আজঃ শনিবার ২ মে, ২০২৬

স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিতে ঈদের ছুটি বিন্যাসের দাবী যাত্রী কল্যাণ সমিতির

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদুল ফিতরের ন্যায় আসন্ন ঈদুল আজহায় স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার সুবিধার্থে ঈদের ছুটি ব্যবস্থাপনা ঠিক করে ঈদের আগে ছুটি বাড়ানোর দাবী জানিয়েছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

আজ ২৭ মে মঙ্গলবার সকালে নগরীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই দাবী জানান।
তিনি বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় সরকারের পক্ষ থেকে ১০ দিন ছুটি ঘোষণার বিষয়টি ইতিপূর্বে গণমাধ্যমে চাউর হয়েছে। কিন্তু কোন প্রকার সমীক্ষা ছাড়াই এই ছুটি ঘোষনা করায় দেশের যাত্রীসাধারন

এবারের আসন্ন ঈদুল আজহায় ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়তে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বিষয়টি সরকারের সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও তেমন কোন সাড়া মেলেনি।

তিনি আরো বলেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিগত ২৫ বছরের মধ্যে বিদায়ী পবিত্র ঈদুল ফিতরে স্বস্থিদায়ক ঈদযাত্রার পেছনে মূলত তিনটি কারন ছিল, ১। ঈদের আগে ৪ দিনের লম্বা ছুটি ২। সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক

ফেডারেশনের প্রভাবশালী মাফিয়া নেতারা পালিয়ে যাওয়ায় সড়কে মাস্তানিতন্ত্রের অবসান। ৩। সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিআরটিএ, ভোক্তা অধিদপ্তরসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত আন্তরিক প্রচেষ্টার কারনে মানুষ ভোগান্তিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করা গেছে। এই কারনে ২০২৪ সালের ঈদুল ফিতরের তুলনায় ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরে সড়ক দুর্ঘটনা ২১.০৫ শতাংশ,

নিহত ২০.৮৮ শতাংশ, আহত ৪০.৯১ শতাংশ কমেছিল। এই কারনে অন্তর্বর্তী সরকার নানা মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এবারের ঈদের লম্বা ছুটি বিন্যাস করে ঈদের আগে ৩ ও ৪ জুন ২ দিন ছুটি নিশ্চিত করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি, যাতায়াতের ভোগান্তি কমানো সক্ষম হবে।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ বলছে, অন্তর্বর্তী সরকার পবিত্র ঈদুল আজহায় আগামী ৫ জুন থেকে ১৪ জুন মোট ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছেন। লম্বা ছুটির কারনে এবারের ঈদে বেশি মানুষ গ্রামের বাড়ি যেতে পারে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি মনে করে, এবারের ঈদে ঢাকা থেকে ১ কোটি ১০ লাখ ও ঢাকার আশেপাশে জেলা থেকে আরো ৩০ লাখসহ ১ কোটি ৪০ লাখ থেকে

দেড়কোটি মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করতে পারে। ৭ জুন পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হলে ঈদের আগে ৫ ও ৬ জুন বৃহস্পতি ও শুক্রবার মাত্র ২ দিনের সরকারি ছুটি রয়েছে। আর ৬ জুন ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হলে ঈদের আগে মাত্র ৫ জুন বৃহস্পতিবার ১ দিনের সরকারি ছুটি থাকে। ঈদের আগে ঈদের ছুটি ২ দিন হলে একদিনে ৭৫ লাখ করে দুই দিনে দেড়কোটি মানুষ গ্রামের বাড়ী পাঠাতে গেলে দেশের যাত্রীসাধারণ

ভয়াবহ ভোগান্তিতে পড়তে হবে। অন্যদিকে ঈদের আগে ঈদের ছুটি ১ দিন হলে ১ দিনে দেড়কোটি মানুষ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি পাঠানোর মত সড়ক, রেল, নৌ কোন পথের যানবাহনের সক্ষমতা আমাদের দেশে নেই। এমনিতেই ঈদুল আজহায় সড়কের পাশে পশুরহাট ও পশুবাহী ট্রাক চলাচলের কারনে যানজট অব্যাহত থাকবে , ফলে যানবাহনের গতি কিছুটা কমে আসবে। এই ১ বা ২ দিনে ঢাকা থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ গ্রামের বাড়ি পাঠাতে রাস্তায় ভয়াবহ দুর্ভোগ তৈরী হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে দেওয়া ১১ ও ১২ জুন ২ দিনের ছুটি বিন্যাস করে ঈদের আগে ৩ ও ৪ জুন মঙ্গল ও বুধবার এগিয়ে আনলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের মত ঈদুল আজহায় ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত হবে বলে দেশের যাত্রীসাধারণ মনে করে। তাই এহেন দুর্ভোগ কমাতে সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সদয় দৃষ্টি আর্কষণ করেন সংগঠনটি।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক

চৌধুরী আরো বলেন, ঈদের লম্বা ছুটি কেবল বিনোদনের জন্য নয়, মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমানো, ভাড়া নৈরাজ্য কমানো ও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমানোর জন্য ব্যবহার করা জরুরী। তাই এই ছুটি ব্যবস্থাপনা ঠিক করে ঈদের আগে ছুটি বাড়ানো জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, ঈদের পরের ১১ ও ১২ জুনের ছুটি বাতিল করে ৩ ও ৪ জুন ছুটি নিশ্চিত করা গেলে দেশের মানুষজন পবিত্র ঈদুল ফিতরের মত ঈদুল আজহায় ধাপে ধাপে বাড়ী যাওয়ার সুযোগ পাবে। ঈদযাত্রা স্বস্থিদায়ক হবে। সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রানহানি কমে আসবে ও মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে, পরিবহন সংকটকে পুঁিজ করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধ হবে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ৪ দিন ছুটি ছিল বলেই মানুষজন ধাপে ধাপে বাড়ী যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে ঈদযাত্রা স্বস্থিদায়ক হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক অপর্ণা রায় দাশ, সংগঠনের অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ রফিকা আফরোজ প্রমুখ।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সুপারিশসমূহ:
১. ঈদের পরের ছুটি কমিয়ে ঈদের আগে ৩ ও ৪ জুন ২ দিনের ছুটি বাড়ানো।
২. ঈদযাত্রায় ফিটনেস বিহীন লক্কড়-ঝক্কড় বাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
৩. পরিবহন সংকটকে পুঁিজ করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
৪. জাতীয় মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিক্সা, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, নসিমন-করিমন চলাচল কঠোরভাবে বন্ধ করা।

৫. কালবৈশাখী মৌসুম হওয়ায় নৌ-পথে ফিটনেস বিহীন লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা।
৬. সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা।
৭. জাতীয় মহাসড়কের টোল পয়েন্ট গুলোতে যানজট বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।
৮. সড়কে চলাচলকারী পশুবাহী ট্রাক থামিয়ে যানজট তৈরী ও সড়কের পাশে পশুরহাট থেকে সৃষ্ট যানজট বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
৯. ঈদের আগে প্রতিটি জাতীয় মহাসড়ক সড়ক নিরাপত্তা অডিট নিশ্চিত করা।
১০. সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পুলিশ ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় রাখা।
১১. সড়কে ডাকাতি, পথে পথে ছিনতাই বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো জরুরী।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়ন টেকসই হবে না।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও জীবনমান নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়ন টেকসই হবে না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে মে দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য বিলীন হয়ে যাবে।শিকাগো শহরে শ্রমিকরা তাদের রক্তের বিনিময়ে যে আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, সেই চেতনা আজও আমাদের সামনে প্রাসঙ্গিক। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো আমরা সব শ্রমিকের ন্যায্য দাবি পূরণ করতে পারিনি।

তিনি শুক্রবার (১ মে) দুপুরে নগরীর টাইগার পাস মোড়ে মহান মে দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম হালকা মোটরযান চালক শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, প্রতিটি সেক্টরেই শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। রাস্তা নির্মাণ থেকে শুরু করে ভবন, নালা-নর্দমা পরিষ্কার, নগরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখার প্রতিটি কাজে শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে। আজ আমরা যে উন্নত অবকাঠামো ও নগরজীবন উপভোগ করছি, তা শ্রমিকদের ঘাম ও শ্রমের ফল।

তিনি আরও বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবেও জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করেন। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে আমরা দিন-রাত কাজ করছি। কোথাও পানি জমলে বা কোনো সমস্যা হলে দ্রুত সেখানে ছুটে যাই, যাতে মানুষের কষ্ট কমানো যায়।

রুট লেভেলের শ্রমিকদের গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, তাদের ন্যায্য মজুরি ও জীবনমান নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়ন টেকসই হবে না। গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকরা অনেক সময় বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামে, যা আমাদের জন্য দুঃখজনক।


চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে প্রায় ১২০০ অস্থায়ী শ্রমিককে স্থায়ী করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এটি ছিল তাদের দীর্ঘদিনের দাবি। ঝুঁকি নিয়েই আমরা এটি বাস্তবায়ন করেছি, কারণ তারা দীর্ঘদিন অসহায় অবস্থায় ছিলেন।

এ সময় তিনি শ্রমিকবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। মেয়র বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য পাঁচটি আবাসন নির্মাণে ৩০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং সিটি কর্পোরেশনের জন্য ৬০ কোটি টাকার সরকারি অনুদান শ্রমিকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের ৫ হাজার টাকা করে বোনাস প্রদানকেও তিনি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বক্তব্যের শেষে মেয়র একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করতে হবে। তিনি বলেন, এই নীতিকে বাস্তবে প্রয়োগ করা গেলে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হবে এবং তারা দেশের উন্নয়ন ও একটি সুন্দর চট্টগ্রাম গড়তে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

চট্টগ্রাম হালকা মোটরযান চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আবু ফয়েজের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমির হোসেনের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর চৌধুরী, রাজনীতিবিদ তোফাজ্জল হোসেন, মিল্টন ডেকোরেটারসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজেদুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ মানবাধিকার ও পরিবেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এস এম সামশুল হক। বক্তব্য রাখেন মে দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক শামসুল ইসলাম আরজু, সদস্য সচিব মো. সোলাইমান সুমন, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ আলম ফিরোজী, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সংগঠনের নেতা কে এম শহীদুল্লাহ, কাজল ইসলাম, মাঈন উদ্দিন তাপস, সাইফুল ইসলাম শাহীন, মো. হাসান, মিজানুর রহমান, জসিম উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, রাসেল হাওলাদার, ইয়াছিন মিয়াজি, মনির হোসেন, মো. সোহাগ, আবদুস সালাম, মো. শফি, জসিম উদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন, কাজী গোলাম মোস্তফা, এম এ হাকিম, এস এম ফজলুল হক, ওয়াজেদ আলী ওমর, ইমাম হোসেন মাসুদ প্রমুখ।

শিক্ষা বিভাগে আগুনের ঘটনার পেছনে কারা জড়িত? দেখা যাক তদন্তে কি বেড়িয়ে আসছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগে আগুনের ঘটনার পেছনে কারা জড়িত? দেখা যাক তদন্তে কি বেড়িয়ে আসছে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ