আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

সাগরে জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট নৌপথ ব্যবহারের দাবি কুতুবদিয়ার জেলেদের

মো: মনিরুল ইসলাম, কুতুবদিয়া।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

কুতুবদিয়ার অদূরে বঙ্গোপসাগরে জাহাজে কাটা পড়ছে শত শত জেলের জাল-দড়ি। এতে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে শতাধিক জেলে। জেলেদের অভিযোগ, নৌ সীমানায় নির্দিষ্ট না থাকায় নাবিকেরা সুবিধা মতো জাহাজ চালিয়ে জাল-দড়ি কাটছে। গত মাসেও উপজেলার উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের ইউনুসের মালিকানাধীন এফ বি আল্লাহর দান নামক একটি মাছ ধরার নৌকার সাথে জাহাজের ধাক্কা লেগে সাগরে ডুবে যায়। এ ঘটনায় আজিজুল হক নামের এক জেলে তিনদিন নিখোঁজ পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময়ে অন্য জেলেরা জীবন নিয়ে ফিরলেও মালামালসহ নৌকার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দ্বীপ জুড়ে এ ধরনের ঘটনা অহরহ রয়েছে। এসব দূর্ঘটনা রোধ করতে মহেশখালীর মাতারবাড়ীর কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো সাগরে জাহাজ চলাচলের জন্য বয়া স্থাপনে নৌ-সীমানা নির্দিষ্ট করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করেছেন কুতুবদিয়ার জেলেরা।

জেলেদের তথ্যমতে, রাতের অন্ধকারে জাহাজ গুলো প্রায় জেলেদের টার্গেট করে জাল-দড়ি কাটে। আবার নৌকায় ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। নাবিকদের এ অসতর্কতার কারণে ইউনুস, বদিউল আলম, নাছির উদ্দিনসহ অনেকেই সর্বহারা হয়ে পথে বসেছে। এখন লাখ লাখ টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এসব জেলেরা।

জেলে বদিউল আলম, রফিক উদ্দিন ও শরীফ আহমদসহ অনেকেই বলেছেন, কয়লাবাহী জাহাজ কুতুবদিয়ার তীর ঘেঁষে বাঁশখালী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের যায়। এতে দৈনিক মাছ ধরা প্রান্তিক জেলেদের প্রতিনিয়ত জাল-দড়ি নষ্ট করছে। অথচ, জেলেরা তাদের চলাচলের সুনির্দিষ্ট নৌপথে জাল বসায়নি। তবুও নাবিকেরা তাদের সুবিধা মতো জাহাজ চালিয়ে জাল-দড়ি নষ্টসহ নৌকায় ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে জেলেদের ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। নাবিকদের কারণে জেলেদের কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে।

নৌকার মালিক নাছির উদ্দীন বলেছেন, নাবিকেরা তাদের নিয়ম অনুযায়ী জাহাজ চালাই না। এলোপাতাড়ি জাহাজ চালিয়ে প্রতি মাসে তার কয়েক লাখ টাকার মাছ ধরার সরঞ্জাম নষ্টসহ ব্যবসার বারোটা বাজিয়েছে। জাহাজের এ অবাধ চলাচলের সুনির্দিষ্ট নৌপথে বয়া স্থাপনে চিহ্নিত এবং জেলেদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণের দাবি করেছেন তিনি।

এবিষয়ে উপজেলার দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন আল আজাদ বলেছেন, কুতুবদিয়ার জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে জাহাজের ধাক্কায় বহু নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে। গত মাসেও একটি জাহাজের ধাক্কায় মাছ ধরার নৌকা ডুবে এক জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও প্রতিদিন জেলেদের অহরহ জাল-দড়ি নষ্ট করে। এ সমস্যা দূর করতে মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বয়া স্থাপনে জাহাজ চলাচলের নৌপথ নির্ধারণ করলে দৈনিক মাছ ধরা প্রান্তিক জেলেরা খুবই উপকারিত হবে। তিনি আরও বলেন, গত ২০২২ সালে সংশোধিত নৌ অভ্যন্তরীণ অধ্যাদেশ অনুয়ায়ী জাহাজের গতিপথ ও পরিবেশ সহ নানান নিয়ম মেনে চলাচলের তদারকি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কে অনুরোধ করেন।

কুতুবদিয়া উপজেলা মেরিন ফিশারিজ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব বলেছেন, সাগরে বয়া স্থাপনে জাহাজ চলাচলের নৌপথ নির্ধারণ করলে প্রান্তিক জেলেদের অনাকাঙ্ক্ষিত দূর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের ক্ষতিপূরণসহ সাগরে বয়া স্থাপনে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

কিউলেক্স মশার প্রকোপ বেড়েছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নালা-নর্দমা ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে। তাই নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’শনিবারের অঙ্গীকার, বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’—এই স্লোগান সামনে রেখে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও এর আশপাশের এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারা দেশে পরিচালিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে।মেয়র বলেন, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান, কারণ প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।তাই মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে টব, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের সামগ্রী বা প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেয়, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জন্য দায়ী। তবে বর্তমানে কিউলেক্স মশার বিস্তার বেশি দেখা যাচ্ছে, যার প্রধান উৎস নোংরা ড্রেন ও জমে থাকা বর্জ্য। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।তিনি জানান, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে এই পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ১৬০ জনের একটি বিশেষ দল কাজ করছে।মেয়র বলেন, চকবাজার, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, ফিরিঙ্গিবাজার, হালিশহর, পাহাড়তলীসহ কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষভাবে মশক নিধন ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের কারণে বর্তমানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। আমেরিকা থেকে আনা কার্যকর লার্ভিসাইড ব্যবহার করায় ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংসে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহর শুধু সিটি করপোরেশনের নয়—এটি সবার শহর। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসা-বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখলে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সব সময় উন্নয়ন ও উদ্যোগে পথ দেখিয়েছে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

উদ্বোধনের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেইন গেট, কেবি ফজলুল কাদের সড়ক এবং প্রবর্তক মোড় এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করা হয় এবং মশক নিধনে লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন ব্যবহার করে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ