আজঃ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সাগরে জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট নৌপথ ব্যবহারের দাবি কুতুবদিয়ার জেলেদের

মো: মনিরুল ইসলাম, কুতুবদিয়া।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

কুতুবদিয়ার অদূরে বঙ্গোপসাগরে জাহাজে কাটা পড়ছে শত শত জেলের জাল-দড়ি। এতে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে শতাধিক জেলে। জেলেদের অভিযোগ, নৌ সীমানায় নির্দিষ্ট না থাকায় নাবিকেরা সুবিধা মতো জাহাজ চালিয়ে জাল-দড়ি কাটছে। গত মাসেও উপজেলার উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের ইউনুসের মালিকানাধীন এফ বি আল্লাহর দান নামক একটি মাছ ধরার নৌকার সাথে জাহাজের ধাক্কা লেগে সাগরে ডুবে যায়। এ ঘটনায় আজিজুল হক নামের এক জেলে তিনদিন নিখোঁজ পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময়ে অন্য জেলেরা জীবন নিয়ে ফিরলেও মালামালসহ নৌকার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দ্বীপ জুড়ে এ ধরনের ঘটনা অহরহ রয়েছে। এসব দূর্ঘটনা রোধ করতে মহেশখালীর মাতারবাড়ীর কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো সাগরে জাহাজ চলাচলের জন্য বয়া স্থাপনে নৌ-সীমানা নির্দিষ্ট করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করেছেন কুতুবদিয়ার জেলেরা।

জেলেদের তথ্যমতে, রাতের অন্ধকারে জাহাজ গুলো প্রায় জেলেদের টার্গেট করে জাল-দড়ি কাটে। আবার নৌকায় ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। নাবিকদের এ অসতর্কতার কারণে ইউনুস, বদিউল আলম, নাছির উদ্দিনসহ অনেকেই সর্বহারা হয়ে পথে বসেছে। এখন লাখ লাখ টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এসব জেলেরা।

জেলে বদিউল আলম, রফিক উদ্দিন ও শরীফ আহমদসহ অনেকেই বলেছেন, কয়লাবাহী জাহাজ কুতুবদিয়ার তীর ঘেঁষে বাঁশখালী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের যায়। এতে দৈনিক মাছ ধরা প্রান্তিক জেলেদের প্রতিনিয়ত জাল-দড়ি নষ্ট করছে। অথচ, জেলেরা তাদের চলাচলের সুনির্দিষ্ট নৌপথে জাল বসায়নি। তবুও নাবিকেরা তাদের সুবিধা মতো জাহাজ চালিয়ে জাল-দড়ি নষ্টসহ নৌকায় ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে জেলেদের ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। নাবিকদের কারণে জেলেদের কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে।

নৌকার মালিক নাছির উদ্দীন বলেছেন, নাবিকেরা তাদের নিয়ম অনুযায়ী জাহাজ চালাই না। এলোপাতাড়ি জাহাজ চালিয়ে প্রতি মাসে তার কয়েক লাখ টাকার মাছ ধরার সরঞ্জাম নষ্টসহ ব্যবসার বারোটা বাজিয়েছে। জাহাজের এ অবাধ চলাচলের সুনির্দিষ্ট নৌপথে বয়া স্থাপনে চিহ্নিত এবং জেলেদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণের দাবি করেছেন তিনি।

এবিষয়ে উপজেলার দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন আল আজাদ বলেছেন, কুতুবদিয়ার জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে জাহাজের ধাক্কায় বহু নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে। গত মাসেও একটি জাহাজের ধাক্কায় মাছ ধরার নৌকা ডুবে এক জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও প্রতিদিন জেলেদের অহরহ জাল-দড়ি নষ্ট করে। এ সমস্যা দূর করতে মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বয়া স্থাপনে জাহাজ চলাচলের নৌপথ নির্ধারণ করলে দৈনিক মাছ ধরা প্রান্তিক জেলেরা খুবই উপকারিত হবে। তিনি আরও বলেন, গত ২০২২ সালে সংশোধিত নৌ অভ্যন্তরীণ অধ্যাদেশ অনুয়ায়ী জাহাজের গতিপথ ও পরিবেশ সহ নানান নিয়ম মেনে চলাচলের তদারকি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কে অনুরোধ করেন।

কুতুবদিয়া উপজেলা মেরিন ফিশারিজ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব বলেছেন, সাগরে বয়া স্থাপনে জাহাজ চলাচলের নৌপথ নির্ধারণ করলে প্রান্তিক জেলেদের অনাকাঙ্ক্ষিত দূর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের ক্ষতিপূরণসহ সাগরে বয়া স্থাপনে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন নিজস্ব প্রতিবেদক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা।রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা এ আবেদনপত্র জমা দেন।

আস্থার সংকট দূর করতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দায়িত্ব শতভাগ নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করে রাষ্ট্রকে একটি ফ্রি, ফেয়ার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার কথা জানালেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, অতীতে মানুষ সরকারি কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বেতন নেওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাশিত নির্বাচন দিতে না পারার অভিযোগ উঠেছে।তবে এবার সেই আস্থার সংকট দূর করতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা পক্ষপাতদুষ্ট-এমন অভিযোগে তারা বারবার আহত হয়েছেন। এবার মাঠপর্যায়ে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চান যে প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে, সেটির আলোকে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই এই নিরপেক্ষতা প্রমাণ করা হবে।

বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে সেগুলো দেখার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্ব যেভাবে বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে, সেখানে দেশের ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। প্রত্যেকটি এলাকা ঘুরে মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।মাঠে থাকা কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ রেখে ভয় ও আতঙ্ক দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামিম, এনএসআইয়ের উপ-পরিচালক মো. সফিকুর রহমানসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা কর্মকর্তারা একটি প্রিভিলেজড অবস্থানে রয়েছেন। অতীতে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও এখন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব তাঁদের সামনে এসেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন—কেউ জয়ী হবেন, কেউ পরাজিত হবেন। তবে প্রশাসনের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি বা দল নয়; লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও জনগণের জয় নিশ্চিত করা।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এই নির্বাচনকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক নির্বাচন হিসেবে দেখলে চলবে না। পর্যাপ্ত ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এত আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

চট্টগ্রামের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জেলার বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

আলোচিত খবর

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা সংক্রান্ত কোনো চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান – ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছে। তবে সরকারের হাতে এখন মাত্র দুইটি কার্যদিবস বাকি রয়েছে। এই সীমিত সময়ের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলেই বিষয়টি এ পর্যায়ে এগোচ্ছে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ