আজঃ শনিবার ২১ মার্চ, ২০২৬

মহাকাশ গবেষণায়-পাবনা ভাঙ্গুড়ার কৃতিসন্তান মোঃ জয়নুল আবেদীন

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার পাবনা প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনা প্রতিনিধিঃ মানুষের জ্ঞানপিপাসা সীমাহীন।সেই জানার তৃষ্ণাই মানুষকে ছুটিয়ে নিয়ে যায় পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে,ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে একসাথে বসিয়ে শেখায় নতুন কিছু জানার জিজ্ঞাসা,আনন্দ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনের যুগে মহাকাশ গবেষণা এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আজ বিশ্বের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। আর সেই অগ্রযাত্রায় নির্বাচিত হওয়া নিঃসন্দেহে এক বিরল সৌভাগ্য, এক অনন্য অর্জন।

জাতিসংঘ অনুমোদিত Centre for Space Science and Technology Education in Asia and the Pacific (CSSTEAP)–এর মর্যাদাপূর্ণ Post Graduate Course on “Satellite Meteorology and Global Climate”–এ উচ্চতর ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন আমাদের পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার গর্ব, কৃতি সন্তান মোঃ জয়নুল আবেদীন, পিতা মোঃ শাজাহান আলী, গ্রাম কলকতি, থানা ভাঙ্গুড়া, জেলা পাবনা।এ অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়-বরং বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার মাইলফলক।

আমরা তার এই অসাধারণ সাফল্যে গর্বিত,আনন্দিত এবং আশাবাদী।স্যাটেলাইট প্রযুক্তি কী ও কেন গুরুত্বপূর্ণ“উপগ্রহ” শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ Satellite—অর্থাৎ উপগ্রহ প্রযুক্তি এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তি একই বিষয়।

স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এমন এক বিস্ময়কর উদ্ভাবন যার মাধ্যমে যোগাযোগ, পরিবহন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মহাকাশ থেকে তথ্য প্রেরণ-সবই সম্ভব হচ্ছে।

আজ আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আমাদের জলবায়ু, সম্পদ ও বৈশ্বিক ঘটনাবলীর রিয়েল-টাইম তথ্য দিচ্ছে, ফলে পৃথিবী হয়ে উঠছে আরও সংযুক্ত, নিরাপদ ও বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ (smart)।

এটি কেবল নিরাপত্তা বা তথ্য বিনিময়ের জন্য নয়—বরং পৃথিবীর পরিবর্তিত জলবায়ু ব্যবস্থাকে বুঝতে, ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করতে এবং মানবজীবনকে টেকসই করতে এক অপরিহার্য হাতিয়ার।চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির অবদানস্যাটেলাইট প্রযুক্তি এখন চিকিৎসাক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

টেলিমেডিসিন ব্যবস্থার মাধ্যমে ডাক্তাররা এখন দূরবর্তী বা প্রত্যন্ত এলাকার রোগীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন, অনলাইনে চিকিৎসা পরামর্শ দিতে পারেন, এমনকি জরুরি মুহূর্তে তাৎক্ষণিক নির্দেশনাও দিতে পারেন।

উপগ্রহের মাধ্যমে জলবায়ু ও পরিবেশগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে ম্যালেরিয়া, কলেরা বা অন্যান্য সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় স্যাটেলাইট যোগাযোগ হাসপাতাল, উদ্ধার দল ও সহায়তা সংস্থাগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত রাখে-ফলে দ্রুত চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো যায়।

অর্থাৎ, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আজ জীবন বাঁচানোর এক নিরব বিপ্লব।জাতীয় নিরাপত্তায় স্যাটেলাইটের ভূমিকা-
যুদ্ধক্ষেত্রেও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ভূমিকা অপরিসীম। এটি সামরিক বাহিনীকে রিয়েল-টাইম যোগাযোগ, নেভিগেশন ও নজরদারি সুবিধা দেয়।

রিকনাইসেন্স স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের অবস্থানের উচ্চ-রেজোলিউশনের ছবি পাওয়া যায়,জিপিএস স্যাটেলাইটের মাধ্যমে অস্ত্র ও সৈন্যদের নিখুঁতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

উপগ্রহভিত্তিক প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করতে পারে, মহাকাশ থেকে দ্বন্দ্বপূর্ণ অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করে।
এইভাবে, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আজ স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও শান্তির রক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেবাংলাদেশের গর্ব,ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা-

আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার অঙ্গনে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির উপর উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে মোঃ জয়নুল আবেদীন শুধু নিজের নয়, বাংলাদেশেরও মর্যাদা বৃদ্ধি করছেন।আমরা বিশ্বাস করি-তার এই পথচলা আরও বহু তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীকে অনুপ্রাণিত করবে, যারা একদিন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে বিশ্বের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।

মোঃ জয়নুল আবেদীন এর এই সাফল্য হোক বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রার এক উজ্জ্বল অধ্যায়।
তিনি যেন বাংলাদেশের জন্য আরও সম্মান, আরও সাফল্য বয়ে আনেন -এই প্রত্যাশা ও আন্তরিক প্রার্থনা রইলো।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে শেষ সময়ে ঘরমুখো মানুষের স্রোত, রেল ষ্টেশন-টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদের সাতদিনের ছুটিকে কেন্দ্র পরিবার পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ বাগাভাগি করতে বন্দরনগরী ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ। মহানগরের বাস টার্মিনালগুলো ও রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখ পড়ার মতো। বুধবার ভোর থেকেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। যথাসময়ে ছেড়ে যাচ্ছে একের পর এক ট্রেন। এছাড়া ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে বাস টার্মিনালেও ভিড় করেন যাত্রীরা।

পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এদিকে চট্টগ্রাম অনেকটা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। নগরের বিভিন্ন ব্যস্ত রাস্তায় নেই আগের চিরচেনা যানজটের দৃশ্য। যানজটহীন স্বস্তিতে গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন নগরবাসী।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) শেখ মো. সেলিম বলেন, এখানে নিরাপত্তার কোনও শঙ্কা নেই। পুলিশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রার জন্য। প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা করা দরকার তা নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনেও পুলিশ কাজ করছে। যাত্রীদের ভাড়ার বিষয়েও আমরা তদারকি করছি।

বুধবার মহানগরের কদমতলী, বহদ্দারহাট ও নতুন ব্রিজ জিইসি বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীর চাপ বেশি। টিকিট পাচ্ছেন না অনেকে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা পর সকালে ছেড়ে যাওয়া ফিরতি গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন কেউ কেউ। যাত্রীর চাপের তুলনায় বাস টার্মিনালে গাড়ির সংকট দেখা গেছে। তবে কাউন্টার বসে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, যে গাড়িগুলো গেছে সেগুলো ফিরে এলেই এই টিকিটের সংকট থাকবে না। যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে যাত্রীরা বলছেন, কোনও ভোগান্তি নেই। তারা নির্বিঘ্নে যথাসময়ে ট্রেনে উঠছেন এবং ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কিছু কিছু ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে যাত্রীরা যেতে পারছেন। সকালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন। অন্য ট্রেনগুলোও যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। তাই স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও খোলা ট্রাকে কম ভাড়ায় গন্তব্যে যাচ্ছে লোকজন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে বিআরটিএ’র সতর্ক সংকেত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা স্থাপন করেছে। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বাঁকে উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এসব বাঁকে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হন। এরপর থেকেই বাঁকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ওঠে।

মহাসড়কে চলাচলকারী কয়েকজন বাস চালক জানান, রাতে বা কুয়াশার সময় হঠাৎ বাঁক সামনে চলে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। নতুন করে লাল পতাকা বসানোয় আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সহজ হবে।তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অস্থায়ী পতাকা নয়-স্থায়ী সাইনবোর্ড, গতিসীমা নির্দেশনা, রিফ্লেক্টর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, যেসব স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়ার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া–চুনতির জাঙ্গালিয়া বাঁক, চুনতির ডেপুটি বাজারের আগে ও পরের বাঁক, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা, লোহাগাড়া রাজাঘাটা, সাতকানিয়ার মিঠা দীঘি, চন্দনাইশের খানহাট পুকুর এবং পটিয়ার পাইরুল মাজারসংলগ্ন বাঁক।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী বলেন, ঈদের সময় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাঁকের উভয় পাশে পাঁচটি করে মোট ১০টি লাল পতাকা বসানো হয়েছে। ফলে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারবেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ