আজঃ শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬

কুষ্টিয়ায় ‘টপ লেডি’ জাতের পেঁপে চাষে স্বাবলম্বী জামিরুল

হৃদয় রায়হান কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার মিরপুরে টপ লেডি জাতের পেঁপে চাষ করে স্বাবলম্বী কৃষক জামিরুল। আপনারা গাছে পেঁপে দেখছেন, কিন্তু আমি দেখছি টাকা। আমার মনে হচ্ছে গাছে টাকা ঝুলছে। এভাবেই খুশি মনে কথাগুলো বলছিলেন কুষ্টিয়ার মিরপুরে ‘টপ লেডি’ জাতের পেঁপে চাষ করে স্বাবলম্বী কৃষক জামিরুল।তার গাছে এক একটি পেঁপে মানে ১০ থেকে ২০ টাকা করে দাম।

রেড লেডি জাতটি তাইওয়ানের উচ্চ ফলনশীল বামন প্রজাতির পেঁপের জাত যা বাংলাদেরশের আবহওয়াতে চাষ উপযোগী। তিনি এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছেন। এরমধ্যে তিনি পেঁপে বিক্রি শুরু করেছেন। জমি থেকেই কাঁচা পেঁপে পাইকারি ১৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করে বেশ খুশি জামিরুল ইসলাম।

এই কৃষকের বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বলিদাপাড়ায়। জামিরুল প্রথম পেঁপে চাষেই দুই লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখছেন। তিনি মাত্র ৩৫ শতাংশ জমিতে পেঁপে চাষ করেছেন। সব মিলিয়ে ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছেন এবং দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার পেঁপে বিক্রির আশা করছেন।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বলিদাপাড়ায় তার বাগান ঘুরে দেখা যায়, গাছের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত পেঁপে ধরেছে। ছোট-বড়-মাঝারি সাইজের পেঁপের পাশাপাশি গাছে বেশ ফুলও রয়েছে। এক একটি গাছে এ মৌসুমে প্রায় এক মণ করে পেঁপে সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আশা করেন জামিরুল ইসলাম।

ছোটবেলা থেকেই কৃষির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন জামিরুল ইসলাম। ধান চাষের পাশাপাশি বেশ কয়েক বছর ধরে তামাকের চাষ করেন তিনি। তামাকে পরিশ্রম এবং বিক্রির ক্ষেত্রে হয়রানির কারণে চায়ের দোকান খুলেছেন।

তিনি জানান, কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। তবে স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে নিরাপদ উপায়ে উচ্চমূল্যের সবজি চাষের ওপরে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তিনদিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তাদের সহায়তায় পেঁপের চাষ করেছেন। তামাকের পরিবর্তে পেঁপে চাষ করে বেশি লাভবান হচ্ছেন।

তিনি বলেন, কীভাবে পেঁপের চাষ করতে হবে, কখন পরিচর্যা করতে হবে-সবকিছু হাতে কলমে শিখিয়ে দিয়েছে কৃষি অফিসের লোকজন। আমি নিজেই ওয়ানটাইম চায়ের কাপে পেঁপের চারা উৎপাদন করে রোপণ করেছি। জমি চাষাবাদ ও পরিচর্যা করেছি। কৃষি অফিস থেকে আমাকে ২০ শতক জমির জন্য সার, বীজ, পরিচর্যার খরচ দিয়েছে। বাকিটুকু নিজে খরচ করেছি।

জামিরুরেল জমিতে ৪০০ পেঁপে গাছ রয়েছে। প্রতি গাছে গড়ে এক মণ করে পেঁপে পাওয়া যাবে। এটা বিক্রির জন্য বাজারেও নিতে হচ্ছে না। ব্যাপারীরা এসে বাগান থেকেই পেঁপে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশা করছেন এই মৌসুমেই দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পারবেন। ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ করে তিনি এই আবাদ করেছিলেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুল ইসলাম বলেন, আমরা কৃষকদের সার্বক্ষণিক উচ্চমূল্য সবজি ও ফল চাষে পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষক জামিরুল ইসলামকেও পেঁপে চাষে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। নিয়মিত তার বাগান পরিদর্শন করে ব্যবস্থাপনা প্রদান করা হচ্ছে। পেঁপে চাষটা বেশ লাভজনক হওয়ায় এরমধ্যে আরো ১০ বিঘা জমিতে পেঁপের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে ওই এলাকায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পেঁপে একটি পুষ্টিকর এবং উচ্চমূল্য সবজি। এটি বেশ লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মাঝে বর্তমানে পেঁপে চাষে আগ্রহ বাড়ছে। যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় পেঁপে চাষে কৃষকদের বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সহায়তা করছি। কৃষক জামিরুল ইসলামের পেঁপে বাগান দেখে এলাকার আরো কৃষক পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে সবজির বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে উৎপাদিত নানান জাতের সবজিতে আর্থিক সচ্ছলতার পাশাপাশি উন্নত হচ্ছে গ্রামীণ জীবনযাত্রা। চলতি মৌসুমে রকমারি শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে, যা দেখে যে কারোই চোখ জুড়িয়ে যাবে। তবে জৈবসার ও সনাতন নানা পদ্ধতির মাধ্যমে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করলেও রোগবালাই নিয়ে শঙ্কিত কৃষক। বেসরকারি কোম্পানির বালাইনাশক ব্যবহারে বিপাকে পড়ছেন কৃষকেরা।

বোয়ালখালীর চরনদ্বীপ, খরনদ্বীপ,পোপাদিয়া, আমুচিয়া সারোয়াতলী, কধুরখীল , চরখিজীরপুর বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, এখন বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে শীতকালীন বিভিন্ন শাক-সবজি। যার মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন, মরিচ, মুলা, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, তিতে করলা, ঢেঁড়স, ধুন্দল, চিচিঙ্গাসহ শাকসবজির ভালো ফলন হয়েছে। এতে বাজারদর ভালো পাওয়ায় কৃষকরা অত্যন্ত খুশি। এছাড়া, চরাঞ্চলে তরমুজের বাণিজ্যিক আবাদও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে, যেখানে ৭৫ দিনেই মিলছে ভালো ফলন।

চরনদ্বীপ, কধুরখীল,খরণদ্বীপ এলাকার কর্ণফুলি নদীর পারের জমিগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে সবুজ সবজির চাদরে ঢাকা। মাঠের এই চিত্র শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায়নি বরং কৃষকদের মুখেও হাসি ফুটিয়েছে।
এবার কৃষি অফিসের প্রদর্শনী পেয়ে ১৪ শতক জমিতে হাইব্রিড জাতের “গ্রীণ বল” বেগুন লাগিয়েছেন শ্রীপুর খরণদ্বীপ এলাকার কৃষক সুবল দে। এতে খরচ বাদে ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে জানান তিনি।
৬০ শতক জমিতে স্নো-ওয়াইট জাতের ফুলকপি চাষ করে ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন ওই এলাকার কৃষক রূপক দে। তিনি বলেন, ফুলকপি বিক্রির পর পরই একই জমিতে মিষ্টি কুমড়া লাগানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। আরো ৩০-৪০ হাজার টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।
সারোয়াতলীর খিতাপচর এলাকার দক্ষিণা বিলে গিয়ে দেখা গেছে, ধনিয়া পাতার সবুজ সমারোহ। এছাড়াও ঢেঁড়স, ধুন্দল, লাউ, শীম, টমেটোসহ নানান জাতের শাকসবজি।নপাওয়ার ট্রিলারের অভাবে যথাসময়ে চাষাবাদ করা সম্ভব না হলেও কোদালে কুপিয়ে ৬০ শতক জমিতে হাইব্রিড জাতের “রাজা সুপার ” ঢেঁড়স লাগিয়েছেন কৃষক মাহাবুব। এখন ফলন আসতে দেখা গেছে। পাশাপাশি ৬০ শতক জমিতে ধনিয়া পাতার চাষ করেছেন ওই এলাকার কৃষক মো সাজ্জাদ হোসেন। এতে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে বোয়ালখালীতে শীতকালীন সবজির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। সরকারি সহায়তা সরকারি প্রণোদনা ও সঠিক পরামর্শের কারণে মৌসুমি শাকসবজি তরমুজসহ বিভিন্ন ফসল চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে লক্ষ্যমাত্রা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

নেত্রকোনায় এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে ধান চাষের উপকরণ বিতরন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর বাস্তবায়নে নেত্রকোনার ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতায় কৃষক পর্যায়ে ধান চাষের উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর( ৯ জানুয়ারী২০২৬) বাদেবিন্না গ্রামে স্হানীয় চল্লিশ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার বাদেবিন্না গ্রামে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন ছয়টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে এলএসটিডি প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ে প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের ধানের বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলএসটিডি প্রকল্পের পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, নেত্রকোনার প্রধান ও সায়েন্টিফিক অফিসার মোঃ খালিদ হাসান তারেক।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিতরণকৃত এসব উপকরণ ব্যবহার করে কৃষকরা নিজ নিজ জমিতে নতুন জাতের ধান ও আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় পরিবেশ উপযোগী ধানের জাত নির্বাচন সহজ হবে এবং ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

কৃষকরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গবেষণাভিত্তিক এই সহায়তা ধান চাষে তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এলএসটিডি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার মাঠপর্যায়ে আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ