আজঃ মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে তিন সাংবাদিকের শোক সভা সত্য লেখার চর্চা হারিয়ে যাচ্ছে সাংবাদিকতায়

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দি পিপলস ভিউ পত্রিকার সম্পাদক ও কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি জেনারেল ওসমান গণি মনসুর বলেছেন,‘সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলা, সেই চর্চা এখন অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। লেখনির মধ্য দিয়ে সত্যকে ধারণ করতে না পারলে সাংবাদিকতা অর্থহীন হয়ে পড়ে।

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত প্রয়াত সাংবাদিক মো. মাহবুব উল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবের আহমেদ আসগারী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন আহমদের দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভায় অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
ওসমান গণি মনসুর বলেন, একসময় কিছু গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে প্রেস ক্লাবটিকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল। সেটি কোনো সভ্য সমাজে কাম্য নয়। গত কয়েক বছরে আমরা এমন এক সময় দেখেছি, যখন সাংবাদিকরা হয়ে পড়েছিলেন উপহাসের পাত্র।

তিনি আরও বলেন, ষাটের দশকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব উদ্বোধন করেছিলেন ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান। পরবর্তীতে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও এখানে আসার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বিভিন্ন কারণে আসা হয়নি। এর আগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এখানে এসেছিলেন, আমি তখন তাঁর ছবি তুলেছিলাম। ছবি তুলতে গেলে জিয়াউর রহমান সাহেব বলেছিলেন, ‘খাওয়ার ছবি নয়, কাজের ছবি তোলো।- এই বাক্যটাই আমাকে সারাজীবন অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, আসগারী ভাই একজন বীর মুক্তিযোদ্বা ছিলেন।

তিনি জ্ঞান ও প্রজ্ঞাবান সাংবাদিক ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন, তিনি তাঁর সুহৃদ বন্ধুদের বলে গিয়েছিলেন বইটি তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশ করার জন্য। তাঁর পরিবারের প্রতি আহ্বান জানাই, বইটি প্রকাশ করার উদ্যোগ নিলে প্রেস ক্লাব এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবে। প্রয়াত এই তিন সাংবাদিক চট্টগ্রাম ও দেশের সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে স্বমহিমায় উজ্জ্বল ছিলেন। তাঁরা সমাজ ও রাস্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতা করেছিলেন। তাঁরা সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সাবের আহমেদ আসগারী তখন চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২৬ মার্চ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, সেই ঘোষণাপত্রের খসড়া লেখার দায়িত্বে ছিলেন আসগারী। পরে এ কে খান সাহেব ও এম এ হান্নান সাহেব সেই খসড়াটি সংশোধন করেন। এর আগে, প্রয়াত সাংবাদিক মো. মাহবুব উল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবের আহমেদ আসগারী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন আহমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন শাহ আনিছ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা জামাল উদ্দিন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি এবং সঞ্চালনা করেন গোলাম মওলা মুরাদ। স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন মুস্তফা নঈম, মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, শাহনেওয়াজ রিটন, মাহবুবুল মওলা রিপন, ফারুক মুনির, হাসান মুকুল, সোহাগ কুমার বিশ্বাস, মাহবুবুর রহমান, মুহাম্মদ আজাদ, কামরুল হুদা ও জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের আত্মহত্যা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের আত্মহনন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাসাত্মক গল্প ভাইরাল হয়েছে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে, স্ত্রীকে দামি জুতা কিনে দিতে না পারার হতাশা থেকে ওই যুবক গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তার স্বজন এবং পুলিশের সঙ্গে কথা জানা গেছে ভিন্ন কথা।

শুক্রবার দুপুরে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ১টার দিকে কামাল উদ্দিন (৪০) নামের এক যুবক নিউমার্কেটের সামনে আনারসের দোকান থেকে ছুরি নিয়ে নিজে গলায় চালিয়ে দেয়।রক্তাক্ত অবস্থায় আমাদের টহলটিম স্থানীদের সহযোগিতা চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অস্ত্রোপচারে রক্ত প্রয়োজন হলে আমাদের সহকারী পুলিশ সুপার নুরে আলম মাহমুদ স্যার রক্ত প্রদান করেন। কিন্তু রাতেই কামাল মারা যান।নিহত কামাল উদ্দিনের বাড়ি ময়মনসিংহে, তিনি চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

তিনি বলেন, ওই যুবকের স্ত্রী ইপিজেডে চাকরি করেন। ঘটনার সময় স্ত্রী কামালের সঙ্গেই ছিলেন না। এস এম রিদুয়ান নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাতে আনারসের দোকান থেকে কামাল যখন ছুরি নিয়ে নিজের গলায় চালান তখন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশকে জানানো থেকে শুরু করে কামালের চিকিৎসা পর্যন্ত তিনি সঙ্গে ছিলেন।কামালের সঙ্গে কোনো নারী ছিল না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া গল্পটি মিথ্যা।

কামালের স্ত্রী তসলিমা আক্তার জানান, রাত ৮টার দিকে কামাল তার ভাগিনার কাছ থেকে হাত খরচের কিছু টাকা চায়। ভাগিনা তার মামাকে টাকা দিলে টাকা নিয়ে কামাল উধাও হয়ে যান। তাকে পতেঙ্গা এলাকায় আর দেখা যায়নি।ভোরে ফোন পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এসে কামালকে মৃত দেখতে পান।
কামালের ভাগিনা সামাদ বলেন, আমার মামা পেশায় রাজমিস্ত্রির হেল্পার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। মামা যখন আমার থেকে টাকা নিয়ে আসেন তখন মামি কারখানায় চাকরিতে ছিলেন। ঘটনার সঙ্গে মামির কোনো সম্পর্ক নেই। মামার চিকিৎসার জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিছুদিন ভালো থাকেন, তারপর আবার সমস্যা শুরু হয়।

চরম বিপাকে হাজার হাজার যাত্রী শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ৮ দিনে এই বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে আসা মোট ৮০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির যুদ্ধাবস্থায় দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও দোহার এয়ারফিল্ডগুলো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। শনিবার নতুন করে বাতিল হয়েছে আরো ১২টি ফ্লাইট। এই টানা ৮ দিন ধরে ফ্লাইট বাতিলে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী, যাদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী শ্রমিক। অনেক যাত্রী দূর-দূরান্ত থেকে বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধাবস্থার কারণে দুবাই, আবুধাবি ও দোহার মতো গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডগুলো বন্ধ থাকায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এয়ারফিল্ডগুলো খুলে দিলেই পুনরায় নিয়মিত ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক প্রবাসী তাদের ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। যথাসময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে চাকরি হারানোর ভয় কাজ করছে তাদের মনে।অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যারা দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা সেখানের এয়ারফিল্ডে আটকা পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া বা রি-শিডিউল করা নিয়ে এয়ারলাইনস অফিসগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, শনিবার সারাদিনে ১২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার।এয়ার আরাবিয়ারের ২টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার। সালাম এয়ারের ১টি অ্যারাইভাল ও ১টি ডিপার্চার।
পুরো সূচি বিপর্যস্ত হলেও শনিবার সীমিত কিছু ফ্লাইট সচল রয়েছে। এর মধ্যে সালাম এয়ারের মাস্কাট-চট্টগ্রাম রুটে দুটি (ওভি-৪০১ ও ওভি-৪০২) এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মদিনা (বিজি-১৩৮) ও মাস্কাট (বিজি-১২২) থেকে আসা দুটি ফ্লাইট অবতরণ করেছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ