আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চমেক হাসপাতালের ক্যান্সার ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে রেডিওথেরাপি নেন ১৫০ রোগী

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ক্যান্সার ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ জন রোগী রেডিওথেরাপি নেন। কেমোথেরাপি নেন প্রতিদিন গড়ে ৬০ জন রোগী। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১৫ জন নারী জরায়ু ক্যান্সারের চিকিৎসার ব্রেকিথেরাপি নেন। চিকিৎসকরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্যান্সারই চিকিৎসাযোগ্য এবং যেসব রোগী খুব মারাত্মক পর্যায়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আগে চিকিৎসা করানোর সুযোগ পান তারাও ভাল ফল পান।

প্রতিদিন পেইন মেডিসিন আউটডোরে ক্যান্সার আক্রান্তদের দীর্ঘমেয়াদী ব্যথার পরামর্শ ও ইন্টারভেনশন করা হয়। এই আধুনিক ইন্টারভেনশনে রোগীর নিডেল কেনা বাবদ ১ হাজার ৫০০ টাকা আর ওষুধের জন্য সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। বেসরকারি পর্যায়ে খরচ হয় ২৫-৩০ হাজার টাকা।

এদিকে চমেক হাসপাতালের এনেস্থেশিয়া, পেইন, প্যালিয়েটিভ অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার বিভাগের অধীনে গত ১৪ অক্টোবর থেকে পেইন মেডিসিন আউটডোর সেবা চালু হয়। দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা, ক্যান্সার রোগীর ব্যথা এবং জটিল নিরাময় অযোগ্য ব্যথার ইন্টারভেনশন সেবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কর্তৃক এখন এই বিভাগ থেকে দেওয়া হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো ‘ফ্লোরোস্কপি গাইডেড সিলিয়াক প্লেক্সাস নিউরোলাইসিস’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে চমেক হাসপাতালের পেইন মেডিসিন বিভাগে। অধ্যাপক ডা. কে এম বাকি বিল্লাহ ও কনসালটেন্ট ডা. মো. মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরী এই মিনিমাল ইনভেসিভ ইন্টারভেনশন করেন।

ডা. মো. মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরী বলেন, পটিয়ার সমীর দাশ নামের ৪৬ বছরের এক রোগী অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের তীব্র ব্যথায় আক্রান্ত ছিলেন। হাসপাতালের ক্যান্সার ওয়ার্ড থেকে পেইন মেডিসিন বিভাগে দুই সপ্তাহ আগে রেফার করা ওই রোগীর প্রথম সফল ইন্টারভেনশন করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সারের ব্যথা নিরাময়ে এই ধরনের আধুনিক ইন্টারভেনশন চট্টগ্রামে সরকারি পর্যায়ে এটাই ছিল প্রথম। বর্তমানে রোগী ব্যথামুক্ত।ডা. মো. মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরী জানান, অনেক সময় আমরা ছোট-খাট উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে চাই না বা সেগুলোকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেই না।

ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সবচেয়ে সাধারণ একটি উপসর্গ হচ্ছে জ্বর। যে স্থানে ক্যান্সার উৎপন্ন হয়েছে সেখান থেকে দেহের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়া শুরু হলে প্রায়ই জ্বর দেখা দেয়। যদি ক্যান্সার বা এর চিকিৎসা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে তাহলে জ্বর বেশি হয়। আমাদের দেশে ব্যথার চিকিৎসা গ্রহণ করে দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ ভারতে ২ শতাংশ সময়মতো চিকিৎসা নেয়। পেইন কিলার ওষুধেও যেখানে ব্যথা কমানো যায় না, সেখানে অ্যাডভান্সড স্টেজে ক্যান্সারের ব্যথা নিরাময়ে এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যান্সার একেবারে নিরাময় করার জন্য কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। এছাড়া ২য় ও ৩য় পর্যায়ের রোগীর ক্ষেত্রে ক্যান্সার কোষের বিস্তার রোধ করার জন্য এবং ৪র্থ পর্যায়ের রোগীর ব্যথা ও শারীরিক জটিলতা হ্রাস করার জন্য দেওয়া হয় কেমো। এ অবস্থায়ও রোগী ব্যথামুক্ত হন না।

ফ্লোরোস্কপি গাইডেড সিলিয়াক প্লেক্সাস নিউরোলাইসিস পদ্ধতিতে ফ্লোরোস্কপি (এক ধরনের এক্স-রে) ব্যবহার করে পেটের ওপরের অংশে অবস্থিত সিলিয়াক প্লেক্সাস নামক স্নায়ু গুচ্ছকে ধ্বংস করা হয়, যা প্রায়শই অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার বা দীর্ঘস্থায়ী প্যানক্রিয়াটাইটিসের মতো রোগের কারণে হওয়া অসহ্য ব্যথা উপশমের জন্য কার্যকরী। এই পদ্ধতিতে একটি সুইয়ের মাধ্যমে নিউরোলাইটিক এজেন্ট (যেমন: ইথানল) ইনজেকশন দেওয়া হয়, যা স্নায়ুর সংকেত প্রেরণ বন্ধ করে ব্যথা কমায়। এতে কোনও ঝুঁকি নেই বলে জানালেন ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ