আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

রেলক্রসিংয়ে জনসাধারণের ভোগান্তি, মুক্তি পেতে নির্মিত হবে দুটি ওভারপাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম  মহানগরে একাধিত রেল ক্রসিংয়ের কারণে যানজট লেগে থাকে। যার ফলে চলাচলরত পথচারীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে রেনল ক্রসিংয়ে দুটি ওভারপাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। ওভারপাসগুলো নির্মিত যানজট অনেককাংশে হ্রাস পাবে এমনটি বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, সাধারণত ৫-৭ মিনিট সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয় একটি ট্রেন ক্রসিং পার হওয়ার সময়। সে হিসাবে মহানগরের ইস্পাহানি এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৩ ঘণ্টা এবং ঝাউতলা এলাকায় ২ ঘণ্টার বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ কারণে চট্টগ্রাম নগরের প্রবেশের অন্যতম প্রধান দ্বার-জাকির হোসেন সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়ে লাখো মানুষ। ঘটে দুর্ঘটনাও। চউক’র কর্মকর্তারা জানান-নগরবাসীকে ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে ঝাউতলা ও ইস্পাহানি রেলক্রসিংয়ের ওপর দুটি ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ওভারপাস হয়ে গেলে ট্রেন চলাচলের সময়েও সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

চউক সূত্রে জানা গেছে, জাকির হোসেন সড়কের দুটি রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে চউক। ঝাউতলা ও ইস্পাহানি রেলক্রসিংয়ের ওপর এসব ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। এজন্য একটি কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে প্রাথমিক সার্ভে করা হয়েছে। তবে আরও বিশদভাবে সার্ভে করার পর এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম।

জানা গেছে, ঢাকা, কক্সবাজার, চাঁদপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিদিন ৫৬টি যাত্রীবাহী ট্রেন যাতায়াত করে। এরমধ্যে ইস্পাহানি রেলক্রসিং হয়ে ৩৩টি এবং ঝাউতলা রেলক্রসিং হয়ে ২৩টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। নিয়ম অনুযায়ী ট্রেন চলাচলের সময় ক্রসিংয়ের দুই পাশে প্রতিবন্ধক ফেলে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

এদিকে রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নগরে যানজট ও দুর্ঘটনা কমবে উল্লেখ করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মানজারে খোরশেদ আলম বলেন, নগরে অসংখ্য রেলক্রসিং রয়েছে। এসব ক্রসিং দিয়ে ট্রেন চলাচলের সময় গাড়ি আটকে থাকে। ফলে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়ে যানজট লেগে যায়। চউক’র এ বোর্ড সদস্য আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এলাকার প্রতিটি রেলক্রসিংয়ের ওপর যদি ওভারপাস নির্মাণ করা হয়, তাহলে নগরের অভ্যন্তরে যানজট কমে আসবে। রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণহানির ঘটনাও কমবে।

অন্যাদিকে চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিমের বক্তব্য আরো স্পষ্ট। তিনি বলেন, নগরের মধ্যে অনেক রেলক্রসিং রয়েছে। এসব ক্রসিংয়ের কারণে জনসাধারণের ভোগান্তি পোহাতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলোর ওপর যদি ওভারপাস নির্মাণ করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ যানজট থেকে মুক্তি পাবে।

চউক চেয়ারম্যান বলেন, প্রাথমিকভাবে জাকির হোসেন সড়কের ঝাউতলা ও ইস্পাহানি এলাকার দুটি রেলক্রসিংয়ের ওপর ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য একটি কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে প্রাথমিক সার্ভেও করা হয়েছে। তবে আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে- যেসব এলাকায় ওভারপাস না থাকায় মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে, তার প্রতিটিতে ওভারপাস নির্মাণ করা। আরও বিশদভাবে সার্ভে করার পর এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ