আজঃ শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে নষ্ট হচ্ছে নানা পণ্য সময়মতো খালাস হচ্ছেনা কন্টেইনার

নিজস্ব প্রতিবেদক

নানা গোঁজামিল ধরা পড়ার পর বহু আমদানিকারকরা গা ঢাকা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত শত শত কন্টেনারের নানা পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। নানা গোঁজামিল ধরা পড়ার পর বহু আমদানিকারক গা ঢাকা দেয়া, একাধিক মামলার কারণে এসব পণ্য সময়মতো খালাস না করায় ইতোমধ্যে শত শত কন্টেনারের নানা পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে।অনেক কন্টেনারের পণ্য জনস্বাস্থ্যসহ বন্দরের জন্য হুমকি হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে এসব পণ্যভর্তি কন্টেইনারগুলো বন্দরের ইয়ার্ড দখল করে রেখেছে। এসব পণ্য বোঝাই কন্টেনারের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি বলে সূত্রে নিশ্চিত করেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, ইয়ার্ডে কন্টেনার কম হলে ইকুইপমেন্ট মুভমেন্টসহ কাজে সুবিধা হয়।

এতে বন্দরের উৎপাদনশীলতা বেড়ে যায়। বাড়তি কন্টেনার বন্দরের কাজের গতি ঠেকিয়ে দেয়। বন্দরের বছরের পর বছর আটকে থাকা ১০ হাজারের বেশি কন্টেনার কাজে-কর্মে সংকট তৈরি করে আসছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম কাস্টমসকে দফায় দফায় চিঠি দিলেও কার্যত কিছু হয়নি। হাতে গোনা কয়েক কন্টেনার পণ্য সরিয়ে এবং মাটিতে পুঁতে ফেলা হলেও বেশিরভাগ কন্টেনার ইয়ার্ড দখল করে রয়েছে।

এদিকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমদানিকারকদের জটিলতা, প্রশাসনিক জট ও চলমান মামলার কারণে এসব পণ্য খালাস করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে শিপিং লাইনগুলো কন্টেনার ফেরত পাচ্ছে না, আমদানিকারকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এরই প্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত মে মাসে বিশেষ আদেশ জারি করে। উক্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দশ বছরে আটকা পড়া কন্টেনারগুলো দ্রুত নিলাম বা ধ্বংস করতে হবে। প্রথম নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে। দুই দফা নিলামেও বিক্রি না হলে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে সর্বোচ্চ প্রস্তাবে বিক্রি করার নির্দেশনা রয়েছে। আর ব্যবহার অযোগ্য বা নিষিদ্ধ পণ্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানকে বিনামূল্যে হস্তান্তরের সুযোগও রাখা হয়েছে।

এ নির্দেশনার পর চট্টগ্রাম কাস্টমস কিছু কন্টেনার নিলাম করেছে উল্লেখ করে কাস্টমসের একজন কর্মকর্তা জানান, এভাবে দু-চারশ কন্টেনার নিলাম করে কিছুই হবে না। ইয়ার্ডে বছরের পর বছর আটকে থাকা কন্টেনারগুলোর ব্যাপারে সরকারকে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিতে হবে। এখন দলীয় সরকার নেই। এ সুযোগে আটকে পড়া কন্টেনারগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকৃত বহু পণ্য আমদানিকারকরা খালাস করেন না কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে। নানা গোঁজামিল ধরা পড়ার পর বহু আমদানিকারক গা ঢাকা দেন। অনেক সময় আমদানিকৃত পণ্যের বাজারদর কমে গেলে সটকে পড়েন অনেকে। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আনা পণ্যের চালান ধরা পড়লেও খালাসে জটিলতা তৈরি হয়। আরো নানা আইনি জটিলতায় বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্য বোঝাই অনেক কন্টেনার আটকা পড়ে রয়েছে।

কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা চাইলেই একটি কন্টেনার ধ্বংস করতে পারি না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুমোদন নিতে হয়। সমন্বয় করতে হয় পরিবেশ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থার সাথে। এছাড়া কোনো চালানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা থাকলেও কাস্টমস বা এনবিআর সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। নানা প্রতিকূলতায় সৃষ্ট দীর্ঘসূত্রতার কারণে আমদানিকৃত নিলামযোগ্য বহু পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। পচনশীল নানা পণ্য পচে বন্দরের অভ্যন্তরে দুর্গন্ধ ছড়ানোর মতো ঘটনাও ঘটে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ফের অনিশ্চয়তায় সিসিসিআই নির্বাচন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শীর্ষ ব্যবসায়িক সংগঠন চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) নির্বাচন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। দুপক্ষের আইনি বিরোধের কারণে উচ্চ আদালতের নির্দেশে নির্ধারিত ৪ এপ্রিলের নির্বাচনও স্থগিত হয়ে গেছে। তবে আদালত আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালকে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
তথ্যটি নিশ্চিত করে রিটকারী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বেলালের পক্ষে আইনজীবী আশফাকুর রহমান বলেন, আদালত আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালকে বিরোধ নিষ্পত্তি করে সিদ্ধান্ত দিতে বলেছেন। পাশাপাশি হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশ আমলে না নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।

চেম্বার সূত্রে জানা যায়, ৩ মার্চ প্রায় পাঁচ মাস স্থগিত থাকার পর চট্টগ্রাম চেম্বারের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের নতুন তফশিল ঘোষণা করা হয়েছিল। তফশিল অনুযায়ী আগামী ৪ এপ্রিল নগরের আগ্রাবাদ এলাকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভোট গ্রহণের কথা ছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইনি মতামতের ভিত্তিতে সাধারণ ও সহযোগী গ্রুপের ১৮ জন পরিচালক নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে আদালতের নতুন আদেশে সেই নির্বাচনও স্থগিত হয়ে গেল।

এর আগে, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের আটটি সংগঠনকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল হাইকোর্টে রিট করেন এবং এফবিসিসিআইতেও অভিযোগ করেন।
রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ অক্টোবর হাইকোর্ট দুই শ্রেণিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে রুল জারি করেন এবং মন্ত্রণালয়ের ৪ সেপ্টেম্বরের চিঠির ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরে আপিলের পর ৩০ অক্টোবর আদালত দুই সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিত করেন।

পরবর্তীতে গত ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ছয়টি টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের ছয় প্রতিনিধিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধেও আপিল করেন রিটকারী মোহাম্মদ বেলাল। সেই আপিলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত এফবিসিসিআইয়ের ট্রাইব্যুনালে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন এবং মৌখিকভাবে বলেন, ৪ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনে সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ৩ জন করে মোট ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এভাবে ২৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়। পরে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে একজন সভাপতি ও দুজন সহসভাপতি নির্বাচিত হন।এবার টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ছয়জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে ছিলেন। তবে দুপক্ষের আইনি বিরোধের কারণে নির্ধারিত সময়েও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এবং নতুন তফশিল ঘোষণার পরও তা আবার স্থগিত হয়ে গেছে।

পাবনার ভাঙ্গুড়া শরৎনগর হাটের টোল রেট পুনঃনির্ধারণের দাবি; জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শরৎনগর হাট-বাজারের সরকারি টোল রেট পুনঃনির্ধারণ বা বৃদ্ধির দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন শরৎনগর বাজার হাটটির ইজারাদার।

জানা গেছে, ভাঙ্গুড়া পৌরসভার আওতাধীন শরৎনগর হাট-বাজারের বাংলা ১৪৩৩ সনের অনুমোদিত ইজারাদার মো. ফজলে আজিম সম্প্রতি পাবনা জেলা প্রশাসকের কাছে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা ও ইজারা সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১১ অনুযায়ী ইজারা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পূর্বে টোল আদায়ের হার নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, জেলা প্রশাসকের অনুমোদনে ভাঙ্গুড়া উপজেলার সকল হাট-বাজারের জন্য বাংলা ১৪৩২ থেকে ১৪৩৪ সন পর্যন্ত তিন বছরের জন্য টোল রেট নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই টোল চার্ট অনুযায়ী বড় গরু বা মহিষ প্রতি ৬৫০ টাকা, ছোট গরু বা মহিষ ৪৪০ টাকা, বড় ছাগল ৩০০ টাকা, ছোট ছাগল ২০০ টাকা, ভেড়া ১৫০ টাকা এবং হাঁস-মুরগির খাঁচি প্রতি ৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে আবেদনকারী দাবি করেন, পাবনা জেলার অন্যান্য উপজেলার তুলনায় ভাঙ্গুড়া উপজেলার টোল রেট কম নির্ধারণ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ঈশ্বরদী উপজেলার টোল চার্ট উল্লেখ করে বলেন, সেখানে বড় গরু প্রতি ৮০০ টাকা, ছোট গরু ৬০০ টাকা, মহিষ ১ হাজার টাকা এবং হাঁস-মুরগির খাঁচি প্রতি ১২০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।
তার দাবি, শরৎনগর হাট-বাজারটি অত্র অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র।ন্তু তুলনামূলক কম টোল রেটের কারণে হাট পরিচালনা এবং ইজারা কার্যক্রমে আর্থিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে হাট-বাজার থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব পৌরসভার আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হওয়ায় টোল রেট কম থাকলে পৌরসভার রাজস্ব আয়ও কমে যেতে পারে।

এ অবস্থায় ভাঙ্গুড়া উপজেলার (পৌরসভা সহ) সকল হাট-বাজারের অনুমোদিত টোল রেট সংশোধন করে ১৪৩৩-১৪৩৪ সনের জন্য পুনঃনির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক জনাব মিজানুর রহমান বলেন, শরৎনগর হাট-বাজারের টোল রেট পুনঃনির্ধারণ সংক্রান্ত আবেদন টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।বিষয় টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা বলেন, আবেদন পেয়েছি বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ