আজঃ শনিবার ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সত্যকে দাবিয়ে রাখা যায় কিছুদিন, ইতিহাসকে চাপা দেওয়া যায় কিছু পৃষ্ঠায়

রাজনীতির মুখোশের আড়ালে ইতিহাসের রক্তচিহ্ন।

লেখক, শিক্ষার্থী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

সময় একদিন সত্যকে ফিরিয়ে আনে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যে রাজনীতি একদিন ছিল জাতির মুক্তির অগ্নিস্নান, আজ তা পরিণত হয়েছে ক্ষমতার নিষ্ঠুর বৃত্তে বন্দি এক নিষ্প্রাণ নাট্যশালায়। আদর্শের নামগন্ধ নেই, নীতির কথা বললে কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে। অথচ এই ভূখণ্ডের রাজনীতির ভিত্তি রচিত হয়েছিল রক্ত, ত্যাগ আর চেতনায়; যেখানে মাটি ও মানুষের প্রতি ছিল গভীর দায়বদ্ধতা।

আজকের রাজনীতি যেন এক সুপরিকল্পিত ভুলে যাওয়ার প্রকল্প। ইতিহাসের প্রাচীন দেয়ালে যে মূল্যবোধের শব্দ খোদাই ছিল, সেসব এখন বিবর্ণ—ছিন্নমূল। নেতৃত্ব এখন আর আলো ছড়ায় না, বরং প্রতিনিয়ত সৃষ্টি করে বিভ্রান্তির কুয়াশা। রাজনীতিকদের অধিকাংশই আজ চরিত্রের বদলে চাতুর্যে বিশ্বাসী, আদর্শের বদলে কৌশলে অভ্যস্ত।

অথচ ইসলামী রাজনৈতিক ঐতিহ্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ব্যঞ্জনায় গাঁথা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রাষ্ট্রদর্শনে ছিল জবাবদিহিতা, দয়া ও সুবিচারের নিখাদ দৃষ্টান্ত। সেখানে শাসক ছিলেন দাসের মতো সেবক, আর শাসিতরা ছিলেন তার দায়িত্বের অঙ্গ। খলিফা ওমর (রা.) বলেছিলেন, “ফোরাত নদীর তীরে একটি কুকুরও যদি ক্ষুধায় মারা যায়, তার হিসাব ওমরকে দিতে হবে।” এমন কথার ভার কি আজকের কোনো শাসক ধারণ করেন?

ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়, রাজনীতি যদি জনগণের পাশে না দাঁড়ায়, তবে তা এক সময় জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। যে রাজনীতি মানুষকে একতাবদ্ধ করার বদলে বিদ্বেষ ছড়ায়, যে রাজনীতি ধর্মকে ব্যবহার করে বিভাজনের জন্য, সে রাজনীতি পবিত্র নয়—তা আত্মঘাতী।

আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি দীর্ঘকাল ধরে রাজনীতিকে এক গভীর চিন্তার জায়গা হিসেবে দেখেছে। বঙ্কিম থেকে শুরু করে কাজী নজরুল, বঙ্গবন্ধু থেকে শহীদুল্লাহ কায়সার—সাহিত্যিকেরা রাজনীতির সৌন্দর্য ও দায়িত্বের কথা বলে গেছেন। কিন্তু আজকের কালে রাজনীতিকে কেন্দ্র করে সাহিত্য যেন বিব্রত, ভীত, নির্বাক। কারণ কলম আজ চাপে, মত আজ নিয়ন্ত্রিত, আর চিন্তা আজ বিক্রয়যোগ্য পণ্যে রূপ নিয়েছে।

তারপরও আশার প্রদীপ নিভে যায়নি। সময়ের এক ফাঁকে জন্ম নেয় প্রতিরোধ, জন্ম নেয় নতুন চিন্তা। সেই চিন্তাই ইতিহাসকে পুনরায় জাগিয়ে তোলে, মানুষের ভেতরকার অন্ধকার ভেদ করে আলোর খোঁজে পাঠায়।

আমাদের প্রয়োজন এমন এক রাজনীতি, যা কেবল দখলের নয়, দায়িত্বের। যেখানে নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়, সেবা। যেখানে বিরোধিতা মানে শত্রুতা নয়, ভিন্নমতের সৌন্দর্য। যেখানে ধর্ম ব্যবহৃত হয় অনুপ্রেরণার জন্য, নিপীড়নের জন্য নয়।

সত্যকে দাবিয়ে রাখা যায় কিছুদিন, ইতিহাসকে চাপা দেওয়া যায় কিছু পৃষ্ঠায়—কিন্তু সময় একদিন সত্যকে ফিরিয়ে আনে। তখন মুখোশ খুলে পড়ে পড়ে; রাজনীতির মুখ দেখায় রক্তমাখা আয়না। সেই আয়নায় প্রতিফলিত হয় এক জাতির কান্না, আর ইতিহাসের প্রতিধ্বনি।আমরা কি সেই দিনটির জন্য প্রস্তুত?

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গাউসিয়া হক মনজিলে হুজুর গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ)’র মহান চাহরম শরীফ অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মহান ১০ মাঘ ওরশ মোবারকের বদৌলতে এই বিশ্ববাসীর উপর, বাংলাদেশের উপর,মুসলিম উম্মাহর উপর আল্লাহর রহমত বর্ষণের প্রার্থনা করেছেন হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভান্ডারী (মাঃ)

মহান ১০ মাঘ, ইমামুল আউলিয়া হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ‘র পবিত্র উরস্ ওরশ মোবারকের বদৌলতে এই বিশ্ববাসীর উপর , এই বাংলাদেশের উপর, মুসলিম উম্মাহর উপর রহমত বর্ষণ করার জন্য আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করেছেন মাইজভাণ্ডার শরীফ গাউসিয়া হক মনজিল-এর সম্মানিত সাজ্জাদানশীন রাহবারে আলম হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (মাঃ)।

মহান ১০ মাঘ ইমামুল আউলিয়া হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ)’র পবিত্র ১২০তম বার্ষিক উরস্ শরীফের চাহরম শরীফ উপলক্ষে বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ‘র মাজার শরীফে কেন্দ্রীয় মিলাদ কিয়াম শেষে অনুষ্ঠিত মোনাজাতে তিনি এই ফরিয়াদ জানান।

তিনি পবিত্র চাহরম শরীফকে মাইজভাণ্ডার শরীফ দরবারের ঐতিহ্যবাহী উর্ফ বা প্রথা উল্লেখ করে এই চাহরম শরীফের ফলার ফাতেহার তবাররুকাতে সকলের রুহানি-জিসমানী বিমারীর শেফা দান করার জন্য তিনি আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান।

তিনি হুজুর গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ‘র মহান আদর্শকে,মানবাত্মার উন্নয়নের আদর্শ ও সমাজ উন্নয়নের আদর্শ উল্লেখ করে এই আদর্শ যাতে দিকে দিকে পৌঁছে দিতে পারে, উপযুক্তভাবে উপস্থাপন করতে পারে,সেই তৌফিক কামনা করে তিনি আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান। এই উপস্থাপনের মাধ্যমে বিশ্বঅলি শাহান শাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ‘র আশেকগণ যাতে সমাজের কল্যাণ সাধন করতে পারে,দেশ দশের কল্যাণ সাধন করতে পারে তিনি আল্লাহর কাছে সেই তৌফিক কামনা করেন।

তিনি এ মহান ত্বরীকা-র অনুসরণ করে আল্লাহর বান্দারা যে অগণিত দ্বীনি-সামাজিক-মানবিক কর্মসূচিগুলো,অনুষ্ঠান প্রতিষ্ঠান গুলো আয়োজন করে চলেছে,গড়ে তুলেছে, পরিচালনা করে চলেছে, সেই সমস্ত খেদমতকে কবুল করার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানান।

তিনি মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ-এর সমস্ত খেদমতকে কবুল করার জন্য আল্লাহ সুবহানাহুতাআলার কাছে ফরিয়াদ জানান।পরিশেষে আগত অগণিত আশেক-ভক্ত-জায়েরীণদের তবাররুকাত পরিবেশন করা হয়।

সৈয়দ ছদরুল উলা মাইজভাণ্ডারী (ক.) প্রকাশ চেয়ারম্যান বাবাজানের পবিত্র চল্লিশা শরীফের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আওলাদে রাসুল (দ.),আওলাদে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী, মাইজভান্ডার দরবার শরীফের মহান আধ্যাত্মিক সাধক মজ্জুবে রহমান, ছানিয়ে ওয়াইজ আল করনী, হযরত শাহসুফি সৈয়দ ছদরুল উলা মাইজভাণ্ডারী (ক.) প্রকাশ চেয়ারম্যান বাবাজানের পবিত্র চল্লিশা শরীফ আগামী ৫ই ফেব্রুয়ারী রোজ বৃহস্পতিবার মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হবে।

এই উপলক্ষে ফটিকছড়ি আজিমনগরে আঞ্জুমানে গাউছিয়া রহমানিয়া ছদরুল উলা মাইজভাণ্ডারী মন্জিলে বড় শাহজাদী সৈয়দা কিশোয়ারা রহমান এবং ছোট শাহজাদী সৈয়দা মাহবুবা রহমানের উপস্থিতিতে ১ম প্রস্তুুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন আঞ্জুমানে গাউছিয়া রহমানিয়া ছদরুল উলা মাইজভাণ্ডারী কেন্দ্রীয় খেদমত পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন শাখা কমিটির সদস্যবৃন্দসহ আাশেক ভক্তবৃন্দ।

আলোচিত খবর

র‌্যাব নাম বদলে হচ্ছে এসআইএফ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতিসংঘের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবাধিবকার সংগঠন বহুদিন ধরে পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‌্যাব বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে এলেও তার বদলে নাম বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান বা র‌্যাবের নতুন নাম হবে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স বা এসআইএফ।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন-ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন দিয়েছেন। শিগগিরই একটি সরকারি আদেশ জারি হবে।নামের সঙ্গে পোশাকেও পরিবর্তন আসছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন-ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসআইএফ সদস্যদের নতুন পোশাকে দেখতে পাবেন।বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে জঙ্গিবাদের উত্থান ও আইনশৃঙ্খলার ক্রমাগত অবনতির মধ্যে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, আনসার ও ভিডিপি, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সদস্যদের নিয়ে র‌্যাব গঠিত হয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ