আজঃ শুক্রবার ২৬ জুন, ২০২৬

ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে চট্টগ্রামের আড়তদারদের পাওনা প্রায় ২৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে এবার কোরবানি ৯ লাখ পশু, চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা মাত্র সাড়ে ৪ লাখ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজধানী ঢাকার ১৭০টি ট্যানারি থাকলেও চট্টগ্রামে রয়েছে মাত্র একটি। চট্টগ্রামে আরও কয়েকটি ট্যানারি থাকলে চামড়া বেচাকেনায় অনেক সুবিধা হতো। ফলে বরাবরের মতো বিপুল পরিমাণ চামড়া সংগ্রহের সুযোগ থাকলেও সুষ্ঠু প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণ নিয়ে দেখা দেয় গভীর অনিশ্চয়তা। এ পরিস্থিতি কেবল

চট্টগ্রামের আড়তদারদের নয়, সামগ্রিকভাবে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পের ভবিষ্যতকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। একসময় চট্টগ্রামে ৩০টিরও বেশি ট্যানারি ছিল, যা স্বাধীনতার পরও ২২টি ছিল। বর্তমানে রিফ লেদার ছাড়া আর কোনো ট্যানারি সক্রিয় নেই। এটি চট্টগ্রামের চামড়ার মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ক্রয় করে। এছাড়া দেশের অন্য বিভাগ ও জেলা থেকেও তারা চামড়া সংগ্রহ করে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে এবার ৯ লাখের কাছাকাছি কোরবানি হওয়ার কথা জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে জানানো হলেও কাঁচা চামড়া আড়তদারদের চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা মাত্র সাড়ে ৪ লাখের মত।
সূত্র জানা গেছে, চট্টগ্রামে কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহ হয় প্রায় চার লাখ। এরমধ্যে গরুর চামড়া প্রায় তিন লাখ এবং ছাগলের চামড়া প্রায় এক লাখ। অথচ এই বিশাল পরিমাণ চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য চট্টগ্রামে একমাত্র ট্যানারি হলো রিফ লেদার লিমিটেড।

টিকে গ্রুপের এই প্রতিষ্ঠানটি বছরে এক লাখ পিস কাঁচা চামড়া কিনতে সক্ষম হয়। তাই মোট সংগ্রহের বড় অংশ প্রক্রিয়াজাতকরণের অক্ষমতায় সমস্যায় পড়েন আড়তদাররা। তাই চট্টগ্রামের সিংহভাগ চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ঢাকার হাজারীবাগ ও সাভারে হেমায়েতপুরের ট্যানারিগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়। এই নির্ভরতা চট্টগ্রামের আড়তদারদের জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী সংকটের জন্ম দিয়েছে।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রামে প্রতি বছরই গড়ে ৩ থেকে ৪ লাখের মত কোরবানির কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদারসহ ছোটখাট ব্যবসায়ীরা।গত বছর কোরবানির দিন চট্টগ্রামে আড়াই থেকে তিন লাখের মত কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদার এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা। পরবর্তীতে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় তিন লাখ ৬১ হাজার পিসে।

তবে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা প্রতি বছর যে পরিমাণ কোরবানি হবে বলে তথ্য দেন-সেই পরিমাণ কোরবানি হয় না বলে জানান চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির আহ্বায়ক আবদুল জলিল। তিনি বলেন, জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা কিসের ভিত্তিতে বলেন সেটা আমরা বুঝি না। উনারা যে পরিমাণ কোরবানির কথা বলেন-কোরবানি শেষে আমরা সেই পরিমাণ চামড়া খুঁজে পাই না। আমরা আড়তদার সমিতিতে যারা আছি তারাসহ আরো কিছু খুচরা-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মিলে প্রতি বছর গড়ে-৩৪ লাখের মত কোরবানি পশুর চামড়া পেয়ে থাকি। গতবার আমরা একেবারে দোহাজারী থেকে শুরু করে পতেঙ্গা, আগ্রাবাদ,

বিবিরহাট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা হয়ে রাউজান, হাটহাজারী, নাজিরহাট, ফটিকছড়ি পর্যন্ত ৪ লাখের কাছাকাছির কোরবানি পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছিলাম। প্রতি বছর এরকমই; ৪ লাখের মত লবণজাত করে থাকি আমরা।
চট্টগ্রামের বৃহত্তর কাঁচা চামড়া আড়তদার-ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামে কাঁচামালের সহজলভ্যতা, সহজলভ্য শ্রমিক, পরিবহন সুবিধা এবং ব্যাংক ঋণ সুবিধাসহ সব ধরনের অবকাঠামোগত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নতুন ট্যানারি গড়ে উঠছে না। এটা খুবই দুঃখজনক।

এদিকে আড়তদারদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ ঢাকার ট্যানারিগুলোর বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, ঢাকার ট্যানারি মালিকরা প্রতি বছর কোরবানির চামড়া বাকিতে কেনেন এবং সেই টাকা সময় মতো পরিশোধ করেন না। ২০১৫ সাল থেকে এই সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে চট্টগ্রামের আড়তদারদের প্রায় ২৫ কোটি টাকা আটকা পড়ে আছে। এই বকেয়া পাওনা আদায় না হওয়ায় অনেক আড়তদার নিঃস্ব হয়ে গেছেন এবং তাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এ বিষয়ে আড়তদার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০১৫ সালের সমস্যাটার কারণে আমাদের অনেকে ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। এখন আমরা যারা ব্যবসা করছি, তারাও নগদ টাকায় ব্যবসা করতে পারি না। যেমন গতবছরের টাকা আমরা এখনও পাইনি। তবে ২০১৬ সাল থেকে ট্যানারিগুলো আমাদের যে বছর চামড়া নেয় সেবছর একটা অংশ দেয়। আর বড় অংশের টাকা পরের বছর কোরবানির আগে দেয়। এটা নিয়ম করে ফেলেছে। লেনদেনটা যদি নগদ করা হতো, তাহলে আমাদের অনেক সুবিধা হতো।

সংগঠনটির সাবেক সহ-সভাপতি আবদুল কাদের সর্দার বলেন, পুঁজি হারিয়ে প্রায় ২৫০-৩০০ আড়তদার-ব্যবসায়ী থেকে এখন ২৫-৩০ জনে ঠেকেছে। অন্যরা দেউলিয়া হয়ে পড়েছেন। এখন যারা এ ব্যবসায় আছেন, তারা যদি পাওনা আদায় করতে না পারে তাহলে চট্টগ্রামে এ চামড়া ব্যবসা আরও খারাপ হবে।
তিনি আরও বলেন, এখনো মুখের কথায় চামড়া বেচাকেনা হয়। ট্যানারি মালিকেরা শুধু একটি স্লিপ দেন, তাতে আইনি ভিত্তি না থাকায় বকেয়া পাওনা নিয়ে বছরের পর বছর ঘুরছেন ব্যবসায়ীরা। এই মৌখিক লেনদেন এবং আইনি সুরক্ষার অভাব আমাদের অবস্থা আরও নাজুক করেছে।

এ নিয়ে আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, আমরা চাই এ ব্যবসা রক্ষার স্বার্থে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। আর কোরবানে অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী চামড়া সংগ্রহ করে। তাদের কাছে অনুরোধ, তারা যেন পর্যাপ্ত লবণ সংগ্রহ করে। চামড়া সংগ্রহের পরপর লবণ মেখে তারপর বেচাবিক্রি করে। অথবা সময় নষ্ট না করে আমাদের কাছে তাড়াতাড়ি বিক্রি করে। যেন চামড়া নষ্ট না হয়। আর ট্যানারি চাইলে তো সেটা দিনে দিনে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তবে এ বিষয়ে যদি সরকারিভাবে ট্যানারি ব্যবসায়ীদের আগ্রহী করে তাহলে ভালো হবে।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতি সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় কেনা হয়। লবণ দেয়ার পর ট্যানারি মালিকরা যখন আমাদের কাছ থেকে চামড়া নিতে আসেন তখন তারা অনেক চামড়া বাদ দিয়ে দেন। আড়তদার সমিতির ব্যবসায়ীরা জানান, গুদাম ভাড়া নিয়ে, শ্রমিকের বেতন দিয়ে–লবণ দিয়ে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার পর ট্যানারি মালিকদের কাছে বাকিতে চামড়া বিক্রি করতে হয়।

চট্টগ্রামের আড়তদারদের অভিযোগ ঢাকার অনেক ট্যানারি মালিক বাকিতে চামড়া নিয়ে এক বছরেও টাকা পরিশোধ করেন না। যার কারণে অনেক আড়তদার লোকসানে পড়ে তাদের ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে দিয়েছেন।
চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদাররা আরো জানান, চট্টগ্রামে আড়তদার সমিতিতে এখন ১১২ জনের মত সদস্য থাকলেও তার অর্ধেকও এখন এই পেশায় নেই। তারা এখন কোরবানির চামড়া সংগ্রহ করেন না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মোবাইল ছাড়া অস্থিরতা: ডিজিটাল যুগের নতুন মানসিক সংকট নোমোফোবিয়া

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বর্তমান বিশ্বে মোবাইল ফোন আর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা, ব্যবসা, বিনোদন এবং সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোটি কোটি মানুষ স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীল। প্রযুক্তির এই অভূতপূর্ব অগ্রগতি মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, তবে একই সঙ্গে তৈরি করেছে নতুন কিছু মানসিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে অন্যতম হলো নোমোফোবিয়া (Nomophobia)— মোবাইল ফোন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অযৌক্তিক ভয় বা উদ্বেগ।

বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা কয়েকশ কোটি ছাড়িয়েছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন শিক্ষা, ই-কমার্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সেবার কারণে মানুষের জীবন ক্রমেই স্মার্টফোনকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। ফলে মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়া, চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া কিংবা ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো ঘটনা অনেকের জন্য সাধারণ অসুবিধার চেয়ে বড় মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, নোমোফোবিয়া এখনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো পৃথক মানসিক রোগ না হলেও এটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক সমস্যা। মোবাইল ফোন কাছে না থাকলে উদ্বেগ, অস্থিরতা, বিরক্তি, ভয় কিংবা অসহায়ত্বের অনুভূতি তৈরি হওয়াই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। অনেকেই বারবার ফোন চেক করেন, কোনো নোটিফিকেশন না এলেও স্ক্রিন অন করে দেখেন অথবা কয়েক মিনিট ফোন ব্যবহার না করলেই অস্বস্তি অনুভব করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোনের কার্যক্রম। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব কিংবা বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপের নোটিফিকেশন মানুষের মধ্যে তাৎক্ষণিক আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। ধীরে ধীরে এই অভ্যাস নির্ভরতায় রূপ নেয়। যখন সেই উৎস হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তখন মস্তিষ্কে এক ধরনের শূন্যতা ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

নোমোফোবিয়ার লক্ষণ সাধারণত দুই ধরনের— মানসিক ও শারীরিক। মানসিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা, ভয়, মনোযোগের ঘাটতি, বিরক্তি এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। অন্যদিকে শারীরিক লক্ষণের মধ্যে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘাম হওয়া, হাত কাঁপা, শ্বাস-প্রশ্বাসে অস্বস্তি কিংবা ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এসব লক্ষণ অব্যাহত থাকলে তা ব্যক্তির কর্মক্ষমতা, শিক্ষাজীবন এবং পারিবারিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণ প্রজন্ম নোমোফোবিয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ তারা প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ত। বর্তমানে অনেক তরুণের দিনের শুরু এবং শেষ হয় স্মার্টফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। বাস্তব জীবনের সম্পর্কের চেয়ে ভার্চুয়াল যোগাযোগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এবং স্মার্ট প্রযুক্তির বিস্তারের এই যুগে নোমোফোবিয়ার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, মানুষের নির্ভরতাও তত বাড়ছে। ফলে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি এর স্বাস্থ্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি হয়ে পড়েছে। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে ‘ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং’ এবং ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে।

নোমোফোবিয়া থেকে মুক্ত থাকতে হলে সচেতনতার বিকল্প নেই। প্রতিদিন কিছু সময় মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকা, অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানো, বই পড়া, খেলাধুলা কিংবা সৃজনশীল কাজে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভরতা কমানো সম্ভব। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার না করা এবং দিনের নির্দিষ্ট সময়কে ‘স্ক্রিনমুক্ত সময়’ হিসেবে নির্ধারণ করা কার্যকর হতে পারে।

প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি হয়েছে, মানুষের মানসিক শান্তি কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়। তাই প্রযুক্তিকে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে, কিন্তু তার দাসে পরিণত হওয়া যাবে না। স্মার্টফোন আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, তবে বাস্তব জীবন, মানবিক সম্পর্ক এবং মানসিক সুস্থতার চেয়ে কোনো প্রযুক্তিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। নোমোফোবিয়ার মতো সমস্যাগুলো আমাদের সেই বাস্তবতাই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। ডিজিটাল যুগে সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গড়তে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

পানিতে পড়ে নিখোঁজ মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের লাশ উদ্ধার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামের খাল ভাঙনে ঘর ধসে রুবেল মিয়া (৩০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রায় ৭ ঘণ্টা পর ভেঙে পড়া ঘরের নিচ থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বড়দল পুরানহাটি এলাকার মাঝের খালে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়দল পুরানহাটি এলাকার বাসিন্দা বশিরুল হকের ছেলে রুবেল মিয়া(৩০)দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে ঘরের ভেতরে রশি দিয়ে সবসময় বেঁধে রাখতেন। সোমবার সকালে পাহাড়ি ঢলের পানি বড়দল মাঝের খাল দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানির প্রবল স্রোতে খালের পাড় ভেঙে গেলে পাশেই থাকা বশিরুল হকের ঘর খালে ধসে পড়ে। এ সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা দ্রুত ঘর থেকে বের হতে সক্ষম হলেও রুবেল মিয়া বের হতে পারেননি। ঘরের একটি কুটিরের সঙ্গে বাঁধা থাকায় ঘরসহ তিনি পানিতে তলিয়ে যান।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর বিকাল ৪টার পর দুর্ঘটনাস্থলে ভেঙে পড়া ঘরের কুটিরের নিচ থেকে রুবেল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর নিখোঁজ রুবেল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ