প্রতিনিয়ত তাড়া করছে আতংক চট্টগ্রামের রেয়াজউদ্দিন বাজারে নিরাপত্তাহীনতায় আড়তদাররা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী রেয়াজউদ্দিন বাজারে আতংকের মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন আড়তদাররা। একের পর এক হামলা, লুটপাট, ভাংচুরের ও উচ্ছেদের হুমকিতে প্রতিনিয়ত তারা আতংককে সঙ্গী করে আড়ত চালিয়ে যাচ্ছেন। হামলাকারীরা প্রশাসনকেও তোয়াক্কা করছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে থানা পুলিশও আদালতের শরানাপন্ন হয়েও কোন কাজ হচ্ছেনা বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

জানা গেছে, রেয়াজউদ্দিন বাজারে দীর্ঘদিন ধরে আড়তদারী ব্যবসা পরিচালনা করছেন মোহাম্মদ মিন্টু সওদাগর। তার মালিকানাধীন দোকান ‘মেসার্স রফ বাণিজ্যালয়’ নিয়ে চলমান বিরোধে আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দোকানঘরের মালিক বারবার সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশি উপস্থিতি থাকলেও সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গিয়ে বারবার ফিরে এসে হামলা চালাচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগী।


প্রায় ১৮ বছর ধরে রেয়াজউদ্দিন বাজারে ‘মেসার্স রফ বাণিজ্যালয়’ নামে আড়তদারী ব্যবসা পরিচালনাকারী মিন্টু সওদাগর এই ব্যবসার মাধ্যমে তিনি স্থানীয় পাইকারি বাজারে একটি নির্ভরযোগ্য অবস্থান তৈরি করেন। দোকানঘরটি তিনি নিয়মিত মাসিক ভাড়ার বিনিময়ে ভোগদখল করে আসছিলেন। তার দাবি, সময়মতো ভাড়া পরিশোধসহ দোকানঘরের মালিকের সব শর্ত যথাযথভাবে পালন করে তিনি দোকান চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই দোকানঘরের মালিক কোনো পূর্ব নোটিশ বা আইনি প্রক্রিয়া না মেনে, কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে নিয়ে দোকানে হামলা চালান।

মিন্টু সওদাগরের অভিযোগ, মোছাম্মদ ইসমত আরা রউফ, তার দুই ছেলে রাকিব রেজা ও আবদুর রাহাত তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে দোকানের মালামাল ভাঙচুর করে, নগদ অর্থ লুটে নেয় এবং আমাকে ও কর্মচারীদের মারধর করে দোকান থেকে জোর করে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই ঘটনার পর মিন্টু সওদাগর স্থানীয় কতোয়ালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং পরবর্তীতে ২৩ মে ২০২৪ তারিখে আদালতের আশ্রয় নেন।


এদিকে গত বছরের ২৩ মে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত একটি আদেশ জারি করেন, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মিন্টু সওদাগর তার পূর্বের অবস্থায় দোকানে ব্যবসা পরিচালনা করবে এবং তাকে বাধা দেওয়া যাবে না। আদালত এ সংক্রান্ত একটি স্থিতিবস্থার আদেশও জারি করেন।
কিন্তু আদালতের এই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দোকান মালিক পুনরায় সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দোকানে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন ওই ব্যবসায়ী।

স্থানীয় আড়তদাররা জানান, পুলিশ এলে সন্ত্রাসীরা এলাকা ত্যাগ করে; কিন্তু কিছু সময় পরই তারা আবার ফিরে আসে এবং আগের মতোই ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এ নিয়ে আশপাশের দোকানদার ও সাধারণ জনগণের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে রেয়াজউদ্দিন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ সওদাগর বলেন, একজন ব্যবসায়ীকে ইচ্ছে মতো দোকান থেকে বের করে দেওয়া যায় না। এটা একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। সময় দিতে হয়। তাছাড়া দোকানঘর মালিকের শর্ত পূরণ হলে ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদের কোনো সুযোগ নেই। এখন বিষয়টি আদালতের হাতে, সেখানে যা সিদ্ধান্ত হবে সেটাই চূড়ান্ত।
জানতে চাইলে রেয়াজউদ্দিন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক শিবলী জানান, দোকানে হামলা এবং ভাংচুরের খবর পেয়ে সমিতির লোকজন ছুটে গিয়ে মিন্টু সওদাগরকে উদ্ধার করে। এরপরও হামলা অব্যাহত থাকলে স্থানীয় কোতোয়ালী থানাকে অভিহিত করলে পুলিশ এসে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কিন্তু শুনা যায় সন্ত্রাসীরা বারবার হামলা করে মিন্টুর ওপর।

এ বিষয়ে বৈঠকের পরও কোন সুরাহা না হলে বিষয়টি আদালতে মামলার জন্য প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে মামলাটি আদালতে চলমান রয়েছে। ব্যবসায়ী মিন্টু যাতে নিয়মিত তার ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে তারজন্য আদালত নিষেধাজ্ঞা জারী করে। যা এখনো বহাল রয়েছে। তিনি বলেন, জানতে পেরেছি সন্ত্রাসীরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিন্টু সওদাগরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

আমরাও চাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক শাস্তির ব্যবস্থা হোক। তিনি যাতে সুন্দর ভাবে নিরাপদে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে। এলাকাবাসী এবং আশপাশের ব্যবসায়ীরা হামলা ও দোকান ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। একজন প্রতিবেশী দোকানদার বলেন, আমরা সবাই আতঙ্কে থাকি। আজ ওর দোকানে হামলা হয়েছে, কাল হয়তো আমাদের দিকেও চোখ পড়বে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত দ্রুত এই সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা।

এ বিষয়ে কেতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, আমরা ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। ইতোমধ্যে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে স্থানীয়রা দাবি করছেন, হামলাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাগ্রস্ত।

মোহাম্মদ মিন্টু সওদাগর বলেন, আমি এখন আদালতের নির্দেশনার আশ্রয় নিয়ে দোকানে বসে আছি, কিন্তু প্রতিনিয়ত ভয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে। আমি চাই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে এবং আমার মতো একজন সাধারণ ব্যবসায়ীকে ন্যায়বিচার পায়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তরুণীর মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়ন ফকিরাবাদে বকশিপাড়ায় স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে। তমা খাতুনের স্বামী বক্কর হোসেন এখন ভেড়ামারা থানা পুলিশ হেফাজতে। তমা খাতুন (১৮) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে মারা যান। নিহত তমা খাতুন ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ বকশীপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে।

নিহতের পরিবারের দাবি, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহতের মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তমার মৃত্যুর পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ জাহেদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই তরুণী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ধর্ষণের কোনো আলামত বা প্রমাণ পুলিশ পায়নি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই তরুণীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে হাসপাতালে ভর্তির সময় পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

সংস্কারবঞ্চিত সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনা হচ্ছে: চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর উন্নয়নকাজে গতি আনতে সরেজমিনে তদারকি অব্যাহত রেখেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের চলমান কার্পেটিং কাজ পরিদর্শন করেছেন তিনি।

পরিদর্শনকালে মেয়র সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং কার্পেটিং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

দীর্ঘদিন সংস্কারের অপেক্ষায় থাকা অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের উন্নয়নকাজ এগিয়ে যাওয়ায় এ পথে চলাচলকারী নগরবাসীর দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। কার্পেটিং কাজ শেষ হলে সড়কটি দিয়ে চলাচল আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করাই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিন সংস্কারবঞ্চিত সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনা হচ্ছে। কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকবে। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে আমরা মাঠে থেকে কাজের অগ্রগতি তদারকি করছি।

কার্পেটিং কাজ শেষ হলে অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়ক ব্যবহারকারী বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ার পাশাপাশি নগরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ