জনমানুষের নেতা মোজাম্মেল হক চৌধুরী: যাত্রী অধিকার আন্দোলনের সাহসী মুখ-

এম মনির চৌধুরী রানা /মো.কামাল উদ্দিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

বিগত সরকারের সময় আজকের এইদিনে
গভীর রাতে, ঠিক ভোররাতে হঠাৎ করেই মিরপুর মডেল থানার পুলিশ এসে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেয়েছিল। কেন তাঁকে আটক করা হলো, সেই বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই জনমনে নানা প্রশ্ন, শঙ্কা এবং ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল।মোজাম্মেল হক চৌধুরী নামটি বাংলাদেশের গণমানুষের কাছে শুধু একটি সংগঠনের মহাসচিব নয়, বরং যাত্রী অধিকার আন্দোলনের প্রতীক।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই করেছেন বাস-ট্রাক-মাইক্রোবাস থেকে শুরু করে প্রতিদিনের ভোগান্তির বিরুদ্ধে। তার আন্দোলনের কারণেই আজ যাত্রী সেবা, যাত্রী অধিকার এবং সড়কে শৃঙ্খলার বিষয়ে কিছুটা হলেও সচেতনতা তৈরি হয়েছে, নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে আলোচনার জন্ম হয়েছে। কিন্তু এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে তাঁকে দমিয়ে রাখার জন্য। সেই সময়ের ক্ষমতাসীন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। কিন্তু মানুষ জানত—এই মানুষটি মিথ্যা বা ভণ্ডামির আড়ালে লুকানো কোনো চরিত্র নন। তাই সেদিন সারাদেশের মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল। সাংবাদিক,

বুদ্ধিজীবী, ছাত্র, শ্রমজীবী—সবাই কণ্ঠ মিলিয়েছিল মোজাম্মেল হক চৌধুরীর জন্য। আমিও তখন তাঁর হয়ে কলম ধরেছিলাম।আমার সঙ্গে মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সম্পর্ক দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময়ের। তিনি আমারই এলাকার মানুষ—বোয়ালখালীর গর্ব। লেখালেখির জগৎ থেকে শুরু করে রাজপথের আন্দোলন পর্যন্ত তাঁর সাহচর্য পেয়েছি আমি। অসংখ্য দিন-রাত্রি আমরা কাটিয়েছি মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। তার চিন্তা, মনন, দর্শন সবকিছুই সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। তিনি সবসময় জনমুখী ছিলেন, এখনো আছেন। আজকে তিনি শুধু একজন সংগঠক নন; তিনি জাতীয় নেতা, তিনি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। গণমানুষের অধিকার রক্ষায় তাঁর ভূমিকা আজ সবার কাছে অনস্বীকার্য।

সড়কের ভাঙা সেতু থেকে শুরু করে অতিরিক্ত ভাড়া, পরিবহনে হয়রানি, দুর্ঘটনার শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো—প্রতিটি জায়গায় মোজাম্মেল হক চৌধুরী ছিলেন নির্ভীক যোদ্ধা। তাঁর কণ্ঠস্বর আজ সারা দেশের যাত্রীদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে। তাঁকে নিয়ে লেখা কয়েকটি লাইনে শেষ করা সম্ভব নয়।

কারণ মোজাম্মেল হক চৌধুরী কোনো একক ব্যক্তি নন—তিনি এক ইতিহাস, এক আন্দোলন, এক প্রতিরোধের নাম। আজ তাঁর এই আকস্মিক গ্রেপ্তার আমাদের মনে করিয়ে দিল, এদেশে সত্য বলার, মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর মূল্য আজও চড়া।
তবুও আমরা বিশ্বাস করি—সত্য কখনো দমিয়ে রাখা যায় না। মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে হয়তো আজকে আটক করা হয়েছে, কিন্তু তাঁর লড়াইকে আটকানো যাবে না। ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম চিরকাল থাকবে—যাত্রী অধিকার আন্দোলনের সাহসী মুখ, জনমানুষের নেতা হিসেবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তরুণীর মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়ন ফকিরাবাদে বকশিপাড়ায় স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে। তমা খাতুনের স্বামী বক্কর হোসেন এখন ভেড়ামারা থানা পুলিশ হেফাজতে। তমা খাতুন (১৮) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে মারা যান। নিহত তমা খাতুন ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ বকশীপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে।

নিহতের পরিবারের দাবি, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহতের মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তমার মৃত্যুর পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ জাহেদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই তরুণী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ধর্ষণের কোনো আলামত বা প্রমাণ পুলিশ পায়নি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই তরুণীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে হাসপাতালে ভর্তির সময় পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

চট্টগ্রামে এবার ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল ৫ বছরের শিশুর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্যুর দুইদিন পর এবার সিরাজুল মনিরা (৫) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সিরাজুল মনিরা সীতাকুণ্ড পৌরসভার আমিরাবাদ এলাকার নুরুন্নবীর মেয়ে। অন্যদিকে হাসপাতালে ভর্তির একদিন না পেরোতেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রাফসান মোহাম্মদ নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য তাদের কাছে ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে নগরীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত রাফসান মোহাম্মদ প্রাচুর্য সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট তুলাতলি এলাকার সাত নম্বর ওয়ার্ডের মৃত নুরুল আলমের ছেলে। পরিবারের তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে রাফসান বড় ছেলে ছিলেন। রাফসান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

মনিরার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকদিন ধরে তীব্র জ্বরসহ নানান শারীরিক অসুস্থতায় খুব দুর্বল হয়ে পড়ে সে। অবস্থার অবনতি হতে দেখে অভিভাবকরা তাকে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সীতাকুণ্ড পৌরসদরের মেডিকেয়ার ল্যাবে নিয়ে আসলে চিকিৎসক এনএসওয়ান পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়লে তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে ভর্তি করাতে বলেন চিকিৎসক। সেখানে বুধবার তাকে আইসিইউতে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে রাফসানের ভগ্নিপতি মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন জানান, রাফসান গত পাঁচদিন আগ থেকে জ্বরে ভুগছিলেন। পরে ১০ সেপ্টেম্বর তাকে চট্টগ্রাম নগরীর মেরনসিটি নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তার স্বজনরা তাকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নগরীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। পরে রাফসানকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দুইটার সময় তার মৃত্যু হয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার সময় ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করালাম দুই দুইটার সময় রাফসান মারা যান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই লাখ ৭৬ হাজার টাকা বিল করেছে। যা অতিরিক্ত।
পরিবারের অভিযোগ, অল্প সময়ের চিকিৎসার বিপরীতে এত বেশি বিল হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে চাপে পড়েছেন। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ