আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

কুষ্টিয়ায় ‘টপ লেডি’ জাতের পেঁপে চাষে স্বাবলম্বী জামিরুল

হৃদয় রায়হান কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার মিরপুরে টপ লেডি জাতের পেঁপে চাষ করে স্বাবলম্বী কৃষক জামিরুল। আপনারা গাছে পেঁপে দেখছেন, কিন্তু আমি দেখছি টাকা। আমার মনে হচ্ছে গাছে টাকা ঝুলছে। এভাবেই খুশি মনে কথাগুলো বলছিলেন কুষ্টিয়ার মিরপুরে ‘টপ লেডি’ জাতের পেঁপে চাষ করে স্বাবলম্বী কৃষক জামিরুল।তার গাছে এক একটি পেঁপে মানে ১০ থেকে ২০ টাকা করে দাম।

রেড লেডি জাতটি তাইওয়ানের উচ্চ ফলনশীল বামন প্রজাতির পেঁপের জাত যা বাংলাদেরশের আবহওয়াতে চাষ উপযোগী। তিনি এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছেন। এরমধ্যে তিনি পেঁপে বিক্রি শুরু করেছেন। জমি থেকেই কাঁচা পেঁপে পাইকারি ১৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করে বেশ খুশি জামিরুল ইসলাম।

এই কৃষকের বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বলিদাপাড়ায়। জামিরুল প্রথম পেঁপে চাষেই দুই লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখছেন। তিনি মাত্র ৩৫ শতাংশ জমিতে পেঁপে চাষ করেছেন। সব মিলিয়ে ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছেন এবং দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার পেঁপে বিক্রির আশা করছেন।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বলিদাপাড়ায় তার বাগান ঘুরে দেখা যায়, গাছের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত পেঁপে ধরেছে। ছোট-বড়-মাঝারি সাইজের পেঁপের পাশাপাশি গাছে বেশ ফুলও রয়েছে। এক একটি গাছে এ মৌসুমে প্রায় এক মণ করে পেঁপে সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আশা করেন জামিরুল ইসলাম।

ছোটবেলা থেকেই কৃষির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন জামিরুল ইসলাম। ধান চাষের পাশাপাশি বেশ কয়েক বছর ধরে তামাকের চাষ করেন তিনি। তামাকে পরিশ্রম এবং বিক্রির ক্ষেত্রে হয়রানির কারণে চায়ের দোকান খুলেছেন।

তিনি জানান, কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। তবে স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে নিরাপদ উপায়ে উচ্চমূল্যের সবজি চাষের ওপরে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তিনদিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তাদের সহায়তায় পেঁপের চাষ করেছেন। তামাকের পরিবর্তে পেঁপে চাষ করে বেশি লাভবান হচ্ছেন।

তিনি বলেন, কীভাবে পেঁপের চাষ করতে হবে, কখন পরিচর্যা করতে হবে-সবকিছু হাতে কলমে শিখিয়ে দিয়েছে কৃষি অফিসের লোকজন। আমি নিজেই ওয়ানটাইম চায়ের কাপে পেঁপের চারা উৎপাদন করে রোপণ করেছি। জমি চাষাবাদ ও পরিচর্যা করেছি। কৃষি অফিস থেকে আমাকে ২০ শতক জমির জন্য সার, বীজ, পরিচর্যার খরচ দিয়েছে। বাকিটুকু নিজে খরচ করেছি।

জামিরুরেল জমিতে ৪০০ পেঁপে গাছ রয়েছে। প্রতি গাছে গড়ে এক মণ করে পেঁপে পাওয়া যাবে। এটা বিক্রির জন্য বাজারেও নিতে হচ্ছে না। ব্যাপারীরা এসে বাগান থেকেই পেঁপে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশা করছেন এই মৌসুমেই দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পারবেন। ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ করে তিনি এই আবাদ করেছিলেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুল ইসলাম বলেন, আমরা কৃষকদের সার্বক্ষণিক উচ্চমূল্য সবজি ও ফল চাষে পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষক জামিরুল ইসলামকেও পেঁপে চাষে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। নিয়মিত তার বাগান পরিদর্শন করে ব্যবস্থাপনা প্রদান করা হচ্ছে। পেঁপে চাষটা বেশ লাভজনক হওয়ায় এরমধ্যে আরো ১০ বিঘা জমিতে পেঁপের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে ওই এলাকায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পেঁপে একটি পুষ্টিকর এবং উচ্চমূল্য সবজি। এটি বেশ লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মাঝে বর্তমানে পেঁপে চাষে আগ্রহ বাড়ছে। যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় পেঁপে চাষে কৃষকদের বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সহায়তা করছি। কৃষক জামিরুল ইসলামের পেঁপে বাগান দেখে এলাকার আরো কৃষক পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নেত্রকোনায় এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে ধান চাষের উপকরণ বিতরন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর বাস্তবায়নে নেত্রকোনার ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতায় কৃষক পর্যায়ে ধান চাষের উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর( ৯ জানুয়ারী২০২৬) বাদেবিন্না গ্রামে স্হানীয় চল্লিশ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার বাদেবিন্না গ্রামে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন ছয়টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে এলএসটিডি প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ে প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের ধানের বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলএসটিডি প্রকল্পের পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, নেত্রকোনার প্রধান ও সায়েন্টিফিক অফিসার মোঃ খালিদ হাসান তারেক।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিতরণকৃত এসব উপকরণ ব্যবহার করে কৃষকরা নিজ নিজ জমিতে নতুন জাতের ধান ও আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় পরিবেশ উপযোগী ধানের জাত নির্বাচন সহজ হবে এবং ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

কৃষকরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গবেষণাভিত্তিক এই সহায়তা ধান চাষে তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এলএসটিডি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার মাঠপর্যায়ে আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বোয়ালখালীতে তীব্র শীতে ব্যস্ত কৃষক বোরো ধান রোপনে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পৌষ মাসের শেষের দিকে দেশজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে। ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে জনজীবন স্থবির হলে বোয়ালখালী উপজেলায় বোরো ধান চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা।

উপজেলার অধিকাংশ ফসলের মাঠে দেখা গেছে, কেউ বীজতলা প্রস্তুত করছেন, কেউ চারা সংগ্রহ করে জমিতে লাগাচ্ছেন, আবার কেউ সেচ পাম্প ও পাওয়ারট্রলির মাধ্যমে জমি সেচ ও প্রস্তুত করছেন। বিশেষ করে আমুচিয়া ইউনিয়নের বগাচড়া বিল এলাকায় ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

কৃষক মো. আবদুল জলিল জানান, তিনি ৫০ কানি জমিতে বোরো ধান আবাদ করবেন। ‘চারা প্রস্তুত হলে ও প্রচন্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে ধানের চারা হলুদ হয়ে নষ্ট হতে পারে, তাই কিছুদিন পর ধান লাগানোর পরিকল্পনা করেছি,’ বলেন তিনি।

চলতি মৌসুমে ৩ কানি জমিতে বোরো চাষ করবেন একই এলাকার কৃষক রবিউল হোসাইন। তিনি জানান, এবার ব্রি ধান ৪৯, ৯২, ১০০ এবং স্থানীয় হাইব্রিড জাতের ধান বেশি হবে।

ধান রোপণের শ্রমিকরা জানান, ভোরে কুয়াশার মধ্যে চারা সংগ্রহ করে মাথায় করে জমিতে নিয়ে গিয়ে ধান লাগানো হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের দৈনিক আয় প্রায় ৮০০ টাকা। ‘শীতের মধ্যে এই কাজ করতে করতে অভ্যাস হয়ে গেছে বলেন তারা।

বোয়ালখালী কৃষি অফিস সুত্রে জানায় চলতি বোরো মৌসুমে বোয়ালখালীতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৮০০ হেক্টর জমিতে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের ২০০ জন কৃষককে উপসী বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে।

‘উপজেলায় ইতিমধ্যেই কিছু জায়গায় ধান রোপণ শুরু হয়েছে। অনেকেই ধান লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শতভাগ পুরোন হবে বলে আশা করছি। শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলা রক্ষার জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে,।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ