আজঃ শনিবার ২১ মার্চ, ২০২৬

জনগণ নির্বাচন ঠেকাতে চাওয়া শক্তিকে ক্ষমা করবে না:আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, যারা জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে আন্দোলনে ছিল না, এখন তারাই বলছেন, নির্বাচন না হলেই ভালো। তারা একধরনের সুবিধা নিচ্ছে। কিন্তু জনগণ তাদের এ সুযোগ বেশি দিন দেবে না। বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচন ছাড়া কাউকে ক্ষমতা গ্রহণের বৈধতা দেবে না। যারা নির্বাচন ঠেকাতে চায়, তাদের প্রতি দেশের মানুষের বার্তা স্পষ্ট। তাদের জনগণ ক্ষমা করবে না, এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মাটিতে তাদের কোনো ইচ্ছাও পূরণ হবে না। জনগণ নির্বাচন ঠেকাতে চাওয়া শক্তিকে ক্ষমা করবে না।

তিনি বৃহস্পতিবার (১ মে) বিকেলে নগরীর কাজীর দেউরী নাসিমন ভবনস্থ বিএনপি কার্যালয়ের সামনে নুর আহম্মদ সড়কে মহান মে দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের শ্রমিক মহা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লাহ বাহারের পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ইদ্রিস মিয়া।

আমীর খসরু বলেন, বিএনপির ৩১ দফা রোডম্যাপে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং তাদের পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণমূলক পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। বর্তমান সরকারের সময় যেভাবে শ্রমিক স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, দেশে এখন নির্বাচিত সরকার নেই। ফলে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা, পারিশ্রমিক ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কেউ নিচ্ছে না। মালিক ও প্রশাসনের একচেটিয়া অবস্থানে শ্রমিকেরা নানাভাবে নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। তাই সবাইকে এগিয়ে এসে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিতে সহায়তা করতে হবে। ন্যায্য পাওনা আদায়ের লড়াইয়ে শ্রমিকদের পাশে আছে বিএনপি।

সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সম্ভাব্য ‘মানবিক করিডোর’ নিয়ে জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকারের কথাবার্তা প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, যদি দেশে একটি নির্বাচিত সরকার থাকত, তাহলে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে সংসদে আলোচনা হতো, জনগণের মতামত বিবেচনা করা হতো। অথচ এখন এমন সিদ্ধান্ত কে নিচ্ছে, কাদের সঙ্গে বসে নিচ্ছে, তা জাতি জানে না।তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, জাতিসংঘের একজন প্রতিনিধি বলেছেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সম্মতিতেই কেবল এই করিডোর সম্ভব, তাও নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের শর্তে। তাহলে এখন যারা বাইরে বসে এসব দিচ্ছেন, তারা কীভাবে এত সাহস পাচ্ছেন?
তিনি বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন হতে হবে শান্তিপূর্ণ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ। যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক না ছড়ায়, এবং দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কারণ, দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বিদেশি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের অবদান ছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন ও রাজনীতি কোনোটিই সম্ভব নয়। যারা এ দেশের শিল্প কারখানা, অবকাঠামো, পরিবহন খাতকে সচল রাখেন, তাদের বাদ দিয়ে দেশের কোনো অগ্রগতি সম্ভব না।
তিনি বলেন, আমরা গত ১৬ বছর ধরে লড়াই করছি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য। গণতন্ত্রের বাহনই হচ্ছে নির্বাচন। নির্বাচন ছাড়া জনগণের ক্ষমতায়ন ও জবাবদিহিমূলক সরকার গঠন সম্ভব নয়। নির্বাচন ছাড়া জনগণের মালিকানা ফেরানো সম্ভব নয়।
আমীর খসরু বলেন, যারা নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন, তারা নিজেরাই অনির্বাচিত সরকারের সুবিধাভোগী। তারা এখন নানা শর্ত দিচ্ছে, এই না হলে নির্বাচন হবে না, ওই না হলে নির্বাচন হবে না। এসব বলে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। কারণ, তারা জানে, সুষ্ঠু নির্বাচনে গেলে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান মুখ থুবড়ে পড়বে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শ্রমিকরা বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ বাচবে। শহীদ জিয়া একজন শ্রমিকের বেশেই খাল খনন করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া শ্রমিকদের জন্য অনেক অবদান রেখেছেন। শিকাগো শহরে শ্রমিকরা ৮ ঘন্টার শ্রমের দাবিতে আত্বহুতি দিয়েছিল। কিন্তু এখনো শ্রমিকরা অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। আমি চট্টগ্রামের একজন সেবক হিসেবে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের ৪১ টি ওয়ার্ডের শ্রমিকের জন্য ২০ হাজার টিসিবি কার্ডের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিচ্ছি। তারা বয়স্ক ভাতা পাবেন। শ্রমিকরা মৃত্যুবরণ করলে তাদের স্ত্রী বিধবা ভাতা পাবেন। আমি শ্রমিকদের জন্য নাগরিক কার্ডের ব্যবস্থা করবো। দুর্ঘটনায় কেউ আহত হলে তারা নাগরিক কার্ডের আওতায় ভাতা পাবেন। আমরা শ্রমিকদের পক্ষে আছি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, দেশ থেকে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে, এখন নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে। শ্রমিকদের মুক্তি ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এ নতুন যাত্রাপথে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা অপরিহার্য। মে দিবসের সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে, যাতে পরিবর্তনের সুফল শ্রমিক মেহনতি মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোগ করতে পারে।আবুল হাশেম বক্কর বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বাংলাদেশের শ্রমিক সমাজের ভাগ্যোন্নয়নে যথাযথ কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলো। সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ছিলেন একজন যথার্থ শ্রমিক। তিনি নিজেকে সবসময় একজন শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতেন। শ্রমিকদের দুটো হাতকে তিনি উন্নয়নের চাবিকাঠি বলতেন। এদেশের শ্রমিকের কল্যাণে তিনি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ বলেন, আওয়ামী দুঃশাসনের প্রকোপে শ্রমিক শ্রেনী ছিল সবচেয়ে নির্যাতিত। গতবছর গণঅভ্যূত্থানে ছাত্রদের সাথে শ্রমিকদের আত্মদানের মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসীবাদের পতন হয়। এখন শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নের জন্য কোন প্রতিবন্ধকতা থাকার কথা না। তারপরও শ্রমিকরা অবহেলিত ও অধিকার বঞ্চিত। বিএনপির ৩১ দফার মধ্যে শ্রমিকের অধিকার বিষয়ে একটি দফা আছে। দেশে গণতান্ত্রিক সরকার আসলেই শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে।

আলহাজ্ব ইদ্রিছ মিয়া বলেন, মে দিবস শ্রমিকদের আত্মত্যাগের ইতিহাস। আজ আমরা নতুন বাংলাদেশের পথে হাঁটছি। একটি গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তণ, ভোটাধিকার প্রয়োগ, শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা শ্রমিকের আজন্ম স্বপ্ন। ১ মে বাংলাদেশের শ্রমিক সমাজের দৃপ্ত শপথের দিন। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
এ এম নাজিম উদ্দীন বলেন, এদেশে শ্রম আইন সংস্কার ও আধুনিকীকরণ, বেতন ও মুজুরী কমিশন গঠন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশের শ্রমিক সমাজের ভাগ্যোন্নয়নে যথাযথ কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলো বিএনপি। পোশাক শিল্পে শহীদ জিয়ার অবদান অবিস্মরণীয়। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতাসীন হলে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের কল্যান ও অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উত্তর জেলা বিএনপির সি. যুগ্ম আহবায়ক এম এ হালিম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, এড. আবদুস সাত্তার, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, শফিকুর রহমান স্বপন, শাহ আলম, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, মঞ্জুর আলম চৌধুরী মন্জু, কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শ. ম. জামাল উদ্দিন, রেলওয়ে শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এম আর মঞ্জুর, উত্তর জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবদুল মোতালেব চৌধুরী, বিভাগীয় শ্রমিক দলের প্রচার সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকী, দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, শিক্ষা সম্পাদক এড. ইকবাল হোসেন প্রমূখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে শেষ সময়ে ঘরমুখো মানুষের স্রোত, রেল ষ্টেশন-টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদের সাতদিনের ছুটিকে কেন্দ্র পরিবার পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ বাগাভাগি করতে বন্দরনগরী ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ। মহানগরের বাস টার্মিনালগুলো ও রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখ পড়ার মতো। বুধবার ভোর থেকেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। যথাসময়ে ছেড়ে যাচ্ছে একের পর এক ট্রেন। এছাড়া ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে বাস টার্মিনালেও ভিড় করেন যাত্রীরা।

পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এদিকে চট্টগ্রাম অনেকটা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। নগরের বিভিন্ন ব্যস্ত রাস্তায় নেই আগের চিরচেনা যানজটের দৃশ্য। যানজটহীন স্বস্তিতে গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন নগরবাসী।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) শেখ মো. সেলিম বলেন, এখানে নিরাপত্তার কোনও শঙ্কা নেই। পুলিশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রার জন্য। প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা করা দরকার তা নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনেও পুলিশ কাজ করছে। যাত্রীদের ভাড়ার বিষয়েও আমরা তদারকি করছি।

বুধবার মহানগরের কদমতলী, বহদ্দারহাট ও নতুন ব্রিজ জিইসি বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীর চাপ বেশি। টিকিট পাচ্ছেন না অনেকে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা পর সকালে ছেড়ে যাওয়া ফিরতি গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন কেউ কেউ। যাত্রীর চাপের তুলনায় বাস টার্মিনালে গাড়ির সংকট দেখা গেছে। তবে কাউন্টার বসে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, যে গাড়িগুলো গেছে সেগুলো ফিরে এলেই এই টিকিটের সংকট থাকবে না। যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে যাত্রীরা বলছেন, কোনও ভোগান্তি নেই। তারা নির্বিঘ্নে যথাসময়ে ট্রেনে উঠছেন এবং ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কিছু কিছু ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে যাত্রীরা যেতে পারছেন। সকালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন। অন্য ট্রেনগুলোও যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। তাই স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও খোলা ট্রাকে কম ভাড়ায় গন্তব্যে যাচ্ছে লোকজন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে বিআরটিএ’র সতর্ক সংকেত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা স্থাপন করেছে। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বাঁকে উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এসব বাঁকে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হন। এরপর থেকেই বাঁকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ওঠে।

মহাসড়কে চলাচলকারী কয়েকজন বাস চালক জানান, রাতে বা কুয়াশার সময় হঠাৎ বাঁক সামনে চলে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। নতুন করে লাল পতাকা বসানোয় আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সহজ হবে।তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অস্থায়ী পতাকা নয়-স্থায়ী সাইনবোর্ড, গতিসীমা নির্দেশনা, রিফ্লেক্টর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, যেসব স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়ার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া–চুনতির জাঙ্গালিয়া বাঁক, চুনতির ডেপুটি বাজারের আগে ও পরের বাঁক, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা, লোহাগাড়া রাজাঘাটা, সাতকানিয়ার মিঠা দীঘি, চন্দনাইশের খানহাট পুকুর এবং পটিয়ার পাইরুল মাজারসংলগ্ন বাঁক।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী বলেন, ঈদের সময় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাঁকের উভয় পাশে পাঁচটি করে মোট ১০টি লাল পতাকা বসানো হয়েছে। ফলে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারবেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ