আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে বাড়ছে পেঁয়াজের ঝাঁঝ, পাইকারি-খুচরায় দামের তফাত

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে পেঁয়াজ নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল নগরবাসী। এখন পেঁয়াজের বাজারের চিত্র পাল্টাতে শুরু করে। পাইকারীতে এক দাম, খুচরায় আরেক দাম। বিশেষ করে এক কেজি পেঁয়াজেই কিনা খুচরা ব্যবসায়ীরা লাভ করছেন ২০ টাকার বেশি। কদিন ধরেই চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজারখ্যাত খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু সেই পেঁয়াজ কিনা খুচরা বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০টাকায়। দামের এমন তফাতে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। তাঁরা খুচরা বাজারগুলোতে প্রশাসনের তদারকির অনুরোধ জানিয়েছেন।

খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের আড়তগুলোতে পেঁয়াজের সরবরাহ বেশ ভালো ছিল। দামে কোনো হেরফের হয়নি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছিল পণ্যটি। খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়ার বাজারের মেসার্স কাজী স্টোরের স্বত্বাাধিকারী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, পেঁয়াজের সরবরাহ কিছুটা কমলেও দাম বাড়েনি। আগের দামেই মানভেদে পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি আগামী কদিন এই দাম অব্যাহত থাকবে। তবে গত সোমবার থেকেই পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করে। পুরো সপ্তাহজুড়ে তাই খাতুনগঞ্জে ৪০-৪৫টাকাতেই বিক্রি হয়েছে পেঁয়াজ। কিন্তু সেই দাম কমার সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান বলেন, আমরা পেঁয়াজের খুচরা বাজারে শিগগির তদারকি কার্যক্রম চালাবো।
বহদ্দারহাট ও কর্ণফুলী মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে মানভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। তবে পাইকারির চেয়ে এত বেশি দামে বিক্রি করার তেমন কোনো কারণ দেখাতে পারেননি খুচরা বিক্রেতারা। বহদ্দারহাটের রাঙ্গুনিয়া স্টোরের দোকানি মোহাম্মদ সাহেদের কাছে দাম না কমার কারণ জানতে চাইলে বলেন, বেশি দামে কিনতে হয়েছে, তাই বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

একই কথা বলেন কর্ণফুলী মার্কেটের আরেক খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, আগের সপ্তাহে কেনা পেঁয়াজই বিক্রি করছেন। যেহেতু ৫০-৫৫ টাকায় কিনতে হয়েছে সেজন্য মানভেদে ৬০-৭০টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

তবে ক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁরা বলছেন পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য। এটি বেশিদিন সংরক্ষণ করে রেখে বিক্রির পণ্য না। পাইকারি বাজারের প্রভাব দিনে দিনে না হলেও এক দুদিনের মধ্যে খুচরা বাজারে পড়ার কথা। কিন্তু খুচরা ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পুরনো দামেই পেঁয়াজ বিক্রি করছেন।

বহদ্দারহাটে পেঁয়াজ কিনতে এসে তাই ক্ষোভ ঝাড়লেন গৃহিনী হালিমা বেগম। তিনি বলেন, পত্রিকা-টিভিতে পেঁয়াজের দাম কমার খবর পড়ছি-শুনছি কদিন ধরে। কিন্তু বাজারে এসে দেখছি উল্টো চিত্র। আগের দামেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরে প্রশাসনের তদারকি না থাকার সুযোগে ব্যবসায়ীরা জোট বেঁধে আমাদের ঠকাচ্ছে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরাও মনে করেন পাইকারি বাজারের পাশাপাশি খুচরা বাজারেও নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, আমরাও শুনতে পাচ্ছি পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারগুলোতে সেটির প্রভাব এখনো পড়েনি। আগের দামেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এটা অনেক সময়েই হয়ে থাকে। প্রশাসন খুচরা বাজারে তদারকি বাড়ালে আশা করি দাম কমবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ফের অনিশ্চয়তায় সিসিসিআই নির্বাচন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শীর্ষ ব্যবসায়িক সংগঠন চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) নির্বাচন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। দুপক্ষের আইনি বিরোধের কারণে উচ্চ আদালতের নির্দেশে নির্ধারিত ৪ এপ্রিলের নির্বাচনও স্থগিত হয়ে গেছে। তবে আদালত আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালকে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
তথ্যটি নিশ্চিত করে রিটকারী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বেলালের পক্ষে আইনজীবী আশফাকুর রহমান বলেন, আদালত আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালকে বিরোধ নিষ্পত্তি করে সিদ্ধান্ত দিতে বলেছেন। পাশাপাশি হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশ আমলে না নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।

চেম্বার সূত্রে জানা যায়, ৩ মার্চ প্রায় পাঁচ মাস স্থগিত থাকার পর চট্টগ্রাম চেম্বারের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের নতুন তফশিল ঘোষণা করা হয়েছিল। তফশিল অনুযায়ী আগামী ৪ এপ্রিল নগরের আগ্রাবাদ এলাকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভোট গ্রহণের কথা ছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইনি মতামতের ভিত্তিতে সাধারণ ও সহযোগী গ্রুপের ১৮ জন পরিচালক নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে আদালতের নতুন আদেশে সেই নির্বাচনও স্থগিত হয়ে গেল।

এর আগে, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের আটটি সংগঠনকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল হাইকোর্টে রিট করেন এবং এফবিসিসিআইতেও অভিযোগ করেন।
রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ অক্টোবর হাইকোর্ট দুই শ্রেণিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে রুল জারি করেন এবং মন্ত্রণালয়ের ৪ সেপ্টেম্বরের চিঠির ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরে আপিলের পর ৩০ অক্টোবর আদালত দুই সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিত করেন।

পরবর্তীতে গত ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ছয়টি টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের ছয় প্রতিনিধিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধেও আপিল করেন রিটকারী মোহাম্মদ বেলাল। সেই আপিলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত এফবিসিসিআইয়ের ট্রাইব্যুনালে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন এবং মৌখিকভাবে বলেন, ৪ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনে সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ৩ জন করে মোট ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এভাবে ২৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়। পরে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে একজন সভাপতি ও দুজন সহসভাপতি নির্বাচিত হন।এবার টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ছয়জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে ছিলেন। তবে দুপক্ষের আইনি বিরোধের কারণে নির্ধারিত সময়েও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এবং নতুন তফশিল ঘোষণার পরও তা আবার স্থগিত হয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম নগরে ৫ হাজার ৫৭৫ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেয়া হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দলীয়করণের সুযোগ রাখা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে এই নির্বাচনী ওয়াদা বাস্তবায়ন করে প্রমাণ করেছে যে, নেতৃত্ব ঠিক থাকলে সব সম্ভব। ফ্যামিলি কার্ড একটি স্মার্ট কার্ড। ভবিষ্যতে জাতীয় সব সুযোগ-সুবিধা এই কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

এছাড়া কৃষকদের কল্যাণে ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফ এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি কার্ডের মতো আরও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এয়ারপোর্ট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রাম নগরের ৫ হাজার ৫৭৫ জন নারীর হাতে এই কার্ড তুলে দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান উপস্থিত ছিলেন।

আমির খসরু বলেন, আমাদের সীমিত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আমরা এই ঝুঁকি নিয়েছি। এই কার্ড বিতরণে কোনো দলীয়করণের সুযোগ রাখা হয়নি। সরকারি কর্মকর্তারা নির্দ্বিধায় ও স্বাধীনভাবে কাজ করে হতদরিদ্রদের খুঁজে বের করেছেন।

তিনি বলেন, পরিবারের নারী প্রধানকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী না করলে আগামীর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মহিলারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিবারের সব দায়িত্ব পালন করলেও তাদের এই সেবার যথাযথ মূল্যায়ন আগে কখনো হয়নি। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান ঘোষিত এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলোকে মূল্যায়নের জন্য গৃহকর্তীদের বেছে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা পৌঁছে যাচ্ছে, যা তাদের হাতে একটি অর্থনৈতিক শক্তি তৈরি করবে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ