আজঃ শনিবার ২১ মার্চ, ২০২৬

চমেক হাসপাতালের ক্যান্সার ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে রেডিওথেরাপি নেন ১৫০ রোগী

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ক্যান্সার ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ জন রোগী রেডিওথেরাপি নেন। কেমোথেরাপি নেন প্রতিদিন গড়ে ৬০ জন রোগী। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১৫ জন নারী জরায়ু ক্যান্সারের চিকিৎসার ব্রেকিথেরাপি নেন। চিকিৎসকরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্যান্সারই চিকিৎসাযোগ্য এবং যেসব রোগী খুব মারাত্মক পর্যায়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আগে চিকিৎসা করানোর সুযোগ পান তারাও ভাল ফল পান।

প্রতিদিন পেইন মেডিসিন আউটডোরে ক্যান্সার আক্রান্তদের দীর্ঘমেয়াদী ব্যথার পরামর্শ ও ইন্টারভেনশন করা হয়। এই আধুনিক ইন্টারভেনশনে রোগীর নিডেল কেনা বাবদ ১ হাজার ৫০০ টাকা আর ওষুধের জন্য সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। বেসরকারি পর্যায়ে খরচ হয় ২৫-৩০ হাজার টাকা।

এদিকে চমেক হাসপাতালের এনেস্থেশিয়া, পেইন, প্যালিয়েটিভ অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার বিভাগের অধীনে গত ১৪ অক্টোবর থেকে পেইন মেডিসিন আউটডোর সেবা চালু হয়। দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা, ক্যান্সার রোগীর ব্যথা এবং জটিল নিরাময় অযোগ্য ব্যথার ইন্টারভেনশন সেবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কর্তৃক এখন এই বিভাগ থেকে দেওয়া হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো ‘ফ্লোরোস্কপি গাইডেড সিলিয়াক প্লেক্সাস নিউরোলাইসিস’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে চমেক হাসপাতালের পেইন মেডিসিন বিভাগে। অধ্যাপক ডা. কে এম বাকি বিল্লাহ ও কনসালটেন্ট ডা. মো. মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরী এই মিনিমাল ইনভেসিভ ইন্টারভেনশন করেন।

ডা. মো. মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরী বলেন, পটিয়ার সমীর দাশ নামের ৪৬ বছরের এক রোগী অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের তীব্র ব্যথায় আক্রান্ত ছিলেন। হাসপাতালের ক্যান্সার ওয়ার্ড থেকে পেইন মেডিসিন বিভাগে দুই সপ্তাহ আগে রেফার করা ওই রোগীর প্রথম সফল ইন্টারভেনশন করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সারের ব্যথা নিরাময়ে এই ধরনের আধুনিক ইন্টারভেনশন চট্টগ্রামে সরকারি পর্যায়ে এটাই ছিল প্রথম। বর্তমানে রোগী ব্যথামুক্ত।ডা. মো. মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরী জানান, অনেক সময় আমরা ছোট-খাট উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে চাই না বা সেগুলোকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেই না।

ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সবচেয়ে সাধারণ একটি উপসর্গ হচ্ছে জ্বর। যে স্থানে ক্যান্সার উৎপন্ন হয়েছে সেখান থেকে দেহের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়া শুরু হলে প্রায়ই জ্বর দেখা দেয়। যদি ক্যান্সার বা এর চিকিৎসা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে তাহলে জ্বর বেশি হয়। আমাদের দেশে ব্যথার চিকিৎসা গ্রহণ করে দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ ভারতে ২ শতাংশ সময়মতো চিকিৎসা নেয়। পেইন কিলার ওষুধেও যেখানে ব্যথা কমানো যায় না, সেখানে অ্যাডভান্সড স্টেজে ক্যান্সারের ব্যথা নিরাময়ে এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যান্সার একেবারে নিরাময় করার জন্য কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। এছাড়া ২য় ও ৩য় পর্যায়ের রোগীর ক্ষেত্রে ক্যান্সার কোষের বিস্তার রোধ করার জন্য এবং ৪র্থ পর্যায়ের রোগীর ব্যথা ও শারীরিক জটিলতা হ্রাস করার জন্য দেওয়া হয় কেমো। এ অবস্থায়ও রোগী ব্যথামুক্ত হন না।

ফ্লোরোস্কপি গাইডেড সিলিয়াক প্লেক্সাস নিউরোলাইসিস পদ্ধতিতে ফ্লোরোস্কপি (এক ধরনের এক্স-রে) ব্যবহার করে পেটের ওপরের অংশে অবস্থিত সিলিয়াক প্লেক্সাস নামক স্নায়ু গুচ্ছকে ধ্বংস করা হয়, যা প্রায়শই অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার বা দীর্ঘস্থায়ী প্যানক্রিয়াটাইটিসের মতো রোগের কারণে হওয়া অসহ্য ব্যথা উপশমের জন্য কার্যকরী। এই পদ্ধতিতে একটি সুইয়ের মাধ্যমে নিউরোলাইটিক এজেন্ট (যেমন: ইথানল) ইনজেকশন দেওয়া হয়, যা স্নায়ুর সংকেত প্রেরণ বন্ধ করে ব্যথা কমায়। এতে কোনও ঝুঁকি নেই বলে জানালেন ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কুতুবদিয়ায় ঈদ উপলক্ষে বাতিঘর সী-বীচে প্যাডেল বোট ও কায়াকিং বোটের শুভ উদ্বোধন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাতিঘর সী-বীচে প্যাডেল বোট ও কায়াকিং বোটের শুভ উদ্বোধন করেন স্থানীয় দক্ষিণ ধূরুং ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ। ২০ মার্চ, বিকালে জনসাধারণ নিয়ে উদ্বোধন করেন। এ উদ্যোগে স্থানীয় পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সমুদ্র উপকূলে পর্যটকদের জন্য নতুন এই বিনোদন সুবিধা চালুর প্রশংসা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউপি সদস্য মো: ফোরকান, কুতুবদিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাসান কুতুবী, সাংবাদিক ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় দক্ষিণ ধূরুং ইউপির চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, এই উদ্যোগের ফলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে এবং কুতুবদিয়ার পর্যটন খাত আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কুতুবদিয়ার বাতিঘর সী-বীচ ইতোমধ্যে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নতুন এই বোট সার্ভিস চালুর মাধ্যমে এলাকাটির আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনের পরপরই পর্যটকরা প্যাডেল বোট ও কায়াকিং বোটে চড়ে সাগরের মনোরম পরিবেশ উপভোগ করেন। আয়োজকরা জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পরে ইফতার ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্তি হয়।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা ঈদুল ফিতরের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলতে পারবেন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা ঈদুল ফিতরের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলতে পারবেন। কারা কতৃপক্ষ জানিয়েছেন -বন্দিদের ঈদের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে। এর পাশাপাশি রয়েছে বিশেষ খাওয়া দাওয়ার আয়োজন।এছাড়া বাড়ি থেকে পাঠানো খাবার খাওয়ার সুযোগ মিলছে বলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ্ শরীফ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রতিবছরের মত এবারও ঈদের দিন সকালে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের দিন সকালে বন্দিদের জন্য থাকছে পায়েস ও মুড়ি। আর দুপুরে থাকবে পোলাও, গরু অথবা খাসি, সালাদ, মিষ্টি, পান-সুপারি। আর রাতের বেলায় সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছের আয়োজন করা হয়েছে।

জেলার শাহ্ শরীফ আরো জানান-এছাড়া ঈদের পরদিন বন্দিরা বাড়ি থেকে পাঠানো খাবার খাওয়ার সুযোগ পাবেন। ঈদের দিন থেকে তিন দিন বন্দিরা স্বজনদের সাথে পাঁচ মিনিট করে টেলিফোনে এবং একবার স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারবেন।

সাধারণ সময়ে হাজতিরা মাসে দুই বার এবং কয়েদীরা মাসে একবার করে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেও ঈদের সময় বিশেষ ভাবে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন।একই ভাবে ১০ টাকার বিনিময়ে মাসে দুই বার স্বজনদের সাথে টেলিফোনে ১০ মিনিট কথা বলার সুযোগ পান বন্দীরা। তবে ঈদে বিনামূল্যে পাঁচ মিনিট করে কথা বলার সুযোগ পাবেন।বর্তমানে কারাগারে হাজতি ও কয়েদী মিলে পাঁচ হাজার ৮৫৮ জন বন্দি রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ