আজঃ বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

যারা নির্বাচনের জন্য পাগল হয়েছেন, আপনারা ক্ষমতায় গিয়ে কী করবেন-এ প্রশ্ন রাখতে চাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যারা নিজ দলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তারা ক্ষমতায় গিয়ে কী করবে- এ প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘ওলামা ও সুধী সম্মেলনে’ তিনি একথা বলেন। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক এ সভার

আয়োজন করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ইসলামী আন্দোলন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, পাঁচ আগস্ট পরবর্তী যে সরকার এখন আছে, এ সরকারের অবস্থা কিন্তু নড়বড়ে। কারণ সাড়ে ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার এমন কোনো জায়গা বাদ রাখেনি যেখানে দলীয়করণ করেনি, সব জায়গায় ওদের গুণ্ডাদের বসিয়ে গেছে। সেই জায়গাগুলো পরিস্কার করে সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আবার যদি নির্বাচন হয়, তাহলে সেই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে আমরা মনে করি।

কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, যারা নির্বাচনের জন্য পাগল হয়েছেন, আপনারা ক্ষমতায় গিয়ে কী করবেন- এ প্রশ্ন রাখতে চাই। আপনারা সিগন্যাল তো আগেই দিয়ে ফেলেছেন। সারাদেশের ভেতরে কারা লুট করছে, কারা চাঁদাবাজি করছে, কারা ঘাট দখল করছে, কারা স্টেশন দখল করছে, কারা বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি তৈরি করছে- এটা আমরা বাংলাদেশের মানুষ দেখছি। আপনারা নির্বাচন চান, অথচ এখন পর্যন্ত দলীয় লোকদেরই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। আপনারা ক্ষমতায় গিয়ে কি করবেন?

আরও লুটতরাজ বাড়িয়ে দেবেন, আরও তাদের সুযোগ দেবেন, এটা বাংলাদেশের জনগণ এখন দেখে ফেলেছে। এটা আমরা বুঝে ফেলেছি। আর নয়। তারা বারবার ক্ষমতায় যাবে আর আমাদের মায়ের বুক খালি করবে, মিথ্যা মামলা দিয়ে হাজার হাজার পরিবার ধ্বংস করবে, এসব আর নয়।

তিনি বলেন, পাঁচ আগস্টের পর মানুষ কিন্তু জুলুমবাজ, খুনি, মিথ্যাবাজ, ধোঁকাবাজ, টাকা পাচারকারীদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। এখন মানুষ নীতি-আদর্শের ইসলাম অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হবে, সেটা দেখার জন্য, সমর্থন দেয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। মানুষ বলছে, আমরা বিএনপি দেখেছি, আওয়ামী লীগ দেখেছি, জাতীয় পার্টি দেখেছি, আরও অনেক দেখেছি, কিন্তু ইসলাম তো দেখিনি।

ইসলামী দলগুলো আর কারও ক্ষমতায় যাবার সিঁড়ি হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৫৩ বছর ধরে যারা এদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনা করেছে, তারা বারবার ইসলামী দলগুলোকে বোকা পেয়ে ধোঁকা দিয়ে গেছে। আমাদের ক্ষমতায় যাবার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছে। আমরা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কারও ক্ষমতার সিঁড়ি হতে চাই না। বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলোর নির্বাচনে যাতে একটা বাক্স থাকে, সব ভোট যেন একটা বাক্সে যায়, সেই চেষ্টা আমরা শুরু করেছি এবং ধারাবাহিকতা চলছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমরা পরিস্কারভাবে বলছি, আগে যৌক্তিক সংস্কার হবে, তারপর যৌক্তিক সময়ের ভেতরে জাতীয় নির্বাচন হবে। সরকারকে বলব, আপনারা আপনাদের প্রশাসনিক কাঠামো আরও মজবুত করেন। আপনারা দৃঢ়ভাবে আপনাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

নারীনীতি নিয়ে ভুল না করার আহ্বান জানিয়ে অন্তর্র্বতী সরকারের উদ্দেশ্যে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, হাজার হাজার ছাত্র-তরুণ জীবন দিয়েছে, পঙ্গু হয়েছে, চোখ হারিয়েছে, এর সুবাদেই আপনারা এখন ক্ষমতায় আছেন। আপনারা যদি নারী সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন, তাহলে এদেশের ওলামায়ে কেরাম, ধর্মপ্রিয় মানুষ রাস্তায় নামবে। আমরা যখন রাস্তায় নামবো, তখন ওই জালিমেরা সুযোগ পাবে। দয়া করে এ সুযোগটা তাদের তৈরি করে দেবেন না। এ ভুল করবেন না, পরিস্কারভাবে বলছি। ইসলামবিরোধী, মানুষের চরিত্র হননকারী এই নারীনীতি আমরা বাস্তবায়ন হতে দেব না।

প্রতিবেশি দেশের ষড়যন্ত্র নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একাত্তরে দেশ স্বাধীন হয়েছে, এটা ঠিক। কিন্তু আমরা দেশের মানুষ স্বাধীন ছিলাম না, আমরা ছিলাম পরাধীন। পাঁচ আগস্টের পর আমাদের স্বাধীনভাবে মতামত দেয়া, স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনার একটা ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রতিবেশি, যারা আমাদের বন্ধু বলে আমাদের সবসময় চুষে খেয়েছে, তারা একদম শকুনের মতো আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, যে কোনোসময় তারা ছোবল দেবে। তারা বড় ইস্যু তৈরি করবে সংখ্যালঘুর নামে নির্যাতনের কথা বলে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।সভায় দলটির চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার নেতারা বক্তব্য দেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার মিছিলের পর থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন-তানভীর হাসান (২৭), মোসলেম উদ্দিন (৪০), বিপু ঘোষ বিলু (৫৫), মোঃ নাহিদ হোসেন (১৯), মোঃ সাইফুল ইসলাম (২০), মোঃ নওশের উদ্দিন চৌধুরী (২১), মোঃ জুয়েল (২৪), মোঃ আলাল (২১), মোঃ আসিফ (২২), মোঃ শুভ রহমান (২২), সৌরভ দেওয়ানজী (২৯), ইমাম হোসেন সাদমান (২২)৷

পুলিশ জানায়, শুক্রবার কোতোয়ালী থানাধীন রেলওয়ে বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। পরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঝটিকা মিছিলে জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আ. লীগ নিষিদ্ধকরণের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকার মেডিকেল সেন্টার গলি থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়।

জানা গেছে, বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া সবাই ওমর গণি এমইএস কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল নিয়ে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। কোনো অগ্রগতি হলে আপনাদেরকে (সাংবাদিক) জানানো হবে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র আরও জানায়, সকাল সাতটার দিকে ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি নগরীর মেডিকেল সেন্টার গলি থেকে গোলপাহাড় মোড়ের দিকে চলে। এতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণের প্রতিবাদ জানায়। এই মিছিলে পাহাড়তলী ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরীর ছবিযুক্ত ব্যানার দেখা যায়।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ