আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

জনমানুষের নেতা মোজাম্মেল হক চৌধুরী: যাত্রী অধিকার আন্দোলনের সাহসী মুখ-

এম মনির চৌধুরী রানা /মো.কামাল উদ্দিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

বিগত সরকারের সময় আজকের এইদিনে
গভীর রাতে, ঠিক ভোররাতে হঠাৎ করেই মিরপুর মডেল থানার পুলিশ এসে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেয়েছিল। কেন তাঁকে আটক করা হলো, সেই বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই জনমনে নানা প্রশ্ন, শঙ্কা এবং ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল।মোজাম্মেল হক চৌধুরী নামটি বাংলাদেশের গণমানুষের কাছে শুধু একটি সংগঠনের মহাসচিব নয়, বরং যাত্রী অধিকার আন্দোলনের প্রতীক।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই করেছেন বাস-ট্রাক-মাইক্রোবাস থেকে শুরু করে প্রতিদিনের ভোগান্তির বিরুদ্ধে। তার আন্দোলনের কারণেই আজ যাত্রী সেবা, যাত্রী অধিকার এবং সড়কে শৃঙ্খলার বিষয়ে কিছুটা হলেও সচেতনতা তৈরি হয়েছে, নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে আলোচনার জন্ম হয়েছে। কিন্তু এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে তাঁকে দমিয়ে রাখার জন্য। সেই সময়ের ক্ষমতাসীন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। কিন্তু মানুষ জানত—এই মানুষটি মিথ্যা বা ভণ্ডামির আড়ালে লুকানো কোনো চরিত্র নন। তাই সেদিন সারাদেশের মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল। সাংবাদিক,

বুদ্ধিজীবী, ছাত্র, শ্রমজীবী—সবাই কণ্ঠ মিলিয়েছিল মোজাম্মেল হক চৌধুরীর জন্য। আমিও তখন তাঁর হয়ে কলম ধরেছিলাম।আমার সঙ্গে মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সম্পর্ক দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময়ের। তিনি আমারই এলাকার মানুষ—বোয়ালখালীর গর্ব। লেখালেখির জগৎ থেকে শুরু করে রাজপথের আন্দোলন পর্যন্ত তাঁর সাহচর্য পেয়েছি আমি। অসংখ্য দিন-রাত্রি আমরা কাটিয়েছি মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। তার চিন্তা, মনন, দর্শন সবকিছুই সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। তিনি সবসময় জনমুখী ছিলেন, এখনো আছেন। আজকে তিনি শুধু একজন সংগঠক নন; তিনি জাতীয় নেতা, তিনি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। গণমানুষের অধিকার রক্ষায় তাঁর ভূমিকা আজ সবার কাছে অনস্বীকার্য।

সড়কের ভাঙা সেতু থেকে শুরু করে অতিরিক্ত ভাড়া, পরিবহনে হয়রানি, দুর্ঘটনার শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো—প্রতিটি জায়গায় মোজাম্মেল হক চৌধুরী ছিলেন নির্ভীক যোদ্ধা। তাঁর কণ্ঠস্বর আজ সারা দেশের যাত্রীদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে। তাঁকে নিয়ে লেখা কয়েকটি লাইনে শেষ করা সম্ভব নয়।

কারণ মোজাম্মেল হক চৌধুরী কোনো একক ব্যক্তি নন—তিনি এক ইতিহাস, এক আন্দোলন, এক প্রতিরোধের নাম। আজ তাঁর এই আকস্মিক গ্রেপ্তার আমাদের মনে করিয়ে দিল, এদেশে সত্য বলার, মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর মূল্য আজও চড়া।
তবুও আমরা বিশ্বাস করি—সত্য কখনো দমিয়ে রাখা যায় না। মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে হয়তো আজকে আটক করা হয়েছে, কিন্তু তাঁর লড়াইকে আটকানো যাবে না। ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম চিরকাল থাকবে—যাত্রী অধিকার আন্দোলনের সাহসী মুখ, জনমানুষের নেতা হিসেবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব র‍্যাফেল ড্র বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত র‍্যাফেল ড্র–এর বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, পাঠাগার সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আব্দুল্লাহ, কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী ও আরিচ আহমেদ শাহসহ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় বিজয়ী মোট ৩০ জন সদস্যের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় করেছে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সদস্যগণ পেশাগত জীবনে র‍্যাফেল ড্র’তে পুরস্কারপ্রাপ্তি এবং অপ্রাপ্তি নিয়ে তাদের স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়।

সিভাসু’তে ‘দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে শীর্ষক ১০ দিনের প্রশিক্ষণ ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) ‘দ্গ্ধুজাত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ’ শীর্ষক দশ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আজ মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। সিভাসু’র পোল্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিআরটিসি) এবং ডেইরি ও পোল্ট্রি সাইন্স বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এবং সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন দুগ্ধ ঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়নে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পিআরটিসি’র বোর্ড মিটিং কক্ষে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন সমবায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও নিবন্ধক মো. ইসমাইল হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, ঢাকার যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সুব্রত কুমার সিকদার। এছাড়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক ও প্রকল্প পরিচালক (প্রেষণ) তোফায়েল আহম্মদ এবং বাংলাদেশ ডেইরি অ্যান্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সিভাসু’র সিন্ডিকেট সদস্য মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। সভাপতিত্ব করেন পিআরটিসি’র পরিচালক প্রফেসর ড. এ. কে. এম. হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিভাসু’র প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. মো: ইনকেয়াজ উদ্দিন। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

দশ দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দুধ থেকে দই, মিষ্টি, মাখন, ঘি, পনির, ছানা, লাবাং, বোরহানি, মাঠা ইত্যাদি তৈরির বিষয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ প্রদান করেন সিভাসু’র ডেইরি ও পোল্ট্রি সাইন্স বিভাগের প্রফেসর গৌতম কুমার দেবনাথ, প্রফেসর ড. এ. কে. এম. হুমায়ুন কবির, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল হোসেন, প্রফেসর ড. মো: সাইফুল বারী ও ডা. উম্মে সালমা আমিন,

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক ও প্রকল্প পরিচালক (প্রেষণ) তোফায়েল আহম্মদ, সিভাসু’র প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. মো: ইনকেয়াজ উদ্দিন, জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, চট্টগ্রামের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ওমর ফারুক, বিএসটিআই চট্টগ্রামের ফিল্ড অফিসার (সার্টিফিকেশন মার্কস উইং) প্রকৌ. মো: মাহফুজুর রহমান এবং ট্রেড গ্লোবাল লিমিটেড, ঢাকার সিনিয়র সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার মো: শরিফ হোসেন।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ব্রাহ্মনবাড়িয়া, কুতুবদিয়া ও চকরিয়া অঞ্চলের দুগ্ধ ঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্পের ২৫ জন সমবায় সমিতির সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ