আজঃ বুধবার ২৪ জুন, ২০২৬

সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে ৮০ হাজার যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে সারাদেশে প্রায় ৮০ হাজার যানবাহন চলাচলের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৃহত্তর চট্টগ্রাম গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, সরকার গত ১৯ জুন এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাস-মিনিবাসের ক্ষেত্রে ২০ বছর ও ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের ক্ষেত্রে ২৫ বছর মেয়াদ নির্ধারণ করেছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে শুধু চট্টগ্রামেই প্রায় ৬ হাজার ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৫ হাজার গণপরিবহন এবং সারাদেশে প্রায় ৮০ হাজার যানবাহন চলাচলের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। ফলে এসব গাড়ির সাথে জড়িত প্রায় পাঁচ লাখ শ্রমিক ও মালিক জীবিকা সংকটে পড়বে।

এ সময় ঢালাওভাবে বাস-মিনিবাস, ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের জন্য ইকোনমিক লাইফ (গাড়ি সর্বোচ্চ চালানোর মেয়াদ) নির্ধারণ না করে অঞ্চলভিত্তিক বাস্তবতা বিবেচনার দাবি জানিয়ে সংগঠনটি ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফেডারেশনের আহ্বায়ক মোরশেদুল আলম কাদেরী। উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব মো. হুমায়ুন কবির সোহেল, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সহ-সভাপতি একরামুল হক চৌধুরী, হুমায়ুন কবির সোহেল, কমিশনার নাজিম উদ্দিন আহমেদ,

আজিজুল হক, সৈয়দ হোসেন, মো. কামাল উদ্দিন, অলি আহমেদ, নুরুল ইসলাম চৌধুরী ও মোহাম্মদ শাহজাহানসহ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা।
মোরশেদুল আলম কাদেরী বলেন, করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে আমদানি নির্ভর খাতে খরচ বেড়েছে। তারমধ্যে জ্বালানি তেল ও যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন খাত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। বক্তারা দাবি করেন, সরকার অন্যান্য শিল্পে ভর্তুকি দিলেও পরিবহন খাতকে কোনো প্রণোদনা বা ছাড় দেয় না। অথচ এই খাত দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে খাদ্যদ্রব্য, শিল্পের কাঁচামালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

তারা বলেন, ঢাকার বাস্তবতা দিয়ে চট্টগ্রাম বা পার্বত্য এলাকার গাড়ি বাতিলের সিদ্ধান্ত হলে চলবে না। খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি, কাপ্তাই, চকরিয়া, বাঁশখালী, শুভপুর, রাউজান, নাজিরহাটসহ বিভিন্ন রুটে ব্যবহৃত গণপরিবহনগুলো বাতিল হলে ওইসব অঞ্চলে বিকল্প যানবাহন না থাকায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে।
চাঁদের গাড়ি, নসিমন-করিমনের মতো যানবাহন এখনও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা বাতিলের আগে বিকল্প নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করে সংগঠনটি। বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, ১৯৫৩ সালে আনা রেলওয়ের পুরনো ডিজেল ইঞ্জিন দিয়ে সেবা দিলে সমস্যা নেই, কিন্তু বিআরটিএ’র ফিটনেসপ্রাপ্ত

যানবাহন কেন বাতিল করা হবে? বিআরটিএ’র ফিটনেস সনদপ্রাপ্ত গাড়ি চলাচলের উপযুক্ত। অনেক পুরনো গাড়িও নতুন ইঞ্জিন বা পার্টস বদলে সম্পূর্ণ সচল থাকে। তাই ঢালাওভাবে গাড়ি বাতিল না করে গাড়ির অবস্থা বিবেচনায় জীবনকাল নির্ধারণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন মালিকরা অভিযোগ করেন, সরকারের একতরফা এই সিদ্ধান্ত একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে এবং বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে পরিবহন খাতকে জিম্মি করার আয়োজন। তাদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে প্রতিদিন ৬ হাজার গাড়ি চলাচল বিঘ্নিত হবে, যা দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সংগঠনটির ৬ দফা দাবিগুলো হলো, ১৯ জুনের ইকোনমিক লাইফ প্রজ্ঞাপন ঢাকা মহানগর ব্যতীত দেশের অন্যান্য জেলার জন্য স্থগিত করতে হবে, গাড়ির আয়ুষ্কাল ও নীতিমালা প্রণয়নে বিভাগীয় পর্যায়ে পরিবহন মালিক প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করতে হবে, বাণিজ্যিক মোটরযানের অগ্রিম আয়কর ও বিআরটিএর সেবা ফি পূর্বের ন্যায় বহাল রাখতে হবে, গাড়ির ফিটনেস কার্যক্রম প্রাইভেট কোম্পানির হাতে না দিয়ে বিআরটিএর সক্ষমতা বাড়িয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে

রাখতে হবে, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের বিতর্কিত ধারা ও অতিরিক্ত জরিমানার বিধান সংশোধন করতে হবে গাড়ির আয়ুষ্কাল নির্ধারণে অঞ্চলভিত্তিক প্রয়োজন, বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় রোধ, পণ্য ও যাত্রীর বাস্তবতা, আমদানিকারকদের রিপ্লেসমেন্ট শিডিউল এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিবেচনায় নিতে হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পানিতে পড়ে নিখোঁজ মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের লাশ উদ্ধার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামের খাল ভাঙনে ঘর ধসে রুবেল মিয়া (৩০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রায় ৭ ঘণ্টা পর ভেঙে পড়া ঘরের নিচ থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বড়দল পুরানহাটি এলাকার মাঝের খালে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়দল পুরানহাটি এলাকার বাসিন্দা বশিরুল হকের ছেলে রুবেল মিয়া(৩০)দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে ঘরের ভেতরে রশি দিয়ে সবসময় বেঁধে রাখতেন। সোমবার সকালে পাহাড়ি ঢলের পানি বড়দল মাঝের খাল দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানির প্রবল স্রোতে খালের পাড় ভেঙে গেলে পাশেই থাকা বশিরুল হকের ঘর খালে ধসে পড়ে। এ সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা দ্রুত ঘর থেকে বের হতে সক্ষম হলেও রুবেল মিয়া বের হতে পারেননি। ঘরের একটি কুটিরের সঙ্গে বাঁধা থাকায় ঘরসহ তিনি পানিতে তলিয়ে যান।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর বিকাল ৪টার পর দুর্ঘটনাস্থলে ভেঙে পড়া ঘরের কুটিরের নিচ থেকে রুবেল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর নিখোঁজ রুবেল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মোঃ ইফতেকারুল আলম সায়েম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন বুড়িশ্চর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান মোঃ ইফতেকারুল আলম সায়েম। তাঁর এই অর্জনে এলাকায় আনন্দ ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসা ইফতেকারুল আলম সায়েম সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়ে নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করেছেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, নিষ্ঠা ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন।

তাঁর মূল্যানের খবরে বুড়িশ্চর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বে তিনি ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার পাশাপাশি তরুণ সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ