কারবালা প্রসঙ্গে রাসূল (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী:-

কারবালা কোন ইতিহাস নয়, এটা এক ন্যায়ের প্রতীক”। যা শিক্ষা দেয়- —-

-এস এম এম সেলিম উল্লাহ

সত্য কখনো মাথা নত নাহি করে , গর্দানও যেতে পারে সত্যের তরে ।"

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কারবালার শিক্ষা ও আহলে বাইতের মর্যাদা:-
হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) ইসলাম ও সত্যের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। তিনি ইয়াজিদের অন্যায় বায়াত গ্রহণ না করে শহীদ হন। ইসলামের স্বরূপ ও মর্যাদা রক্ষায় ইমাম (রা.)’র ভূমিকা অনন্য।
কুরআন ও হাদিসে নবী (দ.) পরিবারের (আহলে বাইত) মর্যাদা বিশেষভাবে উল্লেখিত হয়েছে। পবিত্র আহলে বাইতকে ভালোবাসা ঈমানের অংশ।
রাসূল (দ.) বলেন, হাসান ও হোসাইন (রা.) জান্নাতী যুবকদের নেতা। তাঁদের ভালোবাসা মানে ইসলামের ত্যাগ ও সত্যের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করা।
✦ আহলে বাইতের প্রেম ও কারবালার অনুপ্রেরণা:-
কারবালার আত্মত্যাগ শুধু ইতিহাস নয়, বরং ন্যায়ের প্রতীক। এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আত্মবিসর্জনের প্রতীক।
রাসূল (দ.) এর বহু হাদিসে আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা, তাদের মর্যাদা ও শাফায়াতের কথা বলা হয়েছে।রাসূল (সা.) বলেন:“হুসাইন আমার থেকে, আমি হুসাইন থেকে। যে হুসাইনকে ভালোবাসবে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসবেন।” (তিরমিজি)।
★কারবালা প্রসঙ্গে রাসূল (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী:-
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইমাম হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদতের পূর্বাভাস দেন। হযরত উম্মে সালামা (রাঃ)-কে রাসূল (সা.) জানালেন—জিবরাঈল (আঃ) এসে বললেন, তাঁর নাতি হুসাইন (রাঃ) কারবালার ময়দানে শহীদ হবেন এবং সেই জমিনের মাটিও রাসূল (সা.)-এর কাছে পৌঁছে দেন। (মুসনাদ আহমদ)।
♦ কারবালার ইতিহাস (সংক্ষেপে):-সময়: ১০ মহররম, ৬১ হিজরি (১০ অক্টোবর, ৬৮০ খ্রিঃ)।ইমাম হুসাইন (রাঃ) কুফাবাসীদের ডাকে সাড়া দিয়ে পরিবারসহ কারবালায় পৌঁছান। সেখানে তাঁকে ফাঁদে ফেলে পানিবঞ্চিত করা হয়।১০ মহররম রোযা অবস্থায় ইমাম (রাঃ) ও তাঁর সাথিরা নির্মমভাবে শহীদ হন।ইয়াজিদের বাহিনী তাঁর মুবারক মাথা কেটে দামেশকের রাজপ্রাসাদে পাঠায়।
✦ হাররার করুণ ইতিহাস:-
ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাতের পর ইয়াজিদের সেনারা মদিনায় নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালায়, যাকে হাররার ঘটনা বলা হয়। অসংখ্য সাহাবা ও তাবেঈ শহীদ হন। মুসলিম ইবনে ওকবা’র বাহিনী মদিনায় তিনদিন ধরে লুট, হত্যা ও নির্যাতন চালায়। সিরাত লেখকগণ বর্ণনা করেন বিশেষ করে কুরতুবী বলেন মদীনাবাসীদের মদিনা থেকে বাইরে চলে যাওয়ার কারণ এই হারার মর্মান্তিক ঘটনা যে সময় মদিনা শরীফ অবশিষ্ট সাহাবা এবং তাবেঈদের দ্বারা পরিপূর্ণ এবং লোক বসতিতে ভরপুর এবং তার চিত্তাকর্ষক সাদৃশ্য বিদ্যমান মদীনাবাসীদের ওপর একের পর এক বিপর্যয় এবং অঘটন নেমে আসে ফলে তারা মদিনা ছেড়ে বাইরে চলে যায় । দুষ্ট ইয়াজিদ মুসলিম ইবনে ওকবা র নেতৃত্বে এক বিশাল সৈন্যবাহিনী যুদ্ধ করার জন্য মদিনায় প্রেরণ করে। ওই সৈন্যবাহিনী কমবক্ত লোকেরা এই হারার নামক স্থানে নিতান্ত নির্মমতা এবং অবমাননার সাথে এই মহাত্মা গণের শহীদ করেন। তারা তিন দিন পর্যন্ত মসজিদে নববীর সম্মান হানির কাজে লিপ্ত ছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রাক্কালে এজিদের কুচক্রী দল শিশু এবং মেয়ে লোক ব্যতীত ১২৪৯৭ জন লোককে হত্যা করে। যার মধ্যে ছিল ১৭০০ মুহাজির, আনসার, তাবেঈ,ওলামা ১০ হাজার সাধারণ লোক ৭০০ হাফেজে কুরআন ৯৭ জন কুরাইশ। ওই ঘটনায় এজিদের সৈন্যবাহিনী নানা প্রকার অত্যাচার অনাচার ও ধৃষ্টতাপূর্ণ অপকর্মে লিপ্ত হয় যেনার মত ভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। বর্ণিত আছে এই ঘটনার পর ১০০০ মেয়েলোক অবৈধ সন্তান প্রসব করে। যেসব সাহাবায়ে কেরামকে মদিনায় জোরপূর্বক অমানুষিকভাবে হত্যা করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ফেরেস্তা স কর্তৃক গোসল প্রাপ্ত হযরত হানজালার পুত্র হযরত আব্দুল্লাহ, তিনি সাত পুত্র সহ শহীদ হন।এই ঘটনায় প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত আবু সাঈদ খুদরী সর্বশেষ লাঞ্ছিত হন এজিদ বাহিনীর হাতে। বর্ণিত আছে এই গুন্ডাবাহিনী তার দাড়ি মোবারক গোড়া থেকে উচ্ছেদ করে ফেলে। লোকেরা তার দাড়ির এই অবস্থা দেখে জিজ্ঞেস করতেন আপনি কি দাড়ি নিয়ে খেলছেন এবং দাড়ি উচ্ছেদ করে ফেলেছেন? তিনি উত্তর দিতেন না। বরং ওই শাওন দেশীয় লোক গুলো আমার উপর অত্যাচার করেছে তাদের একদল লোক আমার ঘরে প্রবেশ করে ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র নিয়ে যায় তারপর আরেকদল প্রবেশ করে কোন আসবাবপত্র না পেয়ে তারা আমার দাড়ি নিয়ে টানা হেচরা করে যার পরিণতি তোমরা এখন দেখছো। এই দুষ্টু লোকেরা এভাবে আরো কত যে অবর্ণনীয় নিপীড়ন ও নির্যাতন চালিয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

✦ ইসলামের নীতিবোধ ও ইয়াজিদি বর্বরতা:-
ইসলামে অন্যায়, অবিচার, হিংসা, চুরি, নারী নির্যাতন, মদ্যপান ইত্যাদি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ । অথচ ইয়াজিদের বাহিনী এসবের সকল সীমা অতিক্রম করেছিল।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আজ কিছু লোক কারবালা এবং ওই ঘটনা নিয়ে মহরম মাস আসলে “শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো”এজিদের সাফাই গেয়ে নিজেদেরকে এজিদের উত্তরসূরী হিসেবে প্রমাণ করতে ব্যস্ত। যা চরম ভাবে ইসলাম ও মানবতার পরিপন্থী। অপরদিকে কেহ আহলে বাইতের প্রেম-ভালবাসা দেখালে তাদেরকে শিয়া নামে অপপ্রচারে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। আমার বর্ণিত সত্য ঘটনা গুলোতে কারো সন্দেহ হলে সে যেন যুগের শেষ মুহাদ্দিস হযরত আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী লিখিত “জজবুল কুলুব ইলা দিয়ারেল মাহবুব”কিতাবখানা পড়ে দেখেন।

♥ হযরত ইমাম হুসাইনের (রাঃ) বিখ্যাত ভাষণ:-“অপমান আমাদের ধাতে নেই। আমি তরবারি বেছে নিয়েছি। আমি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না।”
★ কারবালার শহীদগণ:-হাশেমি পরিবার:-
আলী আকবর (রাঃ), আলী আসগর (রাঃ), হযরত আব্বাস (রাঃ), কাসিম (রাঃ), আউন (রাঃ), মুহাম্মদ (রাঃ)।সাহাবা ও তাঁদের বংশধর:-মুসলিম ইবনে আওসাজা, হানী ইবনে উরওয়া, যুহায়ের ইবনে কায়ন, জোন, নাফে ইবনে হিলাল, হুর ইবনে ইয়াজিদ (তওবা করে শহীদ), সহ মোট ৭২ জন শহীদ হন ‌।
✦ আধুনিক মুসলিমদের শিক্ষা:-
আজকের মুসলিম সমাজের অধঃপতনের কারণ হলো আদর্শ থেকে বিচ্যুতি, সত্যকে গোপন করা এবং ন্যায়বিচার ভুলে যাওয়া।কারবালার শিক্ষা হলো সত্যের পক্ষে অটল থাকা ও মিথ্যার সঙ্গে আপোষ না করা। আত্মত্যাগ, ধৈর্য, তাকওয়া ও ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা।আহলে বাইত ও ইমাম হুসাইনের (রাঃ) ভালোবাসা রাখা—ঈমানের অপরিহার্য অংশ।
✦ উপসংহার:-
কারবালা শুধু ইতিহাস নয়; এটি ন্যায়, আত্মত্যাগ ও সত্যের প্রতীক। রাসূল (সা.) এর হাদিসসমূহ আমাদের জানান যে, আহলে বাইতকে ভালোবাসা ও সম্মান জানানো ইসলামের মৌলিক শিক্ষা।কারবালার ত্যাগ আমাদের জীবনে সত্য, ন্যায় ও আল্লাহর পথে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয়। কারবালা মানেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, সত্যের পথে অবিচল থাকা এবং প্রকৃত ইসলামি জীবন গড়া। আশুরার আত্মত্যাগের শিক্ষা গ্রহণ করে ইসলামি জীবনধারা গড়ার তরে বিশ্ব মুসলিম উম্মার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
আল্লাহ্‌ আমাদের সকলকে সেই ত্যাগ ও প্রেমের আদর্শ অনুসরণ করার তৌফিক দিন—আমিন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দুবাইয়ে বেনজীরের জামিন বাতিলে ল’ফার্ম নিয়োগ হয়েছে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পাওয়ার পর সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিল এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে । দুবাইয়ে একটি আন্তর্জাতিক ল’ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করার জন্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।রোববার ২ আগস্ট রাজশাহীতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন-সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন—বিষয়টি আমরা জেনেছি। তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি ল’ফার্ম নিয়োগ করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে চিংড়ি প্রকল্পের দখল নিয়ে শেষ রাতে গোলাগুলি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চিংড়ি প্রকল্পের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সরল ইউনিয়নের উত্তর সরল বেড়িবাঁধ সংলগ্ন তাজুরঘোনা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, গোলাগুলির ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ থেকে ১০ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে এর মধ্যে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি থাকলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, স্থানীয়ভাবে তৈরি একনলা বন্দুক দিয়ে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মূল অপরাধীদের শনাক্ত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, এলাকায় নতুন করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে শান্ত থাকার এবং অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাজুরঘোনা এলাকার একটি চিংড়ি প্রকল্পের মালিকানা ও দখল নিয়ে স্থানীয় কবির গ্রুপ ও মনসুর গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে বৃহস্পতিবার রাতে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে একপক্ষ অন্যপক্ষকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে কয়েকজন পথচারীসহ সংঘর্ষে লিপ্ত ব্যক্তিরা গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারী দল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই জড়িতদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। অভিযানে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) মো. ইব্রাহীম, আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান ও বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হকসহ জেলা পুলিশের একটি বড় দল অংশ নেয়।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ