আজঃ রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

হজ্জের প্রতিটি ধাপে, প্রতিটি সূর্যোদয়ে ও প্রতিটি অশ্রুজলে ফুটে ওঠে ইসলামের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য—

হজ্জ: হৃদয়ের দিগন্তে আলেয়ার মতো জ্বলে ওঠা আত্মশুদ্ধির আলোকপাঁজর।

লেখক, শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো,মিশর

হজ্জ হলো এক আধ্যাত্মিক উল্লম্ফন—

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যখন কোটি কোটি হৃদয় এক সুরে উচ্চারণ করে—”লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক”, তখন আকাশ-বাতাসও থমকে দাঁড়ায়। হজ্জ তখন আর শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা থাকে না; হয়ে ওঠে আত্মার এক অভূতপূর্ব অভিষেক, পবিত্রতার এক অনন্য মহাসম্মিলন। মানুষের জীবনচক্রে এমন কোনো অধ্যায় নেই, যেখানে হজ্জের মত একান্ত ও গভীর আত্মসংশোধনের উপলক্ষ পাওয়া যায়।

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের শেষতম অথচ সর্বোচ্চ স্তম্ভটি যেন এক অলৌকিক আহ্বান। এই আহ্বান আসে আকাশ পেরিয়ে হৃদয়ের গহীনে, যেখানে মানুষ সমস্ত পরিচয়ের অহংকার ছুঁড়ে ফেলে আত্মবিসর্জনের শুদ্ধতম অবস্থানে পৌঁছে যায়। ধনী-গরিব, রাজা-ভিখারী—সবাই একসঙ্গে দাঁড়ায় কা’বার চৌহদ্দিতে। এক রঙের পোশাক, এক কণ্ঠের ধ্বনি, এক দিকের সেজদাহ—হজ্জ আমাদের শেখায় বিশ্বমানবতার মহাঐক্য।

Oplus_0

এই হজ্জের সূচনা সেই ইতিহাসের গভীর থেকে, যেখানে পিতা ইবরাহিম (আ.) তাঁর একমাত্র পুত্র ইসমাঈল (আ.)-কে আল্লাহর আদেশে কুরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। যে কা’বা ঘর তাঁর হাতে নির্মিত, সেই ঘরের চারপাশেই আজ কোটি মানুষের কান্না, তাওয়াফ, প্রার্থনা, নিঃশ্বাস। কত শত বছর পেরিয়ে গেছে, তবুও ইবরাহিম (আ.)-এর সেই আহ্বান—“আসো, তোমার প্রভুর ঘরে”—আজও প্রতিধ্বনিত হয় মিনার বাতাসে, আরাফার স্তব্ধতায়।

হজ্জ মানুষকে শিখিয়ে দেয় কীভাবে নতজানু হতে হয় এক মহান সত্তার সামনে। সেখানে নেই কোনো অহংকার, নেই কোনো রাজকীয়তা, নেই কোনো পার্থিব শ্রেষ্ঠত্ব—আছে কেবল আত্মবিসর্জন, কেবল ফিরে আসা, এক অনবদ্য অনুতাপে নিজের ভুলগুলো মুছে ফেলার ইচ্ছা। হজ্জ যেন একটি জীবন্ত দিগন্ত, যেখানে মুমিন তার অতীতকে পেছনে ফেলে নতুন এক আলোয় উদিত হয়।

যারা হজ্জ করেন, তারা ফিরে আসেন অন্য রকম হয়ে। চোখে থাকে এক গভীর শান্তি, কণ্ঠে থাকে বিনয়ের ঝরনা, হৃদয়ে থাকে নতুন করে জীবন শুরু করার স্পর্ধা। হজ্জ যেন এক স্বর্গীয় পুনর্জন্ম—যেখানে মানুষ নিজেকে ফিরে পায় আরও পবিত্র, আরও সত্যনিষ্ঠ এক মানুষ হিসেবে।

হজ্জের প্রতিটি ধাপে, প্রতিটি সূর্যোদয়ে ও প্রতিটি অশ্রুজলে ফুটে ওঠে ইসলামের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য—যেখানে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য। এমন ইবাদত এই পৃথিবীতে আর নেই, যা এতো সরল, অথচ এতো গভীর; এতো নিরব, অথচ এতো প্রভাবশালী।

এই ইবাদতের মাহাত্ম্য কেবল আখিরাতের প্রাপ্তিতে নয়, বরং দুনিয়ার জীবনেও এটি এক নতুন আবর্তন। হজ্জের পর এক মুসলিম যদি সত্যিকার অর্থে পরিবর্তিত না হন, তবে সেই সফর কেবল ভ্রমণই থেকে যায়। কিন্তু যিনি অন্তর দিয়ে হজ্জ করেন, তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় হয়ে ওঠে যেন এক চলমান তাওয়াফ—আল্লাহর দিকে ফিরে ফিরে আসার অবিরাম সাধনা।

হজ্জ তাই কেবল একটি ইবাদত নয়, এটি এক জীবনদর্শন, একটি নিরব বিপ্লব, যা মানুষের ভেতরের অন্ধকার দূর করে এনে দেয় আলোর নিরবধি ছায়া।

“হজ্জ হলো এক আধ্যাত্মিক উল্লম্ফন—যেখানে মুমিন তার সমস্ত ভার ঝেড়ে ফেলে হালকা হয়ে যায় আল্লাহর রহমতের আকাশে।”

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ আরও উসকে দিয়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকে ওই অঞ্চলে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর সূত্র অনুযায়ী, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অবস্থানরত এই দানবীয় রণতরীটি এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাত্রা শুরু করছে।

ইজিপ্টে ইকামাহীনদের বিরুদ্ধে অভিযান, অনিশ্চয়তার মুখে আজহারি ছাত্রসমাজ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইদানীং মিসরে ইকামা (আবাসিক অনুমতি) বিহীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এই অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে আল-আজহার কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যেখানে ইকামা বিহীন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাইরে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে বহু বাংলাদেশি নাগরিককে মিসরীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে হেফাজতে নিয়েছে। বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে অভিবাসন আইন প্রয়োগের স্বাভাবিক পদক্ষেপ মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের জটিল ও উদ্বেগজনক এক বাস্তবতা, যা ধীরে ধীরে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে।

মিসরকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে ইউরোপে অবৈধভাবে মানুষ পাচারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এই চক্র বাংলাদেশ থেকে মানুষ এনে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখায় এবং নৌপথে ইজিপ্ট হয়ে ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার আগেই মিসরীয় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। এর ফলে একটি জাতিগোষ্ঠী হিসেবে বাংলাদেশিরা প্রশাসনিক সন্দেহের আওতায় চলে যাচ্ছে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তি নিজেদের ছাত্র পরিচয় ব্যবহার করছে। এমনকি কিছু বাংলাদেশি অবৈধ ব্যবসায়ী ছাত্রদের নাম ব্যবহার করে বা ভুয়া ছাত্র পরিচয়ে এই নোংরা ব্যবসার অংশ হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ও গ্রুপ খুলে আকর্ষণীয় পোস্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। দিন দিন এই ধরনের তৎপরতা বেড়েই চলেছে, যা মিসরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে মিসরীয় প্রশাসন বিষয়টিকে শুধু অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে না; বরং জাতীয় নিরাপত্তা, মানবপাচার রোধ এবং জীবন রক্ষার প্রশ্ন হিসেবেই দেখছে। সে কারণেই ইকামাহীনদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই অভিযানের প্রভাব নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের জীবনেও এসে পড়ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসী ছাত্রদের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ইকামা ও কাগজপত্র দ্রুত হালনাগাদ করা, সন্দেহজনক ব্যক্তি ও অনলাইন প্রলোভন থেকে দূরে থাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলাই এখন একমাত্র নিরাপদ পথ।

ইজিপ্টে আগত শিক্ষার্থীরা জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যেই এখানে অবস্থান করছেন—তারা কোনো অপরাধী নন। কিন্তু কিছু অসাধু ও লোভী চক্রের কারণে পুরো একটি সম্প্রদায় আজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, যখন অপরাধ নীরবে বাড়ে, তখন তার মূল্য অনেক সময় নিরপরাধকেও দিতে হয়।

এই সংকট কেবল প্রশাসনিক নয়; এটি সচেতনতা, নৈতিকতা এবং দায়িত্ববোধেরও এক কঠিন পরীক্ষা।

আলোচিত খবর

নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে চীনের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ভারত-পাকিস্তানসহ ১৩ দেশকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিতে যাচ্ছে নতুন সরকার।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ