আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম ওয়াসায় লোকবল সংকট ১১১৯ পদের স্থলে মাত্র ৫০২ জন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 চট্টগ্রাম ওয়াসায় লোকবল সংকটে গ্রাহকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একই সাথে সরকারী এই সেবা সংস্থায় অধিকাংশ কর্মকর্তাকে নিজের কাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত দুই থেকে তিনটি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে কোন কোন কর্মকর্তাকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনও দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এখানে বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদের সংখ্যা এক হাজার ১১৯টি। কিন্তু বর্তমানে এসব পদের বিপরীতে লোকবল রয়েছে মাত্র ৫০২ জন। অর্থাৎ পদ শূন্য অর্ধেকের চেয়েও বেশি ৬১৭টি। বর্তমানে আউটসোর্সিংয়ে লোক নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে ওয়াসা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত এক দশকে ওয়াসার চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। এ কারণে অনুমোদিত নতুন অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী এক হাজার ১১৯টি পদের বাইরে আরো ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ লোকবলের প্রয়োজন হবে। নতুনভাবে লোকবল দরকার ওয়াসার এমন প্রকল্পগুলো হচ্ছে- কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-১ ও ২, মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্প, ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্প এবং স্যুয়ারেজ প্রকল্প।

ওয়াসা সূত্র জানায়, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রথম অর্গানোগ্রাম তৈরি হয় ২০১৩ সালের ২৫ আগস্ট। ওই সময়ে ওয়াসার লোকবলের পদ ছিল ৭২১ জন। এর ৫ মাসের ব্যবধানে ২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় অর্গানোগ্রামে কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ ছিল ৯৫৯টি। সেবা সংস্থাটির ২০১০ সালে পানি উৎপাদন হতো দৈনিক প্রায় ১৮ কোটি লিটার। ওই সময়ে ওয়াসার গ্রাহক সংযোগ ছিল ৪৯ হাজার ৪৭৩টি। লোকবলের পদ ছিল ৭২১টি।

এরপর ২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারি চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ডের ১৪তম সাধারণ সভায় অনুমোদিত প্রথম সংশোধিত সেটআপ (অর্গানোগ্রাম) কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫৯টি। এর দুবছর পর ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ডের ৩২তম সাধারণ সভায় অনুমোদিত দ্বিতীয় সংশোধিত সেটআপ (অর্গানোগ্রাম) অনুযায়ী পদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১০৪৮টি। সর্বশেষ ২০২১ সালে এক হাজার ১১৯ জনের নতুন একটি অর্গানোগ্রাম ওয়াসা বোর্ডের ৫৮তম সাধারণ সভায় তৃতীয় সংশোধিত সেটআপ (অর্গানোগ্রাম) অনুমোদিত হয়। কিন্তু এ অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী এখন পর্যন্ত আর কোনো জনবল নিয়োগ হয়নি। অথচ সংস্থাটির এখন গ্রাহক বেড়ে হয়েছে ৯৭ হাজার।

ওয়াসা সূত্রে আরো জানা গেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মেডিকেল অফিসার, রাজস্ব তত্ত্বাবধায়ক, কম্পিউটার অপারেটরসহ ১৮ পদে লোক নিয়োগের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিল চট্টগ্রাম ওয়াসা।

এর দুমাসের ব্যবধানে এপ্রিলে সংস্থাটি সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে লোক নিয়োগের জন্য আবারও বিজ্ঞাপন দেয়। যথারীতি এসব পদে লিখিত পরীক্ষাও হয়েছিল। এর মধ্যে সহকারী প্রকৌশলীর পদের রেজাল্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু এটির মৌখিক পরীক্ষা আজ পর্যন্ত আর হয়নি। সরকারি সেবা সংস্থাটিতে সর্বশেষ নিয়োগ হয়েছিল ২০১৭ সালে। গত আট বছরে ওয়াসা একাধিকবার লোক নিয়োগের উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। একই সময়ে ওয়াসার গ্রাহকের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হলেও লোকবল বাড়েনি একজনও। উল্টো অবসরজনিত কারণে কমেছে ব্যাপক জনবলও। অথচ একই সময়ে ওয়াসার পানি উৎপাদনের সক্ষমতাও বেড়েছে আগের চেয়ে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি। ফলে প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় পদে পদে ভুগছে সংস্থাটি।


এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, গত ১০ বছরে ওয়াসা চারটি পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। তাতে পানি উৎপাদনের সক্ষমতা দৈনিক ১৮ কোটি লিটার থেকে বেড়ে ৫০ কোটি লিটার হয়েছে। এসব প্রকল্প চালু রাখতে প্রচুর লোকবল দরকার। বিশেষ করে জনবলের অভাবে প্রকৌশল শাখায় কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। তাতে প্রভাব পড়ছে পানি সরবরাহে।

এদিকে লোকবল সংকটে হিমশিম খাচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা এমনটি উল্লেখ করে ওয়াসার কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, অধিকাংশ কর্মকর্তাকে নিজের কাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত দুই থেকে তিনটি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।কোন কোন কর্মকর্তাকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনও দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

যশোরের চাড়াভিটায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


যশোরে বাঘারপাড়ার চাড়াভিটা ও তার পার্শ্বতি এলাকায়  হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখী ঝড়। আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেলা ২টার দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘে ডেকে   মেঘা আচ্ছন্ন হয়ে ঝড় বাতাসের সাথে বজ্র বূষ্টি শুরু হয়ে

টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় চলে এই ঝড়।চাড়াভিটা বাজারে পাশেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে ও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি উপ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের কারণে দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।, গত কয়েক দিন ধরে যশোর অঞ্চলে  তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষ গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। দুপুরের পর আকাশ কালো মেঘে গুমোট আকার ধারণ করে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। সেই সঙ্গে বজ্রপাত।

বাঘারপাড়া  উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের চাড়াভিটা বাজার সহ কয়েকটি  এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙ্গে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে।যে কারণে  বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় ভূতুড়ে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।এলাকাবাসী জানান, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি।। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ