মামলায় হয়রানি, সিইপিজেডে হাজারো শ্রমিকের দিনভর বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) প্যাসিফিক গ্রুপের বিভিন্ন কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ বন্ধ করে দিনভর বিক্ষোভ করেছেন। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় হয়রানির অভিযোগে শ্রমিকরা বিক্ষোভে অংশ নেয়।

এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করে। পরে শিল্প পুলিশের মধ্যস্থতায় শ্রমিকরা শনিবার থেকে কাজে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ফিরে যান।বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ‘জিনস ২০০০ লিমিটেড’ নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা প্রথমে বিক্ষোভ শুরু করেন।

# জানা গেছে, ওই কারখানায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সকালে কাজ শুরুর পর শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে প্রায় সব শ্রমিক একযোগে কারখানা থেকে বেরিয়ে বেপজা কার্যালয়ের সামনে চলে আসেন। সেখানে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।

আধাঘণ্টার মধ্যে প্যাসিফিক গ্রুপের মালিকানাধীন ‘ইউনিভার্সেল জিনস, প্যাসিফিক জিন্স ও এনএইচপি ফ্যাশনের শ্রমিক-কর্মচারীরাও এসে বিক্ষোভে যোগ দেন। এর মধ্যে ইপিজেড থানা থেকে পুলিশের টিম, শিল্প পুলিশ ও সেনাসদস্যরা সেখানে পৌঁছান। তারা প্রথমে শ্রমিকদের বুঝিয়ে কারখানায় ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

দুপুর ১টার দিকে শ্রমিকদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় বসে শিল্প পুলিশ ও বেপজা কর্তৃপক্ষ। প্যাসিফিক গ্রুপ কর্তৃপক্ষ তাদের কারখানাগুলো ছুটি ঘোষণা করে। আলোচনার পর দুপুর আড়াইটার দিকে শ্রমিকরা বেপজা কার্যালয়ের সামনে থেকে সরে যান।

শ্রমিকরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি সিইপিজেডের অভ্যন্তরে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনায় ইপিজেড থানায় একটি মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে হয়রানি শুরু করেছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে তারা কর্মবিরতির ডাক দিয়ে বিক্ষোভে নামতে বাধ্য হন।

জানতে চাইলে শিল্প পুলিশের চট্টগ্রামের পুলিশের সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছিল। সেই মামলা শিল্প পুলিশ তদন্ত করছে। সেটা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়। কোনো শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়নি। শুধুমাত্র তদন্তের নিয়ম অনুযায়ী, শ্রমিকদের ঠিকানা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়েছিল। সেটাকে গ্রেফতারের চেষ্টা ভেবে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখলাম, শ্রমিকদের মধ্যেই আবার ছয়টা গ্রুপ তৈরি হয়ে গেছে। আমরা ছয় গ্রুপের মধ্য থেকে প্রতিনিধি ঠিক করি। তাদের ঐক্যবদ্ধ দাবি নিয়ে আলোচনায় বসি। তদন্তের বিষয় বুঝিয়ে বলার পর শ্রমিকরা শান্ত হয়েছে। দুপুর আড়াইটার দিকে তারা চলে গেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা মাহমুদ আরও জানান, বিক্ষোভের সময় বেপজা আইন অনুযায়ী প্যাসিফিক গ্রুপ কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলো ছুটি ঘোষণা করে। তবে আগামী শনিবার থেকে যথারীতি কারখানা খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আর শ্রমিকরাও শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তরুণীর মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়ন ফকিরাবাদে বকশিপাড়ায় স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে। তমা খাতুনের স্বামী বক্কর হোসেন এখন ভেড়ামারা থানা পুলিশ হেফাজতে। তমা খাতুন (১৮) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে মারা যান। নিহত তমা খাতুন ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ বকশীপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে।

নিহতের পরিবারের দাবি, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহতের মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তমার মৃত্যুর পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ জাহেদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই তরুণী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ধর্ষণের কোনো আলামত বা প্রমাণ পুলিশ পায়নি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই তরুণীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে হাসপাতালে ভর্তির সময় পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

চট্টগ্রামে এবার ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল ৫ বছরের শিশুর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্যুর দুইদিন পর এবার সিরাজুল মনিরা (৫) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সিরাজুল মনিরা সীতাকুণ্ড পৌরসভার আমিরাবাদ এলাকার নুরুন্নবীর মেয়ে। অন্যদিকে হাসপাতালে ভর্তির একদিন না পেরোতেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রাফসান মোহাম্মদ নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য তাদের কাছে ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে নগরীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত রাফসান মোহাম্মদ প্রাচুর্য সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট তুলাতলি এলাকার সাত নম্বর ওয়ার্ডের মৃত নুরুল আলমের ছেলে। পরিবারের তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে রাফসান বড় ছেলে ছিলেন। রাফসান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

মনিরার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকদিন ধরে তীব্র জ্বরসহ নানান শারীরিক অসুস্থতায় খুব দুর্বল হয়ে পড়ে সে। অবস্থার অবনতি হতে দেখে অভিভাবকরা তাকে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সীতাকুণ্ড পৌরসদরের মেডিকেয়ার ল্যাবে নিয়ে আসলে চিকিৎসক এনএসওয়ান পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়লে তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে ভর্তি করাতে বলেন চিকিৎসক। সেখানে বুধবার তাকে আইসিইউতে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে রাফসানের ভগ্নিপতি মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন জানান, রাফসান গত পাঁচদিন আগ থেকে জ্বরে ভুগছিলেন। পরে ১০ সেপ্টেম্বর তাকে চট্টগ্রাম নগরীর মেরনসিটি নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তার স্বজনরা তাকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নগরীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। পরে রাফসানকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দুইটার সময় তার মৃত্যু হয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার সময় ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করালাম দুই দুইটার সময় রাফসান মারা যান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই লাখ ৭৬ হাজার টাকা বিল করেছে। যা অতিরিক্ত।
পরিবারের অভিযোগ, অল্প সময়ের চিকিৎসার বিপরীতে এত বেশি বিল হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে চাপে পড়েছেন। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ