রাজশাহীর ওয়াসার বড় প্রকল্প গ্রহন প্রসংনীয়

মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহীর জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

রাজশাহীর ওয়াসার বড় প্রকল্প গ্রহণ করেছেন, সেইটা অনেক প্রশংসনীয় ।পদ্মার পানি পরিশোধনের মাধ্যমে জেলার মানুষের জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী ওয়াসা।চিনের হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী ওয়াসা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে গোদাগাড়ী উপজেলার সারাংপুর এলাকায় পানি পরিশোধনাগার নির্মাণকাজ চলমান। ইতোমধ্যে কাজের ২০ শতাংশ শেষ হয়েছে।রাজশাহী ওয়াসা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ শীর্ষক প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন ২০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

রাজশাহী ওয়াসা’র প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক পারভেজ মামুদ বলেন, পরিশোধিত পানি ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রধান পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো হবে।এরই মধ্যে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের পাশে ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।এ বিষয়ে রাজশাহী ওয়াসা এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সব মিলিয়ে এই পানি পরিশোধন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো- ২০২৭ সালের মধ্যে রাজশাহী শহর ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।এ প্রকল্পের মাধ্যমে পদ্মা নদী থেকে পানি তুলে তা পরিশোধনের জন্য একটি আধুনিক পানি পরিশোধনাগার নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে বাসাবাড়িতে ব্যবহারের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ করা যায়।

পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৪ হাজার ৬২ কোটি টাকার এই প্রকল্পটির মেয়াদ ৪০ বছর। যার লক্ষ্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পানি সহজে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।প্রকৌশলী মামুদ বলেন, রাজশাহী শহর ও এর পার্শ্ববর্তী পৌরসভার সকল বাসিন্দাকে বিশুদ্ধ পানির আওতায় আনাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি জানান, প্রকল্পটি বর্তমান পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে ও বাড়তে থাকা জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত পানির জোগান নিশ্চিত করবে।
এটি পদ্মার পানি থেকে ক্ষতিকর ও দূষিত উপাদান দূর করবে, যাতে তা নিরাপদভাবে পান করা যায়।
পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও কার্যকর একটি পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের আওতায় নগরীর পুরোনো পাইপলাইন ও হাইড্র্যান্টগুলো (আগুন নেভানো পানির নল) মেরামত ও আধুনিকায়নের ব্যবস্থাও রয়েছে। সেইসঙ্গে সবার কাছে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক একটি পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যও রয়েছে।

তিনি বলেন, এখন রাজশাহী শহরে দিনে প্রায় ১৩ কোটি লিটার পানির চাহিদা রয়েছে এবং এর মধ্যে ৯৮ কোটি ৩ লাখ ৭ হাজার লিটার পানি পাম্প দিয়ে মাটির নীচ থেকে তুলে নেওয়া হয়। আর ৯০ লাখ লিটার পানি আসে নদী থেকে। মোট পানি সরবরাহ হচ্ছে ১০৭ কোটি ৪ লাখ লিটার, যা চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম।

রাজশাহী ওয়াসা একসঙ্গে ১১০টি পাম্প ও ৮৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন ৬ লাখ ৪৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে ১০ কোটি ৭০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করছে।
সরকারি তথ্য উদ্ধৃত করে রাজশাহী ওয়াসা’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল আলম সরকার বলেছেন, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শহরে আর কোনো পানির ঘাটতি থাকবে না।
তিনি বলেন, শহরের পানির চাহিদা মেটানোর পর নওহাটা ও কাটাখালী পৌরসভায়ও সুপেয় পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। রাজশাহী ওয়াসা সব সময়ই সেবা কার্যক্রমে সততা বজায় রাখার চেষ্টা করছে, বিশেষ করে পানির সরবরাহে যাতে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ সুবিধা পান।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরো বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সব অংশীজনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।সব মিলিয়ে, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির সরবরাহ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।তিনি আরও জানান, রাজশাহী শহর এলাকায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সংস্কার’ নামে একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে, যার মাধ্যমে অস্থায়ী সময়ে নিরাপদ পানি সরবরাহ করে জনগণের জীবনমান উন্নত করা হবে। আগামীতে রাজশাহীর জনগণ এই সুফল পাবেন

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মার্গের সামনে নিহত ছাত্রী মাইশার মায়ের আহাজারি : ‘আমার মাইশা’ কই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মার্গের সামনে মাইশার মা সালমা বেগম কেবল চিৎকার করে বারবার ডাকছিলেন মেয়েকে। ‘আমার মাইশা, আমার ঝি। কখনো আহাজারি, কেন এমন হলো!’ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে চমেক হাসপাতালে শুধু সালমা বেগম নয়, মাইশার সহপাঠী শিক্ষার্থীরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা কোনোভাবেই মাইশার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলেন না।

মাইশা আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী। বাড়ি মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া এলাকায়। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করতেন। সকালে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় ক্যাম্পাসের সামনে বাসচাপায় মারা যান। মাইশার সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেও সহপাঠীদের কথা হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ কো-অর্ডিনেটর জাহেদ হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ক্লাস বাতিল হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ফিরে যাচ্ছিলেন মাইশা ও তার এক বান্ধবী। বাসের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন তারা। তাদের তোলার জন্য একটি বাস দাঁড়ায়। ওই মুহূর্তে পাশ থেকে একটি লরি বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি উল্টে দুই শিক্ষার্থীর গায়ের ওপর পড়ে। হাসপাতালে মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

মাইশার বান্ধবী রাজিয়া বেগম সামান্য চোট পেয়েছেন। তার বাড়িও মিরসরাইয়ে। কিন্তু এমন ঘটনায় রাজিয়া হতভম্ব। তাকে ফেনীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মিরসরাই থেকে হাসপাতালে ছুটে আসেন মা সালমা বেগম। তিনি এসে দেখেন সব শেষ। এরপর আহাজারি করতে থাকেন সালমা বেগম।

কয়েক বছর আগে মাইশার বাবা মারা যান। দুই ভাইবোনের মধ্যে মাইশা বড়। নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। পড়ালেখা শেষ করে মা ও একমাত্র ভাইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল একটি সড়ক দুর্ঘটনায়। মাইশার মা কীভাবে নিজেকে সান্ত্বনা দেবেন।

এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধ চলছে। দুপুর দেড়টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল। শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ছাত্রী দূর্ঘটনায় মৃত্যু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা এলাকা অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাস্তা পারাপারের সময় বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় মাইশা মুশফিরাত (২১) নামে এক শিক্ষার্থী মারা যান। আহত হন তার দুই সহপাঠী।নিহত মাইশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহত দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয়দের বরাতে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল আলম জানান, সকালে দুটি লরি পরস্পরকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। একটি লরি ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাসকে ধাক্কা দিলে বাসটি উল্টে গিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিন শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। তাদেরকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে মাইশাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান ইভা জানান, দুর্ঘটনার শিকার তিন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সকালে ক্যাম্পাসে আসছিলেন।সার্জেন্ট শফিউল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত দুটি লরি এবং বাস জব্দ করা হয়েছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক ওই শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন।এদিকে দুর্ঘটনার খবর জানার পর প্রতিবাদে মহাসড়কের দুই পাশ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ফলে দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরোধের কারণে উভয়পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।

এ সময় পাঁচদফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সেগুলো হলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালককে গ্রেপ্তার, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা, ক্যাম্পাস ফটকে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ