সাগরে জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট নৌপথ ব্যবহারের দাবি কুতুবদিয়ার জেলেদের

মো: মনিরুল ইসলাম, কুতুবদিয়া।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

কুতুবদিয়ার অদূরে বঙ্গোপসাগরে জাহাজে কাটা পড়ছে শত শত জেলের জাল-দড়ি। এতে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে শতাধিক জেলে। জেলেদের অভিযোগ, নৌ সীমানায় নির্দিষ্ট না থাকায় নাবিকেরা সুবিধা মতো জাহাজ চালিয়ে জাল-দড়ি কাটছে। গত মাসেও উপজেলার উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের ইউনুসের মালিকানাধীন এফ বি আল্লাহর দান নামক একটি মাছ ধরার নৌকার সাথে জাহাজের ধাক্কা লেগে সাগরে ডুবে যায়। এ ঘটনায় আজিজুল হক নামের এক জেলে তিনদিন নিখোঁজ পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময়ে অন্য জেলেরা জীবন নিয়ে ফিরলেও মালামালসহ নৌকার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দ্বীপ জুড়ে এ ধরনের ঘটনা অহরহ রয়েছে। এসব দূর্ঘটনা রোধ করতে মহেশখালীর মাতারবাড়ীর কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো সাগরে জাহাজ চলাচলের জন্য বয়া স্থাপনে নৌ-সীমানা নির্দিষ্ট করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করেছেন কুতুবদিয়ার জেলেরা।

জেলেদের তথ্যমতে, রাতের অন্ধকারে জাহাজ গুলো প্রায় জেলেদের টার্গেট করে জাল-দড়ি কাটে। আবার নৌকায় ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। নাবিকদের এ অসতর্কতার কারণে ইউনুস, বদিউল আলম, নাছির উদ্দিনসহ অনেকেই সর্বহারা হয়ে পথে বসেছে। এখন লাখ লাখ টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এসব জেলেরা।

জেলে বদিউল আলম, রফিক উদ্দিন ও শরীফ আহমদসহ অনেকেই বলেছেন, কয়লাবাহী জাহাজ কুতুবদিয়ার তীর ঘেঁষে বাঁশখালী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের যায়। এতে দৈনিক মাছ ধরা প্রান্তিক জেলেদের প্রতিনিয়ত জাল-দড়ি নষ্ট করছে। অথচ, জেলেরা তাদের চলাচলের সুনির্দিষ্ট নৌপথে জাল বসায়নি। তবুও নাবিকেরা তাদের সুবিধা মতো জাহাজ চালিয়ে জাল-দড়ি নষ্টসহ নৌকায় ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে জেলেদের ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। নাবিকদের কারণে জেলেদের কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে।

নৌকার মালিক নাছির উদ্দীন বলেছেন, নাবিকেরা তাদের নিয়ম অনুযায়ী জাহাজ চালাই না। এলোপাতাড়ি জাহাজ চালিয়ে প্রতি মাসে তার কয়েক লাখ টাকার মাছ ধরার সরঞ্জাম নষ্টসহ ব্যবসার বারোটা বাজিয়েছে। জাহাজের এ অবাধ চলাচলের সুনির্দিষ্ট নৌপথে বয়া স্থাপনে চিহ্নিত এবং জেলেদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণের দাবি করেছেন তিনি।

এবিষয়ে উপজেলার দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন আল আজাদ বলেছেন, কুতুবদিয়ার জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে জাহাজের ধাক্কায় বহু নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে। গত মাসেও একটি জাহাজের ধাক্কায় মাছ ধরার নৌকা ডুবে এক জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও প্রতিদিন জেলেদের অহরহ জাল-দড়ি নষ্ট করে। এ সমস্যা দূর করতে মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বয়া স্থাপনে জাহাজ চলাচলের নৌপথ নির্ধারণ করলে দৈনিক মাছ ধরা প্রান্তিক জেলেরা খুবই উপকারিত হবে। তিনি আরও বলেন, গত ২০২২ সালে সংশোধিত নৌ অভ্যন্তরীণ অধ্যাদেশ অনুয়ায়ী জাহাজের গতিপথ ও পরিবেশ সহ নানান নিয়ম মেনে চলাচলের তদারকি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কে অনুরোধ করেন।

কুতুবদিয়া উপজেলা মেরিন ফিশারিজ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব বলেছেন, সাগরে বয়া স্থাপনে জাহাজ চলাচলের নৌপথ নির্ধারণ করলে প্রান্তিক জেলেদের অনাকাঙ্ক্ষিত দূর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের ক্ষতিপূরণসহ সাগরে বয়া স্থাপনে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন : মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় নগরের চান্দগাঁও চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় চসিকের মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে এমন আহবান জানান। তিনি বলেছেন, শুধু মশক নিধন কার্যক্রম চালালেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। মেয়র বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে চসিক। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম চালানো হচ্ছে। তবে, শুধু সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রে পানি জমছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব পরিত্যক্ত সামগ্রীতে পানি জমতে পারে, সেগুলোও দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন এই অভ্যাস আমাদের প্রত্যেককে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয় এটি আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
চসিক জানায়, ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন স্থানে মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করা হয়।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।নগরবাসীর সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

আগামী ৫ অক্টোবর দিনব্যাপী বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দিলে দেশের কী লাভ হবে, তা সরকারকে জনগণের কাছে স্পষ্ট করতে হবে। একইভাবে এনসিটি ইজারা দেওয়া হলে দেশের কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়েও সরকারের সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে সংলাপের প্রয়োজন রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি আহূত আগামী ৫ অক্টোবর দিনব্যাপী বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে জাতীয় ফেডারেশন ও বেসিক ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। তাঁরা এ বিষয়ে প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় সংলাপ আয়োজনের আহ্বান জানান।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সুলতান আহমদ হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার।সঞ্চালনা করেন কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু।সভা থেকে আগামী ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচিতে সর্বস্তরের শ্রমিক, জাতীয় ফেডারেশন, বেসিক ইউনিয়ন ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র। বন্দরের সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতি ও বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের স্বার্থ জড়িত। তাই বন্দরের ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বক্তারা ৫ অক্টোবরের অবস্থান কর্মসূচি সফল করতে বিভিন্ন জাতীয় ফেডারেশন, বেসিক ইউনিয়ন ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান। তবে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও আন্দোলনকে সরকার দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করলে তা ভুল হবে। সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে দাবি আদায়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। প্রয়োজনে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে অবরোধ ও হরতালের মতো কর্মসূচিও ঘোষণার কথা জানান তারা।
সভায় আলোচনায় অংশ নেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এসকে খোদা তোতন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন ও

সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সহ-সম্পাদক ইব্রাহীম ফরাজি, বিএফটিইউসির সভাপতি আনোয়ারুল হক হুনি, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু আহমেদ মিয়া, বন্দর উইঞ্চ ক্রেন অপারেটর সমিতির নেতা ইমাম হোসেন স্বপন, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম, কমিউনিটি সেন্টার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. পারভেজ, চট্টগ্রাম যুব ট্রেড ইউনিয়ন নেটওয়ার্কের সদস্যসচিব হাসিবুর রহমান বিপ্লব, লুৎফুন্নাহার সোনিয়া, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন কবির, ইমান আলী জানুসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ