আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

কুরবে ইলাহী ও হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ)।

লেখক : শাইখ সাইফুল্লাহ ফারুকী চরণদ্বীপি ইসলামী লেখক ও গবেষক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর অগ্রবর্তীগণইতো অগ্রবর্তী। তারাই মুকাররাবিন তথা নৈকট্য প্রাপ্ত।’ (সুরা ওয়াকিয়াহ, আয়াত ১০-১১)। পবিত্র কোরআনুল কারিমের অত্র আয়াতে আল্লাহ তায়ালার বাণী ‘মুকাররাবীন’ শব্দ হতে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনকে আরবীতে তাক্বাররোব ইলাল্লাহ এবং উর্দু ও ফার্সী ভাষায় ‘কুরবে ইলাহী’ বলা হয়। আল্লাহ তায়ালার প্রিয়ভাজন বান্দায় পরিণত হওয়ার পথপরিক্রমায় ‘মাকামে কুরবে ইলাহী’ অর্জন পূর্বক ‘মাকামে মাহবুবিয়ত’ অর্জানান্তে আল্লাহর প্রিয়ভাজন বান্দা তথা অলি আল্লাহ হিসাবে পরিগণিত হন। ইসলামের অন্তর্নিহিত দিক তরিকতের পরিভাষায় ‘কুরবে ইলাহী’ হলো পরম প্রেমাস্পদ আল্লাহর সাথে মিলনের প্রত্যাশায় রুহানী পরিভ্রমণের সবিশেষ অবস্থা যা সালিকের হৃদয়ের আল্লাহর প্রেমকে অধিকতর জাগ্রত রাখে এবং স্রষ্টার নৈকট্য হতে সামান্যতম দূরত্ব ব্যক্তিকে বিচ্ছেদের যাতনায় ব্যথিত করে তোলে। চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলাধীন চরণদ্বীপ গ্রামে আবির্ভূত আরবের বিখ্যাত কোরাইশ বংশধর কুতুবুল আকতাব হজরত মাওলানা শাহসুফী শাইখ অছিয়র রহমান ফারুকী কোরাইশী চরণদ্বীপি (কঃ) ছিলেন খোদা প্রেমে বিভোর কুরবে ইলাহী তথা আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্ত বিখ্যাত অলি আল্লাহ। ছাত্রাবস্থায় বিকেলে সহপাঠিদের সাথে খেলাধুলা না করে নদীর তীরে কিংবা নির্জন স্থানে একাকী তন্ময় হয়ে ভাবনা, গভীর রাতে মসজিদে তাহাজ্জুদ আদায়পূর্বক মোরাকাবা-মোশাহাদা রত থাকা, দিবসে নিয়মিত রোজা পালন হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ)’কে কুরবে ইলাহী তথা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে পরম মাকাম শিখরে উন্নীত করে।

পবিত্র কোরআনুল কারিমের কুরবে ইলাহী তথা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের ব্যাপারে বিভিন্ন স্থানে আলোকপাত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর গ্রামবাসীদের মধ্যে কতিপয় লোক এমনও আছে যারা আল্লাহর প্রতি এবং কিয়ামাত দিনের প্রতি পূর্ণ ঈমান রাখে, আর যা কিছু ব্যয় করে তা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উপকরণ ও রাসূলের দু‘আ লাভের উপকরণ রূপে গ্রহণ করে। স্মরণ রেখ, তাদের এই ব্যয় কার্য নিঃসন্দেহে তাদের জন্য (আল্লাহর) নৈকট্য লাভের (কুরবে ইলাহী) কারণ; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে নিজের রহমতে দাখিল করে নিবেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ হচ্ছেন অতি ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়। (সুরা তাওবাহ, আয়াত : ৯৯) । মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা আরো ইরশাদ করেন, ‘অবশ্যই পুণ্যবানদের আমলনামা ইল্লিয়্যীনে থাকবে। ইল্লিয়্যীন কি তা আপনি জানেন? (তা হচ্ছে) লিখিত পুস্তক। আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তরা (কুরবে ইলাহী প্রাপ্তগণ) এটা প্রত্যক্ষ করবেন। (সুরা মুতাফফিফীন, আয়াত : ১৮ – ২১)। পবিত্র হাদীস শরীফেও কুরবে ইলাহী সম্পর্কে সবিস্তার বর্ণনা রয়েছে যা ব্যক্তিকে পার্থিব সৌন্দর্য পরিহারপূর্বক সৌন্দর্যের আধার পরম প্রেমাস্পদ আল্লাহর দিকে আকৃষ্ট করে । আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রতিপালক আল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমার বান্দা যখন আমার দিকে এক বিঘত নিকটবর্তী (তাকাররোব , কুরবত) হয়, আমি তখন তার দিকে এক হাত নিকটবর্তী (তাকাররোব , কুরবত) হই। আর সে যখন আমার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হয়, আমি তখন তার দিকে দু‘হাত নিকটবর্তী (তাকাররোব , কুরবত) হই। সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে আমি তার দিকে দৌড়ে যাই। (সহীহ বুখারী, অধ্যায় : জাহমিয়াদের মতের খন্ডন ও তাওহীদ প্রসঙ্গ।)
অত্র হাদীসে পাকে আল্লাহর প্রতি বান্দার নৈকট্য তথা কুরবে ইলাহীর বিনিময়ে আল্লাহর নৈকট্য প্রদানের কথা বিধৃত হয়েছে।

কুরবে ইলাহী প্রাপ্ত ব্যক্তির মর্যাদাগত অবস্থান সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জিত হয় সহীহ বুখারী শরীফে বর্ণিত হাদীসে পাকে। হজরত আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্‌ বলেন, যে ব্যক্তি আমার কোন ওলীর সঙ্গে দুশমনি রাখবে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করব। আমি যা কিছু আমার বান্দার উপর ফরয করেছি, তা দ্বারা কেউ আমার নৈকট্য লাভ করবে। আমার বান্দা সর্বদা নফল ইবাদাত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকবে। এমন কি অবশেষে আমি তাকে আমার এমন প্রিয় পাত্র বানিয়ে নেই যে, আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আর আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমিই তার পা হয়ে যাই, যা দ্বারা সে চলে। সে যদি আমার কাছে কিছু চায়, তবে আমি নিশ্চয়ই তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে অবশ্যই আমি তাকে আশ্রয় দেই। আমি কোন কাজ করতে চাইলে তা করতে কোন দ্বিধা করি না, যতটা দ্বিধা করি মু’মিন বান্দার প্রাণ নিতে। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তার বেঁচে থাকাকে অপছন্দ করি। (সহিহ বুখারী, অধ্যায় : কোমল হওয়া।) নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের প্রকৃষ্ট উদাহরণ পরিলক্ষিত হয় কুতুবুল আকতাব হজরত মাওলানা শাহসুফী শাইখ অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (কঃ) এর জীবন চরিতে। বর্ণিত রয়েছে, একদা এক ব্যক্তি গভীর রজনীতে হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ) এর পাশ্ববর্তী মহল্লায় পাকা আম চুরি উদ্দেশ্য আম গাছে উঠে। গাছে উঠার সাথে সাথে সে অন্ধ হয়ে যায়। হাতড়িয়ে হাতড়িয়ে কোন রকম গাছ থেকে নেমে সে চিৎকার করে কান্না করতে থাকে। চিৎকার আর কান্নার আওয়াজ শুনে ঘুমন্ত পাড়া প্রতিবেশী জাগ্রত হয়ে তার করুণ অবস্থার কারণ জানতে জিজ্ঞাসিত হলে উপস্থিত লোকজনকে চুরি ও তার শাস্তির কথা উল্লেখ পূর্বক হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ) কদমে নিয়ে যাওয়ার অনুনয় বিনয় করতে থাকে। তন্মধ্যে উপস্থিত একজন বলেন, ফকির মাওলানা সাহেব (হজরত শাহ চরণদ্বীপি) দরবারে নেই। তিনি তাহাজ্জুদ ও মোরাকাবার নিমিত্তে ফকিরাখালী জামে মসজিদে গেছেন। ইচ্ছা করলে সেখানে যেতে পারেন। চোর লোকটি উপস্থিত একজনকে নিয়ে অন্ধত্ব হতে মুক্তি পাওয়ার প্রত্যাশায়‌ হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ) দোয়ার জন্য ছুটে গেলেন উক্ত মসজিদে। মসজিদের নিকটবর্তী হতেই সঙ্গী লোকটি প্রত্যক্ষ করলো, মসজিদে অনেক নুরানী ব্যক্তির সমাবেশ। জুব্বা ও পাগড়ী পরিহিত নুরানী ব্যক্তিবর্গের চেহেরায় নুরের আলো বিকিরণ হচ্ছে। হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ) সম্মুখে আর সবাই তারই পেছনে আস্তে আস্তে মসজিদ হতে বের হচ্ছে। অনুমিত হয় যে নুরানী ব্যক্তিগুলো জমিনে পরিভ্রমণরত আল্লাহর ফেরেস্তাগণ যাদের সাথে হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ) নামাজ আদায় করেন। সবাই মোলাকাতপূর্বক প্রস্থানের পর দূর হতে প্রত্যক্ষকারী সঙ্গী ব্যক্তি সর্বশেষে হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ)’র নিকট এসে চুরের করুণ কাহিনী অন্ধত্বের বর্ণনাপূর্বক তা দূরীকরণের দোয়া আরজি করেন। হজরত শাহে চরণদ্বীপি চোরের দিকে নজর দেয়ার সাথে সাথে তার অন্ধত্ব বিদূরীত হয়। সঙ্গী লোকটি নুরানী ব্যক্তিগণ সম্পর্কে পুনরায় জিজ্ঞাস করলে তিনি এ সম্পর্কে লোক সমাজে বর্ণনা না করার জন্য হুকুম দিয়ে প্রস্থান করেন।’ এ ঘটনায় অনুমিত হয় যে, হজরত শাহে চরণদ্বীপি আল্লাহ তায়ালার এমন নৈকট্যপ্রাপ্ত তথা কুরবে ইলাহী প্রাপ্ত আল্লাহর অলি যিনি নুরানী ফেরেস্তার সাথে ইবাদত ও বিচরণ করেন।

কুরবে ইলাহী অর্জনে কুতুবুল আকতাব হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (কঃ) ছিলেন অনন্য‌ ও বেলায়ত গগণে অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র। বোয়ালখালী উপজেলার গোমদন্ডী নিবাসী মোহাম্মদ ছদর আলী ফকির ছাহেব হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (ক.) এর ফয়েজ প্রাপ্ত ভক্ত শিষ্য ও খলিফা ছিলেন। তিনি বর্ণনা করেন, ‘আমি লোক পরম্পরায় হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (ক.) এর অলৌকিক কারামত ও আধ্যাত্মিক শক্তির বিষয় অবগত আছি। গোমদন্ডী নিবাসী জান আলী ফকির ও মুন্সী মিঞাজি তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন। তারা হজরত শাহে চরণদ্বীপি (ক.) এর হাতে বায়াত হওয়ার জন্য আমাকে বলেন। উত্তরে আমি বললাম, তিনি যদি সত্য কামেল অলি আল্লাহ হয়ে থাকেন, তবে তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তির প্রভাবে আমাকে তাঁর খেদমতে পৌঁছাতে পারেন। একদা মেরাজ রজনীতে নামাজ সমাপণ করতঃ নিদ্রিত হয়েছি, স্বপ্নে দেখলাম, কেহ বলতেছে, অদ্য রজনীতে বহু লোক ফয়েজ নেয়ামত লাভ করবেন। তৎপর দেখলাম একখানা মণিমুক্তা খচিত জ্যোতির্ময় সিংহাসনে হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (ক.)। চতুস্পার্শ্বে অসংখ্যক লোক তাঁর যশঃ কীর্তন করতঃ গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী, হজতর শাহ চরণদ্বীপির জয় ঘোষণার সহিত তকবির ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিতে দিগমন্ডল প্রকম্পিত করেছেন। এই দৃশ্য দেখে আমার হৃদকম্প হল। ‘আল্লাহ’ ‘আল্লাহ’ জপনা করছি। এমন সময় একজন লোক আমার হাত ধরে জনতার মধ্য দিয়ে হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (ক.) এর সামনে উপস্থিত করল। আমি ভয়ে জড়সড় হয়ে পুন:পুন: ভূমি চুম্বন করছি। হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (ক.) আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করতঃ বলেন-‘মিঞা হুঁশিয়ার হও, গাফেল থাকিও না, আমি তোমাকে পথ দেখাচ্ছি। আমার নির্দেশিত পথে চল।’ এই বলে আমাকে তাঁর সামনের বদনা হতে জল পান করালেন। মুহূর্তের মধ্যে আমার অজ্দ ও রোখছ হতে লাগল। নিদ্রা হতে জাগরিত হয়ে বেখুদী অবস্থায় জিকিরের সহিত অজ্দ করতে থাকি।” (জীবনী ও কেরামত, অধ্যায় : কারামত ও তাছাররোফ)। কুরবে ইলাহীর মাকাম অর্জনান্তে মাকামে মাহবুবিয়ত অর্জনে হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (ক.) বেলায়ত জগতে এমন মর্তবার অধিকারী হন। আল্লাহ তায়ালার বেলায়ত ও নৈকট্য তথা কুরবে ইলাহী প্রাপ্ত কুতুবুল আকতাব হজরত মাওলানা শাহসুফী শেখ অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (কঃ)’র ওফাত শরীফ স্মরণে আসন্ন ১২ ভাদ্র বেসাল বার্ষিকী ওরশ শরীফে উনার নুরানী সত্তায় অগণিত সালাম আরজ করছি।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সৈয়দ ছদরুল উলা মাইজভাণ্ডারী (ক.) প্রকাশ চেয়ারম্যান বাবাজানের পবিত্র চল্লিশা শরীফের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আওলাদে রাসুল (দ.),আওলাদে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী, মাইজভান্ডার দরবার শরীফের মহান আধ্যাত্মিক সাধক মজ্জুবে রহমান, ছানিয়ে ওয়াইজ আল করনী, হযরত শাহসুফি সৈয়দ ছদরুল উলা মাইজভাণ্ডারী (ক.) প্রকাশ চেয়ারম্যান বাবাজানের পবিত্র চল্লিশা শরীফ আগামী ৫ই ফেব্রুয়ারী রোজ বৃহস্পতিবার মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হবে।

এই উপলক্ষে ফটিকছড়ি আজিমনগরে আঞ্জুমানে গাউছিয়া রহমানিয়া ছদরুল উলা মাইজভাণ্ডারী মন্জিলে বড় শাহজাদী সৈয়দা কিশোয়ারা রহমান এবং ছোট শাহজাদী সৈয়দা মাহবুবা রহমানের উপস্থিতিতে ১ম প্রস্তুুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন আঞ্জুমানে গাউছিয়া রহমানিয়া ছদরুল উলা মাইজভাণ্ডারী কেন্দ্রীয় খেদমত পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন শাখা কমিটির সদস্যবৃন্দসহ আাশেক ভক্তবৃন্দ।

বাংলাদেশকে শান্তির ও নিরাপদ জনপদ কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশকে একটি শান্তির ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে কবুল করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানিয়েছেন মাইজভাণ্ডার শরীফ গাউসিয়া হক মনজিল এর সম্মানিত সাজ্জাদানশীন রাহবারে আলম হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (ম.)।গতকাল শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্সূফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর ১২০তম বার্ষিক উরস্ শরীফের আখেরি মোনাজাতে মহান আল্লাহর কাছে তিনি উক্ত ফরিয়াদ করেন।

পবিত্র উরস্ উপলক্ষে দরবারে সমবেত লাখো আশেক ভক্তের উপস্থিতিতে হওয়া মোনাজাতে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি সংকট-সমস্যার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মহান অলি’র উছিলায় হে আল্লাহ আপনি আমাদের তৌফিক দান করুন।”
বিশ্বের দিকে দিকে নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের মুক্তি কামনা করে সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী বলেন, “বিশ্বের শক্তিধর দেশ দূর্বল রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ক্রমাগত অন্যায়, অবিচার, জুলুম করছে, নিরস্ত্র নারী-পুরুষদের হত্যা করছে। এসব অত্যাচারীর হাত থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করুন।”

হালাল রুজির মাধ্যমে পিতামাতার উপযুক্ত খেদমত করার তৌফিক কামনা করে সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী বলেন, “পরিবার-পরিজন নিয়ে আমাদের একটি শান্তিময়, স্বচ্ছল ও নিরাপদ জীবন দান করুন৷ শ্রমজীবী- পেশাজীবি-বুদ্ধিজীবী-ব্যবসাজীবি’র উন্নত জীবন দান করুন।”

হুজুর গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী (ক.) প্রবর্তিত ত্বরীকা এবং তাঁর গাউসিয়ত আজমিয়তের শান-মান মানুষের সামনে যথাযথ ভাবে তুলে ধরার তৌফিক কামনা করে তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের আনাচে-কানাচে যুগে যুগে আল্লাহর দ্বীনের পতাকাকে উড্ডীন রাখার জন্য যেসব বান্দা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের পথেই আমাদের পরিচালিত করুণ।”

পবিত্র উরস্ উপলক্ষে জাতি-ধর্ম-বর্ণ, ধনী-গরিব, দল-মত নির্বিশেষে আল্লাহ’র মহান এই অলি’র দরবারে যারা হাজির হয়েছেন তাদের সকলের উপস্থিতি কবুল করার ফরিয়াদ জানিয়ে সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী মোনাজাতে আরও বলেন, “হে আল্লাহ আমরা আপনার কাছে শূন্য হাতগুলো তুলে দিয়েছি। আমাদের ত্রুটিপূর্ণ ইবাদত বন্দেগী কবুল করুন। হে আল্লাহ আপনি হুজুর গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী (ক:)-কে আমাদের মাঝে আপনার বন্ধুরুপে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। মহান এই অলি’র পবিত্র উরস্ মোবারকের উছিলায় নেয়ামত হাসিলের তৌফিক দিন। উরস্ উপলক্ষে আপনার বান্দারা অগণিত সামাজিক, মানবিক, শিক্ষামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ইবাদত বন্দেগী করেছেন। তাদের সকল প্রচেষ্টা ও হাজিরী কবুল করুন।”

প্রসঙ্গত, মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের ১০ই মাঘের প্রধান এই উরসকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও লাখ লাখ আশেক ভক্ত জাতি ধর্ম বর্ণ শ্রেণী পেশার মানুষ ভেদাভেদ ভুলে সমবেত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বা’দ ফজর শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-রওজা শরিফ গোসল ও গিলাফ চড়ানোর মাধ্যমে উরস শরিফের উক্ত আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। উক্ত উরস্ শরীফ উপলক্ষে শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের উদ্যোগে যথাযথ ভাব-গাম্ভীর্যের ভিতর দিয়ে ইতঃমধ্যে ১০ দিনব্যাপী ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ