আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

নেত্রকোণায় ব্রি ধান৯২ ও ব্রি হাইব্রিড ধান৮ এর নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

মোঃ নুর উদ্দিন মন্ডল দুলাল নেত্রকোনা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোণায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক কার্যালয় নেত্রকোণার আয়োজনে ও এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে ব্রি কতৃক উদ্ভাবিত ধানের উফশী জাত ব্রি ধান৯২ ও ব্রি হাইব্রিড ধান৮ এর নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ( ০৭ মে ) দুপুরে জেলার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের দেওটুকোণ গ্রামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নেত্রকোণা জেলার উপপরিচালক জনাব মোহাম্মদ নূরুজ্জামান এর সভাপতিত্বে ও ব্রি, নেত্রকোণা আঞ্চলিক কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: খালিদ হাসান সৌরভ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলএসটিডি প্রকল্পের পরিচালক ড. মোঃ মোফাজ্জল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূর্বধলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: জোবায়ের হোসেন, ব্রি নেত্রকোণার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং প্রধান মো: খালিদ হাসান তারেক। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে ময়মনসিংহ স্যাটেলাইট স্টেশন এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং প্রধান নিমফিয়া পারভীন, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হুর-ই-ফেরদৌসী তাজিন সহ কৃষি সম্প্রসারণ ও ব্রি নেত্রকোণা’র বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সুধী সমাজ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ স্থানীয় শতাধিক কৃষক-কৃষাণীগণ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রি নেত্রকোণা সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, নেত্রকোণা আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্বাবধানে ব্রি’র অন্যান্য উফশী ধানের জাতের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিভিন্ন কৃষকের মাঝে গবেষণা ট্রায়ালের জন্য উফশী ও ব্রি উদ্ভাবিত হাইব্রিড ধানের স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রিয় জাত সমূহের চাষ হয়েছে। এ বছর ধানের রোগবালাই ও পোকামাকড় কম থাকায় আশানুরূপ ফলনও হয়েছে।
স্হানীয় কৃষক মো: নূর উদ্দিন মন্ডল দুলাল জানান, তিনি এবার এক একর জমিতে ব্রি ধান৯২ চাষ করেছেন । অন্য ধানের তুলনায় অনেক বেশী ফলন হয়েছে। ব্রি নেত্রকোণার কর্মকর্তাগণ সকল ধরনের পরামর্শ ও তথ্য দিয়ে তাকে সহযোগিতা করেছেন। তিনি ধান ও চাল বিক্রির পাশাপাশি বীজ সংরক্ষণ করবেন। অন্যান্য কৃষকদেরও তিনি এ ধানের জাত চাষ করার আহ্বান জানান।
আরেক কৃষক মোঃ আমিনুল ইসলাম মন্ডল জানান, তার ব্রি হাইব্রিড ধান৮ এর বাম্পার ফলন হয়েছে। হাইব্রিড সত্ত্বেও চাল চিকন হওয়ায় এর আলাদা কদর রয়েছে। শতাংশ প্রতি এক মণের বেশি ফলন হওয়ায় তার কাছে অন্যান্য কৃষক আগ্রহী হয়ে ভবিষ্যতে এ জাত চাষ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এর আগে কৃষক নূর উদ্দিন ও আমিনুলে’র জমিতে নমুনা শস্য কর্তন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পরে তা মাড়াই করা হয়। সেখানে ব্রি ধান৯২ এর প্রদর্শনীকৃত জমিতে শতাংশ প্রতি প্রায় ১ মণ ও হাইব্রিড ধান৮ এর প্রদর্শনীকৃত জমিতে ১ মণের বেশি ফলন পাওয়া যায়। তারা সহ উপস্হিত কৃষকগণ এ ফলন দেখে আগামীতে উফশী এ জাতসমূহ চাষে আগ্রহী হন এবং ব্রি’র কর্মকর্তাগণকে ধন্যবাদ জানান।
ব্রি নেত্রকোণার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং প্রধান খালিদ হাসান তারেক জানান, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ব্যপক পরিসরে উফশী জাতসমূহ চাষাবাদ প্রযোজন। আর এ জাতসমূহ কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ব্রি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রি, নেত্রকোণা আঞ্চলিক কার্যালয় এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য কিছু গবেষণা ট্রায়াল স্থাপন করেছে যাতে কৃষকরা ধানের নতুন জাতসমূহের বৈশিষ্ট্য ও ফলন সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন।
পূর্বধলা উপজেলা কৃষি অফিসার মো: জোবায়ের হোসেন ধানে উচ্চ ফলন পেতে সেচ ও সার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা প্রদান করেন ও কৃষকদের ধানের চারা লাইন ও লঘুতে রোপণ করার পরামর্শ প্রদান করেন।
প্রধান অতিথি ড. মোফাজ্জল হোসেন তার বক্তব্যে রোগ ও পোকামাকড় চিহ্নিতকরণ, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, নতুন জাতসমূহ ও এর উৎপাদনশীলতা সহ স্থানীয় পর্যায়ে ধানের বিভিন্ন জাতের উপযোগীতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন ও উপস্থিত কৃষক কৃষাণীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ নূরুজ্জামান সুষম সার প্রয়োগ কি, এর প্রয়োগ মাত্রা, লাভ ও ফলনে প্রভাবের বিস্তারিত আলোচনা করেন পাশাপাশি উফশী ধানের নতুন জাতসমূহ যাতে সকল কৃষকের দোড়গোরায় পৌঁছে দেয়া যায় সে লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ব হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

নাড়ির টানে বন্দর নগরী ছাড়ছে মানুষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

:পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে গন্তব্যে ছুড়ছে মানুষ। পথে পথে ভোগান্তি এড়াতে মানুষ আগ থেকে বন্দর নগরী ছাড়তে শুরু করেছে। শনিবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম রেল ষ্টেশন, বাস টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। এর আগে শুক্রবার থেকে তাদের এই ঈদ যাত্রা শুরু হয়।

চট্টগ্রাম মহানগরের এ কে খান মোড়, অলংকার ও চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দূরপাল্লার বাস ও ট্রেনে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন অনেকে। কেউ যাচ্ছেন কুমিল্লা, কেউ ঢাকা, কেউ সিলেট বা রাজশাহীর দিকে। যাত্রীর সংখ্যা এখনো খুব বেশি না হলেও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে বলে জানান পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সম্ভাব্য ঈদের তারিখ ধরা হচ্ছে আগামী ২১ মার্চ। ফলে এখনো কয়েক দিন সময় থাকলেও অনেকেই বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন।মূলত ঈদের আগমুহূর্তে বাড়তি যাত্রী চাপের ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আগেভাগে শহর ছাড়ছেন।

পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, দিন দিন ঈদযাত্রা আরও জমে উঠবে। বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি অফিসে ছুটি শুরু হলে নগর ছাড়ার মানুষের ঢল নামতে পারে। তখন এ কে খান, অলংকার, কদমতলী বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশন এলাকায় যাত্রীদের বড় ভিড় দেখা যাবে।

এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের পূর্বাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের ট্রেনযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে নানামুখী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ বছর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে ১০৫টি অতিরিক্ত কোচ প্রস্তুত করা হয়েছে। বাড়তি যাত্রী পরিবহনে এসব কোচ বিভিন্ন ট্রেনে সংযোজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিশেষ ট্রেন, বাড়তি ইঞ্জিন যুক্ত করাসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, যাত্রীর চাপ বাড়ায় পূর্বাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনে ১০৫টি অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হচ্ছে। চলমান ৭৫টি ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে আরও ১০টি ইঞ্জিন। এ ছাড়া চালানো হবে আটটি বিশেষ ট্রেন। এরমধ্যে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ ও ২ চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর আসা-যাওয়া করবে। এর যাত্রী ধারণক্ষমতা ৬৬৮ জন। এছাড়া ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে স্টেশন এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে এ কে খান এলাকায় ঢাকাগামী যাত্রী আবুল কালামের সঙ্গে কথা হলো। তিনি বলেন, তিনি নগরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এবার একটু আগেভাগেই বাড়ি যাচ্ছেন। কারণ, বাড়িতে একজন অসুস্থ আত্মীয় রয়েছেন।

ঈদের সময় পরিবারের সঙ্গে থাকতে চান বলেই আগে বেরিয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে নোয়াখালীগামী একটি বাসে উঠেছিলেন সায়েরা আক্তার। দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি গ্রামে ফিরছেন। সায়মা বলেন, পরে গেলে খুব ভিড় থাকে। বাচ্চাদের নিয়ে যাতায়াত কষ্ট হয়। তাই আগেই চলে যাচ্ছি। তবে তাঁর স্বামী হায়দার আলী এখনই যেতে পারছেন না। তিনি জানান, তাঁর স্বামীর এখনো ছুটি হয়নি। ঈদের আগের দিন তিনি বাড়ি যাবেন।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এবারের ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের মাঝে প্রতিদিন পূর্বাঞ্চলের ১৬টি ট্রেনের ৮ হাজারের বেশি অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। গত ৩ মার্চ থেকে ট্রেনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছিল। ৯ মার্চ শেষ হয়েছে। অগ্রিম টিকিটের যাত্রীরা যেতে শুরু করেছেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ