও পারি পর্বতের মতো অটল হয়ে দাঁড়াতে।

সাংবাদ সম্মেলন বক্তব্য রাখেন, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ভিজ্যুয়াল নিটওয়্যার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ নুর ফয়সাল এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চট্টগ্রাম-এর পরিচালক ব্রুনো লাক্রাম্প।
জানা গেছে, বাবরের এই অভিযানে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে ভিজ্যুয়াল নিটওয়্যার্স লি., ভিজ্যুয়াল ইকো স্টাইলওয়্যার লি., এডিএফ এগ্রো, ফ্লাইট এক্সপার্ট, এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লি. এবং ব্লুজে।

সাংবাদ সম্মেলন শেষে বাবর আলী ক্লাবের কর্মকর্তাদের হাতে জাতীয় পতাকা প্রত্যর্পণ করেন, যেটি নিয়ে তিনি একে একে জয় করেছেন এভারেস্ট, লোৎসে এবং সর্বশেষ অন্নপূর্ণা-১। তাঁর লক্ষ্য বাকি ১১টি আট-হাজারি পর্বতের চূড়ায়ও উড়ুক এই লাল-সবুজ পতাকা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে আহত নিহতদের মাঝে চেক বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন স্থানেসড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ নিহত ও আহত ৭ টি পরিবারের মাঝে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেল এর আয়োজনে এই চেক বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও বিআরটি এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জি: মোহাম্মদ আলী আহসান মিলন, মোটরযান পরিদর্শক মাফুজ রানা, উচ্চমান সহকারী রুস্তম আলীসহ অন্যান্যরা।সেখানে সাতটি পরিবারের মাঝে ২১ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

সিএমএম ; শুধু সন্দেহে নয়, কারণ দেখিয়ে গ্রেফতার পুলিশকে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে উপযুক্ত কারণ ব্যাখ্যা ছাড়া কাউকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর আবেদন না করার জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) এজিএম মনিরুল হাসান সরকার। গত সোমবার বিকালে অনুষ্ঠিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে এ নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে ভিকটিমের মেডিকেল সনদ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট এবং বিচারপ্রার্থীদের হয়রানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ হাসানুল ইসলাম। এতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কোস্ট গার্ড, সিডিএ, সিটি করপোরেশন, চমেক হাসপাতাল এবং আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করার ক্ষেত্রে কেস ডায়েরির অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করতে হবে এবং সেখানে গ্রেপ্তার দেখানোর যৌক্তিক কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা যাবে না বলেও পুলিশ কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন সিএমএম।

কনফারেন্সে ভিকটিমকে পরীক্ষাকারী চিকিৎসকের জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা, মেডিকেল অফিসারদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর সংযুক্ত করা এবং নির্ধারিত সময়ে মেডিকেল সনদ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে চমেক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন সিএমএম। তিনি পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানান।

বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ সরাসরি জানাতে ‘সিএমএম চট্টগ্রাম সমীপে’ নামে চালু করা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে সিএমএম বলেছেন, বিচারপ্রার্থীদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি ইমেইল চালু করা হয়েছে এবং আদালত প্রাঙ্গণে অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি সরাসরি অভিযোগ জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ