আজঃ বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ, ২০২৬

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত।সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। এ সময় ২০ জন আসামি ভার্চুয়ালি শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও শুনানিতে আদালতে মামলার বাদী ও আলিফের পিতা জামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো.রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান রিপোর্টে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় এজাহারনামীয় ৩ জন আসামির নাম-ঠিকানা সঠিক না পাওয়ায় এবং তদন্তে প্রাপ্ত সুকান্ত দত্ত নামে একজন আসামির অব্যাহতির আবেদন করেন। আসামি সুকান্ত দত্তের বিরুদ্ধে সিএমপির বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, মাদক, চুরি, ডাকাতিসহ ৮টি মামলা রয়েছে। তদন্ত রিপোর্টেও তাকে দুর্ধর্ষ আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সুকান্ত দত্তের সম্পৃক্ততা রয়েছে মর্মে তদন্ত রিপোর্টে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর মূল হত্যাকারীদের সঙ্গে সুকান্ত দত্তের ছবি ভাইরাল হয়েছিল। সুকান্তকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করা হলে শুনানি শেষে আদালত এই আবেদন গ্রহণ করেন। আদালত সুকান্ত দত্তসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে। বর্তমানে ২০ জন আসামি গ্রেপ্তার আছেন এবং ১৯ জন পলাতক রয়েছেন।

এদিকে চার্জশিটভুক্ত ৩১ জনকে আসামি করে মামলার এজাহার দায়ের করা হলেও এজাহারনামীয় গগন দাশ, বিশাল দাশ ও রাজকাপুর মেথরের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় মামলার দায় থেকে তাদের অব্যাহতির আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করে মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

চার্জশিটে আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- চন্দন দাশ মেথর, রিপন দাশ, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাশ, আমান দাশ, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাশ, ওমকার দাশ, বিশাল, লালা দাশ, সামীর, সোহেল দাশ, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবী চরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাশ, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস ও দ্বীপ দাস।


এর আগে ১০ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত মামলার বাদী ও শহীদ আলিফের পিতা জামাল উদ্দিনের শুনানি গ্রহণের আদেশ দেন। গত ১ জুন চট্টগ্রাম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিএমপি’র কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান এ চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। গত ৫ মে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত চিন্ময় কৃষ্ণকে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখান।

গত বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে এস ড্রাইভ অভিযানে ৫ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদককারবারি গ্রেফতার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে বিশেষ এস ড্রাইভ অভিযানে ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ। বুধবার ভোরে মহানগর গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী থানার দামপাড়া এলাকার কে-স্কয়ার কনভেনশন হলের বিপরীত পাশে বাস কাউন্টারের সামনে অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. রাসেল (২৯) ও মো. মোফাজ্জল হোসেন (৬২)।

অভিযানকালে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেহ তল্লাশি করে রাসেলের কাছ থেকে ৩ হাজার পিস এবং মোফাজ্জল হোসেনের কাছ থেকে ২ হাজার পিসসহ মোট ৫ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

সীতাকুণ্ডের ঘটনায় অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে : মীর হেলাল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীতাকুণ্ড উপজেলায় সম্প্রতি সংগঠিত পৈশাচিক ঘটনায় অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার কথা জানালেন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ বোস্তামী আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক মর্মান্তিক ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এ ধরনের ঘটনা আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অবগত আছেন এবং তিনি গভীরভাবে ব্যথিত। বিচার নিশ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন, তা করা হবে।সীতাকুণ্ড উপজেলায় সম্প্রতি সংগঠিত পৈশাচিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশু কন্যার পরিবারের খোঁজ খবর ও সমবেদনা জানাতে বুধবার কুমিরা বাজার এলাকায় গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে জানিয়ে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি করার সাহস না পায়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনা আমাদের সবাইকে মানসিকভাবে আঘাত করেছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আছি এবং থাকবো।
শিশু-কিশোরদের নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, তারা যেন নিরাপদে খেলাধুলা করতে পারে এবং স্বাভাবিক শৈশব-কৈশোর কাটাতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে গত সোমবার সীতাকুণ্ড পৌর সদরের ইকোপার্কে গলা কাটা অবস্থায় জান্নাতুল নাইমা ইরা (৭) নামের এক শিশুকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ১ মার্চ রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে হাসপাতালের আইসিইউতে শিশুটির মৃত্যু হয়। এদিন বাবু শেখ ওরফে মাহবুব আলম (৪৫) নামের এক ব্যাক্তিকে গ্রেফতারের পর পুলিশ জানায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করা হয়। পরে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তাকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা করা হয়।

আলোচিত খবর

জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে প্রতিনিধি নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন- জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার ২ মার্চ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি জানান, রাজনৈতিক ঐকমত্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের জন্য একটি নাম প্রস্তাব করতে অনুরোধ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে মৌখিক ও সরাসরি যোগাযোগও করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্পিকার নির্বাচনের দিনই ডেপুটি স্পিকার পদেও নির্বাচন সম্পন্ন করা যেতে পারে। এতে সংসদ পরিচালনায় ভারসাম্য ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়- জাতীয় সনদের আলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, সেটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ