আজঃ বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬

সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে ৮০ হাজার যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে সারাদেশে প্রায় ৮০ হাজার যানবাহন চলাচলের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৃহত্তর চট্টগ্রাম গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, সরকার গত ১৯ জুন এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাস-মিনিবাসের ক্ষেত্রে ২০ বছর ও ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের ক্ষেত্রে ২৫ বছর মেয়াদ নির্ধারণ করেছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে শুধু চট্টগ্রামেই প্রায় ৬ হাজার ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৫ হাজার গণপরিবহন এবং সারাদেশে প্রায় ৮০ হাজার যানবাহন চলাচলের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। ফলে এসব গাড়ির সাথে জড়িত প্রায় পাঁচ লাখ শ্রমিক ও মালিক জীবিকা সংকটে পড়বে।

এ সময় ঢালাওভাবে বাস-মিনিবাস, ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের জন্য ইকোনমিক লাইফ (গাড়ি সর্বোচ্চ চালানোর মেয়াদ) নির্ধারণ না করে অঞ্চলভিত্তিক বাস্তবতা বিবেচনার দাবি জানিয়ে সংগঠনটি ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফেডারেশনের আহ্বায়ক মোরশেদুল আলম কাদেরী। উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব মো. হুমায়ুন কবির সোহেল, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সহ-সভাপতি একরামুল হক চৌধুরী, হুমায়ুন কবির সোহেল, কমিশনার নাজিম উদ্দিন আহমেদ,

আজিজুল হক, সৈয়দ হোসেন, মো. কামাল উদ্দিন, অলি আহমেদ, নুরুল ইসলাম চৌধুরী ও মোহাম্মদ শাহজাহানসহ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা।
মোরশেদুল আলম কাদেরী বলেন, করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে আমদানি নির্ভর খাতে খরচ বেড়েছে। তারমধ্যে জ্বালানি তেল ও যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন খাত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। বক্তারা দাবি করেন, সরকার অন্যান্য শিল্পে ভর্তুকি দিলেও পরিবহন খাতকে কোনো প্রণোদনা বা ছাড় দেয় না। অথচ এই খাত দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে খাদ্যদ্রব্য, শিল্পের কাঁচামালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

তারা বলেন, ঢাকার বাস্তবতা দিয়ে চট্টগ্রাম বা পার্বত্য এলাকার গাড়ি বাতিলের সিদ্ধান্ত হলে চলবে না। খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি, কাপ্তাই, চকরিয়া, বাঁশখালী, শুভপুর, রাউজান, নাজিরহাটসহ বিভিন্ন রুটে ব্যবহৃত গণপরিবহনগুলো বাতিল হলে ওইসব অঞ্চলে বিকল্প যানবাহন না থাকায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে।
চাঁদের গাড়ি, নসিমন-করিমনের মতো যানবাহন এখনও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা বাতিলের আগে বিকল্প নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করে সংগঠনটি। বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, ১৯৫৩ সালে আনা রেলওয়ের পুরনো ডিজেল ইঞ্জিন দিয়ে সেবা দিলে সমস্যা নেই, কিন্তু বিআরটিএ’র ফিটনেসপ্রাপ্ত

যানবাহন কেন বাতিল করা হবে? বিআরটিএ’র ফিটনেস সনদপ্রাপ্ত গাড়ি চলাচলের উপযুক্ত। অনেক পুরনো গাড়িও নতুন ইঞ্জিন বা পার্টস বদলে সম্পূর্ণ সচল থাকে। তাই ঢালাওভাবে গাড়ি বাতিল না করে গাড়ির অবস্থা বিবেচনায় জীবনকাল নির্ধারণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন মালিকরা অভিযোগ করেন, সরকারের একতরফা এই সিদ্ধান্ত একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে এবং বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে পরিবহন খাতকে জিম্মি করার আয়োজন। তাদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে প্রতিদিন ৬ হাজার গাড়ি চলাচল বিঘ্নিত হবে, যা দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সংগঠনটির ৬ দফা দাবিগুলো হলো, ১৯ জুনের ইকোনমিক লাইফ প্রজ্ঞাপন ঢাকা মহানগর ব্যতীত দেশের অন্যান্য জেলার জন্য স্থগিত করতে হবে, গাড়ির আয়ুষ্কাল ও নীতিমালা প্রণয়নে বিভাগীয় পর্যায়ে পরিবহন মালিক প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করতে হবে, বাণিজ্যিক মোটরযানের অগ্রিম আয়কর ও বিআরটিএর সেবা ফি পূর্বের ন্যায় বহাল রাখতে হবে, গাড়ির ফিটনেস কার্যক্রম প্রাইভেট কোম্পানির হাতে না দিয়ে বিআরটিএর সক্ষমতা বাড়িয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে

রাখতে হবে, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের বিতর্কিত ধারা ও অতিরিক্ত জরিমানার বিধান সংশোধন করতে হবে গাড়ির আয়ুষ্কাল নির্ধারণে অঞ্চলভিত্তিক প্রয়োজন, বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় রোধ, পণ্য ও যাত্রীর বাস্তবতা, আমদানিকারকদের রিপ্লেসমেন্ট শিডিউল এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিবেচনায় নিতে হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে বিআরটিএ’র সতর্ক সংকেত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা স্থাপন করেছে। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বাঁকে উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এসব বাঁকে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হন। এরপর থেকেই বাঁকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ওঠে।

মহাসড়কে চলাচলকারী কয়েকজন বাস চালক জানান, রাতে বা কুয়াশার সময় হঠাৎ বাঁক সামনে চলে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। নতুন করে লাল পতাকা বসানোয় আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সহজ হবে।তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অস্থায়ী পতাকা নয়-স্থায়ী সাইনবোর্ড, গতিসীমা নির্দেশনা, রিফ্লেক্টর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, যেসব স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়ার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া–চুনতির জাঙ্গালিয়া বাঁক, চুনতির ডেপুটি বাজারের আগে ও পরের বাঁক, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা, লোহাগাড়া রাজাঘাটা, সাতকানিয়ার মিঠা দীঘি, চন্দনাইশের খানহাট পুকুর এবং পটিয়ার পাইরুল মাজারসংলগ্ন বাঁক।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী বলেন, ঈদের সময় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাঁকের উভয় পাশে পাঁচটি করে মোট ১০টি লাল পতাকা বসানো হয়েছে। ফলে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারবেন।

কালিয়াকৈরে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবক নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হাটুরিয়াচালা–লস্করচালা এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে আবারও একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। শনিবার (১৫ মার্চ) রাতে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাসুম নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহন কার্যক্রম চলছিল। শনিবার রাতে মাটি পরিবহনের সময় একটি ড্রাম ট্রাক চলাচলের সময় মাসুম নামে ওই যুবক ট্রাকের নিচে পড়ে যান। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে।এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাছির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ