যুদ্ধবন্দীর বিনিময়ে শিক্ষা: প্রিয় নবী (দ:) সেরা কর্মসূচি

ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী

লেখক: কলাম লেখক, রাজনীতিক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কবির কল্পনা, শিল্পীর আলপনা, দার্শনিকের চিন্তা, সাহিত্যিকের লেখনী, সূরাকারের সূর যেখানে ব্যর্থ সেখান হতে প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ (দঃ)’র প্রশংসা শুরু। মানুষের মগজ মস্তিষ্ক এক বিস্ময়কর বস্তু। আধুনিক বিজ্ঞানীদের সেরা বিজ্ঞানী বলা হয় আলবার্ট আইনস্টাইনকে।আইনস্টাইনের মাথার মগজ ছিল দেড় লিটার। প্রায় মানুষের মস্তিষ্ক এ রকম। বিজ্ঞানীরা হিসেব করে দেখেছেন, একটি কম্পিউটারের দাম যদি হয় এক লক্ষ টাকা , তাহলে দেড় লিটার মস্তিষ্কের দাম হবে দশ হাজার কোটি টাকা। দুনিয়ার মহাকালের সকল মানুষের মস্তিষ্ক ব্যয় করে চিন্তা-গবেষণা করলে আল্লাহর একটি চিন্তার সমান হবে না। সমস্ত মানবের শক্তি ব্যয় করলে আল্লাহর একটি কাজের সমান হবে না।

মহান আল্লাহ পাক তাঁর কুদরতী শক্তি ব্যবহার করে তাঁর নবী (দঃ)’র মর্যাদা ঘোষণা করেছেন ‘ওয়ারা ফান লাকা জিকারাকা’… (আল কোরআন) অর্থাৎ হে নবী আমি আপনার প্রশংসাকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছি। কতটুকু উঁচুতে নিলেন, তার সীমানা কোথায়,তা বান্দার ধারণায় নেই।এই চিন্তার ক্ষমতা বান্দার নেই। যে নবী (দঃ)’র প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক নিজেই উঁচুতে নিয়ে গেছেন, তাঁকে দুনিয়ার কোন শক্তি শত চেষ্টায় নিচে নামাতে পারবে না। কেউ নিচে নামাতে চাইলে সে নিজেই নিচে নেমে যাবে,কেউ তাকে আর উপরে তুলতে পারবে না।

কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদ বলেছেন, ‘পৃথিবীর তাবৎ উপন্যাসিক যাঁর কোটের পকেট থেকে বেরিয়ে এসেছেন, তাঁর নাম দস্তয়ভস্কি। আরেকজন আছেন মহামতি টলস্টয়। এক রেলস্টেশনে যখন টলস্টয় মারা গেলেন, তখন তাঁর ওভারকোটের পকেটে একটি বই পাওয়া গেল। বইটির নাম Sayings of Prophet। বইটি ছিল টলেস্টরের খুবই প্রিয়।এটি সবসময় তিনি সঙ্গে রাখতেন। সময় পেলেই পড়তেন। বইটিতে হযরত মোহাম্মদ (দঃ)’র বিভিন্ন সময়ে বলা ইন্টারেস্টিং কথাগুরো গ্রন্থিত। আমি বিনয়ের সঙ্গে জানতে চাই, আমাদের কয়জন বইটি পড়েছেন? টলেস্টয় যে বইটি পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন, সেই বই আমাদের প্রত্যেকের একবার কী পড়া উচিৎ নয়? (সূত্র হাসান হাফিজের লেখা, ‘হুমায়ুন আহমদ তাঁর স্পষ্টবাদিতা’ লেখা দ্রঃ)

যিনি পথকলি জায়েদকে লালন পালন করে যুদ্ধের সেনাপতি (একটি যুদ্ধের) করতে পারেন, দাসীকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে পারেন,বিধবাকে উন্মুল মোমিনের মর্যাদা অধিষ্টিত করতে পারেন, কৃষ্ণাঙ্গ হযরত বেলাল (রা:)কে সহচরের মর্যাদার আসনে বসাতে পারেন তাঁর নাম ‘মুহম্মদ’ (দঃ)। তৎকালে এ ধরনের মহান কাজ করা দুনিয়ার বুকে সম্ভব ছিল না, অথচ একজন রাষ্ট্রনায়ক ও সেরা ধর্ম প্রবর্তক হয়ে এ ধরনের অহিংস কাজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।মহানবী হযরত মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ (দঃ) ছিলেন সর্বপ্রথম সকল ধর্মের মানুষের সেবক তরপর ধর্মপ্রচারক। সকল ধর্মের মানুষের কল্যাণের কারণে ধর্ম প্রচারকের পূর্বেই তিনি ‘আল আমিন’ উপাধী পেয়েছেন। নবুয়ত প্রকাশের পূর্বে তিনি সকল মতের মানুষের কল্যাণে সামাজিক সংগঠন ‘হিলফুল ফুজুল’ প্রতিষ্ঠা করেন। সর্বধর্মের মানুষের কল্যাণ ব্যতীত অমুসলমানদের দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট করা সম্ভব হতো না। তিনি মক্কায় ধর্ম প্রচারক আর মদিনায় ছিলেন রাষ্ট্র নায়কও।

মদিনায় যখন হিজরতের পর রাষ্ট্র নায়ক নির্বাচিত হন তখন মদিনায় মুসলমানের সংখ্যা ছিন মাত্র ২ শত জন। যা মদিনার জনসংখ্যার কম বেশী ৬/৭ ভাগ। তিনি ছিলেন অমুসলিম ভূখণ্ডের মুসলিম রাষ্ট্রনায়ক।সংখ্যালঘু মুসলমানদের নবীকে কেন সংখ্যাগরিষ্ঠ অমুসলমানরা রাষ্ট্রনায়ক করলেন? কারণ তিনি সর্বধর্মের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।মক্কার কাফিরগণ প্রিয় নবী (দঃ) কে জন্মভূমি হতে বিতাড়ন করেছেন সে কথা সবাই উচ্চস্বরে উচ্চারণ করেন কিন্তু মদিনার কাফিরগণ তাঁকে রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচিত করেছেন সে কথা কেউ বলতে চায় না। নবী পাক (দঃ)’র মহামানবতার পথ অনুসরণ করে আউলিয়া কেরামগণ দুনিয়াব্যাপী ধর্ম প্রচারের আগে সর্বধর্মের মানুষের সেবা-কল্যাণ করেন। এই মানবতার সেবায় যুক্ত হয়ে মানুষ দলে দলে আউলিয়া কেরামের হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

প্রিয় নবী (দঃ) দুনিয়ার মানুষের নিকট যে ক্ষমা আদর্শ রেখে গেছেন তা অন্যকোন মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়নি। কাফির সর্দার আবু সুফিয়ান ছিলেন ইসলাম ও মহানবী (দঃ)’র চরম শত্রু। যার নেতৃত্বে শত শত সাহবী শহীদ হন। নবী পাক (দঃ)’র প্রাণপ্রিয় চাচা হযরত আমির হামজা (রা:) কে যে ব্যক্তি টুকরো টুকরো করে শহীদ করে। আবু সুফিয়ানের মত যে সব কাফির মুসলমানদের উপর চরম অমানুষিক নির্যাতন করেছিল মক্কা বিজয়ের পর প্রিয় নবী (দঃ) তাঁদের ক্ষমা ঘোষণা করে বলেন,’আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। তোমরা সবাই মুক্ত। আমি তোমাদের সাথে সেই কথাই বলছি, যে কথা হযরত ইউসুফ (আ:) তাঁর ভাইদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন,আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। যাও তোমরা সবাই মুক্ত’।
হযরত ইউসুফ (আঃ) নিজ ভাইদের ক্ষমা করেছিলেন, এই ভাইয়েরা আবু সুফিয়ানের মত চরম জুলুম করেনি। আবু সুফিয়ান তো আপন ভাই ছিলো না, ছিলো হত্যাকারী ও নির্যাতনকারী। তাদের ক্ষমা করা কোন সাধারণ বিষয় নয়।

এ ধরনের ক্ষমা ইতিহাস দুনিয়াতে আজ পর্যন্ত কেউ রচনা করতে পারেননি। শুধু ক্ষমা নয়, এ ধরনের হত‍্যাকারী একটি মাত্র বাক্য উচ্চারণ করার সাথে সাথে প্রিয়নবী (দঃ)’র সহচর, সাহাবায়ে রাসুল হয়ে যান। সেই মর্যাদাপূর্ণ বাক্যটি হলো; ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ।’ একটি বাক্য উচ্চারণের মাধ্যমে প্রিয় নবী (দঃ) সাহাবী হয়ে যাওয়ার ঘটনা ইতিহাসে বিরল।

মহানবী হযরত মোহাম্মদ (দ:) যুদ্ধবন্দীদের প্রতি যে আচরণ করেছেন, বর্তমান ইউরোপ আমেরিকার রাষ্ট্রগুলো সে ধরনের আচরণ করা চিন্তাই করা যায়না। মুসলমানের নবী (দঃ)’র নির্দেশে সাহাবীরা না খেয়ে যুদ্ধবন্দীদের খাওয়াতেন। ভালো খাওয়াটা যুদ্ধবন্দীদের হাতে তুলে দিতেন। বদরের যুদ্ধে ৭০ জন নিহত, ৭০ জন বন্দী হয়। বন্দীদেরকে ১০ জন মুসলমানকে শিক্ষিত করার বিনিময়ে মুক্তি দিয়ে ছিলেন। আধুনিক যুগে খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি পালন করা হয়। অথচ এ ধরনের কর্মসূচি ‘বন্দী মুক্তির বিনিময়ে শিক্ষা’ চৌদ্দশত বছর পূর্বেই মহানবী (দঃ) পালন করেছিলেন।

মহানবী হযরত মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ (দঃ) ছিলেন ধৈর্যের পাহাড়। ছোটবেলা হতে তাঁর ধৈর্য গুণের বিকাশ ঘটতে থাকে। এতিম অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে মা ও দাদাকে হারান। বাল্যকাল হতে কঠিন পরিশ্রম করে উপার্জন করতে শিখেন। জীবনটা শুরু হয় ধৈর্য্যের অবলম্বন দিয়ে। তিনি কঠিন বিপদ এবং বাধার মধ্যে দৃঢ়তার সাথে ধৈর্যধারণ করতেন। আবার ঠিক তেমনি বিজয়ের সময় ধৈর্যধারণ করতেন। যখনই কোন বিজয় তাঁর পদচুম্বন করেছে, তখন তিনি আত্মসংবরণ করতেন। আল্লাহর দরবারে শোকর আদায় করতেন। দুনিয়ার সেরা সেরা ব্যক্তি, মনীষী, নেতার পাবলিক লাইফ এক রকম আর প্রাইভেট লাইফ হয়ে থাকে অন্য রকম। কিন্তু প্রিয় নবী (দঃ)’র ব্যক্তি আর সামাজিক জীবনে কোন পার্থক্য বিন্দু মাত্র ছিল না।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা উন্নতির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে অহংকার ও দাম্ভিকতায় মাতোয়ারা হয়ে যায়। নবী পাকের জীবনে এ ধরনের কোন দম্ভ অহমিকার বিন্দু মাত্র প্রকাশ ঘটেনি। হযরত আনাস (রা:) ছোটকাল হতে প্রিয় নবী (দঃ)’র কাছে থাকতেন। হযরত আনাস (রা:) বর্ণনা করেছেন, ‘আল্লাহর কসম করে বলছি, দীর্ঘ দশ বছর আমি প্রিয় নবী (দঃ)’র যত খেদমত করেছি, তার চেয়ে বেশী খেদমত আমি উনার হতে পেয়েছি। দীর্ঘ দশ বছরে তিনি আমার কোন কথা ও কাজে বিরক্ত প্রকাশ করেননি। এই হলো নবী (দঃ)’র আদর্শ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পলাতক ফ্যাসিস্টের দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল ঐক্যবদ্ধ: দীপ্তি-শাহেদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বা সহিংসতার নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেগুলো নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরী। তিনি আজ ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকালে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে দেশকে অস্থিতিশীল করার চলমান রাজনীতির বিরুদ্ধে করণীয় শীর্ষক প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে বেকাঁদায় ফেলতে পলাতক ফ্যাসিস্ট পুরানো জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি বেচে নিয়েছে। আওয়ামী লীগের এ জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি এ দেশে আর চলবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘের সফর বানচাল করতে পলাতক আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, সন্ত্রাসের জবাব আরেক সন্ত্রাস নয়-আইনের শাসন। প্রতিহিংসার জবাব প্রতি হিংসা নয়-ন্যায় বিচার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবার আগে বাংলাদেশ হৃদয়ে ধারণ করে সরকার কর্তৃক জনগণের কল্যাণে গৃহিত কর্মসূচি ঘরে ঘরে পৌছে দিতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন সহায়কের ভূমিকা পালন করছে।

জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তাই হবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি এসময় রাজনৈতিক সহিংসতা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের আওতাধীন ১৫টি থানা ও ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড যুবদল নেতাকর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলে প্রস্তুতি সভায় অন্যান্যের মধ্য উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন, এস এম শাহ আলম রব, শাহেদ আকবর, এম এ রাজ্জাক, সহ সভাপতি ফজলুল হক সুমন, জাহাঙ্গীর আলম, গফুর বাবুল, সাহাব উদ্দিন হাসান বাবু, মোহাম্মদ মুসা, মিয়া মোহাম্মদ হারুন, জসিমুল ইসলাম কিশোর, মুজিবুর রহমান, অরুপ বড়ুয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, হুমায়ুন কবির, রাশেদুল হাসান লেবু, সেলিম উদ্দিন রাসেল, সহ সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি সিকদার, মুজিবুর রহমান রাসেল, আসাদুর রহমান টিপু, জাহাঙ্গীর আলম বাঁচা, হেলাল হোসেন, গুলজার হোসেন, তানভীর মল্লিক, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জিল্লুর রহমান জুয়েল, মহিউদ্দিন মুকুল, আসাদুজ্জামান রুবেল, এস এম বখতিয়ার উদ্দিন, ইফতেখার শাহরিয়ার আজম,

সহ- সম্পাদক মনোয়ার হোসেন মানিক, কামরুল ইসলাম, কমল জৌতি বড়ুয়া, শাহেদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, হাফেজ কামাল উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, মোহাম্মদ ইউসুফ, মিজানুর রহমান দুলাল, মো: হাসানুজ্জামান, ইয়াছিন আজাদ, আবুল কালাম, ফারুক হোসেন স্বপন, সদস্য কলিম শিকদার, গোলাম ইয়াজদানী সাবাব, প্রফেসর সাইদুল হক শিকদার, আবদুল্লাহ আল মামুন, থানা যুবদলের আহবায়ক মোহাম্মদ আজম, মোশাররফ আমীন ,বজল আহমেদ, খোরশেদ আলম, সদস্য সচিব শওকত খান রাজু, মোহাম্মদ মুসা, মো: ইলিয়াস, মনজুর আলম মনজু, মোরশেদ কামাল, আশিক মল্লিক, মোস্তাকিম মাহমুদ, সাইফুল ইসলাম রুবেল, মো: ইয়াছিন, সাজ্জাদ হোসেন সাদ্দাম, মোহাম্মদ সোহেল, ওয়ার্ড যুবদলের আহবায়ক এস এম আলী, মোহাম্মদ হাসান, আবু বক্কর বাবু, বাদশাহ আলমগীর, সাইফুল ইসলাম, মাসুদ আলমসহ থানা ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড যুবদলের নেতৃবৃন্দ।

বোয়ালখালীতে মাদক, কিশোর গ্যাং, যানজট ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোট পরিচালনার নির্দেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষ ‘স্বাধীনতা’য় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান ফারুকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথিছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ।

সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, যাত্রীভাড়া নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সালমা ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সোনিয়া শফি, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুমন তালুকদার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মামুনুল হক মামুন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ এবং বোয়ালখালী পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় শাকপুরা চৌমুহনী বাজার, গোমদণ্ডী ফুলতল, পৌরসভা সদর ও কানুনগোপাড়া এলাকায় যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধ এবং বিভিন্ন ফেক আইডির মাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় বোয়ালখালীতে পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের বিষয়টি সভায় তুলে ধরা হয়। জনদুর্ভোগ লাঘবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে জোরালো অনুরোধ জানানো হয়।

সভায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শওকত আলম, উপজেলা বিএনপি নেতা হাজী মো. ইসহাক চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হামিদুল হক মান্নান ও নুরুল করিম, বোয়ালখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজরদারি জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধ, যানজট নিরসন এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ