একমাসে ৬৫টি অভিযান চট্টগ্রামে হোটেল-রেস্তোরাঁয় মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রাম মহানগরের লালদীঘির পাড় এলাকায় মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নেতৃত্ব দেন চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতেও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। গ্রাহকের আকর্ষণ বাড়াতে নানা ধরনের ক্ষতিকর রং ও কেমিক্যাল মিশিয়ে খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা সরাসরি ভোক্তাদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযানে এমন চিত্র উঠে এসেছে। এসব ভেজাল খাদ্যপণ্যের ভয়াবহ বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করেছে। এছাড়া বেকারি পণ্য ও মিষ্টান্নে ভেজাল উপাদান ব্যবহার এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার নগরের লালদীঘির পাড় এলাকায়
ভেজালবিরোধী অভিযানে দুই রেস্টুরেন্টকে জরিমানা করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা। বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালালেও অসাধু ব্যবসায়ীরা সামান্য মুনাফা লাাভের আশায় গ্রাহকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

জানা গেছে, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয় নগরজুড়ে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ৪০টি ও জেলা অফিস চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৫টি অভিযান চালিয়েছে। বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় সবচেয়ে বেশি অনিয়ম পেয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর গত জুলাই ও আগস্ট মাসে নগর ও জেলায় মিলিয়ে মোট ৫৯টি অভিযান চালায়। এসব অভিযানে ৭১টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের একাধিক অভিযানে এমন অসংখ্য অনিয়ম ধরা পড়লেও বিশেষ কোনো পরিবর্তন আসছে না। অভিযানের সময় জরিমানা দিয়ে ব্যবসায়ীরা আবারও পুরোনো নিয়মে ফিরে যাচ্ছেন। নগরবাসী ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সদস্যদের অভিযোগ- আইনের কঠোর প্রয়োগ ও নিয়মিত নজরদারি না থাকায় ভেজাল খাদ্যের এই ভয়াবহতা দিন দিন বাড়ছেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর বিভিন্ন প্রান্তের বেকারি ও মিষ্টির দোকানে ভেজালের ছড়াছড়ি। দুধ, ঘি, ময়দা ও মিষ্টিতে ব্যবহার করা হচ্ছে পঁচা ডিমসহ নিম্নমানের উপাদান, সঙ্গে থাকছে ক্ষতিকর কেমিক্যাল। মিষ্টির আকর্ষণ বাড়াতে বিপজ্জনক রং ব্যবহার করা হচ্ছে- যা দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে বলে মনে করছেন অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, শুধু বেকারি বা মিষ্টান্নেই নয়, শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোর অবস্থাও উদ্বেগজনক। রান্নাঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, খাদ্যদ্রব্যে তেলাপোকার অবাধ বিচরণ, খাদ্য প্রস্তুতকরণের স্থানে ইদুরের বাসা, কাঁচা ও রান্না করা খাবার পাশাপাশি ফ্রিজে রাখা হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে শিল্পলবণ, বাসি তেল ও মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল, রংসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপকরণ। আবার ফাঙ্গাস পড়া বা বাসি খাবার পুনরায় গরম করে ভোক্তাকে দেওয়া হচ্ছে। ভোক্তারা মনের অজান্তেই এসব খাবার গ্রহণ করছে- যা ধীরে ধীরে দেহে নানা রোগের কারণ হয়ে উঠছে। নগরের অলিগলিতে গড়ে উঠেছে ভেজাল চিপসের কারখানা। যা বাজারে ছড়িয়ে দিয়ে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার ক্ষতি করছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেন, বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্টের অবস্থা ভয়াবহ। আমাদের অভিযান নিয়মিত চলছে। দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। আমরা আমাদের সীমিত জনবল দিয়ে ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি। তবে ব্যবসায়ীরা যদি দায়িত্বশীল না হন তাহলে কোনো কিছুই পরিবর্তন সম্ভব নয়।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির তালিকাভুক্ত ৩৫০টি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। তবে এর বাইরে ছোট-বড় মিলিয়ে হোটেল-রেস্টুরেন্টর সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি। সমিতিটির চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক ও মহানগরের সিনিয়র সহসভাপতি সৈয়দ আবদুল হান্নান বাবু বলেন, অনেকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বা যেকোনো উপায়ে অর্থ জোগাড় করে হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় নেমে পড়ছেন। তাদের কোনো অতীত অভিজ্ঞতা নেই। মুনাফাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। খাবারকে মুখরোচক, আকর্ষণীয় করে তুলতে তারা ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করছেন।

ভেজাল খাদ্য ও অস্বাস্থ্যকর খাবার দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার, কিডনি ও লিভারের জটিল রোগসহ নানান শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, আমাদের খাবারে যেভাবে ভেজাল দেওয়া হচ্ছে- এটা আসলেই একটা উদ্বেগের বিষয়। ভোক্তা অধিকারসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কার্যকরী উদ্যোগ নিলে ভালো হয়। যদিও তাদের জনবলে ঘাটতি আছে। তবুও এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলাদা নজর দিতে হবে। ঘন ঘন অভিযান পরিচালনা করতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে হবে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, মানুষ এখন মুনাফাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। ব্যবসার আড়ালে সেবামূলক কাজ করতে হয়- সেটাই ভুলে যাচ্ছে। খাদ্য ব্যবসায় ভেজাল দেওয়া বা মানহীন খাবার দেওয়া- একটা রীতিতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হোটেল-রেস্তোরাঁয় অভিযান পরিচালনা হয়নি। তাই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। তারা সমন্বয় করে কাজ করলে সমস্যার সমাধান হবে।

এদিকে মঙ্গলবার ভেজালবিরোধী অভিযানে নগরের দুই রেস্টুরেন্টকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ভ্রাম্যমাণ আদালত। নগরের লালদীঘির পাড় এলাকায় এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা।অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে হোটেলের খাবার রান্না, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক, রং ও ফ্লেভার ব্যবহার এবং ফুটপাত দখল করে দোকানের পণ্য রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার বিষয়টি আমলে নেন ম্যাজিস্ট্রেট।

এসব অপরাধে জালালাবাদ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ২০ হাজার টাকা ও কে সি দে রোডের ডেগচি বাড়ি রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমদ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দুবাইয়ে বেনজীরের জামিন বাতিলে ল’ফার্ম নিয়োগ হয়েছে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পাওয়ার পর সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিল এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে । দুবাইয়ে একটি আন্তর্জাতিক ল’ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করার জন্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।রোববার ২ আগস্ট রাজশাহীতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন-সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন—বিষয়টি আমরা জেনেছি। তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি ল’ফার্ম নিয়োগ করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে চিংড়ি প্রকল্পের দখল নিয়ে শেষ রাতে গোলাগুলি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চিংড়ি প্রকল্পের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সরল ইউনিয়নের উত্তর সরল বেড়িবাঁধ সংলগ্ন তাজুরঘোনা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, গোলাগুলির ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ থেকে ১০ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে এর মধ্যে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি থাকলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, স্থানীয়ভাবে তৈরি একনলা বন্দুক দিয়ে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মূল অপরাধীদের শনাক্ত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, এলাকায় নতুন করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে শান্ত থাকার এবং অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাজুরঘোনা এলাকার একটি চিংড়ি প্রকল্পের মালিকানা ও দখল নিয়ে স্থানীয় কবির গ্রুপ ও মনসুর গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে বৃহস্পতিবার রাতে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে একপক্ষ অন্যপক্ষকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে কয়েকজন পথচারীসহ সংঘর্ষে লিপ্ত ব্যক্তিরা গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারী দল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই জড়িতদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। অভিযানে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) মো. ইব্রাহীম, আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান ও বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হকসহ জেলা পুলিশের একটি বড় দল অংশ নেয়।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ