আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

যুদ্ধবন্দীর বিনিময়ে শিক্ষা: প্রিয় নবী (দ:) সেরা কর্মসূচি

ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী

লেখক: কলাম লেখক, রাজনীতিক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কবির কল্পনা, শিল্পীর আলপনা, দার্শনিকের চিন্তা, সাহিত্যিকের লেখনী, সূরাকারের সূর যেখানে ব্যর্থ সেখান হতে প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ (দঃ)’র প্রশংসা শুরু। মানুষের মগজ মস্তিষ্ক এক বিস্ময়কর বস্তু। আধুনিক বিজ্ঞানীদের সেরা বিজ্ঞানী বলা হয় আলবার্ট আইনস্টাইনকে।আইনস্টাইনের মাথার মগজ ছিল দেড় লিটার। প্রায় মানুষের মস্তিষ্ক এ রকম। বিজ্ঞানীরা হিসেব করে দেখেছেন, একটি কম্পিউটারের দাম যদি হয় এক লক্ষ টাকা , তাহলে দেড় লিটার মস্তিষ্কের দাম হবে দশ হাজার কোটি টাকা। দুনিয়ার মহাকালের সকল মানুষের মস্তিষ্ক ব্যয় করে চিন্তা-গবেষণা করলে আল্লাহর একটি চিন্তার সমান হবে না। সমস্ত মানবের শক্তি ব্যয় করলে আল্লাহর একটি কাজের সমান হবে না।

মহান আল্লাহ পাক তাঁর কুদরতী শক্তি ব্যবহার করে তাঁর নবী (দঃ)’র মর্যাদা ঘোষণা করেছেন ‘ওয়ারা ফান লাকা জিকারাকা’… (আল কোরআন) অর্থাৎ হে নবী আমি আপনার প্রশংসাকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছি। কতটুকু উঁচুতে নিলেন, তার সীমানা কোথায়,তা বান্দার ধারণায় নেই।এই চিন্তার ক্ষমতা বান্দার নেই। যে নবী (দঃ)’র প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক নিজেই উঁচুতে নিয়ে গেছেন, তাঁকে দুনিয়ার কোন শক্তি শত চেষ্টায় নিচে নামাতে পারবে না। কেউ নিচে নামাতে চাইলে সে নিজেই নিচে নেমে যাবে,কেউ তাকে আর উপরে তুলতে পারবে না।

কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদ বলেছেন, ‘পৃথিবীর তাবৎ উপন্যাসিক যাঁর কোটের পকেট থেকে বেরিয়ে এসেছেন, তাঁর নাম দস্তয়ভস্কি। আরেকজন আছেন মহামতি টলস্টয়। এক রেলস্টেশনে যখন টলস্টয় মারা গেলেন, তখন তাঁর ওভারকোটের পকেটে একটি বই পাওয়া গেল। বইটির নাম Sayings of Prophet। বইটি ছিল টলেস্টরের খুবই প্রিয়।এটি সবসময় তিনি সঙ্গে রাখতেন। সময় পেলেই পড়তেন। বইটিতে হযরত মোহাম্মদ (দঃ)’র বিভিন্ন সময়ে বলা ইন্টারেস্টিং কথাগুরো গ্রন্থিত। আমি বিনয়ের সঙ্গে জানতে চাই, আমাদের কয়জন বইটি পড়েছেন? টলেস্টয় যে বইটি পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন, সেই বই আমাদের প্রত্যেকের একবার কী পড়া উচিৎ নয়? (সূত্র হাসান হাফিজের লেখা, ‘হুমায়ুন আহমদ তাঁর স্পষ্টবাদিতা’ লেখা দ্রঃ)

যিনি পথকলি জায়েদকে লালন পালন করে যুদ্ধের সেনাপতি (একটি যুদ্ধের) করতে পারেন, দাসীকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে পারেন,বিধবাকে উন্মুল মোমিনের মর্যাদা অধিষ্টিত করতে পারেন, কৃষ্ণাঙ্গ হযরত বেলাল (রা:)কে সহচরের মর্যাদার আসনে বসাতে পারেন তাঁর নাম ‘মুহম্মদ’ (দঃ)। তৎকালে এ ধরনের মহান কাজ করা দুনিয়ার বুকে সম্ভব ছিল না, অথচ একজন রাষ্ট্রনায়ক ও সেরা ধর্ম প্রবর্তক হয়ে এ ধরনের অহিংস কাজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।মহানবী হযরত মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ (দঃ) ছিলেন সর্বপ্রথম সকল ধর্মের মানুষের সেবক তরপর ধর্মপ্রচারক। সকল ধর্মের মানুষের কল্যাণের কারণে ধর্ম প্রচারকের পূর্বেই তিনি ‘আল আমিন’ উপাধী পেয়েছেন। নবুয়ত প্রকাশের পূর্বে তিনি সকল মতের মানুষের কল্যাণে সামাজিক সংগঠন ‘হিলফুল ফুজুল’ প্রতিষ্ঠা করেন। সর্বধর্মের মানুষের কল্যাণ ব্যতীত অমুসলমানদের দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট করা সম্ভব হতো না। তিনি মক্কায় ধর্ম প্রচারক আর মদিনায় ছিলেন রাষ্ট্র নায়কও।

মদিনায় যখন হিজরতের পর রাষ্ট্র নায়ক নির্বাচিত হন তখন মদিনায় মুসলমানের সংখ্যা ছিন মাত্র ২ শত জন। যা মদিনার জনসংখ্যার কম বেশী ৬/৭ ভাগ। তিনি ছিলেন অমুসলিম ভূখণ্ডের মুসলিম রাষ্ট্রনায়ক।সংখ্যালঘু মুসলমানদের নবীকে কেন সংখ্যাগরিষ্ঠ অমুসলমানরা রাষ্ট্রনায়ক করলেন? কারণ তিনি সর্বধর্মের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।মক্কার কাফিরগণ প্রিয় নবী (দঃ) কে জন্মভূমি হতে বিতাড়ন করেছেন সে কথা সবাই উচ্চস্বরে উচ্চারণ করেন কিন্তু মদিনার কাফিরগণ তাঁকে রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচিত করেছেন সে কথা কেউ বলতে চায় না। নবী পাক (দঃ)’র মহামানবতার পথ অনুসরণ করে আউলিয়া কেরামগণ দুনিয়াব্যাপী ধর্ম প্রচারের আগে সর্বধর্মের মানুষের সেবা-কল্যাণ করেন। এই মানবতার সেবায় যুক্ত হয়ে মানুষ দলে দলে আউলিয়া কেরামের হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

প্রিয় নবী (দঃ) দুনিয়ার মানুষের নিকট যে ক্ষমা আদর্শ রেখে গেছেন তা অন্যকোন মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়নি। কাফির সর্দার আবু সুফিয়ান ছিলেন ইসলাম ও মহানবী (দঃ)’র চরম শত্রু। যার নেতৃত্বে শত শত সাহবী শহীদ হন। নবী পাক (দঃ)’র প্রাণপ্রিয় চাচা হযরত আমির হামজা (রা:) কে যে ব্যক্তি টুকরো টুকরো করে শহীদ করে। আবু সুফিয়ানের মত যে সব কাফির মুসলমানদের উপর চরম অমানুষিক নির্যাতন করেছিল মক্কা বিজয়ের পর প্রিয় নবী (দঃ) তাঁদের ক্ষমা ঘোষণা করে বলেন,’আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। তোমরা সবাই মুক্ত। আমি তোমাদের সাথে সেই কথাই বলছি, যে কথা হযরত ইউসুফ (আ:) তাঁর ভাইদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন,আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। যাও তোমরা সবাই মুক্ত’।
হযরত ইউসুফ (আঃ) নিজ ভাইদের ক্ষমা করেছিলেন, এই ভাইয়েরা আবু সুফিয়ানের মত চরম জুলুম করেনি। আবু সুফিয়ান তো আপন ভাই ছিলো না, ছিলো হত্যাকারী ও নির্যাতনকারী। তাদের ক্ষমা করা কোন সাধারণ বিষয় নয়।

এ ধরনের ক্ষমা ইতিহাস দুনিয়াতে আজ পর্যন্ত কেউ রচনা করতে পারেননি। শুধু ক্ষমা নয়, এ ধরনের হত‍্যাকারী একটি মাত্র বাক্য উচ্চারণ করার সাথে সাথে প্রিয়নবী (দঃ)’র সহচর, সাহাবায়ে রাসুল হয়ে যান। সেই মর্যাদাপূর্ণ বাক্যটি হলো; ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ।’ একটি বাক্য উচ্চারণের মাধ্যমে প্রিয় নবী (দঃ) সাহাবী হয়ে যাওয়ার ঘটনা ইতিহাসে বিরল।

মহানবী হযরত মোহাম্মদ (দ:) যুদ্ধবন্দীদের প্রতি যে আচরণ করেছেন, বর্তমান ইউরোপ আমেরিকার রাষ্ট্রগুলো সে ধরনের আচরণ করা চিন্তাই করা যায়না। মুসলমানের নবী (দঃ)’র নির্দেশে সাহাবীরা না খেয়ে যুদ্ধবন্দীদের খাওয়াতেন। ভালো খাওয়াটা যুদ্ধবন্দীদের হাতে তুলে দিতেন। বদরের যুদ্ধে ৭০ জন নিহত, ৭০ জন বন্দী হয়। বন্দীদেরকে ১০ জন মুসলমানকে শিক্ষিত করার বিনিময়ে মুক্তি দিয়ে ছিলেন। আধুনিক যুগে খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি পালন করা হয়। অথচ এ ধরনের কর্মসূচি ‘বন্দী মুক্তির বিনিময়ে শিক্ষা’ চৌদ্দশত বছর পূর্বেই মহানবী (দঃ) পালন করেছিলেন।

মহানবী হযরত মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ (দঃ) ছিলেন ধৈর্যের পাহাড়। ছোটবেলা হতে তাঁর ধৈর্য গুণের বিকাশ ঘটতে থাকে। এতিম অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে মা ও দাদাকে হারান। বাল্যকাল হতে কঠিন পরিশ্রম করে উপার্জন করতে শিখেন। জীবনটা শুরু হয় ধৈর্য্যের অবলম্বন দিয়ে। তিনি কঠিন বিপদ এবং বাধার মধ্যে দৃঢ়তার সাথে ধৈর্যধারণ করতেন। আবার ঠিক তেমনি বিজয়ের সময় ধৈর্যধারণ করতেন। যখনই কোন বিজয় তাঁর পদচুম্বন করেছে, তখন তিনি আত্মসংবরণ করতেন। আল্লাহর দরবারে শোকর আদায় করতেন। দুনিয়ার সেরা সেরা ব্যক্তি, মনীষী, নেতার পাবলিক লাইফ এক রকম আর প্রাইভেট লাইফ হয়ে থাকে অন্য রকম। কিন্তু প্রিয় নবী (দঃ)’র ব্যক্তি আর সামাজিক জীবনে কোন পার্থক্য বিন্দু মাত্র ছিল না।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা উন্নতির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে অহংকার ও দাম্ভিকতায় মাতোয়ারা হয়ে যায়। নবী পাকের জীবনে এ ধরনের কোন দম্ভ অহমিকার বিন্দু মাত্র প্রকাশ ঘটেনি। হযরত আনাস (রা:) ছোটকাল হতে প্রিয় নবী (দঃ)’র কাছে থাকতেন। হযরত আনাস (রা:) বর্ণনা করেছেন, ‘আল্লাহর কসম করে বলছি, দীর্ঘ দশ বছর আমি প্রিয় নবী (দঃ)’র যত খেদমত করেছি, তার চেয়ে বেশী খেদমত আমি উনার হতে পেয়েছি। দীর্ঘ দশ বছরে তিনি আমার কোন কথা ও কাজে বিরক্ত প্রকাশ করেননি। এই হলো নবী (দঃ)’র আদর্শ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কুতুবদিয়ার তরকারি ব্যবসায়ীকে বাঁচাতে ছোটন চেয়ারম্যান মানুষের দ্বারে দ্বারে, দ্বীপ জুড়ে প্রশংসা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুতুবদিয়ায় বড়ঘোপ বাজারের ফারাজ, পিতা- আবুল কাসেম, দক্ষিণ মগডেইল এক অসহায় তরকারি ব্যবসায়ী পেকুয়া সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। তার পাশে দাঁড়াতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় বড়ঘোপ ইউপি চেয়ারম্যান আ.ন.ম শহীদ উদ্দিন ছোটন। তাঁর সাথে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেন বাজার কমিটির সেক্রেটারি জাফর আলম কন্ট্রাক্টর ও সদস্যবৃন্দ।

দীর্ঘদিন ধরে সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা ওই ব্যবসায়ী সম্প্রতি আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি ও আর্থিক সংকটে পড়ে তার পরিবার চিকিৎসার বিষয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগছেন ।এ অবস্থায় তার দুর্দশার খবর জানতে পেরে ছোটন চেয়ারম্যান বড়ঘোপ বাজারের ব্যবসায়ী, বিভিন্ন ব্যক্তি, সমাজসেবক ও বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি ব্যবসায়ীকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা সংগ্রহে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ছোটন চেয়ারম্যান বলেন, “একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবন-জীবিকা রক্ষা করা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। সমাজের সবাই এগিয়ে এলে তিনি আবারও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।” তরকারি ব্যবসায়ী ফারাজের চিকিৎসার জন্য মোট ২,২৫,২৫০/= টাকা আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেছে। ওই টাকা দিয়ে তার চিকিৎসা করা হচ্ছে। সহায়তাকারী সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি বড়ঘোপ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সকল সদস্যবৃন্দকে যারা আর্থিক সহায়তা সংগ্রহের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।

স্থানীয়রা ছোটন চেয়ারম্যানের এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, জনপ্রতিনিধির এমন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং অসহায় মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করবে।এদিকে, ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের সদস্যরা সহযোগিতার জন্য ছোটন চেয়ারম্যানসহ সকল শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

চট্টগ্রামে পারিবারিক মন্দির ও সদস্যদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীরতে পারিবারিক ভাবে নিয়মিত দেবদেবীর উদ্দেশ্যে নৈবদ্য প্রদান সহ পূজা অর্চণার সম্পাদনের স্থান শ্রী শ্রী মাতা কামরুপ কামাখ্যা মন্দিরের সাবেক পুরোহিত (সেবায়েত) উৎসব চক্রবর্তী নামের একব্যক্তিকে গুরুতর অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও প্রতারণার দায়ে পারিবারিক সিদ্ধান্তে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করায় সদস্য ও মন্দিরে আগত ভক্তদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ভিডিও এবং অপপ্রচার ও অনলাইনে প্রচার করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মন্দিরের সদস্য ও ভক্তবৃন্দরা।গতকাল সকালে মন্দির প্রতিষ্ঠিত সদস্যদের নীজ ভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মন্দির প্রতিষ্ঠিতা মৃত সুনীল বরণ দেব এর সন্তান ডা: যীশুময় দেব।

এসময় সাংবাদিকদের লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আমার পিতা আসামের নীলাপর্বতে অবস্তিত শক্তিপীঠ কামরূপ কামাখ্যা মায়ের মন্দির দর্শনে যান, সেসময় আমার পিতার ভক্তি বিশ্বাসে মায়ের কাছে প্রতিশ্রুতি দেন যে যুদ্ধ শেষে দেশ স্বাধীন হলে মাকে নিজের গৃহে প্রাণ প্রতিষ্টিত করে পূজো করবেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে নিজ জায়গায় মায়ের প্রতিষ্টা করেন। আমার পিতা স্বর্গীয় শ্রী সুনীল বরন দেব। পরে শ্রী শ্রী মাতা কামরূপ কামাখ্যা মন্দিরের নিত্য দিনে পূজার জন্য একজন পুরোহিতের মাধ্যমে নিত্য পূজা পাঠ চলে আসছে অনেক বছর ধরে।

এমতাবস্থায় ২০২২ সালে পুরোহিতের অনিয়ম অনৈতিক আচরন চুরি সহ নানা অপকর্ম প্রমানিত হলে কর্মরত পুরোহিত ইষান চক্রবর্তীকে মন্দির হতে অব্যহতি দেই। তিনি আরও জানান, উৎসব চক্রবর্তীকে আমি চিনতাম না। সে পূর্বে ইশান চক্রবর্তী মাধ্যমে মন্দিরে মাঝে মধ্যে পূজা করতে দেখতাম। ইশান চক্রবর্ত্তীকে তার কৃতকার্যের জন্য মন্দিরের পূজো হইতে অব্যহতি দিলে একদিন অভিযুক্ত উৎসব চক্রবর্তী আমার কাছে তার পারিবারিক অসচ্ছলতা, বাবা মারা গেছে কাকাতো ভাইয়ের কাছে মানুষ হয়েছে বলে জানায় এবং তার কাছে পূজাপাঠ শিখে এবং আমাদের মন্দিরে পুরোহিত হিসেবে চাকরি করার আগ্রহ প্রকাশ করে। সে এখন বেকার তার একটি চাকরি খুব প্রয়োজন বলে জানায়। তাই তার দারিদ্রতা ও মানবিক দৃষ্টি থেকে চিন্তা করে তাকে আমাদের পারিবারিক মন্দিরে নিত্য দিনের পূজা করতে মাসিক বেতনে নিয়োগ দিই।

তিনি আরও জানান, প্রথম কিছু দিন অভিযুক্ত
উৎসব চক্রবর্ত্তী নিয়মিত ও যতাযত পূজা অৰ্চনা করলেও, কিছুদিন যেতে না যেতে মন্দিরে আমার মাতা একাধিক বার উৎসব চক্রবর্ত্তী আচরনের বিষয়ে অভিযোগ দেন। তারপর উৎসব চক্রবর্ত্তী বিরুদ্ধে পুজোর অনিয়মসহ
নারীদের হেনস্তা ও ভক্তদের মনে ধর্মীয় আবেগে পূজি করে প্রতারনার কথা জানতে পারলে আমি প্রথম দিকে বিষয়টি এত গুরুত্ব না দিলে ভক্তবৃন্দরা বিষয়টি আমাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলেন।

অভিযোগের পরে মন্দিরে তার অবস্থানকালে উৎসব চক্রবর্ত্তীর গতিবিধি সিসি ক্যামেরাই আমি নজরে আনি এবং দেখতে পাই যে, কোনো নারী ভক্ত মন্দিরে আসলে তার সাথে অশালীন আচরণ করতে থাকে। আমার মা উৎসব চক্রবর্ত্তীর বিষয়গুলো উল্লেখ করে তাকে মন্দির হতে চলে যেতে বললে আমার মায়ের উপর ক্ষিপ্ত হন। অনেক ভক্ত অভিযুক্ত উৎসব চক্রবর্ত্তীর বিরুদ্ধে তার অপকর্মের প্রমাণ দেন। সে মন্দিরে ঘটের জল ফুল বিপ্লপত্র বিক্রি করলে আমি তাকে হাতে নাতে ধরি এবং সতর্ক করি। এমনকি সে ভক্তদের কাছ হতে বিকাশে অর্থ নেবার অভিযোগ পাই।

আমাদের পারিবারিক মন্দির নিয়ম নীতি শৃংখলা ও সততার মধ্যে পারিবারিক ভাবে পরিচালিত হয়। তাই ভক্তদের সাথে কোন রকম ব্যবসা, প্রতারনা, বা অনৈতিকভাবে কাজ করার সুযোগ নেই। এছাড়ার আমাদের পারিবারিক মন্দির
সন্ধ্যারাতির পর মায়ের প্রধান দরজা বন্ধ থাকে তাই অন্ধকার জগতের কোন সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, এক পর্যায়ে প্রতারক উৎসব চক্রবর্ত্তী আমাদের পারিবারিক নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করে মন্দিরে তান্ত্রিকতা মাধ্যমে ভক্তদের সাথে পুনরায় প্রতরনা করতে থাকে। এমনকি তার প্রতারণার জন্য আমি তাকে আবার হাতে নাতে ধরি এবং তাকে শেষ বারের মতো সতর্ক করি। কিন্তু সেই তাও কোন গুরুত্ব দেই না।

এর মধ্যে জানতে পারি তার আপন কাকাতো ভাই কাজল চক্রবর্তীর স্ত্রীর সাথে সে পরকীয়য়া শুরু করে। বিষয়টি জানার পর আমি কাজল চক্রবর্তী আনিত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তাকে ডেকে বিষয়টা জানতে চাইলে সে এড়িযে যাবার চেষ্টা করে উল্টো তার ভাইের নামে অভিযোগ করেন। তাই বিষয়টা নিয়ে আমি কর্নপাত না করে আমরা পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নিই এবং তাকে চাকরি হতে অব্যাহতি দিই। বিষয়টি সে জানতে পেরে আমাকে নানান প্রকার ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন ও অভিশাপ দেওয়ার ভয় দেখান। যেহেতু সে দারিদ্র সনাতনী হিন্দু ব্রাক্ষ্মন তাই অভিযুক্ত উৎসব চক্রবর্ত্তীকে তার দুমাসের পারিশ্রমিক অগ্রীম বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় করি।

এসময় তিনি আরও বলেন, আমরা তাকে পারিবারিক সিদ্ধান্তে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করি ২০২২ সালে। এরপর গত ৮ জুন সকালে সামাজিক যোগাযোগে মাধায়ে একটি ভিডিও নজরে আসে। সেখানে দেখতে পাই ৩ বছর আগে বিদায় করা উৎসব চক্রবর্তী হঠাৎ করে কেন বা কি উদ্দেশ্য আমার ও আমার পরিবারিক মন্দিরকে নিয়ে কুৎসা, নোংরা কুঠক্তি প্রচার করছে। এছাড়া অভিযুক্ত উৎসব চক্রবর্ত্তী ভিডিওতে এমন কিছু কুরুচিপূর্ণ শব্দ প্রয়োগ করেছে যা আমার চিকিৎসার পেশায় এবং আমার ছোট ভাই এড. বিশুময় দেবের মানহানি ঘটে। পরে আমি গত ১৬ জুলাই কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারন ডাইরি লিপিবদ্ধ করি। যাহার জিডি নং- ১৩৮৫। এছাড়া আমি সব রকমের প্রশাসনিক ভাবে আইনের আশ্রয় নিয়েছি যাতে তার যথাযথ বিচার ও শান্তি হয়। তার ফেসবুক আইডি পোষ্টটি প্রশাসনের কাছে দিয়েছি। তার ভিডিও বার্তা সত্য মিথ্যা যাচাই বাচাই করার জন্য এবং আমরা ডিজিটাল সাইবার আইনে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছি, পুলিশ প্রশাসন এই ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

এছাড়া উৎসব চক্রবর্তী সাথে যারা যারা জড়িত হয়ে মিথ্যা ও সাইবার ছলিং করেছেন তাদের সকলকে আইনের আওতায় এনে প্রশাসন যথাযোগ্য শাস্তির ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান ডা: যীশুদেব। একই সঙ্গে সকল সনাতনী পরিবারকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন এবং ধর্মীয় ও সামাজিক নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার জন্য সকলের প্রতি বিনীত জানান। এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, এড. বিশুময় দেব, নেভী দাশ অথৈ, সম্পদ চক্রবর্তী ও সঞ্জয় চক্রবর্তী সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ