আজঃ শনিবার ২ মে, ২০২৬

ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার পরিদর্শনে চসিক টিম।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টেন্ডারের আগেই সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে চট্টগ্রামের ফিসারিঘাটস্থ মাছবাজারের ঘাট দখলের অভিযোগ উঠেছিল চট্টগ্রামের দুই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। শুধু ঘাটই নয়, অবৈধভাবে এরপর সিটি কর্পোরেশনের নাম ভাঙিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জায়গা দখলে নিতে বেশ কিছু স্থাপনা নিমার্ণের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ওই এলাকার পান দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে গণহারে চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এত সব অভিযোগে বিরক্ত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

এবার সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কর্পোরেশনের একটি টিম। কথা বলেছেন সব শ্রেণির ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও। এরপর মৎস্যজীবি থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে; কেউ যদি সিটি কর্পোরেশন, মেয়র, কিংবা মেয়রের পিএসের নামেও মাছবাজার থেকে চাঁদাবাজি করেন; তাদের ধরে যেন পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তারা হলেন: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী আছু ও মহানগর বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ নবাব খান।

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তারা ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার পরিচালনারা সাথে জড়িত জাতীয় মৎসজীবি সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে মাছ বাজার পরিদর্শন করেন।

এসময় উচ্চ আদালতের স্থিতিআদেশ উপেক্ষা করে বন্দর থেকে লিজ নেয়া জমিতে বেআইনীভাবে চসিকের খাস কালেকশন, পরিবহন ও সাধারণ মৎস্যজীবীদের কাছে চাঁদাবাজি, চসিকের অধিভুক্ত নয় এমন জমিতে চসিকের লোক পরিচয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, বাজারের ল্যান্ড ডিমারকেশন, ঘাটের নতুন টেন্ডারসহ বিভিন্ন অভিযোগ রাজস্ব কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করেন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি।

জানা যায়, দেশের সবচেয়ে আধুনিক এই ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার থেকে মাছের দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করা হয় বিদেশেও। এ অঞ্চলের মৎস্য শিল্পের সাথে জড়িত লক্ষাধিক মৎসজীবি। ২০১৫ সালে সাধারণ মানুষের দাবির মুখে জনবহুল ফিরিঙ্গিবাজার থেকে মাছ বাজার নতুন ফিসারীঘাটে সরিয়ে নেয়া হয়েছিলো। পুরোনো বাজারটি সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

কিন্তু ৫ই আগস্টের প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী অনুসারীরা বাজারটি পুরোনোস্থানে সরিয়ে নিতে নানামুখী প্রচেষ্টা শুরু করে। যদিও ফিরিঙ্গিবাজারে বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, গির্জা থাকার কারণে স্থানান্তরের বিষয়টি একেবারেই অযৌক্তিক বলছেন এলাকাবাসী।

নথি অনুযায়ী, বন্দর ও জেলা প্রশাসনের পারস্পরিক ভূমি বিরোধ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলা চলমান আছে (সিভিল বিবিধ পিটিশিন নম্বর ৭৮১/২৪, হাই কোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ৪৬২৪/২৫)। এছাড়া বিজ্ঞ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনাল চট্টগ্রামে (এল. এস. টি নম্বর ৪৮৪৫/২৪) ও বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ৩য় আদালতে আরেকটি মামলা (নম্বর ৭০/২৫) চলমান আছে। মৎস্যজীবীদের পূনঃর্বাসন না করে কোন ধরনের উচ্ছেদ না করার হাইকোর্টের নির্দেশনা আছে।

এর আগে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হবার পূর্বেই সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে মাছবাজার দখলের অভিযোগ উঠে দুই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। মাছ বাজারের দুই পাশে ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন বিএনপির দুই নেতা। সেই ব্যানারে তাদের ছবির সাথে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ছবিও ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লাগানো সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা হয়েছিল চসিকের একটি স্মারক নম্বরও। তারা যে সাইনবোর্ডটি ঝুলিয়ে ছিলেন সেখানে দুজনের ছবি ছাড়াও সবার ওপরে দেওয়া হয়েছে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ছবি। আর সবুজ কালিতে তাদের পরিচয়ে লেখা হয়েছে ‘ইজারাদার’। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর রাতারাতি সেই সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলা হয়।

সোনালী যান্ত্রিক মৎসজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বন্দর থেকে লিজ নিয়ে বৈধভাবে এই ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। এই বাজারের মাছ আভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। অযাচিতভাবে কেউ বাজার দখল করার জন্য অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করলে সেটি রাষ্ট্রের জন্যই ক্ষতি হবে। আমরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছি।’

বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক বীর মুক্তিযোদ্ধা আমীর হোসেন বলেন, ‘ কতটুকু জায়গা আমাদের লিজ দেওয়া হয়েছে, তা বন্দরের সঙ্গে করা চুক্তিতে উল্লেখ করা আছে। অনেকে ঘাটের কথা বলছেন, অথচ চট্টগ্রামে কিন্তু চাক্তাই-রাজাখালীসহ অনেক ঘাট রয়েছে। এখানে কোনভাবেই ঘাট নির্মাণ করতে দেওয়া যাবে না। বন্দর কোনভাবেই তা প্রশ্রয় দিবে না। নীতিমালায় বলা হয়েছে, এই জায়গায় কোন অবকাঠামো সৃষ্টি করা যাবে না। বন্দর যদি খাস কালেকশনের জন্য যদি অনুমতি দিয়েই থাকে তাহলে বিষয়টিতো আমাদের জানাতে হবে। যেহেতু বন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ, ফলে এখানে ডাবল পক্ষ নিয়ে কাজ করতে গেলেই ঠেলাঠেলি হবেএটাই স্বাভাবিক। যার প্রভাব পড়বে বাজারে, পরিচালনার ক্ষেত্রে সবাইকেই বেগ পেতে হবে। ফলে যারা ইজারা নিয়েছে আমি তাদের অনুরোধ করবো, আপনারা যেখান থেকে ঘাট নিয়েছে সেখানেই আপনারা ঘাট পরিচালনা করেন। অযথা বাজারে চাঁদাবাজি করবেন না।

তবে ঘাটের ইজারাদার মহানগর বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ নবাব খান বলেন, ঘাট-বাজার, এসব জায়গা ইজারা দেওয়ার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। ফলে এই ঘাটের ইজারার টাকাগুলো তুলে কর্পোরেশনকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহোদয় আমাদের দুইজনকে নিয়োগ করেছেন। কিন্তু এসব জায়গা থেকে টাকা তারা তুলে আমাদের ঘাড়ের উপর চাড়াচ্ছে। তারা বলছে, আমরা নাকি এখানে চাঁদাবাজি করছি। অথচ আমরা গত দুই মাস এখানে আসি না। আমার প্রশ্ন-আইনের মধ্যে আছে কি না, ১৫ বছর মেয়াদে তাদের ঘাট দেওয়া যাবে?

বন্দরের জায়গা সিটি কর্পোরেশন কিভাবে লিজ দেবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যেক ঘাটই সিটি কর্পোরেশন লিজ দিয়েছে। এখন যেই ঘাট নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, তা সিটি কর্পোরেশন বুঝবে। বন্দরের জায়গা হয়ে থাকলেও ডাক হলে সিটি কর্পোরেশনের। আর বন্দর এদের কিভাবে লিজ দিল গত ১৫ বছর? এত বছর কি বন্দবোস্তি হয়? তাহলে বাজার সমিতির মানুষ কিভাবে আবার এই জায়গা পরিচালনার দায়িত্ব পেল!

ঘাটের আরেক ইজারাদার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী আছু বলেন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এই ঘাটের ইজারা দেওয়ার পর থেকেই একটি পক্ষ নানাভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। কিভাবে ডা. শাহাদাতকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়, সেই চেষ্টা তারা নানাভাবেই করছেন। প্রতিদিন আমরা ১০ হাজার টাকা করে কালেকশন করে সিটি কর্পোরেশনকে দিচ্ছি। ঘাট আর বাজারের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বন্দর বলছে, এই বাজারটা তারা সোনালী মৎস্যজীবি সমিতিকে দিয়েছে। তারা বাজারকে ভাড়া দিয়েছে। এসব বিষয় কতটুকু গ্রহণযোগ্য তা আমাদের দেখতে হবে। সোনালী মৎস্যজীবি সমিতি যদি এই বাজার চালাতে না পারে সেক্ষেত্রে তারা তা বন্দরকে ফেরত দিবে, কিন্তু তা না করে তারা কিভাবে আরেকজনকে ভাড়া দিবে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি আইনগতভাবে কতটুকু শুদ্ধ রয়েছে তা জানা নেই, তবে ঘাটের মধ্যে আইন মেনে যতটুকু সম্ভব ততটুকুই কালেকশন করা হচ্ছে। কোনপ্রকার চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী আমরা করবো না।

সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরী বলেন, ফিসারিঘাট নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, উঠে আসছে চাঁদাবাজিসহ অনেক অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, আমাদের (সিটি কর্পোরেশন) নাম দিয়ে অনেকে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা উঠাচ্ছে। বিষয়গুলো নিয়ে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেয়র মহোদয় বাজার ও ঘাটের ইজারাদার, সবাইকে ডেকেছিলেন। যার প্রেক্ষিতে আজ (বৃহস্পতিবার) মেয়র মহোদয় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসার কথা ছিল। কিন্তু জরুরি কাজে তিনি ঢাকা থাকায় ওনার নির্দেশে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। আমাদের স্টেড টিমও ঘটনাস্থলে এসেছে। আমরা সবকিছু সার্ভে করে একটি রিপোর্ট মেয়র মহোদয়কে দিব। আমরা বলতে চাই, কেউ যদি সিটি কর্পোরেশন, মেয়র, কিংবা আমার নামেও মাছবাজারে চাঁদাবাজি করে; ব্যবসায়ী, মৎস্যজীবিসহ সবাইকে বলবো তাকে ধরে আপনারা আমাদের ফোন করবেন।

৬ মাসের জন্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার রায় রয়েছে তারপরও কেন ইজারা দেওয়া হলো জানতে চাইলে মারুফুল হক চৌধুরী বলেন, বাজারের বিষয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না। কারণ বাজার হচ্ছে বন্দরের, ঘাট হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের। ফলে ঘাট বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থাপনার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে দিয়েছে। ঘাট থেকে সিটি কর্পোরেশন খাস কালেকশন করতে পারবে। কিন্তু ইজারাদার বাজার থেকে কোন ধরনের ট্যাক্স, চাঁদা, ফি-বাজার থেকে তুলতে পারবে না। অবৈধভাবে বাজার থেকে কারা চাঁদাবাজি করছে, আপনারা (সাংবাদিক) তাদের ধরেন, তদন্ত করেন। কোন চাঁদাবাজিই এখানে হবে না। আমরা আশা করবো সাংবাদিকদের মধ্যে চাঁদাবাজদের মুখ উন্মোচন হবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর কর্মকর্তা ছাবের আহমদ বলেন, বাজারের সীমানা এক জিনিস, ঘাটের সীমানা এক জিনিস। নদীর কূল কর্পোরেশনের ঘাট থাকবেই, তা নীতিমালাতেই বলা আছে। সেই আলোকে এই ঘাট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে আমরা অনুমতি নিয়েই এই কাজ করেছি। প্রত্যেক বছর বন্দরের তালিকাভুক্ত ঘাটগুলো আমরা ইজারা দিয়ে থাকি। সেই হিসেবে এটিও ইজারা দেওয়া হয়েছে। নদীর কূলের সীমানার মধ্যে কোন ধরনের অবৈধ স্থাপনা রাখার পক্ষে আমরা নই, এগুলো উচ্ছেদ করার বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিবো। যেই ঘাট আমরা ইজারা দিয়েছি, ওই ইজারাদার ঘাট রিলেটেড আইন অনুযায়ী যা করণীয় সবটুকু করতে পারবেন। এর বাইরে আমাদের কোন এখতিয়ার নেই। ‘

নথি ঘেটে জানা যায়, বন্দর কর্তৃপক্ষ হতে লিজ মূলে ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর (১৪৭৭৫ নম্বর) এবং ২০১৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের (১৫০৫৩ নম্বর) বোর্ড রেজুলেশনের মাধ্যমে ফিসারিঘাটের ক্যাপিটাল ড্রেজিং থেকে সৃস্ট পরিত্যক্ত এই জমি (১,৭৩,২৬৩ বর্গফুট) বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডকে ১৫ বছর মেয়াদে লিজ দিয়েছিল। সরকারি বিধি মোতাবেক বন্দরের সাথে চুক্তি সম্পাদন করে ২০১৫ সালে ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই বন্দরকে বাৎসরিক ৬৩ লাখ টাকা ভাড়া দিয়ে আসছে সোনালী যান্ত্রিক মৎসজীবি সমবায় সমিতি। বর্তমানে এটি দেশের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক মাছ বাজার। কিন্তু ফিরিঙ্গিবাজার পুরোনো মাছ বাজার বন্দরের এই জমিতে স্থানান্তর নিয়ে সাবেক মন্ত্রী মুহিবুল হাসান নওফেলের সরাসরি আপত্তি ছিল। এছাড়া সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীও ফিরিঙ্গিবাজার থেকে ফিসারিঘাটে নতুন মাছ বাজার স্থানান্তরের ঘোর বিরোধী ছিলেন। সরকার পতনের পর ফিরিঙ্গি বাজার মাছ বাজারের (পুরাতন বাজার) সিন্ডিকেটের সাথে নতুন ফিসারিঘাট মাছবাজার বন্ধে চুক্তিবদ্ধ হন বিএনপি নেতারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাছ ব্যবসায়ী জানান, ‘দরপত্রে অংশ নিয়ে সরকারকে রাজস্ব দিতে রাজি নন দখলদাররা। তারা মাসোহারা আদায় করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে ইজারা নেয়া মাছ বাজার দখলে নিতে চাইছেন। বাজার সংলগ্ন ঘাটে চসিকের দরপত্র আহবানে ‘একান্ন লক্ষ টাকা’ ডাক উঠেছে। আইন অনুযায়ী, অভিযোগ উঠা দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার কথা। উল্টো তারা দিন দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লোক দাবি করে ঘর নির্মাণ করছে।’

এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, বাজারের খালি জায়গা জোরপূর্বক দখল করার অপচেষ্টা করছে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তি। সিটি করপোরেশনের জায়গা নয় এটি- তাহলে খাস কালেকশন কেন করবে? মেয়রও বেআইনি কাজ কেন করবেন! এদের চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসা পরিচালনা করা অসম্ভ হয়ে পড়েছে। সন্ত্রাসীদের জোরপূর্বক বেআইনী ও অনুপ্রবেশের কারণে বর্তমানে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাসহ সকলে ভয়ে ভীত সন্ত্রন্ত।’

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মহান মে দিবসে চসিক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক ইউনিয়ন ২১-এর আলোচনা সভা ও বিশাল র‍্যালি অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মহান মে দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) জাতীয়তাবাদী শ্রমিক ইউনিয়ন ২১-এর উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও বিশাল র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে র‍্যালিটি নাসিমন ভবনে গিয়ে শেষ হয়।সংগঠনের সভাপতি দিদারুল আলম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মোঃ সেলিম ভুইঞা, মোঃ বশির,শাহেদ আলম, মাবুদ, নাছির, শাহ আলম,মোঃজামশেদ, মহিউদ্দিন, মোঃমফজ্জল,হেদায়েত উল্ল্যা মোঃইসমাইলসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সাইফুল ও সোমনাথ রাজু। এছাড়াও শ্রমিক ইউনিয়নের অসংখ্য নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।সভায় বক্তারা বলেন, মহান মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের প্রেরণার উৎস। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

বোয়ালখালীতে জামায়াতে ইসলামী’র কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা ও পৌরসভা শাখার উদ্যোগে এক কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) সকাল ৯টায় স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে জুমার নামাজ শেষে মেজবানের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বোয়ালখালী উপজেলা শাখার আমীর মুহাম্মদ খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ইমাম উদ্দিন ইয়াছিনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামী’র আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামী’র আমীর মুহাম্মদ আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা সহকারী সেক্রেটারি মোঃ জাকারিয়া, চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালের পরিচালক ও বোয়ালখালী উপজেলা নায়েবে আমীর ডা. আবু নাছের।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চান্দগাঁও জামায়াতের আমীর মোঃ ইসমাইল হোসেন, সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন সরকার, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মোঃ ইকবাল, বোয়ালখালী উপজেলা মহিলা জামায়াতের সভাপতি নাহিদ পারভিন, অঞ্চল পরিচালক এলিনা সুলতানা, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা মফিজুর রহমান, ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা দিদারুল আলম, বোয়ালখালী পৌরসভা ও পোপাদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন রেনেসা ও দিগন্ত শিল্পী গোষ্ঠী।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ