আজঃ শনিবার ২ মে, ২০২৬

প্রতিনিয়ত তাড়া করছে আতংক চট্টগ্রামের রেয়াজউদ্দিন বাজারে নিরাপত্তাহীনতায় আড়তদাররা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী রেয়াজউদ্দিন বাজারে আতংকের মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন আড়তদাররা। একের পর এক হামলা, লুটপাট, ভাংচুরের ও উচ্ছেদের হুমকিতে প্রতিনিয়ত তারা আতংককে সঙ্গী করে আড়ত চালিয়ে যাচ্ছেন। হামলাকারীরা প্রশাসনকেও তোয়াক্কা করছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে থানা পুলিশও আদালতের শরানাপন্ন হয়েও কোন কাজ হচ্ছেনা বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

জানা গেছে, রেয়াজউদ্দিন বাজারে দীর্ঘদিন ধরে আড়তদারী ব্যবসা পরিচালনা করছেন মোহাম্মদ মিন্টু সওদাগর। তার মালিকানাধীন দোকান ‘মেসার্স রফ বাণিজ্যালয়’ নিয়ে চলমান বিরোধে আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দোকানঘরের মালিক বারবার সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশি উপস্থিতি থাকলেও সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গিয়ে বারবার ফিরে এসে হামলা চালাচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগী।


প্রায় ১৮ বছর ধরে রেয়াজউদ্দিন বাজারে ‘মেসার্স রফ বাণিজ্যালয়’ নামে আড়তদারী ব্যবসা পরিচালনাকারী মিন্টু সওদাগর এই ব্যবসার মাধ্যমে তিনি স্থানীয় পাইকারি বাজারে একটি নির্ভরযোগ্য অবস্থান তৈরি করেন। দোকানঘরটি তিনি নিয়মিত মাসিক ভাড়ার বিনিময়ে ভোগদখল করে আসছিলেন। তার দাবি, সময়মতো ভাড়া পরিশোধসহ দোকানঘরের মালিকের সব শর্ত যথাযথভাবে পালন করে তিনি দোকান চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই দোকানঘরের মালিক কোনো পূর্ব নোটিশ বা আইনি প্রক্রিয়া না মেনে, কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে নিয়ে দোকানে হামলা চালান।

মিন্টু সওদাগরের অভিযোগ, মোছাম্মদ ইসমত আরা রউফ, তার দুই ছেলে রাকিব রেজা ও আবদুর রাহাত তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে দোকানের মালামাল ভাঙচুর করে, নগদ অর্থ লুটে নেয় এবং আমাকে ও কর্মচারীদের মারধর করে দোকান থেকে জোর করে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই ঘটনার পর মিন্টু সওদাগর স্থানীয় কতোয়ালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং পরবর্তীতে ২৩ মে ২০২৪ তারিখে আদালতের আশ্রয় নেন।


এদিকে গত বছরের ২৩ মে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত একটি আদেশ জারি করেন, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মিন্টু সওদাগর তার পূর্বের অবস্থায় দোকানে ব্যবসা পরিচালনা করবে এবং তাকে বাধা দেওয়া যাবে না। আদালত এ সংক্রান্ত একটি স্থিতিবস্থার আদেশও জারি করেন।
কিন্তু আদালতের এই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দোকান মালিক পুনরায় সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দোকানে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন ওই ব্যবসায়ী।

স্থানীয় আড়তদাররা জানান, পুলিশ এলে সন্ত্রাসীরা এলাকা ত্যাগ করে; কিন্তু কিছু সময় পরই তারা আবার ফিরে আসে এবং আগের মতোই ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এ নিয়ে আশপাশের দোকানদার ও সাধারণ জনগণের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে রেয়াজউদ্দিন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ সওদাগর বলেন, একজন ব্যবসায়ীকে ইচ্ছে মতো দোকান থেকে বের করে দেওয়া যায় না। এটা একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। সময় দিতে হয়। তাছাড়া দোকানঘর মালিকের শর্ত পূরণ হলে ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদের কোনো সুযোগ নেই। এখন বিষয়টি আদালতের হাতে, সেখানে যা সিদ্ধান্ত হবে সেটাই চূড়ান্ত।
জানতে চাইলে রেয়াজউদ্দিন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক শিবলী জানান, দোকানে হামলা এবং ভাংচুরের খবর পেয়ে সমিতির লোকজন ছুটে গিয়ে মিন্টু সওদাগরকে উদ্ধার করে। এরপরও হামলা অব্যাহত থাকলে স্থানীয় কোতোয়ালী থানাকে অভিহিত করলে পুলিশ এসে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কিন্তু শুনা যায় সন্ত্রাসীরা বারবার হামলা করে মিন্টুর ওপর।

এ বিষয়ে বৈঠকের পরও কোন সুরাহা না হলে বিষয়টি আদালতে মামলার জন্য প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে মামলাটি আদালতে চলমান রয়েছে। ব্যবসায়ী মিন্টু যাতে নিয়মিত তার ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে তারজন্য আদালত নিষেধাজ্ঞা জারী করে। যা এখনো বহাল রয়েছে। তিনি বলেন, জানতে পেরেছি সন্ত্রাসীরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিন্টু সওদাগরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

আমরাও চাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক শাস্তির ব্যবস্থা হোক। তিনি যাতে সুন্দর ভাবে নিরাপদে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে। এলাকাবাসী এবং আশপাশের ব্যবসায়ীরা হামলা ও দোকান ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। একজন প্রতিবেশী দোকানদার বলেন, আমরা সবাই আতঙ্কে থাকি। আজ ওর দোকানে হামলা হয়েছে, কাল হয়তো আমাদের দিকেও চোখ পড়বে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত দ্রুত এই সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা।

এ বিষয়ে কেতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, আমরা ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। ইতোমধ্যে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে স্থানীয়রা দাবি করছেন, হামলাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাগ্রস্ত।

মোহাম্মদ মিন্টু সওদাগর বলেন, আমি এখন আদালতের নির্দেশনার আশ্রয় নিয়ে দোকানে বসে আছি, কিন্তু প্রতিনিয়ত ভয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে। আমি চাই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে এবং আমার মতো একজন সাধারণ ব্যবসায়ীকে ন্যায়বিচার পায়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভাঙ্গুড়ায় ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উদযাপন ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আজ মহান মে দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের এ দিন কে স্মরণ করে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়েছে এই দিবসটি। রাষ্ট্রীয়ভাবে মে দিবস পালন করছে বাংলাদেশ। তারই ধারাবাহিকতায় পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা সিএনজি মালিক ও শ্রমিক সমিতি এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ভাঙ্গুড়া উপজেলা শাখার আয়োজনে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উদযাপন ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’। মহান মে দিবসের ইতিহাসের সূচনা ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিকদের ঐতিহাসিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবং দিবসটি আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃতি পায় ।

শিল্প বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে শ্রমিকদের দিনে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হলে তারা ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে সংগঠিত হয়ে ওঠে। ওই বছরের ১ মে দেশজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু হয়, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিকাগো।আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৪ মে সংঘটিত হে মার্কেট বোমা বিস্ফোরণ ও পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। পরবর্তীকালে কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে বিতর্কিত বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে তা বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের জন্ম দেয় এবং শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

সেই স্বরণে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সিএনজি মালিক ও শ্রমিক সমিতি এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ভাঙ্গুড়া উপজেলা শাখার আয়োজনে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উদযাপন ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি ভাঙ্গুড়া বাস স্ট্যান্ড শহীদ মিনার থেকে শুরু করে শরৎনগর বাজারে দিকে রওনা হয়। শরৎনগর বাজারের মেইন মেইন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজপাড়া মোড়ের ব্রিজ পার হয়ে, ভাঙ্গুড়া বাজারের মেইন মেইন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরবর্তীতে ভাঙ্গুড়া বাস স্ট্যান্ড শহীদ মিনার চত্বরে এসে শেষ হয়। এ সময় ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাকিউল আযমের নেতৃত্বে গাড়ি বহ পুলিশ শোভাযাত্রাটিকে নিরাপত্তা প্রদান করেন।

আপন ভাই কে তুলে নেওয়ায় ফেসবুকে পোস্ট; লাঞ্চিত করল বিএনপি নেতার ভাই সাংবাদিককে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় আপন ছোট ভাই কে তুলে নেওয়ার ঘটনা ফেসবুকে প্রকাশ করায় এক জনৈক সাংবাদিক কে প্রকাশ্যে মারধর করেছে, ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ছোট ভাই শরীফ সহ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ শাহিবুল ইসলাম পিপুল ভাঙ্গুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক পিপুল দৈনিক বাংলা ট্রিবিউন-এর পাবনা জেলা প্রতিনিধি এবং দৈনিক যুগান্তরের ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই দিন বিকাল প্রায় ৫ টার দিকে কলেজ পাড়া এলাকায় ফিরোজ, হাসিব, মারুফ ও আল-আমিন সহ কয়েক জন যুবক জোরপূর্বক সাংবাদিক পিপুলের ছোট ভাই ইয়াসিন আলী সামী কে হাসপাতাল পাড়া সংলগ্ন শিশুকুঞ্জ এলাকা থেকে তুলে নিয়ে ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে নিয়ে যায়।
বিষয়টি জানার পর পিপুল তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ কে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠায়।

এ ঘটনার পর পিপুল নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই পোস্টকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ‘বাহার’ নামে একব্যক্তি ফোন করে তার অবস্থান নিশ্চিত করে ও পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

কিছুক্ষণ পর পিপুল ভাঙ্গুড়া সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ফিরোজ ও তার সাথে থাকা এক যুবক পরিচয় নিশ্চিত করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং তারাই তার ভাইকে তুলে নিয়েছিল বলে স্বীকার করে। সেখান থেকে সরে আসার চেষ্টা করলে শরীফ ফোনে যোগাযোগ করে পিপুলের অবস্থান জেনে নেয়।

পরবর্তীতে শরীফের নেতৃত্বে ১২/১৫ জনের একটি দল সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তানভীর নামে এক ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক দাঁড়িয়ে থাকা।
একটি সিএনজিতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে পাশের একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিয়ে পিপুল রক্ষা পায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় ভাঙ্গুড়া থানার এস আই আল-আমিন হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক পিপুল স্থানীয় সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙ্গুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ