আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

নেপালের ভয়ংকর তুষারপ্রবণ অন্নপূর্ণা-১ জয় করে নিজভূমে বাবর আলী।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সন্তান বাবর আলী নেপালের ভয়ংকর তুষারপ্রবণ ও খাড়া অন্নপূর্ণা-১ জয় করে ইতিহাসে নিজের নাম লেখালেন। দীর্ঘ ও দুরূহ অভিযান শেষে ১৫ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশে ফেরেন। বুধবার এ উপলক্ষে বাবরের ক্লাব ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স’এর আয়োজনে নগরের আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চট্টগ্রাম মিলনায়তনে আয়োজিত হয় এক সাংবাদ সম্মেলন ও জাতীয় পতাকা প্রত্যর্পণ অনুষ্ঠান।

গতবছর এভারেস্ট ও লোৎসে জয় করেছিলেন তিনি। আর এবার সেই পর্বত, যা উচ্চতায় দশম হলেও কৌশলগত দিক থেকে দুনিয়ার অন্যতম ভয়ঙ্কর। খাড়া ঢাল, ক্ষণিকেই বদলে যাওয়া আবহাওয়া, আর আচমকা তুষারধস—এই সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে পৌঁছেছেন চূড়ায়।
সাংবাদ সম্মেলন বাবর জানান, পৃথিবীতে আট হাজার মিটার বা তার বেশি উচ্চতার মোট ১৪টি পর্বত রয়েছে। আমি চাই একে একে সবগুলো জয় করতে। এই লক্ষ্যেই গত বছর এভারেস্ট ও লোৎসে এবং এবার অন্নপূর্ণা-১ জয় করেছি। যদিও অন্নপূর্ণা দশম সর্বোচ্চ, তবে

টেকনিক্যালি এটি বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন পর্বতগুলোর একটি। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জ ছিল ক্যাম্প-২ থেকে ক্যাম্প-৩ পর্যন্ত অংশে। পাথর খসে পড়া ও তুষারধসের আশঙ্কা সবসময় ছিল। সামিট পুশের দিন একটানা প্রায় সাড়ে ১৭ ঘণ্টা উপরের দিকে ওঠার পর চূড়ায় পৌঁছাই, এরপর ফিরে আসতে সময় লাগে আরও ৯ ঘণ্টা, মোট সাড়ে ২৬ ঘণ্টার এই যাত্রা ছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম পরীক্ষা।

অভিযানের ব্যবস্থাপক ও ক্লাবের সভাপতি ফরহান জামান বলেন, বাবরের ধারাবাহিক সফলতা প্রমাণ করে, উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তিনি বিশ্বের মাত্র ৭১ জন পর্বতারোহীর তালিকায় নাম লেখাতে পারেন, যারা সব ১৪টি আট-হাজারি পর্বত জয় করেছেন।
ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স’র উপদেষ্টা শিহাব উদ্দীন বলেন, আধুনিক বিশ্বে দেশকে ব্র্যান্ডিং করার শক্তিশালী মাধ্যম হলো অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস। পর্বতারোহণের মতো চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ জয় করে বাবর দেখাচ্ছেন, আমরা আর শুধু ভেতো বাঙালি নই—আমরাও পারি পর্বতের মতো অটল হয়ে দাঁড়াতে।

সাংবাদ সম্মেলন বক্তব্য রাখেন, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ভিজ্যুয়াল নিটওয়্যার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ নুর ফয়সাল এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চট্টগ্রাম-এর পরিচালক ব্রুনো লাক্রাম্প।
জানা গেছে, বাবরের এই অভিযানে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে ভিজ্যুয়াল নিটওয়্যার্স লি., ভিজ্যুয়াল ইকো স্টাইলওয়্যার লি., এডিএফ এগ্রো, ফ্লাইট এক্সপার্ট, এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লি. এবং ব্লুজে।

সাংবাদ সম্মেলন শেষে বাবর আলী ক্লাবের কর্মকর্তাদের হাতে জাতীয় পতাকা প্রত্যর্পণ করেন, যেটি নিয়ে তিনি একে একে জয় করেছেন এভারেস্ট, লোৎসে এবং সর্বশেষ অন্নপূর্ণা-১। তাঁর লক্ষ্য বাকি ১১টি আট-হাজারি পর্বতের চূড়ায়ও উড়ুক এই লাল-সবুজ পতাকা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর ডিসি হিলে এই কার্যক্রমে অংশ নেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলার সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামনে বর্ষাকাল আসছে। তার আগেই যদি আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি তাহলে ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসী উপকৃত হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধটাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। সরকার এ কাজে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম মাসব্যাপী চলছে। এ কাজে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা ও পরিষ্কার করা। চট্টগ্রামে যেসব জায়গা বেশি অরক্ষিত, যেখানে ডেঙ্গু বেশি বিস্তার ঘটতে পারে সেগুলো আমরা পরিষ্কার করব এবং নিরাপদ ও সুস্থ চট্টগ্রাম আমরা গড়ে তুলব।
বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্কাউটের সদস্য এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অংশ নেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে’ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

চট্টগ্রামে রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে আগুন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম
নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে আগুন
ছবি-৩
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মহানগরে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের (সিসিএস) কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থিত এই কার্যালয়ে শুক্রবার রাতে কার্যালয়ের একটি অংশে হঠাৎ করে আগুন লাগে। খবর পেয়ে রাত ১১টা ২৫ মিনিটে আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম কন্ট্রোল রুম। এদিকে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
পাহাড়তলীতে অবস্থিত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের এই কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় মালামাল সংরক্ষণ ও সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ