আজঃ শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬

প্রশাসন নজরদারি প্রয়োজন চট্টগ্রামে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের বেশী দাম, পাইকারীতে কম

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: বন্দর নগরী চট্টগ্রামে খুচরা বাজারে বেশি দামেই বিক্রি করা হচ্ছে পেঁয়াজ। আড়ত আর খুচরা বাজারের মধ্যে ব্যবধান প্রায় ২০ টাকার মত। এর এক মাস আগে হঠাৎ করে দেশের বাজারে বাড়তে শুরু করে পেঁয়াজের দাম। এই সময়ে প্রতি কেজিতে প্রায় ৩০টাকা পর্যন্ত বাড়ে নিত্যপণ্যটির দাম। বেড়ে যাওয়া সেই পেঁয়াজের দাম দুই সপ্তাহ ধরে পাইকারি বাজারে পড়তির দিকে। কিন্তু সেটির সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা। খুচরা বাজারে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে পণ্যটি।
খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের আড়তদাররা বলেছেন, আড়তে দাম কমার খবর ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছায় না। এই সুযোগটা নেন দোকানিরা। প্রশাসন নজরদারি বাড়ালে দাম কমার প্রকৃত সুফল পাবেন ভোক্তারা।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কমলেও খুচরায় কমছে না দাম। আড়তদাররা বলছেন, পাইকারিবাজার থেকে খুচরা পর্যায়ের দোকানে যাওয়া পর্যন্ত গাড়িভাড়া-নষ্ট হওয়া পেঁয়াজ বাদ দেওয়ার পর লাভসহ প্রতি কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করা সম্ভব। অর্থাৎ ৭০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে পেঁয়াজের দাম। কিন্তুবহদ্দারহাট ও দুই নম্বর গেটের কর্ণফুলী কমপ্লেক্সসহ কয়েখটি বাজারে দেখা যায় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়।
দেশের ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বৃহত্তম পাইকারিবাজার খাতুনগঞ্জে দেখা যায়, সারি সারি পেঁয়াজ নিয়ে আসা ট্রাক। আড়তগুলোতেও বস্তায় বস্তায় পেঁয়াজ। স্বাভাবিকভাবে সরবরাহ বেশি থাকায় দামও কমছে। ১০দিন আগেও এখানে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে মানভেদে ৭০ থেকে ৭২টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। গতকাল সপ্তাহের শুরুর দিন সেই দাম আরও কমে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়।
দুই কারণে পেঁয়াজের দাম কমছে বলে জানিয়েছেন খাতুনগঞ্জের অন্যতম বড় পেঁয়াজ বিক্রির প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাজী স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. জাবেদ ইকবাল। তিনি বলেন, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। এছাড়া সরবরাহ অনুযায়ী পাইকারি ক্রেতাও নেই। এ কারণে পেঁয়াজের দাম পড়তির দিকে আছে।
বহদ্দারহাটের মুদি দোকানি সাহাব উদ্দিন বলেন, আড়তে ৬৫ টাকা পেঁয়াজ হলেও সেটা খুচরা বাজার পর্যন্ত আসতে আসতে অনেক খরচ বেড়ে যায়। গাড়ি ভাড়া আর শ্রমিকের খরচ তো আছেই। এছাড়া অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। আবার খোসা ফেলার পর ওজনও কমে যায়। সেজন্য আড়তের চেয়ে খুচরায় দাম কিছুটা বেশি।
এদিকে রাস্তায় রাস্তায় বিক্রি করা ভ্যানগাড়িগুলোতে দাম কিছুটা কম রয়েছে। সেখানে মানভেদে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে নিত্যদিনের রান্নার প্রয়োজনীয় এই মসলাটি। দোকানের ভাড়া-কর্মচারীর বেতনসহ আনুষঙ্গিক খরচ না থাকায় পেঁয়াজ দোকানের চেয়ে কম দামে দিতে পারছেন বলে জানিয়েছেন বহদ্দারহাটে ভ্যানে করে নিয়মিত পেঁয়াজ বিক্রি করা জাহাঙ্গীর আলম।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ফের অনিশ্চয়তায় সিসিসিআই নির্বাচন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শীর্ষ ব্যবসায়িক সংগঠন চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) নির্বাচন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। দুপক্ষের আইনি বিরোধের কারণে উচ্চ আদালতের নির্দেশে নির্ধারিত ৪ এপ্রিলের নির্বাচনও স্থগিত হয়ে গেছে। তবে আদালত আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালকে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
তথ্যটি নিশ্চিত করে রিটকারী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বেলালের পক্ষে আইনজীবী আশফাকুর রহমান বলেন, আদালত আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালকে বিরোধ নিষ্পত্তি করে সিদ্ধান্ত দিতে বলেছেন। পাশাপাশি হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশ আমলে না নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।

চেম্বার সূত্রে জানা যায়, ৩ মার্চ প্রায় পাঁচ মাস স্থগিত থাকার পর চট্টগ্রাম চেম্বারের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের নতুন তফশিল ঘোষণা করা হয়েছিল। তফশিল অনুযায়ী আগামী ৪ এপ্রিল নগরের আগ্রাবাদ এলাকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভোট গ্রহণের কথা ছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইনি মতামতের ভিত্তিতে সাধারণ ও সহযোগী গ্রুপের ১৮ জন পরিচালক নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে আদালতের নতুন আদেশে সেই নির্বাচনও স্থগিত হয়ে গেল।

এর আগে, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের আটটি সংগঠনকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল হাইকোর্টে রিট করেন এবং এফবিসিসিআইতেও অভিযোগ করেন।
রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ অক্টোবর হাইকোর্ট দুই শ্রেণিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে রুল জারি করেন এবং মন্ত্রণালয়ের ৪ সেপ্টেম্বরের চিঠির ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরে আপিলের পর ৩০ অক্টোবর আদালত দুই সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিত করেন।

পরবর্তীতে গত ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ছয়টি টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের ছয় প্রতিনিধিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধেও আপিল করেন রিটকারী মোহাম্মদ বেলাল। সেই আপিলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত এফবিসিসিআইয়ের ট্রাইব্যুনালে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন এবং মৌখিকভাবে বলেন, ৪ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনে সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ৩ জন করে মোট ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এভাবে ২৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়। পরে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে একজন সভাপতি ও দুজন সহসভাপতি নির্বাচিত হন।এবার টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ছয়জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে ছিলেন। তবে দুপক্ষের আইনি বিরোধের কারণে নির্ধারিত সময়েও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এবং নতুন তফশিল ঘোষণার পরও তা আবার স্থগিত হয়ে গেছে।

চট্টগ্রামে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টায় একজনের কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ
আত্মসাতের চেষ্টায় একজনের কারাদণ্ড
ছবি-৩
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে স্বাক্ষর নকল ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার দায়ে নজরুল ইসলাম একজনকে ৯ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন একটি আদালত। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান খানের আদালত এই রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. নজরুল ইসলাম পটিয়া উপজেলার ভাটিখাইন ইউনিয়নের মো. নুরুল ইসলামের ছেলে।রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের বিশেষ পিপি মোকাররম হোসাইন। তিনি বলেন, রায়ের সময় আসামি পলাতক ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নজরুল ইসলাম ও মো. শাহাজাহান ডবলমুরিং এলাকার মেসার্স নবী এন্ড সন্সের কর্মচারী ছিলেন। নজরুল ইসলাম ছিলেন ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার। ২০০৭ সালের ৩ জুন দুপুর ২টার দিকে নগরীর সদরঘাট এলাকার স্ট্যান্ড রোডের জনতা ব্যাংকের শাখা থেকে তারা দুই কর্মচারী মিলে প্রতিষ্ঠানের মালিকের বড় ভাই মো. সেলিমের স্বাক্ষর জাল করে ৬টি চেক জনতা ব্যাংকে জমা দেয় টাকা উত্তোলনের জন্য। পরে ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা টাকা দিতে নিষেধ করেন। পরদিন অর্থাৎ ওই বছরের ৫ জুন চেকগুলোর মাধ্যমে টাকা প্রদান না করার জন্য ব্যাংক বরাবর লিখিত আবেদন করেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবু সাদাত মোহাম্মদ শামীম। পরে ওই বছরের ১৮ জুলাই তিনি এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশ ২ নম্বর আসামির সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় শাহাজাহানকে চার্জশিট থেকে বাদ দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। ওই মামলায় আজ আসামি নজরুল ইসলামকে ৯ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ