আজঃ শনিবার ২ মে, ২০২৬

ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করলেন বিএনপি নেতা ফরহাদ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র দীর্ঘদিনের রাজনীতিক ও রামগড় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া (ফরহাদ) তাঁর বিরুদ্ধে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন। শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ তোলেন।

লিখিত বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম ফরহাদ বলেন,
“আমি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০১১ সালে রামগড় পৌরসভার মেয়র পদে, ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এবং ২০১৮ সালে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। প্রহসনের সেই নির্বাচনে আমি ৫১,২৮১টি ভোট পাই।”

তিনি বলেন, তাঁর পিতা মরহুম সাহাব উদ্দিন ভূঁইয়া ব্যবসায়ী হয়েও বৃদ্ধ বয়সে জেল খেটেছেন, মা হয়েছেন আওয়ামী লীগ ও পুলিশের নির্যাতনের শিকার। ১৯৯৯ সালে তাঁদের পৈতৃক বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ১৭ বছরে তিনি ৩০টিরও বেশি মিথ্যা মামলার আসামি হয়েছেন। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এলাকায় থাকতে পারেননি। উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে তাঁর বাড়িতে একাধিকবার হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। “আওয়ামী সন্ত্রাসের কারণে জাতীয় দিবসে পর্যন্ত আমি পতাকা উত্তোলন করতে পারিনি,” বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ফরহাদ অভিযোগ করেন,
“২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর ওয়াদুদ ভূঁইয়া আমাকে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে অসাংগঠনিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা শুরু করেন। ২০১৯ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে রামগড় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর আমার নাম বাদ দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের নাম বসিয়ে হুবহু আরেকটি কমিটি প্রকাশ করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিব বরাবর অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরবর্তীতে ওয়াদুদ ভূঁইয়ার একক সিদ্ধান্তে তাঁকে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক-১ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার একটি রেজুলেশন ছড়ানো হয়।

ফরহাদ বলেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া তাঁর আপন চাচা। ২০২৩ সালে ফেনীর ছাগলনাইয়ায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী ভাড়া করে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। সেই ঘটনার সাক্ষাৎকারের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ নিপু তাঁর বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

তিনি দাবি করেন, সেই মামলার তথ্য রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমে সংগ্রহ করে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়। “২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাতে বিশেষ গোয়েন্দা বাহিনীর কর্মকর্তা ও ওয়াদুদ ভূঁইয়ার লোকজন আমার চট্টগ্রামের বাসা, শ্বশুরবাড়ি ও দুই শ্যালিকার বাড়িতে একযোগে অভিযান চালায়। আমাকে না পেয়ে আমার স্কুলপড়ুয়া দুই ছেলেকে অপহরণের পরিকল্পনা করে। স্ত্রীর সঙ্গেও অসদাচরণ করা হয়,” বলেন ফরহাদ।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ওয়াদুদ ভূঁইয়া আমাকে বিএনপি থেকে সরাতে ২০২৪ সালের অবৈধ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানোর জন্য তৃণমূল বিএনপি বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানোর প্রলোভন দেন। আমাকে না পেয়ে আমার স্ত্রীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়, ফলে তিনি সন্তান নিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।”

সংবাদ সম্মেলনে ফরহাদ জানান,
“৫ আগস্ট রাতে ওয়াদুদ ভূঁইয়ার নির্দেশে তাঁর সন্ত্রাসীরা আমার রামগড়ের বাড়ি ও বাবার বাড়ি ভাঙচুর করে। ওইদিন আমার সমর্থকদের বিজয় মিছিলে হামলা চালিয়ে পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোতাহের হোসেন মিলনসহ কয়েকজনকে আহত করা হয়।”

তিনি বলেন, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মামলায় তাঁকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামি করা হয়। এমনকি আশুলিয়ার একটি বৈষম্যবিরোধী মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর নামও জুড়ে দেওয়া হয়। এসব মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আবেদন করেন। দলের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর সালাউদ্দিন খান পিপিএমের স্বাক্ষরিত দুটি চিঠি পাঠানো হলেও এখনো কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান তিনি।

ফরহাদ বলেন,
“চৌদ্দ মাস ধরে আমি মিথ্যা মামলার হয়রানিতে আছি। আমাকে চাপে রেখে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা হচ্ছে এবং আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়ার জন্যই এই কর্মকাণ্ড।

তিনি দাবি করেন, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারের জন্য দল ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছে, কিন্তু তাঁর সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। “আমি একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে দলের সিনিয়র নেতাদের সামনে বক্তব্য রাখার সুযোগ চাই,” বলেন ফরহাদ।

শেষে তিনি মাননীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে বলেন,
“আমাকে দলের সিনিয়র নেতাদের সামনে আমার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিন।”

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে জামায়াতে ইসলামী’র কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা ও পৌরসভা শাখার উদ্যোগে এক কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) সকাল ৯টায় স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে জুমার নামাজ শেষে মেজবানের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বোয়ালখালী উপজেলা শাখার আমীর মুহাম্মদ খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ইমাম উদ্দিন ইয়াছিনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামী’র আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামী’র আমীর মুহাম্মদ আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা সহকারী সেক্রেটারি মোঃ জাকারিয়া, চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালের পরিচালক ও বোয়ালখালী উপজেলা নায়েবে আমীর ডা. আবু নাছের।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চান্দগাঁও জামায়াতের আমীর মোঃ ইসমাইল হোসেন, সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন সরকার, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মোঃ ইকবাল, বোয়ালখালী উপজেলা মহিলা জামায়াতের সভাপতি নাহিদ পারভিন, অঞ্চল পরিচালক এলিনা সুলতানা, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা মফিজুর রহমান, ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা দিদারুল আলম, বোয়ালখালী পৌরসভা ও পোপাদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন রেনেসা ও দিগন্ত শিল্পী গোষ্ঠী।

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার মিছিলের পর থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন-তানভীর হাসান (২৭), মোসলেম উদ্দিন (৪০), বিপু ঘোষ বিলু (৫৫), মোঃ নাহিদ হোসেন (১৯), মোঃ সাইফুল ইসলাম (২০), মোঃ নওশের উদ্দিন চৌধুরী (২১), মোঃ জুয়েল (২৪), মোঃ আলাল (২১), মোঃ আসিফ (২২), মোঃ শুভ রহমান (২২), সৌরভ দেওয়ানজী (২৯), ইমাম হোসেন সাদমান (২২)৷

পুলিশ জানায়, শুক্রবার কোতোয়ালী থানাধীন রেলওয়ে বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। পরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঝটিকা মিছিলে জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ