আজঃ রবিবার ৩১ মে, ২০২৬

বিশ্বের ব্যস্ততম ১০০ বন্দরের নতুন তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দর ৬৮তম স্থানে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান এক ধাপ িিপছিয়ে গেছে। বিশ্বের ব্যস্ততম ১০০ বন্দরের নতুন তালিকায় পেছালো ২০২৫ সালের র‌্যাংকিংয়ে এক ধাপ পিছিয়ে ৬৮তম অবস্থানে গেছে চট্টগ্রাম বন্দর। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৩ সালে র‌্যাংকিংয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ৬৭তম অবস্থানে ছিল। কিন্তু কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ার পরেও এবার এক ধাপ পিছিয়ে গেছে।

ব্যস্ততম বন্দরগুলোর কনটেইনার পরিবহনের হিসাব করে সেরা ১০০ বন্দরের তালিকা প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক শিপিংবিষয়ক বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো সংবাদ মাধ্যম লয়েড’স লিস্ট। সম্প্রতি ‘ওয়ান হান্ড্রেড কনটেইনার পোর্টস ২০২৫’ তালিকা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। লয়েড’স লিস্ট বিশ্বের কোন বন্দরে কত কনটেইনার ওঠানামা হয়েছে সেই তালিকা ধরেই শীর্ষ ১০০ বন্দরের তালিকা প্রকাশ করে। এখানে বন্দরে সেবার মান বা দক্ষতা আমলে নেওয়া হয় না। ফলে দক্ষতার দিক থেকে কোন বন্দর এগিয়ে আছে সেটি এই তালিকার মাধ্যমে জানার সুযোগ নেই।

লয়েড’স জানিয়েছে, ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৫২৭ একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। এর আগে ২০২৩ সালে যা ছিল ৩০ লাখ ৫০ হাজার ৭৯৩ একক। অর্থাৎ কনটেইনার হ্যান্ডলিং ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ বাড়লেও তালিকায় অবস্থান থেকে এক ধাপ পিছিয়েছে। মূলত বিশ্বের অন্যান্য বন্দরগুলোর প্রবৃদ্ধি আরো বেশি হওয়ার কারণেই চট্টগ্রাম বন্দর তার র‌্যাংকিং থেকে পিছিয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর সর্বপ্রথম ২০১০ সালে ৯৮তম স্থান নিয়ে লয়েড’স লিস্টের তালিকায় স্থান করে নেয়। এরমধ্যে ২০১১ সালে বন্দরটি ১০ ধাপ এগিয়ে ৮৮তম স্থানে যায়। পরে ২০১২ সালে ১ ধাপ পিছিয়ে ৮৯তম, ২০১৩ সালে ১ ধাপ পিছিয়ে ৯০তম, ২০১৪ সালে ৪ ধাপ এগিয়ে ৮৬তম, ২০১৫ সালে ১ ধাপ পিছিয়ে ৮৭তম, ২০১৬ সালে ১০ ধাপ এগিয়ে ৭৬তম, ২০১৭ সালে ৫ ধাপ এগিয়ে ৭১তম, ২০১৮ সালে ১ ধাপ এগিয়ে ৭০তম, ২০১৯ সালে ৬ ধাপ এগিয়ে ৬৪তম, ২০২০ সালে ৬ ধাপ এগিয়ে ৫৮তম, ২০২১ সালে ৯ ধাপ পিছিয়ে ৬৭তম এবং ২০২২ সালে ৩ ধাপ এগিয়ে ৬৪তম অবস্থানে ছিল চট্টগ্রাম বন্দর। এরপর ২০২৩ সালে আবার ৩ ধাপ পিছিয়ে ৬৭তম অবস্থানে যায় বন্দরটি। এরপর ২০২৪ সালেও সেই একই অবস্থান ধরে রাখে। তবে ২০২৫ সালে বন্দরের দক্ষতা আরো বাড়লেও তালিকায় একধাপ পিছিয়ে ৬৮তম অবস্থানে এলো।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১০০টি ব্যস্ততম বন্দরের প্রকাশিত তালিকায় প্রথম ৯টি বন্দর তার নিজ অবস্থান ধরে রেখেছে। কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের এবারও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে চীনের সাংহাই বন্দর। এই বন্দরটি ২০২৪ সালে ৫ কোটি ১৫ লাখ ৬ হাজার ৩শ একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে।দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিঙ্গাপুর বন্দর হ্যান্ডলিং করেছে ৪ কোটি ১১ লাখ ২৪ হাজার ১শ একক কনটেইনার। যা এর আগের বছরের চেয়ে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।তৃতীয় অবস্থানে থাকা চীনের নিংবো-ঝুশান বন্দর হ্যান্ডলিং করেছে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৮ হাজার একক কনটেইনার। এর আগের বছরের চেয়ে যা ১১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

তালিকার চতুর্থ অবস্থানে চীনের শেনজেন, পঞ্চম অবস্থানে চীনের কিংদাও, ষষ্ঠ অবস্থানে চীনের কুয়াংচৌ, সপ্তম অবস্থানে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান, অষ্টম অবস্থানে চীনের তিয়ানজিন এবং নবম অবস্থানে আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড বন্দরের নাম রয়েছে। এই নয়টি বন্দরই গতবারের তাদের নিজ নিজ অবস্থান এবারও ধরে রেখেছে। পরিবর্তন এসেছে তালিকার দশম স্থানে। আরো একধাপ এগিয়ে দশম অবস্থানে এসেছে মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং। যা গতবছর দুই ধাপ এগিয়েছিল।

অন্যদিকে গতবছর একধাপ পিছিয়ে ১২তম অবস্থানে যাওয়ায় নেদারল্যান্ডের রোটারডাম বন্দর এবার একধাপ এগিয়ে ১১তম অবস্থানে এসেছে। আর দশম অবস্থান থেকে দুই ধাপ পিছিয়ে ১২তম অবস্থানে এসেছে চীনের হংকং বন্দর।
এদিকে তালিকায় গতবারের ন্যায় এবারও শীর্ষ দশে শুধু চীনের বন্দরই আছে ৬টি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দুটি বন্দর আছে ১০০টি ব্যস্ততম বন্দরের এই তালিকায়। তবে দুইটি বন্দরই এবার তালিকায় পিছিয়েছে। ২৫তম তালিকায় রয়েছে ভারতের মুন্দ্রা বন্দর। গত গতবছর ছিল ২৪তম অবস্থানে। অন্যদিকে তিন ধাপ পিছিয়ে ৩১তম অবস্থানে এসেছে জহুরলাল নেহেরু বন্দর (পুরনো নাম কোলকাতা বন্দর)।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের শ্রদ্ধা নিবেদনে প্রতি মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্বাধীনতার মহান ঘোষক ও বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকীতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগরের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন‌ সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি।

মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে নানা উপায়ে বিকৃত ও ভূলুণ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে : চসিক মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে একটি মহল নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে শহীদ জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
শনিবার নগরের ষোলশহর ২ নম্বর গেট বিপ্লব উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে পুষ্পস্তবক অর্পণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, বিপ্লব উদ্যান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে এখান থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিরোধ ও বিদ্রোহের আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরে ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেন। তার নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও সাহসিকতা স্বাধীনতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতির নতুন ধারা সূচনা করেন। একদলীয় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে জনগণের অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

ডা. শাহাদাত বলেন, বর্তমানে আমরা লক্ষ্য করছি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে নানা উপায়ে বিকৃত ও ভূলুণ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে সাম্য, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে। বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের যে স্বপ্ন শহীদ জিয়াউর রহমান দেখিয়েছিলেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আধুনিক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও রেমিট্যান্স খাতে তার গৃহীত পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতিকে নতুন গতি দিয়েছিল। তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন।

মেয়র আরও বলেন, আজও বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনেক খাত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তার সুযোগ্য পুত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

চামড়া শিল্পের সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শাহাদাত বলেন, একসময় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা চামড়া শিল্প আজ নানা সংকটে বিপর্যস্ত। এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করা সম্ভব।
চট্টগ্রামকে দেশের পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম শুধু স্বাধীনতার ইতিহাসের নয়, দেশের অর্থনীতিরও প্রাণকেন্দ্র। এই নগরী সবসময় জাতীয় আন্দোলন সংগ্রাম এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছে। বন্দর, শিল্প, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করতে হবে।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম জাতীয় অর্থনীতির আরও শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

মেয়র বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশপ্রেম, সততা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সংকটাপন্ন দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। তার আদর্শ ধারণ করে দুর্নীতিমুক্ত, আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।তিনি আরও বলেন, আজকের দিনে আমাদের শপথ হোক, শহীদ জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, সততা ও আদর্শকে ধারণ করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।

আলোচিত খবর

আজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র প্রতিষ্ঠাতা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী শনিবার (৩০ মে)। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য তাকে হত্যা করে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপি গত ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত সারা দেশে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হচ্ছে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করছেন। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।

কর্মসূচিতে রয়েছে, ৩০ মে ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সব স্তরের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা। দেশের সব জেলা, মহানগর ও অন্যান্য ইউনিটেও একই কর্মসূচি রয়েছে। স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিও পালন করা হবে।

একই দিন বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করবেন। জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানায় এবং দেশের অন্যান্য ইউনিটে অসচ্ছল ও দুঃস্থ মানুষের মধ্যে কাপড়, চাল, ডালসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

পরদিন ৩১ মে দুপুর ২টায় রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। এজন্য তাকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক বলা হয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ নিয়ে গঠিত সার্ক প্রতিষ্ঠারও স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তিনি। জাতীয়তাবাদভিত্তিক একটি কালজয়ী রাজনৈতিক দর্শন প্রতিষ্ঠা করে গেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ