আজঃ শনিবার ২১ মার্চ, ২০২৬

মামলায় হয়রানি, সিইপিজেডে হাজারো শ্রমিকের দিনভর বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) প্যাসিফিক গ্রুপের বিভিন্ন কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ বন্ধ করে দিনভর বিক্ষোভ করেছেন। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় হয়রানির অভিযোগে শ্রমিকরা বিক্ষোভে অংশ নেয়।

এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করে। পরে শিল্প পুলিশের মধ্যস্থতায় শ্রমিকরা শনিবার থেকে কাজে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ফিরে যান।বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ‘জিনস ২০০০ লিমিটেড’ নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা প্রথমে বিক্ষোভ শুরু করেন।

# জানা গেছে, ওই কারখানায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সকালে কাজ শুরুর পর শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে প্রায় সব শ্রমিক একযোগে কারখানা থেকে বেরিয়ে বেপজা কার্যালয়ের সামনে চলে আসেন। সেখানে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।

আধাঘণ্টার মধ্যে প্যাসিফিক গ্রুপের মালিকানাধীন ‘ইউনিভার্সেল জিনস, প্যাসিফিক জিন্স ও এনএইচপি ফ্যাশনের শ্রমিক-কর্মচারীরাও এসে বিক্ষোভে যোগ দেন। এর মধ্যে ইপিজেড থানা থেকে পুলিশের টিম, শিল্প পুলিশ ও সেনাসদস্যরা সেখানে পৌঁছান। তারা প্রথমে শ্রমিকদের বুঝিয়ে কারখানায় ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

দুপুর ১টার দিকে শ্রমিকদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় বসে শিল্প পুলিশ ও বেপজা কর্তৃপক্ষ। প্যাসিফিক গ্রুপ কর্তৃপক্ষ তাদের কারখানাগুলো ছুটি ঘোষণা করে। আলোচনার পর দুপুর আড়াইটার দিকে শ্রমিকরা বেপজা কার্যালয়ের সামনে থেকে সরে যান।

শ্রমিকরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি সিইপিজেডের অভ্যন্তরে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনায় ইপিজেড থানায় একটি মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে হয়রানি শুরু করেছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে তারা কর্মবিরতির ডাক দিয়ে বিক্ষোভে নামতে বাধ্য হন।

জানতে চাইলে শিল্প পুলিশের চট্টগ্রামের পুলিশের সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছিল। সেই মামলা শিল্প পুলিশ তদন্ত করছে। সেটা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়। কোনো শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়নি। শুধুমাত্র তদন্তের নিয়ম অনুযায়ী, শ্রমিকদের ঠিকানা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়েছিল। সেটাকে গ্রেফতারের চেষ্টা ভেবে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখলাম, শ্রমিকদের মধ্যেই আবার ছয়টা গ্রুপ তৈরি হয়ে গেছে। আমরা ছয় গ্রুপের মধ্য থেকে প্রতিনিধি ঠিক করি। তাদের ঐক্যবদ্ধ দাবি নিয়ে আলোচনায় বসি। তদন্তের বিষয় বুঝিয়ে বলার পর শ্রমিকরা শান্ত হয়েছে। দুপুর আড়াইটার দিকে তারা চলে গেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা মাহমুদ আরও জানান, বিক্ষোভের সময় বেপজা আইন অনুযায়ী প্যাসিফিক গ্রুপ কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলো ছুটি ঘোষণা করে। তবে আগামী শনিবার থেকে যথারীতি কারখানা খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আর শ্রমিকরাও শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে শেষ সময়ে ঘরমুখো মানুষের স্রোত, রেল ষ্টেশন-টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদের সাতদিনের ছুটিকে কেন্দ্র পরিবার পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ বাগাভাগি করতে বন্দরনগরী ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ। মহানগরের বাস টার্মিনালগুলো ও রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখ পড়ার মতো। বুধবার ভোর থেকেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। যথাসময়ে ছেড়ে যাচ্ছে একের পর এক ট্রেন। এছাড়া ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে বাস টার্মিনালেও ভিড় করেন যাত্রীরা।

পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এদিকে চট্টগ্রাম অনেকটা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। নগরের বিভিন্ন ব্যস্ত রাস্তায় নেই আগের চিরচেনা যানজটের দৃশ্য। যানজটহীন স্বস্তিতে গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন নগরবাসী।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) শেখ মো. সেলিম বলেন, এখানে নিরাপত্তার কোনও শঙ্কা নেই। পুলিশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রার জন্য। প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা করা দরকার তা নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনেও পুলিশ কাজ করছে। যাত্রীদের ভাড়ার বিষয়েও আমরা তদারকি করছি।

বুধবার মহানগরের কদমতলী, বহদ্দারহাট ও নতুন ব্রিজ জিইসি বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীর চাপ বেশি। টিকিট পাচ্ছেন না অনেকে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা পর সকালে ছেড়ে যাওয়া ফিরতি গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন কেউ কেউ। যাত্রীর চাপের তুলনায় বাস টার্মিনালে গাড়ির সংকট দেখা গেছে। তবে কাউন্টার বসে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, যে গাড়িগুলো গেছে সেগুলো ফিরে এলেই এই টিকিটের সংকট থাকবে না। যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে যাত্রীরা বলছেন, কোনও ভোগান্তি নেই। তারা নির্বিঘ্নে যথাসময়ে ট্রেনে উঠছেন এবং ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কিছু কিছু ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে যাত্রীরা যেতে পারছেন। সকালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন। অন্য ট্রেনগুলোও যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। তাই স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও খোলা ট্রাকে কম ভাড়ায় গন্তব্যে যাচ্ছে লোকজন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে বিআরটিএ’র সতর্ক সংকেত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা স্থাপন করেছে। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বাঁকে উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এসব বাঁকে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হন। এরপর থেকেই বাঁকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ওঠে।

মহাসড়কে চলাচলকারী কয়েকজন বাস চালক জানান, রাতে বা কুয়াশার সময় হঠাৎ বাঁক সামনে চলে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। নতুন করে লাল পতাকা বসানোয় আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সহজ হবে।তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অস্থায়ী পতাকা নয়-স্থায়ী সাইনবোর্ড, গতিসীমা নির্দেশনা, রিফ্লেক্টর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, যেসব স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়ার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া–চুনতির জাঙ্গালিয়া বাঁক, চুনতির ডেপুটি বাজারের আগে ও পরের বাঁক, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা, লোহাগাড়া রাজাঘাটা, সাতকানিয়ার মিঠা দীঘি, চন্দনাইশের খানহাট পুকুর এবং পটিয়ার পাইরুল মাজারসংলগ্ন বাঁক।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী বলেন, ঈদের সময় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাঁকের উভয় পাশে পাঁচটি করে মোট ১০টি লাল পতাকা বসানো হয়েছে। ফলে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারবেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ