আজঃ বুধবার ২৪ জুন, ২০২৬

নির্বাচনে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে : চট্টগ্রামে সিইসি

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোটের দিন প্রিসাইডিং অফিসারদের নিজেকে ভোটকেন্দ্রের ‘চীফ ইলেকশন কমিশনার’ ভাবার পরামর্শ দিয়ে তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নিরাপত্তা, এমন কথাও বলেছেন তিনি।

শনিবার সকালে চট্টগ্রামে নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়ে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন সিইসি। এতে ৭০ জন নির্বাচন কর্মকর্তা অংশ নেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচনে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে। প্রশাসনিক, আইনগত ও প্রযুক্তিগত নানা বিষয় থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে জটিল। তাই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে একটি ‘সেন্ট্রাল কো-অর্ডিনেশন সেল’ এবং ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স ইউনিট’ গঠন করছে, যাতে যে কোনো জায়গায় তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ও ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও এআইভিত্তিক অপপ্রচার মোকাবিলায়ও একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।
প্রিসাইডিং অফিসারদের ভূমিকা ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সিইসি বলেন, আপনি যে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন, আপনি মনে করবেন আপনি সেই কেন্দ্রের চীফ ইলেকশন কমিশনার। আপনি সেভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। আইনের মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার এবং রিটার্নিং অফিসারকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া আছে। আপনারা সেটা প্রয়োগ করবেন। প্রয়োজনে সেন্টার বন্ধ করে দেবেন, ২-৩ টা সেন্টার, প্রয়োজনে পুরো আসনে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
প্রিসাইডিং অফিসারদের সুরক্ষা দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন আপনাদের পেছনে আছে। আমরা সহজে ছাড়ার পাত্র নই। আপনাদের সুরক্ষা আমরা দেব। আপনারা শুধু নিরপেক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ক্ষমতাটা প্রয়োগ করবেন। কারণ আপনারা যদি নিরপেক্ষ না থাকেন, মানুষ যদি মনে করে যে আপনি বিশেষ কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষে কাজ করছেন, তাহলে সমস্যা হবে। দায়িত্বে অবহেলা করলে সেটি আর সহনীয় থাকবে না।

এবারের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন আইনের শাসন ও নিরপেক্ষতার প্রকৃত উদাহরণ উপস্থাপন করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা চাই, জনগণ এমন একটি নির্বাচন দেখুক যেখানে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা থাকবে। আর সবাই বিশ্বাস করবে, আইন সবার জন্য সমান। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা, যেখানে প্রতিটি ভোটার নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারবেন।
রমজানের আগে ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন প্রমাণ করবে বাংলাদেশে আইন ও গণতন্ত্র এখনো টিকে আছে। আমরা সবাই মিলে একটি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করব।
নগরীর আসকার দিঘীর পাড়ে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আহসান হাবিব পলাশ, ইউএনডিপির সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক, সিবিটিইপি প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হাসান। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে গহীন পাহাড় থেকে মানব কঙ্কাল উদ্ধার, চাঞ্চল্য

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে ২৮০ নম্বর আলীক্ষ্যং মৌজার হাতির ডেরা এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ পুতনের একাশি বাগান সংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় একটি মাথার খুলি ও মানবদেহের হাড় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে আলীক্ষ্যং পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কঙ্কালটি উদ্ধার করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি মাথার খুলি, পায়ের হাড়ের অংশ, একটি ব্যাগ এবং ব্যাগের ভেতর থাকা একটি টুথব্রাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। কঙ্কালের অবস্থা দেখে তাদের ধারণা, ঘটনাটি প্রায় ছয় মাস আগের।

এ বিষয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মো. মনজুর আহসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করেছি। কঙ্কালটি ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালের পরিচয় শনাক্তে আমরা কাজ করছি। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তের স্বার্থে সব দিক বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কঙ্কালটির পরিচয়, মৃত্যুর সময়কাল এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিলেও পুলিশ বলছে, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনো বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রামে যুবককে পেটানোর পর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হত্যা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের কোতোয়ালী থানা এলাকায় চুরির অভিযোগে যুবককে পেটানোর পর বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা। রোববার দুপুরে নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠ সংলগ্ন রেলওয়ে পাবলিক হাই স্কুলের গেটের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধারে গেলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়ি অবরোধ করে রাখে। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।কোতোয়ালী থানার ডিউটি অফিসার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ