আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আদিবাসী বিতর্ক ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনার ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত।

চবি সংবাদদাতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চট্টগ্রামে পাঠশালা রিসার্চ সেলে আয়োজনে ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আদিবাসী বিতর্ক ও বাস্তবতা’ শীর্ষক একটি সেমিনার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল হল রুমে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।

কৃইজ প্রতিযোগিতায় সর্বমোট ২০ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রথম স্থান অধিকার করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী তামান্না জান্নাত প্রিয়া।এম এ আমিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআনিক সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. আলী হোছাইন।

চট্টগ্রামের বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু বকর বলেন, আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন স্থায়ী বাসিন্দা। আমার কাছে মনে হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিরাই আজ প্রকৃত অর্থে বৈষম্যের শিকার। প্রশাসনিক পদে উপজাতিদের অগ্রাধিকার দেখা যায়- মন্ত্রী, কমিশনার পদগুলো উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত থাকে, যেখানে বাঙালিদের কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ নেই বললেই চলে। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। বিদ্যমান আইন এবং নীতিমালার মধ্যে থেকেই আমাদের অধিকারের সুরক্ষায় সক্রিয় হতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. আলী হোছাইন বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তির আড়ালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রে রূপান্তরের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে যেভাবে কৌশলে উপজাতিদের খ্রিস্টান ধর্মে রূপান্তরিত করা হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে তারা দাবি করতে পারে যে, আমরা আলাদা জাতি, আমাদের আলাদা রাষ্ট্র দিতে হবে। এটি একটি সুপরিকল্পিত বৈচিত্র্য বিচ্ছিন্নতার প্রচেষ্টা। এর প্রতিরোধ করতে হলে আমাদের সকল বাংলাদেশি নাগরিককে সচেতন হতে হবে। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এধরনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পাঠশালা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ কাউছার উল্লাহ বলেন, পাহাড়ে বাঙালিরা বছরের পর বছর মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এই অঞ্চলে বাঙালির ইতিহাস হাজার বছরের। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তিতে বলা হয়েছে সকল চাকরিতে আদিবাসীরা অগ্রাধিকার পাবে। ফলে, বাঙালিরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম হবেন কিন্তু বৈষম্যের কারণে চাকরি পাবেন না৷ আমরা চাই এই শান্তিচুক্তি সংস্কার হোক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী বলেন, আমাদের আন্দোলন মূলত অধিকার আদায়ের জন্য। আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চাই, যেখানে সব নাগরিক সমান সুযোগ পাবে। পার্বত্য অঞ্চলের বাঙালিরা এখনো নানা বৈষম্যের শিকার।পাহাড়ে চাঁদাবাজি, অস্ত্র জমা না দেওয়া, লাইসেন্সধারীদের দৌরাত্ম্য চলছে। শান্তিচুক্তির পরও শান্তি আসেনি, বরং একটি গোষ্ঠী সুবিধা ভোগ করছে। অথচ এই অঞ্চলে উন্নয়ন হয়েছে বাঙালিদের হাত ধরে। আমরা আমাদের অধিকার ছাড়বো না, প্রয়োজনে আন্দোলন করবো।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা তৌহিদুল ইসলাম এবং প্রকৌশলী আবুল কালাম।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্বত্য অঞ্চলের সাবেক শিক্ষার্থী দ্বারা পরিচালিত বুদ্ধিবৃত্তিক ফোরাম ‘পাঠশালা-সি এইচ টি রিসার্চ সেল’ চট্টগ্রামে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে কাজ করছে ফোরামটি।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

হাল্ট প্রাইজ জুনিয়র্স: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নবপ্রজন্মের উদ্ভাবনী মিলনমেলা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিসারিজ অডিটোরিয়ামে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে হাল্ট প্রাইজ জুনিয়র্স অনুষ্ঠান। হাল্ট প্রাইজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এই আয়োজনটি  স্কুল-কলেজের তরুণ উদ্ভাবক ও নেতৃত্বকে একত্রিত করে সৃজনশীলতা ও সামাজিক উদ্ভাবন উদযাপনের এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুর রশিদ সোহাগ, প্রতিষ্ঠাতা, সিইও ও চেয়ারম্যান, পিউপিল স্কুল বাস লিমিটেড; সারফুদ্দিন, সিনিয়র এরিয়া ম্যানেজার, রবি আজিয়াটা লিমিটেড; মো. মুফিদুর রহমান, প্রভাষক, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; এবং মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, হাল্ট প্রাইজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা;অধ্যাপক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও পরিচালক;আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল নার্গিস ফাতেমা-এর মূল বক্তব্য, যেখানে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া নিজের অনুপ্রেরণামূলক যাত্রার গল্প তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য প্রমাণ করে যে, প্রভাবশালী ধারণার সূচনা যেকোনো বয়সেই হতে পারে।

এ বছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ২০টি দল নিবন্ধন করে, যার মধ্যে নির্বাচিত কয়েকটি দল অনুষ্ঠানে তাদের উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে। প্রতিযোগিতায় টিম “ইকোজিরকন (EcoZircon)” সেরা দল নির্বাচিত হয়, টিম “টম অ্যান্ড জেরি (Tom & Jerry)”  প্রথম রানার-আপ এবং টিম “অ্যাকোয়া ফাইবার (Aqua Fiber)” দ্বিতীয় রানার-আপ নির্বাচিত হয়।

অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয় হাল্ট প্রাইজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ অনিক (২০২৫–২৬)-এর নেতৃত্বে। এতে কাজী মুহাইমিনুল ইসলাম মুনাজ চিফ অব স্টাফ এবং কারিন সাফফানা চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পুরো আয়োজনের সফল বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন কমিউনিটি এনগেজমেন্ট টিম-এর প্রধান নিশাত তাহসিন চৌধুরী লামিয়া ও তানজিফ হাসান, পাশাপাশি জাজেস অ্যান্ড পার্টিসিপ্যান্টস ম্যানেজমেন্ট টিম-এর প্রধান শাজিয়া রহমান ও রাহবার করিম।

হাল্ট প্রাইজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবারও প্রমাণ করেছে যে এটি তরুণ নেতৃত্ব বিকাশ এবং সাহসী চিন্তা ও সীমাহীন স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণাদায়ক একটি কার্যকরী প্ল্যাটফর্ম।

গ্রন্থাগার সমাজ উন্নয়নের এক শক্তিশালী বাহন ঃ চুয়েট ভিসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া মহোদয় বলেছেন, গ্রন্থাগার কেবল বই সংরক্ষণের স্থান নয় বরং এটি সমাজ উন্নয়নের এক শক্তিশালী বাহন। যে জাতির গ্রন্থাগার যত সমৃদ্ধ, সে জাতি তত উন্নত ও অগ্রসর। একটি জাতির মেধা, মনন, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির ধারক ও লালনকারী হিসেবে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অপরিসীম। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রন্থাগারের ভূমিকা সুদূরপ্রসারী এবং দীর্ঘস্থায়ী।

বৃহস্পতিবার চুয়েটের একাডেমিক কাউন্সিল কক্ষে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির উদ্যোগে “জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস-২০২৬”-এর আলোচনা সভা ও “অনলাইন এসডিআই সার্ভিস এন্ড অনলাইন মেম্বারশীপ সিস্টেম ইন সেন্ট্রাল লাইব্রেরি” শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুর ও পরিবেশ কৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. আসিফুল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু কাউছার। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন চুয়েটের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ আবির। চীফ লাইব্রেরিয়ান মোঃ আব্দুল খালেক সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান জনাব মোহাঃ নাসিরুজ্জামান।

এতে সঞ্চালনা করেন সহকারী লাইব্রেরিয়ান শারমিন সুলতানা তমা।উল্লেখ্য, “জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস-২০২৬” উপলক্ষে এক বণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। বিকালে অনলাইন এসডিআই সার্ভিস এন্ড অনলাইন মেম্বারশীপ সিস্টেম ইন সেন্ট্রাল লাইব্রেরির উপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন চীফ লাইব্রেরিয়ান মোঃ আব্দুল খালেক সরকার।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ