আজঃ শনিবার ২১ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে সরকারে গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধি উল্লেখ করে তাদের সম্মানহানি না করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার সকালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলায় সাংগঠনিক সফর কর্মসূচি শুরুর আগে নগরীর বিপ্লব উদ্যানের জমায়েতে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে বিএনপি সরকারের দুই উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমের পদত্যাগ দাবি করেছে।

এ দাবি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা স্পষ্টভাবেই জানিয়েছি যে, যে দুজন উপদেষ্টার পদত্যাগের কথা বলা হচ্ছে, তারা গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধি হিসেবে এ সরকারে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি বা এনসিপির প্রতিনিধি হিসেবে এ সরকারে নেই। তারা গণঅভ্যুত্থানের সবার প্রতিনিধি হিসেবে অন্তবর্তীকালীন সরকারে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাদের একটা দলীয় পরিচয়ে পরিচিত করানোর মধ্য দিয়ে তাদের যে ট্যাগ দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে, এ বিষয়টিকে আমরা নিন্দা জানিয়েছি।

একইসঙ্গে আমরা বলেছি, যে দুজন ছাত্র উপদেষ্টা আছেন, তারা গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধি হিসেবে আছেন, এ বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে তাদের যেন সম্মানহানি করা না হয়। প্রতিনিয়ত তাদের যেভাবে এননিপির সঙ্গে অ্যালাইন করা হচ্ছে, আমরা সে বিষয়ের নিন্দা জানিয়েছি।

জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তির মধ্যে বিভেদ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভেদ মানে রাজনৈতিক দলের মধ্যে পলিসির জায়গা থেকে মতপার্থক্য থাকবেই। সংকটকালীন সময় যখন আসে, এই বিভেদটাই কাটিয়ে উঠে আমরা আবার ঐক্যবদ্ধ হই, এটাই আমাদের জাতীয় চরিত্র। তো সেই জায়গা থেকে বিভেদ-মতপার্থক্য যেমন চলমান রয়েছে, আবার জাতীয় সংকট উত্তরণের সামগ্রিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।
যখনই সংকট এসেছে, যখনই দেশি-বিদেশি কিংবা অভ্যন্তরীণ দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র হয়েছে, আমরা সামগ্রিকভাবে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি, যাদের দীর্ঘদিনের লড়াই-সংগ্রাম রয়েছে, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবেই দেশবিরোধী এবং বাইরের যে ষড়যন্ত্র রয়েছে, সেগুলো আমরা প্রতিহত করছি।

এর আগে শনিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গতকাল আমরা আমাদের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছি যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ করা। তিনি বলেন, এই সার্বিক বিষয়গুলোতে জনগণের যে মতামত রয়েছে বা জনগণের যে প্রত্যাশা রয়েছে, জনআকাঙ্খার বিষয়টি জানার জন্যই আমরা এ কর্মসূচি শুরু করেছি। আমরা চট্টগ্রাম দক্ষিণ থেকে শুরু করেছি, সারা বাংলাদেশে এনসিপির পক্ষ থেকে এই মানুষের কাছে যাওয়া অব্যাহত থাকবে।

বিচার, সংস্কার এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে আমার দল কী ভাবছে, সেটা মানুষকে জানানো এবং মানুষের চিন্তাগুলো আমরা জানা, কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা সেটা প্রকাশ করছি।
সাংগঠনিক সফরে হাসনাত আবদুল্লাহ’র সঙ্গে আছেন, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও মো. আতাউল্লাহ এবং সংগঠক আরমান হোসেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের মোট ৯টি স্থানে তাদের পথসভা হয়েছে।

এগুলো হলো- কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক, আনোয়ারার চাতুরী চৌমুহনী, বাঁশখালী উপজেলা চত্বর, সাতকানিয়ার কেরাণীহাট, লোহাগাড়ার আমিরাবাদ, দোহাজারি পৌরসভা, চন্দনাইশ পৌরসভা, পটিয়া কলেজ গেইট এবং বোয়ালখালী উপজেলার ফুলতল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে শেষ সময়ে ঘরমুখো মানুষের স্রোত, রেল ষ্টেশন-টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদের সাতদিনের ছুটিকে কেন্দ্র পরিবার পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ বাগাভাগি করতে বন্দরনগরী ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ। মহানগরের বাস টার্মিনালগুলো ও রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখ পড়ার মতো। বুধবার ভোর থেকেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। যথাসময়ে ছেড়ে যাচ্ছে একের পর এক ট্রেন। এছাড়া ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে বাস টার্মিনালেও ভিড় করেন যাত্রীরা।

পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এদিকে চট্টগ্রাম অনেকটা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। নগরের বিভিন্ন ব্যস্ত রাস্তায় নেই আগের চিরচেনা যানজটের দৃশ্য। যানজটহীন স্বস্তিতে গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন নগরবাসী।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) শেখ মো. সেলিম বলেন, এখানে নিরাপত্তার কোনও শঙ্কা নেই। পুলিশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রার জন্য। প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা করা দরকার তা নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনেও পুলিশ কাজ করছে। যাত্রীদের ভাড়ার বিষয়েও আমরা তদারকি করছি।

বুধবার মহানগরের কদমতলী, বহদ্দারহাট ও নতুন ব্রিজ জিইসি বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীর চাপ বেশি। টিকিট পাচ্ছেন না অনেকে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা পর সকালে ছেড়ে যাওয়া ফিরতি গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন কেউ কেউ। যাত্রীর চাপের তুলনায় বাস টার্মিনালে গাড়ির সংকট দেখা গেছে। তবে কাউন্টার বসে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, যে গাড়িগুলো গেছে সেগুলো ফিরে এলেই এই টিকিটের সংকট থাকবে না। যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে যাত্রীরা বলছেন, কোনও ভোগান্তি নেই। তারা নির্বিঘ্নে যথাসময়ে ট্রেনে উঠছেন এবং ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কিছু কিছু ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে যাত্রীরা যেতে পারছেন। সকালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন। অন্য ট্রেনগুলোও যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। তাই স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও খোলা ট্রাকে কম ভাড়ায় গন্তব্যে যাচ্ছে লোকজন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে বিআরটিএ’র সতর্ক সংকেত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা স্থাপন করেছে। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বাঁকে উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এসব বাঁকে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হন। এরপর থেকেই বাঁকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ওঠে।

মহাসড়কে চলাচলকারী কয়েকজন বাস চালক জানান, রাতে বা কুয়াশার সময় হঠাৎ বাঁক সামনে চলে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। নতুন করে লাল পতাকা বসানোয় আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সহজ হবে।তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অস্থায়ী পতাকা নয়-স্থায়ী সাইনবোর্ড, গতিসীমা নির্দেশনা, রিফ্লেক্টর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, যেসব স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়ার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া–চুনতির জাঙ্গালিয়া বাঁক, চুনতির ডেপুটি বাজারের আগে ও পরের বাঁক, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা, লোহাগাড়া রাজাঘাটা, সাতকানিয়ার মিঠা দীঘি, চন্দনাইশের খানহাট পুকুর এবং পটিয়ার পাইরুল মাজারসংলগ্ন বাঁক।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী বলেন, ঈদের সময় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাঁকের উভয় পাশে পাঁচটি করে মোট ১০টি লাল পতাকা বসানো হয়েছে। ফলে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারবেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ