আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

রাজশাহীর ওয়াসার বড় প্রকল্প গ্রহন প্রসংনীয়

মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহীর জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

রাজশাহীর ওয়াসার বড় প্রকল্প গ্রহণ করেছেন, সেইটা অনেক প্রশংসনীয় ।পদ্মার পানি পরিশোধনের মাধ্যমে জেলার মানুষের জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী ওয়াসা।চিনের হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী ওয়াসা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে গোদাগাড়ী উপজেলার সারাংপুর এলাকায় পানি পরিশোধনাগার নির্মাণকাজ চলমান। ইতোমধ্যে কাজের ২০ শতাংশ শেষ হয়েছে।রাজশাহী ওয়াসা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ শীর্ষক প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন ২০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

রাজশাহী ওয়াসা’র প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক পারভেজ মামুদ বলেন, পরিশোধিত পানি ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রধান পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো হবে।এরই মধ্যে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের পাশে ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।এ বিষয়ে রাজশাহী ওয়াসা এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সব মিলিয়ে এই পানি পরিশোধন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো- ২০২৭ সালের মধ্যে রাজশাহী শহর ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।এ প্রকল্পের মাধ্যমে পদ্মা নদী থেকে পানি তুলে তা পরিশোধনের জন্য একটি আধুনিক পানি পরিশোধনাগার নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে বাসাবাড়িতে ব্যবহারের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ করা যায়।

পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৪ হাজার ৬২ কোটি টাকার এই প্রকল্পটির মেয়াদ ৪০ বছর। যার লক্ষ্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পানি সহজে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।প্রকৌশলী মামুদ বলেন, রাজশাহী শহর ও এর পার্শ্ববর্তী পৌরসভার সকল বাসিন্দাকে বিশুদ্ধ পানির আওতায় আনাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি জানান, প্রকল্পটি বর্তমান পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে ও বাড়তে থাকা জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত পানির জোগান নিশ্চিত করবে।
এটি পদ্মার পানি থেকে ক্ষতিকর ও দূষিত উপাদান দূর করবে, যাতে তা নিরাপদভাবে পান করা যায়।
পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও কার্যকর একটি পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের আওতায় নগরীর পুরোনো পাইপলাইন ও হাইড্র্যান্টগুলো (আগুন নেভানো পানির নল) মেরামত ও আধুনিকায়নের ব্যবস্থাও রয়েছে। সেইসঙ্গে সবার কাছে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক একটি পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যও রয়েছে।

তিনি বলেন, এখন রাজশাহী শহরে দিনে প্রায় ১৩ কোটি লিটার পানির চাহিদা রয়েছে এবং এর মধ্যে ৯৮ কোটি ৩ লাখ ৭ হাজার লিটার পানি পাম্প দিয়ে মাটির নীচ থেকে তুলে নেওয়া হয়। আর ৯০ লাখ লিটার পানি আসে নদী থেকে। মোট পানি সরবরাহ হচ্ছে ১০৭ কোটি ৪ লাখ লিটার, যা চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম।

রাজশাহী ওয়াসা একসঙ্গে ১১০টি পাম্প ও ৮৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন ৬ লাখ ৪৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে ১০ কোটি ৭০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করছে।
সরকারি তথ্য উদ্ধৃত করে রাজশাহী ওয়াসা’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল আলম সরকার বলেছেন, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শহরে আর কোনো পানির ঘাটতি থাকবে না।
তিনি বলেন, শহরের পানির চাহিদা মেটানোর পর নওহাটা ও কাটাখালী পৌরসভায়ও সুপেয় পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। রাজশাহী ওয়াসা সব সময়ই সেবা কার্যক্রমে সততা বজায় রাখার চেষ্টা করছে, বিশেষ করে পানির সরবরাহে যাতে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ সুবিধা পান।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরো বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সব অংশীজনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।সব মিলিয়ে, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির সরবরাহ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।তিনি আরও জানান, রাজশাহী শহর এলাকায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সংস্কার’ নামে একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে, যার মাধ্যমে অস্থায়ী সময়ে নিরাপদ পানি সরবরাহ করে জনগণের জীবনমান উন্নত করা হবে। আগামীতে রাজশাহীর জনগণ এই সুফল পাবেন

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব র‍্যাফেল ড্র বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত র‍্যাফেল ড্র–এর বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, পাঠাগার সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আব্দুল্লাহ, কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী ও আরিচ আহমেদ শাহসহ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় বিজয়ী মোট ৩০ জন সদস্যের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় করেছে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সদস্যগণ পেশাগত জীবনে র‍্যাফেল ড্র’তে পুরস্কারপ্রাপ্তি এবং অপ্রাপ্তি নিয়ে তাদের স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়।

সিভাসু’তে ‘দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে শীর্ষক ১০ দিনের প্রশিক্ষণ ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) ‘দ্গ্ধুজাত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ’ শীর্ষক দশ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আজ মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। সিভাসু’র পোল্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিআরটিসি) এবং ডেইরি ও পোল্ট্রি সাইন্স বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এবং সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন দুগ্ধ ঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়নে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পিআরটিসি’র বোর্ড মিটিং কক্ষে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন সমবায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও নিবন্ধক মো. ইসমাইল হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, ঢাকার যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সুব্রত কুমার সিকদার। এছাড়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক ও প্রকল্প পরিচালক (প্রেষণ) তোফায়েল আহম্মদ এবং বাংলাদেশ ডেইরি অ্যান্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সিভাসু’র সিন্ডিকেট সদস্য মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। সভাপতিত্ব করেন পিআরটিসি’র পরিচালক প্রফেসর ড. এ. কে. এম. হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিভাসু’র প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. মো: ইনকেয়াজ উদ্দিন। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

দশ দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দুধ থেকে দই, মিষ্টি, মাখন, ঘি, পনির, ছানা, লাবাং, বোরহানি, মাঠা ইত্যাদি তৈরির বিষয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ প্রদান করেন সিভাসু’র ডেইরি ও পোল্ট্রি সাইন্স বিভাগের প্রফেসর গৌতম কুমার দেবনাথ, প্রফেসর ড. এ. কে. এম. হুমায়ুন কবির, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল হোসেন, প্রফেসর ড. মো: সাইফুল বারী ও ডা. উম্মে সালমা আমিন,

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক ও প্রকল্প পরিচালক (প্রেষণ) তোফায়েল আহম্মদ, সিভাসু’র প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. মো: ইনকেয়াজ উদ্দিন, জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, চট্টগ্রামের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ওমর ফারুক, বিএসটিআই চট্টগ্রামের ফিল্ড অফিসার (সার্টিফিকেশন মার্কস উইং) প্রকৌ. মো: মাহফুজুর রহমান এবং ট্রেড গ্লোবাল লিমিটেড, ঢাকার সিনিয়র সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার মো: শরিফ হোসেন।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ব্রাহ্মনবাড়িয়া, কুতুবদিয়া ও চকরিয়া অঞ্চলের দুগ্ধ ঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্পের ২৫ জন সমবায় সমিতির সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ