আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

পেশাদার খুনি ভাড়া করে পুত্রবধূকে খুন, ডাকাতির নাটক সাজান শ্বাশুড়ি।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেড় লাখ টাকায় হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব যাকে দেওয়া হয়েছিল, ঘটনার চার বছর পর তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পিবিআই। চট্টগ্রামের আদালতে জবানবন্দি দিয়ে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন মো. আরিফ (৩৫) নামে ওই যুবক।

জানা গেছে, কোনোভাবেই পুত্রবধূর সঙ্গে বনিবনা হয় না সেই শ্বাশুড়ির। ছেলে পরপর দু’বার বিয়ে করেন। কিন্তু মায়ের সঙ্গে মিল না হওয়ার দুই স্ত্রীকেই ত্যাগ করেন। এরপর সেই মা তার আপন বোনের মেয়েকে ছেলের বৌ করে ঘরে তোলেন। বোনের মেয়ে হলে কী হবে, যথারীতি তার সঙ্গেও ঝগড়া-ঝাটি, পরিবারে অশান্তি। কিন্তু তৃতীয় পুত্রবধূকে নিয়ে আর ডিভোর্সের ঝামেলায় গেলেন না। দেড় লাখ টাকায় পেশাদার খুনি ভাড়া করে পুত্রবধূকে খুন করে ডাকাতির নাটক সাজান শ্বাশুড়ি।কিন্তু না, পুরোপুরি সত্যি শ্বাসরুদ্ধকর এ ঘটনার জট খুলেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই জানায়, ২০২১ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার নারকেল তলা এলাকায় এক বাড়িতে মাহবুবা আক্তার (২৪) নামে এক গৃহবধূ খুন হন। এ ঘটনায় তার ভাই মো. মিশকাত গৃহবধূর স্বামী আব্দুল গোফরান (৩৫) ও তার মা নাজনীন বেগমকে (৫৫) আসামি করে মামলা করেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের তিন বছর আগে গোফরানের সঙ্গে তার আপন খালাতো বোন মাহবুবার বিয়ে হয়। মাহবুবার বাবার বাড়িও কাছাকাছি নগরীর সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায়। বিয়ের পর থেকেই নিজ খালা অর্থাৎ শ্বাশুড়ি ও স্বামী মিলে মাহবুবাকে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করে আসছিল।

ঘটনার দিন বিকেল ৪টার দিকে গোফরানের বোন শান্তা- মাহবুবার ছোট বোন সাদিয়াকে ফোন করে জানান, অজ্ঞাত লোকজন তার ভাবীকে শ্বাসরোধ করে অজ্ঞান করে রেখে গেছে। এ খবর পেয়ে ভাই মিশকাত সেখানে গিয়ে মাহবুবাকে মৃত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায়, মুখে এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তখন নাজনীন তাকে জানান, তাদের বাসায় ডাকাতি হয়েছে এবং ডাকাতরা মাহবুবাকে খুন করেছে।

তবে মিশকাত থানায় মামলা করার পর পুলিশ নাজনীন ও তার ছেলে গোফরানকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে আরিফের সম্পৃক্ততার তথ্য পেলেও তাকে গ্রেফতারে ব্যর্থ হয় ইপিজেড থানা পুলিশ। ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর এ তিনজনকে আসামি করে পুলিশ অভিযোগপত্র দেয় আদালতে। কিন্তু আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মহসীন চৌধুরী জানান, টানা অনুসন্ধানে আরিফের অবস্থান শনাক্ত করে গত ২৪ আগস্ট তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আরিফ জবানবন্দি দিয়েছেন। আরিফ ২০২১ সালে ইপিজেডের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতো। নিহতের শ্বশুরবাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতো। এ হিসেবে ওই পরিবারের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। একদিন শ্বাশুড়ি নাজনীন আরিফের কাছে তার পুত্রবধূকে খুন করতে পারবে কী না জানতে চান। আরিফ দেড় লাখ টাকার চুক্তিতে রাজি হন।

পিবিআই কর্মকর্তা মহসীন বলেন, চুক্তি অনুযায়ী আরিফ তার বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে তিনজন প্রফেশনাল কিলার ভাড়া করে আনেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন শুক্রবার দুপুরে নামাজরত অবস্থায় মাহবুবাকে শারীরিক আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।নাজনীন বেগম কথামতো আরিফকে দেড় লাখ টাকা দেন। সেগুলো আরিফসহ চারজন মিলে ভাগ করে নেন। আরিফসহ চারজন কক্সবাজারে চলে যান। বছরখানেক আগে আরিফ আবার চট্টগ্রাম শহরে এসে আতুরার ডিপোতে হকারের পেশায় যুক্ত হন।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এসআই মহসীন বলেন, একমাত্র কারণ শ্বাশুড়ি। প্রচণ্ড বদরাগী এই মহিলা আগের দুই বৌকে ডিভোর্স দিতে ছেলেকে বাধ্য করেন। তৃতীয়জন যেহেতু আপন বোনের মেয়ে, সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় ডিভোর্স সম্ভব নয়, তাই খুন করান। এমনকি খুনের সময় তিনি ও তার ছেলে সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। আর গৃহবধূ তখন ছিলেন ছয় মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা। আরিফের জবানবন্দির তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন পেশাদার খুনিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে ওই এসআই।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ