আজঃ বৃহস্পতিবার ২৫ জুন, ২০২৬

ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে চট্টগ্রামের আড়তদারদের পাওনা প্রায় ২৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে এবার কোরবানি ৯ লাখ পশু, চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা মাত্র সাড়ে ৪ লাখ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজধানী ঢাকার ১৭০টি ট্যানারি থাকলেও চট্টগ্রামে রয়েছে মাত্র একটি। চট্টগ্রামে আরও কয়েকটি ট্যানারি থাকলে চামড়া বেচাকেনায় অনেক সুবিধা হতো। ফলে বরাবরের মতো বিপুল পরিমাণ চামড়া সংগ্রহের সুযোগ থাকলেও সুষ্ঠু প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণ নিয়ে দেখা দেয় গভীর অনিশ্চয়তা। এ পরিস্থিতি কেবল

চট্টগ্রামের আড়তদারদের নয়, সামগ্রিকভাবে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পের ভবিষ্যতকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। একসময় চট্টগ্রামে ৩০টিরও বেশি ট্যানারি ছিল, যা স্বাধীনতার পরও ২২টি ছিল। বর্তমানে রিফ লেদার ছাড়া আর কোনো ট্যানারি সক্রিয় নেই। এটি চট্টগ্রামের চামড়ার মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ক্রয় করে। এছাড়া দেশের অন্য বিভাগ ও জেলা থেকেও তারা চামড়া সংগ্রহ করে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে এবার ৯ লাখের কাছাকাছি কোরবানি হওয়ার কথা জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে জানানো হলেও কাঁচা চামড়া আড়তদারদের চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা মাত্র সাড়ে ৪ লাখের মত।
সূত্র জানা গেছে, চট্টগ্রামে কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহ হয় প্রায় চার লাখ। এরমধ্যে গরুর চামড়া প্রায় তিন লাখ এবং ছাগলের চামড়া প্রায় এক লাখ। অথচ এই বিশাল পরিমাণ চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য চট্টগ্রামে একমাত্র ট্যানারি হলো রিফ লেদার লিমিটেড।

টিকে গ্রুপের এই প্রতিষ্ঠানটি বছরে এক লাখ পিস কাঁচা চামড়া কিনতে সক্ষম হয়। তাই মোট সংগ্রহের বড় অংশ প্রক্রিয়াজাতকরণের অক্ষমতায় সমস্যায় পড়েন আড়তদাররা। তাই চট্টগ্রামের সিংহভাগ চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ঢাকার হাজারীবাগ ও সাভারে হেমায়েতপুরের ট্যানারিগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়। এই নির্ভরতা চট্টগ্রামের আড়তদারদের জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী সংকটের জন্ম দিয়েছে।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রামে প্রতি বছরই গড়ে ৩ থেকে ৪ লাখের মত কোরবানির কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদারসহ ছোটখাট ব্যবসায়ীরা।গত বছর কোরবানির দিন চট্টগ্রামে আড়াই থেকে তিন লাখের মত কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদার এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা। পরবর্তীতে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় তিন লাখ ৬১ হাজার পিসে।

তবে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা প্রতি বছর যে পরিমাণ কোরবানি হবে বলে তথ্য দেন-সেই পরিমাণ কোরবানি হয় না বলে জানান চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির আহ্বায়ক আবদুল জলিল। তিনি বলেন, জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা কিসের ভিত্তিতে বলেন সেটা আমরা বুঝি না। উনারা যে পরিমাণ কোরবানির কথা বলেন-কোরবানি শেষে আমরা সেই পরিমাণ চামড়া খুঁজে পাই না। আমরা আড়তদার সমিতিতে যারা আছি তারাসহ আরো কিছু খুচরা-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মিলে প্রতি বছর গড়ে-৩৪ লাখের মত কোরবানি পশুর চামড়া পেয়ে থাকি। গতবার আমরা একেবারে দোহাজারী থেকে শুরু করে পতেঙ্গা, আগ্রাবাদ,

বিবিরহাট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা হয়ে রাউজান, হাটহাজারী, নাজিরহাট, ফটিকছড়ি পর্যন্ত ৪ লাখের কাছাকাছির কোরবানি পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছিলাম। প্রতি বছর এরকমই; ৪ লাখের মত লবণজাত করে থাকি আমরা।
চট্টগ্রামের বৃহত্তর কাঁচা চামড়া আড়তদার-ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামে কাঁচামালের সহজলভ্যতা, সহজলভ্য শ্রমিক, পরিবহন সুবিধা এবং ব্যাংক ঋণ সুবিধাসহ সব ধরনের অবকাঠামোগত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নতুন ট্যানারি গড়ে উঠছে না। এটা খুবই দুঃখজনক।

এদিকে আড়তদারদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ ঢাকার ট্যানারিগুলোর বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, ঢাকার ট্যানারি মালিকরা প্রতি বছর কোরবানির চামড়া বাকিতে কেনেন এবং সেই টাকা সময় মতো পরিশোধ করেন না। ২০১৫ সাল থেকে এই সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে চট্টগ্রামের আড়তদারদের প্রায় ২৫ কোটি টাকা আটকা পড়ে আছে। এই বকেয়া পাওনা আদায় না হওয়ায় অনেক আড়তদার নিঃস্ব হয়ে গেছেন এবং তাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এ বিষয়ে আড়তদার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০১৫ সালের সমস্যাটার কারণে আমাদের অনেকে ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। এখন আমরা যারা ব্যবসা করছি, তারাও নগদ টাকায় ব্যবসা করতে পারি না। যেমন গতবছরের টাকা আমরা এখনও পাইনি। তবে ২০১৬ সাল থেকে ট্যানারিগুলো আমাদের যে বছর চামড়া নেয় সেবছর একটা অংশ দেয়। আর বড় অংশের টাকা পরের বছর কোরবানির আগে দেয়। এটা নিয়ম করে ফেলেছে। লেনদেনটা যদি নগদ করা হতো, তাহলে আমাদের অনেক সুবিধা হতো।

সংগঠনটির সাবেক সহ-সভাপতি আবদুল কাদের সর্দার বলেন, পুঁজি হারিয়ে প্রায় ২৫০-৩০০ আড়তদার-ব্যবসায়ী থেকে এখন ২৫-৩০ জনে ঠেকেছে। অন্যরা দেউলিয়া হয়ে পড়েছেন। এখন যারা এ ব্যবসায় আছেন, তারা যদি পাওনা আদায় করতে না পারে তাহলে চট্টগ্রামে এ চামড়া ব্যবসা আরও খারাপ হবে।
তিনি আরও বলেন, এখনো মুখের কথায় চামড়া বেচাকেনা হয়। ট্যানারি মালিকেরা শুধু একটি স্লিপ দেন, তাতে আইনি ভিত্তি না থাকায় বকেয়া পাওনা নিয়ে বছরের পর বছর ঘুরছেন ব্যবসায়ীরা। এই মৌখিক লেনদেন এবং আইনি সুরক্ষার অভাব আমাদের অবস্থা আরও নাজুক করেছে।

এ নিয়ে আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, আমরা চাই এ ব্যবসা রক্ষার স্বার্থে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। আর কোরবানে অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী চামড়া সংগ্রহ করে। তাদের কাছে অনুরোধ, তারা যেন পর্যাপ্ত লবণ সংগ্রহ করে। চামড়া সংগ্রহের পরপর লবণ মেখে তারপর বেচাবিক্রি করে। অথবা সময় নষ্ট না করে আমাদের কাছে তাড়াতাড়ি বিক্রি করে। যেন চামড়া নষ্ট না হয়। আর ট্যানারি চাইলে তো সেটা দিনে দিনে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তবে এ বিষয়ে যদি সরকারিভাবে ট্যানারি ব্যবসায়ীদের আগ্রহী করে তাহলে ভালো হবে।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতি সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় কেনা হয়। লবণ দেয়ার পর ট্যানারি মালিকরা যখন আমাদের কাছ থেকে চামড়া নিতে আসেন তখন তারা অনেক চামড়া বাদ দিয়ে দেন। আড়তদার সমিতির ব্যবসায়ীরা জানান, গুদাম ভাড়া নিয়ে, শ্রমিকের বেতন দিয়ে–লবণ দিয়ে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার পর ট্যানারি মালিকদের কাছে বাকিতে চামড়া বিক্রি করতে হয়।

চট্টগ্রামের আড়তদারদের অভিযোগ ঢাকার অনেক ট্যানারি মালিক বাকিতে চামড়া নিয়ে এক বছরেও টাকা পরিশোধ করেন না। যার কারণে অনেক আড়তদার লোকসানে পড়ে তাদের ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে দিয়েছেন।
চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদাররা আরো জানান, চট্টগ্রামে আড়তদার সমিতিতে এখন ১১২ জনের মত সদস্য থাকলেও তার অর্ধেকও এখন এই পেশায় নেই। তারা এখন কোরবানির চামড়া সংগ্রহ করেন না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পানিতে পড়ে নিখোঁজ মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের লাশ উদ্ধার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামের খাল ভাঙনে ঘর ধসে রুবেল মিয়া (৩০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রায় ৭ ঘণ্টা পর ভেঙে পড়া ঘরের নিচ থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বড়দল পুরানহাটি এলাকার মাঝের খালে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়দল পুরানহাটি এলাকার বাসিন্দা বশিরুল হকের ছেলে রুবেল মিয়া(৩০)দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে ঘরের ভেতরে রশি দিয়ে সবসময় বেঁধে রাখতেন। সোমবার সকালে পাহাড়ি ঢলের পানি বড়দল মাঝের খাল দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানির প্রবল স্রোতে খালের পাড় ভেঙে গেলে পাশেই থাকা বশিরুল হকের ঘর খালে ধসে পড়ে। এ সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা দ্রুত ঘর থেকে বের হতে সক্ষম হলেও রুবেল মিয়া বের হতে পারেননি। ঘরের একটি কুটিরের সঙ্গে বাঁধা থাকায় ঘরসহ তিনি পানিতে তলিয়ে যান।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর বিকাল ৪টার পর দুর্ঘটনাস্থলে ভেঙে পড়া ঘরের কুটিরের নিচ থেকে রুবেল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর নিখোঁজ রুবেল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মোঃ ইফতেকারুল আলম সায়েম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন বুড়িশ্চর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান মোঃ ইফতেকারুল আলম সায়েম। তাঁর এই অর্জনে এলাকায় আনন্দ ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসা ইফতেকারুল আলম সায়েম সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়ে নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করেছেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, নিষ্ঠা ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন।

তাঁর মূল্যানের খবরে বুড়িশ্চর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বে তিনি ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার পাশাপাশি তরুণ সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ