আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

যুদ্ধবন্দীর বিনিময়ে শিক্ষা: প্রিয় নবী (দ:) সেরা কর্মসূচি

ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী

লেখক: কলাম লেখক, রাজনীতিক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কবির কল্পনা, শিল্পীর আলপনা, দার্শনিকের চিন্তা, সাহিত্যিকের লেখনী, সূরাকারের সূর যেখানে ব্যর্থ সেখান হতে প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ (দঃ)’র প্রশংসা শুরু। মানুষের মগজ মস্তিষ্ক এক বিস্ময়কর বস্তু। আধুনিক বিজ্ঞানীদের সেরা বিজ্ঞানী বলা হয় আলবার্ট আইনস্টাইনকে।আইনস্টাইনের মাথার মগজ ছিল দেড় লিটার। প্রায় মানুষের মস্তিষ্ক এ রকম। বিজ্ঞানীরা হিসেব করে দেখেছেন, একটি কম্পিউটারের দাম যদি হয় এক লক্ষ টাকা , তাহলে দেড় লিটার মস্তিষ্কের দাম হবে দশ হাজার কোটি টাকা। দুনিয়ার মহাকালের সকল মানুষের মস্তিষ্ক ব্যয় করে চিন্তা-গবেষণা করলে আল্লাহর একটি চিন্তার সমান হবে না। সমস্ত মানবের শক্তি ব্যয় করলে আল্লাহর একটি কাজের সমান হবে না।

মহান আল্লাহ পাক তাঁর কুদরতী শক্তি ব্যবহার করে তাঁর নবী (দঃ)’র মর্যাদা ঘোষণা করেছেন ‘ওয়ারা ফান লাকা জিকারাকা’… (আল কোরআন) অর্থাৎ হে নবী আমি আপনার প্রশংসাকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছি। কতটুকু উঁচুতে নিলেন, তার সীমানা কোথায়,তা বান্দার ধারণায় নেই।এই চিন্তার ক্ষমতা বান্দার নেই। যে নবী (দঃ)’র প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক নিজেই উঁচুতে নিয়ে গেছেন, তাঁকে দুনিয়ার কোন শক্তি শত চেষ্টায় নিচে নামাতে পারবে না। কেউ নিচে নামাতে চাইলে সে নিজেই নিচে নেমে যাবে,কেউ তাকে আর উপরে তুলতে পারবে না।

কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদ বলেছেন, ‘পৃথিবীর তাবৎ উপন্যাসিক যাঁর কোটের পকেট থেকে বেরিয়ে এসেছেন, তাঁর নাম দস্তয়ভস্কি। আরেকজন আছেন মহামতি টলস্টয়। এক রেলস্টেশনে যখন টলস্টয় মারা গেলেন, তখন তাঁর ওভারকোটের পকেটে একটি বই পাওয়া গেল। বইটির নাম Sayings of Prophet। বইটি ছিল টলেস্টরের খুবই প্রিয়।এটি সবসময় তিনি সঙ্গে রাখতেন। সময় পেলেই পড়তেন। বইটিতে হযরত মোহাম্মদ (দঃ)’র বিভিন্ন সময়ে বলা ইন্টারেস্টিং কথাগুরো গ্রন্থিত। আমি বিনয়ের সঙ্গে জানতে চাই, আমাদের কয়জন বইটি পড়েছেন? টলেস্টয় যে বইটি পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন, সেই বই আমাদের প্রত্যেকের একবার কী পড়া উচিৎ নয়? (সূত্র হাসান হাফিজের লেখা, ‘হুমায়ুন আহমদ তাঁর স্পষ্টবাদিতা’ লেখা দ্রঃ)

যিনি পথকলি জায়েদকে লালন পালন করে যুদ্ধের সেনাপতি (একটি যুদ্ধের) করতে পারেন, দাসীকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে পারেন,বিধবাকে উন্মুল মোমিনের মর্যাদা অধিষ্টিত করতে পারেন, কৃষ্ণাঙ্গ হযরত বেলাল (রা:)কে সহচরের মর্যাদার আসনে বসাতে পারেন তাঁর নাম ‘মুহম্মদ’ (দঃ)। তৎকালে এ ধরনের মহান কাজ করা দুনিয়ার বুকে সম্ভব ছিল না, অথচ একজন রাষ্ট্রনায়ক ও সেরা ধর্ম প্রবর্তক হয়ে এ ধরনের অহিংস কাজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।মহানবী হযরত মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ (দঃ) ছিলেন সর্বপ্রথম সকল ধর্মের মানুষের সেবক তরপর ধর্মপ্রচারক। সকল ধর্মের মানুষের কল্যাণের কারণে ধর্ম প্রচারকের পূর্বেই তিনি ‘আল আমিন’ উপাধী পেয়েছেন। নবুয়ত প্রকাশের পূর্বে তিনি সকল মতের মানুষের কল্যাণে সামাজিক সংগঠন ‘হিলফুল ফুজুল’ প্রতিষ্ঠা করেন। সর্বধর্মের মানুষের কল্যাণ ব্যতীত অমুসলমানদের দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট করা সম্ভব হতো না। তিনি মক্কায় ধর্ম প্রচারক আর মদিনায় ছিলেন রাষ্ট্র নায়কও।

মদিনায় যখন হিজরতের পর রাষ্ট্র নায়ক নির্বাচিত হন তখন মদিনায় মুসলমানের সংখ্যা ছিন মাত্র ২ শত জন। যা মদিনার জনসংখ্যার কম বেশী ৬/৭ ভাগ। তিনি ছিলেন অমুসলিম ভূখণ্ডের মুসলিম রাষ্ট্রনায়ক।সংখ্যালঘু মুসলমানদের নবীকে কেন সংখ্যাগরিষ্ঠ অমুসলমানরা রাষ্ট্রনায়ক করলেন? কারণ তিনি সর্বধর্মের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।মক্কার কাফিরগণ প্রিয় নবী (দঃ) কে জন্মভূমি হতে বিতাড়ন করেছেন সে কথা সবাই উচ্চস্বরে উচ্চারণ করেন কিন্তু মদিনার কাফিরগণ তাঁকে রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচিত করেছেন সে কথা কেউ বলতে চায় না। নবী পাক (দঃ)’র মহামানবতার পথ অনুসরণ করে আউলিয়া কেরামগণ দুনিয়াব্যাপী ধর্ম প্রচারের আগে সর্বধর্মের মানুষের সেবা-কল্যাণ করেন। এই মানবতার সেবায় যুক্ত হয়ে মানুষ দলে দলে আউলিয়া কেরামের হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

প্রিয় নবী (দঃ) দুনিয়ার মানুষের নিকট যে ক্ষমা আদর্শ রেখে গেছেন তা অন্যকোন মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়নি। কাফির সর্দার আবু সুফিয়ান ছিলেন ইসলাম ও মহানবী (দঃ)’র চরম শত্রু। যার নেতৃত্বে শত শত সাহবী শহীদ হন। নবী পাক (দঃ)’র প্রাণপ্রিয় চাচা হযরত আমির হামজা (রা:) কে যে ব্যক্তি টুকরো টুকরো করে শহীদ করে। আবু সুফিয়ানের মত যে সব কাফির মুসলমানদের উপর চরম অমানুষিক নির্যাতন করেছিল মক্কা বিজয়ের পর প্রিয় নবী (দঃ) তাঁদের ক্ষমা ঘোষণা করে বলেন,’আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। তোমরা সবাই মুক্ত। আমি তোমাদের সাথে সেই কথাই বলছি, যে কথা হযরত ইউসুফ (আ:) তাঁর ভাইদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন,আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। যাও তোমরা সবাই মুক্ত’।
হযরত ইউসুফ (আঃ) নিজ ভাইদের ক্ষমা করেছিলেন, এই ভাইয়েরা আবু সুফিয়ানের মত চরম জুলুম করেনি। আবু সুফিয়ান তো আপন ভাই ছিলো না, ছিলো হত্যাকারী ও নির্যাতনকারী। তাদের ক্ষমা করা কোন সাধারণ বিষয় নয়।

এ ধরনের ক্ষমা ইতিহাস দুনিয়াতে আজ পর্যন্ত কেউ রচনা করতে পারেননি। শুধু ক্ষমা নয়, এ ধরনের হত‍্যাকারী একটি মাত্র বাক্য উচ্চারণ করার সাথে সাথে প্রিয়নবী (দঃ)’র সহচর, সাহাবায়ে রাসুল হয়ে যান। সেই মর্যাদাপূর্ণ বাক্যটি হলো; ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ।’ একটি বাক্য উচ্চারণের মাধ্যমে প্রিয় নবী (দঃ) সাহাবী হয়ে যাওয়ার ঘটনা ইতিহাসে বিরল।

মহানবী হযরত মোহাম্মদ (দ:) যুদ্ধবন্দীদের প্রতি যে আচরণ করেছেন, বর্তমান ইউরোপ আমেরিকার রাষ্ট্রগুলো সে ধরনের আচরণ করা চিন্তাই করা যায়না। মুসলমানের নবী (দঃ)’র নির্দেশে সাহাবীরা না খেয়ে যুদ্ধবন্দীদের খাওয়াতেন। ভালো খাওয়াটা যুদ্ধবন্দীদের হাতে তুলে দিতেন। বদরের যুদ্ধে ৭০ জন নিহত, ৭০ জন বন্দী হয়। বন্দীদেরকে ১০ জন মুসলমানকে শিক্ষিত করার বিনিময়ে মুক্তি দিয়ে ছিলেন। আধুনিক যুগে খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি পালন করা হয়। অথচ এ ধরনের কর্মসূচি ‘বন্দী মুক্তির বিনিময়ে শিক্ষা’ চৌদ্দশত বছর পূর্বেই মহানবী (দঃ) পালন করেছিলেন।

মহানবী হযরত মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ (দঃ) ছিলেন ধৈর্যের পাহাড়। ছোটবেলা হতে তাঁর ধৈর্য গুণের বিকাশ ঘটতে থাকে। এতিম অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে মা ও দাদাকে হারান। বাল্যকাল হতে কঠিন পরিশ্রম করে উপার্জন করতে শিখেন। জীবনটা শুরু হয় ধৈর্য্যের অবলম্বন দিয়ে। তিনি কঠিন বিপদ এবং বাধার মধ্যে দৃঢ়তার সাথে ধৈর্যধারণ করতেন। আবার ঠিক তেমনি বিজয়ের সময় ধৈর্যধারণ করতেন। যখনই কোন বিজয় তাঁর পদচুম্বন করেছে, তখন তিনি আত্মসংবরণ করতেন। আল্লাহর দরবারে শোকর আদায় করতেন। দুনিয়ার সেরা সেরা ব্যক্তি, মনীষী, নেতার পাবলিক লাইফ এক রকম আর প্রাইভেট লাইফ হয়ে থাকে অন্য রকম। কিন্তু প্রিয় নবী (দঃ)’র ব্যক্তি আর সামাজিক জীবনে কোন পার্থক্য বিন্দু মাত্র ছিল না।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা উন্নতির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে অহংকার ও দাম্ভিকতায় মাতোয়ারা হয়ে যায়। নবী পাকের জীবনে এ ধরনের কোন দম্ভ অহমিকার বিন্দু মাত্র প্রকাশ ঘটেনি। হযরত আনাস (রা:) ছোটকাল হতে প্রিয় নবী (দঃ)’র কাছে থাকতেন। হযরত আনাস (রা:) বর্ণনা করেছেন, ‘আল্লাহর কসম করে বলছি, দীর্ঘ দশ বছর আমি প্রিয় নবী (দঃ)’র যত খেদমত করেছি, তার চেয়ে বেশী খেদমত আমি উনার হতে পেয়েছি। দীর্ঘ দশ বছরে তিনি আমার কোন কথা ও কাজে বিরক্ত প্রকাশ করেননি। এই হলো নবী (দঃ)’র আদর্শ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কালিয়াকৈরে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবক নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হাটুরিয়াচালা–লস্করচালা এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে আবারও একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। শনিবার (১৫ মার্চ) রাতে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাসুম নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহন কার্যক্রম চলছিল। শনিবার রাতে মাটি পরিবহনের সময় একটি ড্রাম ট্রাক চলাচলের সময় মাসুম নামে ওই যুবক ট্রাকের নিচে পড়ে যান। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে।এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাছির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর ডিসি হিলে এই কার্যক্রমে অংশ নেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলার সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামনে বর্ষাকাল আসছে। তার আগেই যদি আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি তাহলে ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসী উপকৃত হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধটাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। সরকার এ কাজে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম মাসব্যাপী চলছে। এ কাজে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা ও পরিষ্কার করা। চট্টগ্রামে যেসব জায়গা বেশি অরক্ষিত, যেখানে ডেঙ্গু বেশি বিস্তার ঘটতে পারে সেগুলো আমরা পরিষ্কার করব এবং নিরাপদ ও সুস্থ চট্টগ্রাম আমরা গড়ে তুলব।
বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্কাউটের সদস্য এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অংশ নেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে’ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ