ব্যানার-পোস্টার অপসারণে মাঠে চসিক মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন স্থানে অনুমতিবিহীন পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও সাইনবোর্ডের মাধ্যমে সৌন্দর্য নষ্টের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার দুপুরে মহানগরের কাজীর দেউড়ি মোড়, চেরাগি পাহাড়, আন্দরকিল্লা, লালদীঘি, চকবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বেআইনি পোস্টার, ব্যানার, সাইনবোর্ড উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন মেয়র।এসময় তিনি নগরবাসীর উদ্দেশে বলেন, ক্লিন সিটি গড়তে আমরা বদ্ধপরিকর। আমরা চাই শহরকে সুন্দর রাখতে সবাই যেন সচেতন হয়।যারা অনুমতি ছাড়া ব্যানার-পোস্টার টানাচ্ছে, তারা যেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেগুলো সরিয়ে ফেলে। ভবিষ্যতে অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের পোস্টার, ব্যানার বা সাইনবোর্ড টানানো হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেয়র বলেন, শহরের সৌন্দর্য রক্ষা করতে হলে নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। সিটি করপোরেশন থেকে অনুমতি না নিয়ে কেউ যেন ব্যানার-পোস্টার না লাগায়। যদি কেউ বিজ্ঞাপন দিতে চায়, তাহলে সেটা অনুমতি নিয়ে করবে। আমরা চাই প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার কিংবা ব্যক্তিগত ব্যবসা সবকিছুই আইনের আওতায় আসুক।তিনি বলেন, আমি নিজেই প্রতি মাসে অন্তত একবার মাঠে নামি এই ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্য। কারণ, এই শহর আমাদের নিজের শহর। যদি আমরা নিজের শহরের প্রতি দায়িত্বশীল হই, তাহলে কেউই শহরকে নোংরা রাখতে পারবে না। ব্যানারের কারণে কত সুন্দর দৃশ্য ঢেকে গেছে— সবুজ গাছপালা রাস্তার সৌন্দর্য। এসব সরানোর পরই বোঝা যায় শহর কত সুন্দর হতে পারে।

মেয়র উদাহরণ টেনে বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান কোনো অনুমতি ছাড়াই অসংখ্য ব্যানার টানিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান অন্যদেরও উৎসাহিত করছে অবৈধভাবে ব্যানার টানাতে। আমরা চাই তারা যেন দ্রুত সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে আইন মেনে চলে।
তিনি জানান, পূজার সময় অনেকেই শুভেচ্ছা ব্যানার দিয়েছেন। সেগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পূজার পর এসব ব্যানার সরিয়ে ফেলতে হবে। আমরা প্রতিটি উৎসবকে সম্মান করি, তবে শহরের সৌন্দর্যের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

আমরা চাই চকবাজার জোনটিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমৃদ্ধ ক্লিন, গ্রিন ও হেলদি জোনে পরিণত করতে। এজন্য যত্রতত্র ব্যানার-পোস্টার বন্ধ করতে হবে। এর পরিবর্তে ডিজিটাল বোর্ড বা এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে সৌন্দর্য নষ্ট না হয় এবং ব্যবসায়ীরাও নিয়ম মেনে প্রচার করতে পারেন।
সিটি করপোরেশন একা কিছু করতে পারবে না। নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। আমরা নিজেদের রাজস্ব দিয়ে রাস্তা, নালা, খাল পরিষ্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ করছি। সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে, রাজস্ব দিতে হবে—তবেই শহর এগিয়ে যাবে।
মেয়র দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রামে ৮০ শতাংশ কোচিং সেন্টার কোনো অনুমতি ছাড়াই পোস্টার-ব্যানার লাগায়। মাত্র ২০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে করপোরেশনের অনুমোদন নেয়। এতে সিটি করপোরেশন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। অথচ একটি ব্যানারের জন্য মাত্র এক-দুই হাজার টাকা কর দিলেই যথেষ্ট। সেই অর্থ দিয়েই করপোরেশন শহরকে পরিষ্কার ও সবুজ রাখতে কাজ করে।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরী (মারুফ) এবং চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মীরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

১ লাখ টনের বেশি ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জন্য ১ লাখ টনের বেশি ক্রুড অয়েল নিয়ে একটি জাহাজ আসছে। ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোঙরে আসার কথা রয়েছে। অবশ্য জাহাজটি ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বাংলাদেশে প্রথম ক্রুুড অয়েলের চালান নিয়ে এসেছিল। বিপিসির শতভাগ ক্রুড অয়েল পরিবহন করে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)।

বিএসসি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি সূত্রে জানা গেছে, মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার লম্বা, ৪৪ দশমিক ৪ মিটার প্রশস্ত, ১৪ দশমিক ৬ মিটার ড্রাফটের (জাহাজের পানির নিচের অংশ) এমটি নিনেমিয়া ১ লাখ ৪ হাজার ২৬ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আসছে। গত ২৩ জুলাই এমটি নিনেমিয়া ইয়ানবু বন্দর থেকে ক্রুড অয়েল লোড করে যাত্রা শুরু করেছে। ২০২৪ সালে তৈরি জাহাজটি ১১ নটিক্যাল মাইল গতিতে জাহাজটি চলছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে জাহাজটি। বরবারের মতো এমটি নিনেমিয়া বহির্নোঙরে আসলে ছোট ছোট ট্যাংকারে ক্রুড অয়েল লাইটারিংয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করতে ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ বার্থিং, লাইটারিং, চলাচল ও খালাস কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে বিএসসি আফ্রিকা ঘুরে চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে ওই জাহাজের মালিকপক্ষ বা স্থানীয় এজেন্টের প্রস্তাবে রাজি হয়।

স্বাভাবিক সময়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে ৪ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল পেরিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসত ১৩-১৫ দিনে।কিন্তু নতুন রুটে সুয়েজ খাল, জিব্রাল্টার প্রণালি ও দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ (কেপ অব গুড হোপ) ঘুরে আসায় পথ প্রায় ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেড়েছে। সময় লাগছে প্রায় ৫২ দিন। ঘুরপথে জাহাজটির নিজস্ব জ্বালানি লো সালফার ফুয়েল, মেরিন গ্যাস অয়েল, সুয়েজ খাল পার হওয়ার ফি, ভাড়া ইত্যাদি খরচও বাড়ছে কয়েক মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ফিসহ কিছু খরচ ফিক্সড হলেও পুরো হিসাব উভয়পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিপিসির অধীন ইস্টার্ন রিফাইনারিতে এখন প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হচ্ছে। এর জন্য বিপিসি থেকে পরিশোধন বাবদ ফি পায় ইআরএল। পরিশোধিত তেলের মধ্যে ডিজেলই বেশি উৎপাদন হচ্ছে। এ ছাড়া বাই প্রোডাক্ট হিসেবে এলপিজি, ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন, এমএস অকটেন ইত্যাদিও উৎপাদিত হচ্ছে। ইআরএলের ট্যাংকে ক্রুড অয়েল মজুদ থাকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন। এর বাইরে এসপিএমের পাইপলাইনে কিছু ক্রুড অয়েল রাখা ছিল যা ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের শুরুতে হরমুজ প্রণালিকেন্দ্রিক সংকটের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল ইআরএলের প্ল্যান্টে।

সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ক্রুড অয়েলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। এরপর এমটি নিনেমিয়া জাহাজে ক্রুড অয়েল আসার পর ৮ মে পুনরায় চালু হয়েছিল ইস্টার্ন রিফাইনারি। অবশ্য যুদ্ধকালীন জ্বালানি সংকট সামাল দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করে সরকার।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের বার্ষিক ৭২ লাখ টন চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের চাহিদা মেটাতে ৯২ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। বাকি ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পাওয়া যায়। জ্বালানি চাহিদার তালিকায় ডিজেল শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে ফার্নেস অয়েল, পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন এবং প্লেন চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে পদক্ষেপ নিয়েছি : চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগরে কার্যক্রম সফল করতে সিটি করপোরেশন সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’-এর উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পদক্ষেপ নিয়েছি। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠপর্যায়ে এ কার্যক্রম সফল করতে কাজ করবেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পারলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এ জন্য নগরীর প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি বলে মন্তব্য করেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততাই প্রধান হাতিয়ার।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সারা দেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রাম মহানগরে কর্মসূচি বাস্তবায়নের করণীয় নির্ধারণে চসিকের বিভাগীয় প্রধান, বিএনসিসিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সভা করেন মেয়র।

পরে কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেয়র পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। এ সময় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশার ওষুধ ছেটানো ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম তদারক করেন মেয়র।
মেয়র বলেন, সামান্য স্বচ্ছ পানি জমে থাকলেও এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। বাসার ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, এসির পানি জমার স্থান ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ সম্ভাব্য সব প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) স্বীকৃত বিটিআই ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও অ্যাডাল্টিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, কোতোয়ালি, হালিশহর, বন্দর, আকবরশাহ, বাকলিয়া ও চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে মেয়র বলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৭৪২। তবে নগরীর পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সিটি করপোরেশনের নিয়মিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়া, জিকা ও অন্যান্য মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন মেয়র। তিনি বলেন, শুধু রোগী শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার দিকে নজর না দিয়ে রোগ প্রতিরোধে আগে থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। নিজের ঘর, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
অনুষ্ঠানে বিএনসিসি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আগামী তিন মাস চট্টগ্রাম নগরীর প্রতিটি এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। পরে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ