রেলক্রসিংয়ে জনসাধারণের ভোগান্তি, মুক্তি পেতে নির্মিত হবে দুটি ওভারপাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম  মহানগরে একাধিত রেল ক্রসিংয়ের কারণে যানজট লেগে থাকে। যার ফলে চলাচলরত পথচারীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে রেনল ক্রসিংয়ে দুটি ওভারপাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। ওভারপাসগুলো নির্মিত যানজট অনেককাংশে হ্রাস পাবে এমনটি বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, সাধারণত ৫-৭ মিনিট সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয় একটি ট্রেন ক্রসিং পার হওয়ার সময়। সে হিসাবে মহানগরের ইস্পাহানি এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৩ ঘণ্টা এবং ঝাউতলা এলাকায় ২ ঘণ্টার বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ কারণে চট্টগ্রাম নগরের প্রবেশের অন্যতম প্রধান দ্বার-জাকির হোসেন সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়ে লাখো মানুষ। ঘটে দুর্ঘটনাও। চউক’র কর্মকর্তারা জানান-নগরবাসীকে ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে ঝাউতলা ও ইস্পাহানি রেলক্রসিংয়ের ওপর দুটি ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ওভারপাস হয়ে গেলে ট্রেন চলাচলের সময়েও সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

চউক সূত্রে জানা গেছে, জাকির হোসেন সড়কের দুটি রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে চউক। ঝাউতলা ও ইস্পাহানি রেলক্রসিংয়ের ওপর এসব ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। এজন্য একটি কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে প্রাথমিক সার্ভে করা হয়েছে। তবে আরও বিশদভাবে সার্ভে করার পর এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম।

জানা গেছে, ঢাকা, কক্সবাজার, চাঁদপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিদিন ৫৬টি যাত্রীবাহী ট্রেন যাতায়াত করে। এরমধ্যে ইস্পাহানি রেলক্রসিং হয়ে ৩৩টি এবং ঝাউতলা রেলক্রসিং হয়ে ২৩টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। নিয়ম অনুযায়ী ট্রেন চলাচলের সময় ক্রসিংয়ের দুই পাশে প্রতিবন্ধক ফেলে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

এদিকে রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নগরে যানজট ও দুর্ঘটনা কমবে উল্লেখ করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মানজারে খোরশেদ আলম বলেন, নগরে অসংখ্য রেলক্রসিং রয়েছে। এসব ক্রসিং দিয়ে ট্রেন চলাচলের সময় গাড়ি আটকে থাকে। ফলে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়ে যানজট লেগে যায়। চউক’র এ বোর্ড সদস্য আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এলাকার প্রতিটি রেলক্রসিংয়ের ওপর যদি ওভারপাস নির্মাণ করা হয়, তাহলে নগরের অভ্যন্তরে যানজট কমে আসবে। রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণহানির ঘটনাও কমবে।

অন্যাদিকে চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিমের বক্তব্য আরো স্পষ্ট। তিনি বলেন, নগরের মধ্যে অনেক রেলক্রসিং রয়েছে। এসব ক্রসিংয়ের কারণে জনসাধারণের ভোগান্তি পোহাতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলোর ওপর যদি ওভারপাস নির্মাণ করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ যানজট থেকে মুক্তি পাবে।

চউক চেয়ারম্যান বলেন, প্রাথমিকভাবে জাকির হোসেন সড়কের ঝাউতলা ও ইস্পাহানি এলাকার দুটি রেলক্রসিংয়ের ওপর ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য একটি কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে প্রাথমিক সার্ভেও করা হয়েছে। তবে আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে- যেসব এলাকায় ওভারপাস না থাকায় মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে, তার প্রতিটিতে ওভারপাস নির্মাণ করা। আরও বিশদভাবে সার্ভে করার পর এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন : মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় নগরের চান্দগাঁও চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় চসিকের মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে এমন আহবান জানান। তিনি বলেছেন, শুধু মশক নিধন কার্যক্রম চালালেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। মেয়র বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে চসিক। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম চালানো হচ্ছে। তবে, শুধু সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রে পানি জমছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব পরিত্যক্ত সামগ্রীতে পানি জমতে পারে, সেগুলোও দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন এই অভ্যাস আমাদের প্রত্যেককে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয় এটি আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
চসিক জানায়, ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন স্থানে মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করা হয়।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।নগরবাসীর সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

আগামী ৫ অক্টোবর দিনব্যাপী বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দিলে দেশের কী লাভ হবে, তা সরকারকে জনগণের কাছে স্পষ্ট করতে হবে। একইভাবে এনসিটি ইজারা দেওয়া হলে দেশের কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়েও সরকারের সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে সংলাপের প্রয়োজন রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি আহূত আগামী ৫ অক্টোবর দিনব্যাপী বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে জাতীয় ফেডারেশন ও বেসিক ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। তাঁরা এ বিষয়ে প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় সংলাপ আয়োজনের আহ্বান জানান।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সুলতান আহমদ হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার।সঞ্চালনা করেন কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু।সভা থেকে আগামী ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচিতে সর্বস্তরের শ্রমিক, জাতীয় ফেডারেশন, বেসিক ইউনিয়ন ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র। বন্দরের সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতি ও বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের স্বার্থ জড়িত। তাই বন্দরের ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বক্তারা ৫ অক্টোবরের অবস্থান কর্মসূচি সফল করতে বিভিন্ন জাতীয় ফেডারেশন, বেসিক ইউনিয়ন ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান। তবে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও আন্দোলনকে সরকার দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করলে তা ভুল হবে। সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে দাবি আদায়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। প্রয়োজনে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে অবরোধ ও হরতালের মতো কর্মসূচিও ঘোষণার কথা জানান তারা।
সভায় আলোচনায় অংশ নেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এসকে খোদা তোতন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন ও

সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সহ-সম্পাদক ইব্রাহীম ফরাজি, বিএফটিইউসির সভাপতি আনোয়ারুল হক হুনি, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু আহমেদ মিয়া, বন্দর উইঞ্চ ক্রেন অপারেটর সমিতির নেতা ইমাম হোসেন স্বপন, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম, কমিউনিটি সেন্টার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. পারভেজ, চট্টগ্রাম যুব ট্রেড ইউনিয়ন নেটওয়ার্কের সদস্যসচিব হাসিবুর রহমান বিপ্লব, লুৎফুন্নাহার সোনিয়া, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন কবির, ইমান আলী জানুসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ