আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

সত্যকে দাবিয়ে রাখা যায় কিছুদিন, ইতিহাসকে চাপা দেওয়া যায় কিছু পৃষ্ঠায়

রাজনীতির মুখোশের আড়ালে ইতিহাসের রক্তচিহ্ন।

লেখক, শিক্ষার্থী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

সময় একদিন সত্যকে ফিরিয়ে আনে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যে রাজনীতি একদিন ছিল জাতির মুক্তির অগ্নিস্নান, আজ তা পরিণত হয়েছে ক্ষমতার নিষ্ঠুর বৃত্তে বন্দি এক নিষ্প্রাণ নাট্যশালায়। আদর্শের নামগন্ধ নেই, নীতির কথা বললে কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে। অথচ এই ভূখণ্ডের রাজনীতির ভিত্তি রচিত হয়েছিল রক্ত, ত্যাগ আর চেতনায়; যেখানে মাটি ও মানুষের প্রতি ছিল গভীর দায়বদ্ধতা।

আজকের রাজনীতি যেন এক সুপরিকল্পিত ভুলে যাওয়ার প্রকল্প। ইতিহাসের প্রাচীন দেয়ালে যে মূল্যবোধের শব্দ খোদাই ছিল, সেসব এখন বিবর্ণ—ছিন্নমূল। নেতৃত্ব এখন আর আলো ছড়ায় না, বরং প্রতিনিয়ত সৃষ্টি করে বিভ্রান্তির কুয়াশা। রাজনীতিকদের অধিকাংশই আজ চরিত্রের বদলে চাতুর্যে বিশ্বাসী, আদর্শের বদলে কৌশলে অভ্যস্ত।

অথচ ইসলামী রাজনৈতিক ঐতিহ্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ব্যঞ্জনায় গাঁথা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রাষ্ট্রদর্শনে ছিল জবাবদিহিতা, দয়া ও সুবিচারের নিখাদ দৃষ্টান্ত। সেখানে শাসক ছিলেন দাসের মতো সেবক, আর শাসিতরা ছিলেন তার দায়িত্বের অঙ্গ। খলিফা ওমর (রা.) বলেছিলেন, “ফোরাত নদীর তীরে একটি কুকুরও যদি ক্ষুধায় মারা যায়, তার হিসাব ওমরকে দিতে হবে।” এমন কথার ভার কি আজকের কোনো শাসক ধারণ করেন?

ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়, রাজনীতি যদি জনগণের পাশে না দাঁড়ায়, তবে তা এক সময় জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। যে রাজনীতি মানুষকে একতাবদ্ধ করার বদলে বিদ্বেষ ছড়ায়, যে রাজনীতি ধর্মকে ব্যবহার করে বিভাজনের জন্য, সে রাজনীতি পবিত্র নয়—তা আত্মঘাতী।

আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি দীর্ঘকাল ধরে রাজনীতিকে এক গভীর চিন্তার জায়গা হিসেবে দেখেছে। বঙ্কিম থেকে শুরু করে কাজী নজরুল, বঙ্গবন্ধু থেকে শহীদুল্লাহ কায়সার—সাহিত্যিকেরা রাজনীতির সৌন্দর্য ও দায়িত্বের কথা বলে গেছেন। কিন্তু আজকের কালে রাজনীতিকে কেন্দ্র করে সাহিত্য যেন বিব্রত, ভীত, নির্বাক। কারণ কলম আজ চাপে, মত আজ নিয়ন্ত্রিত, আর চিন্তা আজ বিক্রয়যোগ্য পণ্যে রূপ নিয়েছে।

তারপরও আশার প্রদীপ নিভে যায়নি। সময়ের এক ফাঁকে জন্ম নেয় প্রতিরোধ, জন্ম নেয় নতুন চিন্তা। সেই চিন্তাই ইতিহাসকে পুনরায় জাগিয়ে তোলে, মানুষের ভেতরকার অন্ধকার ভেদ করে আলোর খোঁজে পাঠায়।

আমাদের প্রয়োজন এমন এক রাজনীতি, যা কেবল দখলের নয়, দায়িত্বের। যেখানে নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়, সেবা। যেখানে বিরোধিতা মানে শত্রুতা নয়, ভিন্নমতের সৌন্দর্য। যেখানে ধর্ম ব্যবহৃত হয় অনুপ্রেরণার জন্য, নিপীড়নের জন্য নয়।

সত্যকে দাবিয়ে রাখা যায় কিছুদিন, ইতিহাসকে চাপা দেওয়া যায় কিছু পৃষ্ঠায়—কিন্তু সময় একদিন সত্যকে ফিরিয়ে আনে। তখন মুখোশ খুলে পড়ে পড়ে; রাজনীতির মুখ দেখায় রক্তমাখা আয়না। সেই আয়নায় প্রতিফলিত হয় এক জাতির কান্না, আর ইতিহাসের প্রতিধ্বনি।আমরা কি সেই দিনটির জন্য প্রস্তুত?

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গাউসিয়া হক ভাণ্ডারী খানকাহ্ শরিফের ব্যবস্থাপনায় শোহাদায়ে কারবালা মাহফিলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

১০ জুন ২০২৬খ্রি. বুধবার বাদ মাগরিব গাউসিয়া হক ভাণ্ডারী খানকাহ্ শরিফ এর ব্যবস্থাপনায় ৫ দিন ব্যাপী শোহাদায়ে কারবালা মাহফিল-২০২৬ উপলক্ষে ২য় প্রস্তুতি সভা কেন্দ্রীয় পর্ষদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভার আলোচ্য বিষয় ছিল মাহফিল এর অতিথি ও বক্তা নির্ধারণ, অনুষ্ঠানের দাওয়াত ও প্রচার, সার্বিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে, বিবিধ। এসময় উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আলী, মুহাম্মদ ছালেহ সুফিয়ান, কাজী হাবিবুল হোসাইন, মো.ফজলুল হক, মো. শওকত হোসাইন, মো. খোরশেদ আলম, মো.রুকুনুজ্জামান টুটুল, আবদুল মান্নান, মাওলানা মুজিবুল হক, মোহাম্মদ ওমর ফারুক, এসএম জাবেদ হোসাইন, হারুনুর রশিদ, কাজী আশরাফ হোছাইন, মো. জিয়াউল হাসান সাইফ, মো. শাহীন মুরাদ রাজা, সৈয়দ মোহাম্মদ হাবিব, মো. আকতার মিঞা সমন্বয়কারী, মোহাম্মদ আব্দুর রব, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম রিমন, দিদারুল আলম লোকমান, মো. মুজিবুর রহমান রাসেল, লায়ন ডা.বরুণ কুমার আচার্য বলাই, বাবু প্রবোধপাল, দেবরাজ পাল, সৈযদ আবু আহমদ, মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, মো. নুরমিয়া, মো. রানা সরকার, মো. সাজ্জাদ হোসেন, মো. কামাল উদ্দীন, মো. শাহজাহান মনজু, মো. ইদ্রিস আলী, মুহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম, মু. আমান উল্লা খান চৌধুরী লিটন প্রমূখ।

চট্টগ্রামে জমিয়তুল ফালাহ্ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাতের নামাজ আদায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে জমিয়তুল ফালাহ্ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাতের নামাজ আদায় করেছেন হাজারো মুসল্লি। আজ বৃহস্পতিবার ২৮ মে সকাল ৭টায় প্রথম জামাতে ইমামতি করেন জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদের খতিব হযরতুল আল্লামা আলহাজ সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী। নামাজ শেষে তিনি ঈদের খুতবা প্রদান করেন এবং কোরবানির তাৎপর্য, ত্যাগের শিক্ষা ও মাংস বণ্টনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান তুলে ধরেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ঈদের প্রধান জামাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টির নেতা সোলায়ামান আলম শেঠসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করেন।একই স্থানে সকাল ৮টায় দ্বিতীয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করবেন জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক।
এছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি দেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ